নিউইয়র্ক ১০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি কবে হবে? মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের প্রশ্ন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৪
  • / ৯০৫ বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি কবে হবে? নেতা এলেন, কি দিয়ে গেলেন? কমিটি কি আদৌ হবে? এমনি নানা প্রশ্ন সংগঠনটির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের। কমিটি না পাওয়ায় হতাশ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ দূত ও দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, মাহিদুর রহমানের নিউইয়র্ক সফর শেষে লন্ডন ফিরে যাওয়ার পর এমনিই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে উঠে আসছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের মাঝে।
দীর্ঘ তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি নেই। কমিটির আশায় প্রহর গুনছেন সংগঠনটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী। আর কমিটি না থাকায় দল পরিচালনায় ভেঙ্গে গেছে ‘চেইন অব কমান্ড’। বেড়েছে বিভক্তি, বাড়ছে গ্রুপিং। বাড়ছে নেতার সংখ্যা। কোন কোন সভা-সমাবেশে দেখা যাচ্ছে কর্মীর চেয়ে নেতাই বেশী। কমিটি না হওয়ায় আর দলের নেতাদের বিভক্তিতে ব্যথিত, ক্ষুব্ধ হাজারো প্রবাসী বিএনপি ভক্ত, শুভাকাংখী, সমর্থক। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা ছিলো কেন্দ্রীয় নেতা ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন মাহিদুর রহমান নিউইয়র্ক সফরকালে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি দেবেন। সেই লক্ষ্যে দলের পদ-পদবী প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ ছিলে উৎসাহী। তার নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট সবাই বিভক্তি আর ভেদাভেদ ভুলে ‘দৃশ্যত’ ঐক্যবদ্ধও হয়েছিলেন। যদিও অপ্রত্যাশিতভাবে দুটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তারপরও মাহিদুর রহমান সব বিভক্তি, ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হবেন, ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি’র সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘তিনি দলের কোন মিশন নিয়ে নিউইয়র্ক সফরে আসেননি, নিউইয়র্ক সফর তার ব্যক্তিগত সফর। তবে কমিটি হবে, দলের চেন অব কমান্ড মানতে হবে, দলের সিনিয়র নেতাদের সম্মান দিতে হবে’।
সূত্র মতে, কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমান তার নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ব্যক্তিগত হিসেবে উল্লেখ করলেও এটি নিছক ব্যক্তিগত সফর ছিলো না। তিনি দলের হাই কমান্ডের নির্দেশ আর তারেক রহমানের পরামর্শে নিউইর্য়ক সফর করেছেন। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি নিয়ে কেন্দ্র চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটি রয়েছে তারেক রহমানের ল্যাবটপে। খোঁজ-খবর রয়েছে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কাছেও। সূত্র মতে, দেশের রাজনীতিসহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ভূমিকা অনস্বীকার্য। সেই বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে দলের প্রচার-প্রচারণা ও মূলধারায় লবিং করতে যোগ্য নেতৃত্ব সহ শক্তিশালী কমিটি দরকার। এই চিন্তা-ভাবনা মাথায় রেখে কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র শীর্ষ দুই পদে ‘যোগ্য’ প্রার্থী খুজছেন। আর এই ‘যোগ্য’ প্রার্থী না পাওয়ায় কেন্দ্র কর্তৃক কমিটি প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে।
আরেক সূত্র মতে, প্রবাসে দেশের রাজনীতি বা দলীয় কমিটির চেয়ে যোগ্য লবিস্ট-এর পক্ষে স্বয়ং চেয়ারপার্সন। তিনি চান দলের পক্ষে প্রবাসী পেশাজীবি বাংলাদেশীরা মূলধারার লবিং-এর মাধ্যমে কাজ করুক। বেগম খালেদা জিয়া তার সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র সফরকালীন সময়ে নিউজার্সীতে তার হোটেলে নিউইয়র্কের একাধিক সিনিয়র সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এমনই আভাষ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ব্যাপারে প্রবাসী পেশাজীবি বাংলাদেশীদের তেমন আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিএনপি’র হাই কমান্ড মনে করে প্রবাসে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের মতো দেশগুলোতে দেশীয় স্টাইলের রাজনীতির চেয়ে মেধা-মনন আর পেশাদারীত্বপূর্ণ যোগ্যতা সম্পন্ন নেতৃত্ব দলের জন্য বেশী জরুরী। জানা গেছে, বিএনপির রাজনীতির ব্যাপারে অনেক পেশাজীবির আগ্রহ থাকলেও সময় আর ব্যস্ততাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তারা নেতৃত্ব নিতে অনাগ্রহী। দায়িত্ব নিলে যেভাবে দলকে সময় দেয়া উচিৎ সেই সময় তাদের নেই। তাছাড়া তারা দেশীয় স্টাইলে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ-প্রতিবাদও পছন্দ করেন না। এনিয়ে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এবং প্রবাসী পেশাজীবি বাংলাদেশীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বিএনপি নেতা মাহিদুর রহমান লন্ডনে ফিরে তারেক রহমানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কর্মকান্ড আর দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোভাব অবহিত করেছেন। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে নিজস্ব সূত্রগুলোর মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব পেতে আগ্রহীদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। তার এই রিপোর্টের উপরও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি অনেকটাই নির্ভর করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আভাষ দিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতৃত্ব পেতে ঢাকা ছাড়াও সিলেট, চট্টগ্রাম, ফেনী-নোয়াখালী লবিং সহ ব্যক্তিগত লবিং-এ কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের সাথে জোড় তৎপড়তা চলছে। এসব তৎপরতায় সভাপতি পদের জন্য ঢাকা লবিং-এ ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার ও গিয়াস আহমেদ, সিলেট লবিং-এ জিল্লুর রহমান জিল্লু, চট্টগ্রাম লবিং-এ কাজী আজম, ব্যক্তিগত লবিং-এ শরাফত হোসেন বাবু আর সাধারণ সম্পাদক পদে চট্টগ্রাম লবিং-এ সামসুল ইসলাম মজনু, হেলাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, ঢাকা লবিং-এ আখতার হোসেন বাদল, ফেনী-নোয়াখালী লবিং-এ জসিম ভূঁইয়া প্রমুখ এগিয়ে চলেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সভাপতি পদে কেউ কেউ সাবেক সভাপতি ডা. মোহাম্মদ হামিদুজ্জামানের কথাও ভাবছেন। তারা মনে করছেন, এই প্রবাসে দলের নেতৃত্ব দিতে সভাপতি পদে স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. হামিদুজ্জামানের মতো পেশাজীবির দরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র শীর্ষ স্থানীয় একাধিক নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকা আর দলের চলমান পরিস্থিতিতে সম্মেলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠন সম্ভব নয়। কেননা, দলের কমিটি না থাকায় কে আয়োজন করবে সম্মেলনের। তাছাড়া দলের মধ্যে বিভক্তি, নেতৃত্বের কোন্দল ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্যগুলোতেও একাধিক কমিটি রয়েছে। আর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করতে হলে কে, কিভাবে কাউন্সিলর মনোনীত হবেন তা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। আমরা বিষয়গুলো নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভাবলেও নানা সমস্যার কারণে এব্যাপারে এগুতে পারছি না। তাই সবার দৃষ্টি এবং চাওয়া-পাওয়া দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেন্দ্র সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য কমিটি দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমান নিউইয়র্ক সফর শেষে সংগঠনের সর্বশেষ অবস্থা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে দলের সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, আশা করছি শীঘ্রই কমিটি হবে। আর কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সাথে কমিটির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তার সফরে দলের নেতা-কর্মীরা উৎসাহিত-উদ্দীপ্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনে তার মতামত গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছি।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, কমিটি হবে তবে খুব যে তাড়াতাড়ি হবে তা মনে হচ্ছে না। সব দিক বিবেচনায় রেখে কেন্দ্র সময় নিচ্ছে। আর কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমানের নিউইয়র্ক সফর ছিলো একান্তই ব্যক্তিগত। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠন বা দেয়া, না দেয়ার সাথে তার সফরের কোন সম্পর্ক নেই। তবে আমরা তার সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন। আশা করছি তিনি দলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ কেন্দ্রকে পরিস্থিতি অবহিত করে কমিটি গঠনের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।
দলের সাবেক সহ সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু বলেন, আমাদের আগামী দিনের নেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন, কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমানের নিউইয়র্ক সফর ব্যক্তিগত হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনে প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করছি। কেননা, তিনি তার সফরের মধ্য দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোভাব, অবস্থান আর মূল দাবী কমিটি’র ব্যাপারে ‘আন অফিসিয়াল’ হলেও কেন্দ্রকে অবহিত করবেন। তিনি বলেন, আমরা চাই দলের যোগ্য নেতৃত্ব আর ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসিম ভূঁইয়া বলেন, আমরা কমিটির অপেক্ষায় আছি। আশা করছি শীঘ্রই কেন্দ্র দলের যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে কমিটি দেবে। তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন যারা ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত, দলের দূর্দিনের সাথী-ত্যাগী আর ১/১১ ঘটনায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। তাই আমাদেরও প্রত্যাশা আমরা যারা, সময়-শ্রম, মেধা-অর্থ দিয়ে আপদে-বিপদে দলের জন্য কাজ করেছি, দলের পাশে রয়েছি অবশ্যই সেই নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন হবে।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি কবে হবে? মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০৮:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৪

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি কবে হবে? নেতা এলেন, কি দিয়ে গেলেন? কমিটি কি আদৌ হবে? এমনি নানা প্রশ্ন সংগঠনটির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের। কমিটি না পাওয়ায় হতাশ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ দূত ও দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, মাহিদুর রহমানের নিউইয়র্ক সফর শেষে লন্ডন ফিরে যাওয়ার পর এমনিই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে উঠে আসছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের মাঝে।
দীর্ঘ তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি নেই। কমিটির আশায় প্রহর গুনছেন সংগঠনটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী। আর কমিটি না থাকায় দল পরিচালনায় ভেঙ্গে গেছে ‘চেইন অব কমান্ড’। বেড়েছে বিভক্তি, বাড়ছে গ্রুপিং। বাড়ছে নেতার সংখ্যা। কোন কোন সভা-সমাবেশে দেখা যাচ্ছে কর্মীর চেয়ে নেতাই বেশী। কমিটি না হওয়ায় আর দলের নেতাদের বিভক্তিতে ব্যথিত, ক্ষুব্ধ হাজারো প্রবাসী বিএনপি ভক্ত, শুভাকাংখী, সমর্থক। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা ছিলো কেন্দ্রীয় নেতা ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন মাহিদুর রহমান নিউইয়র্ক সফরকালে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি দেবেন। সেই লক্ষ্যে দলের পদ-পদবী প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ ছিলে উৎসাহী। তার নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট সবাই বিভক্তি আর ভেদাভেদ ভুলে ‘দৃশ্যত’ ঐক্যবদ্ধও হয়েছিলেন। যদিও অপ্রত্যাশিতভাবে দুটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তারপরও মাহিদুর রহমান সব বিভক্তি, ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হবেন, ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি’র সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘তিনি দলের কোন মিশন নিয়ে নিউইয়র্ক সফরে আসেননি, নিউইয়র্ক সফর তার ব্যক্তিগত সফর। তবে কমিটি হবে, দলের চেন অব কমান্ড মানতে হবে, দলের সিনিয়র নেতাদের সম্মান দিতে হবে’।
সূত্র মতে, কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমান তার নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ব্যক্তিগত হিসেবে উল্লেখ করলেও এটি নিছক ব্যক্তিগত সফর ছিলো না। তিনি দলের হাই কমান্ডের নির্দেশ আর তারেক রহমানের পরামর্শে নিউইর্য়ক সফর করেছেন। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি নিয়ে কেন্দ্র চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটি রয়েছে তারেক রহমানের ল্যাবটপে। খোঁজ-খবর রয়েছে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কাছেও। সূত্র মতে, দেশের রাজনীতিসহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ভূমিকা অনস্বীকার্য। সেই বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে দলের প্রচার-প্রচারণা ও মূলধারায় লবিং করতে যোগ্য নেতৃত্ব সহ শক্তিশালী কমিটি দরকার। এই চিন্তা-ভাবনা মাথায় রেখে কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র শীর্ষ দুই পদে ‘যোগ্য’ প্রার্থী খুজছেন। আর এই ‘যোগ্য’ প্রার্থী না পাওয়ায় কেন্দ্র কর্তৃক কমিটি প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে।
আরেক সূত্র মতে, প্রবাসে দেশের রাজনীতি বা দলীয় কমিটির চেয়ে যোগ্য লবিস্ট-এর পক্ষে স্বয়ং চেয়ারপার্সন। তিনি চান দলের পক্ষে প্রবাসী পেশাজীবি বাংলাদেশীরা মূলধারার লবিং-এর মাধ্যমে কাজ করুক। বেগম খালেদা জিয়া তার সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র সফরকালীন সময়ে নিউজার্সীতে তার হোটেলে নিউইয়র্কের একাধিক সিনিয়র সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এমনই আভাষ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ব্যাপারে প্রবাসী পেশাজীবি বাংলাদেশীদের তেমন আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিএনপি’র হাই কমান্ড মনে করে প্রবাসে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের মতো দেশগুলোতে দেশীয় স্টাইলের রাজনীতির চেয়ে মেধা-মনন আর পেশাদারীত্বপূর্ণ যোগ্যতা সম্পন্ন নেতৃত্ব দলের জন্য বেশী জরুরী। জানা গেছে, বিএনপির রাজনীতির ব্যাপারে অনেক পেশাজীবির আগ্রহ থাকলেও সময় আর ব্যস্ততাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তারা নেতৃত্ব নিতে অনাগ্রহী। দায়িত্ব নিলে যেভাবে দলকে সময় দেয়া উচিৎ সেই সময় তাদের নেই। তাছাড়া তারা দেশীয় স্টাইলে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ-প্রতিবাদও পছন্দ করেন না। এনিয়ে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এবং প্রবাসী পেশাজীবি বাংলাদেশীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বিএনপি নেতা মাহিদুর রহমান লন্ডনে ফিরে তারেক রহমানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কর্মকান্ড আর দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোভাব অবহিত করেছেন। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে নিজস্ব সূত্রগুলোর মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব পেতে আগ্রহীদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। তার এই রিপোর্টের উপরও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি অনেকটাই নির্ভর করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আভাষ দিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতৃত্ব পেতে ঢাকা ছাড়াও সিলেট, চট্টগ্রাম, ফেনী-নোয়াখালী লবিং সহ ব্যক্তিগত লবিং-এ কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের সাথে জোড় তৎপড়তা চলছে। এসব তৎপরতায় সভাপতি পদের জন্য ঢাকা লবিং-এ ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার ও গিয়াস আহমেদ, সিলেট লবিং-এ জিল্লুর রহমান জিল্লু, চট্টগ্রাম লবিং-এ কাজী আজম, ব্যক্তিগত লবিং-এ শরাফত হোসেন বাবু আর সাধারণ সম্পাদক পদে চট্টগ্রাম লবিং-এ সামসুল ইসলাম মজনু, হেলাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, ঢাকা লবিং-এ আখতার হোসেন বাদল, ফেনী-নোয়াখালী লবিং-এ জসিম ভূঁইয়া প্রমুখ এগিয়ে চলেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সভাপতি পদে কেউ কেউ সাবেক সভাপতি ডা. মোহাম্মদ হামিদুজ্জামানের কথাও ভাবছেন। তারা মনে করছেন, এই প্রবাসে দলের নেতৃত্ব দিতে সভাপতি পদে স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. হামিদুজ্জামানের মতো পেশাজীবির দরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র শীর্ষ স্থানীয় একাধিক নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকা আর দলের চলমান পরিস্থিতিতে সম্মেলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠন সম্ভব নয়। কেননা, দলের কমিটি না থাকায় কে আয়োজন করবে সম্মেলনের। তাছাড়া দলের মধ্যে বিভক্তি, নেতৃত্বের কোন্দল ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্যগুলোতেও একাধিক কমিটি রয়েছে। আর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করতে হলে কে, কিভাবে কাউন্সিলর মনোনীত হবেন তা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। আমরা বিষয়গুলো নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভাবলেও নানা সমস্যার কারণে এব্যাপারে এগুতে পারছি না। তাই সবার দৃষ্টি এবং চাওয়া-পাওয়া দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেন্দ্র সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য কমিটি দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমান নিউইয়র্ক সফর শেষে সংগঠনের সর্বশেষ অবস্থা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে দলের সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, আশা করছি শীঘ্রই কমিটি হবে। আর কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সাথে কমিটির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তার সফরে দলের নেতা-কর্মীরা উৎসাহিত-উদ্দীপ্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনে তার মতামত গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছি।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, কমিটি হবে তবে খুব যে তাড়াতাড়ি হবে তা মনে হচ্ছে না। সব দিক বিবেচনায় রেখে কেন্দ্র সময় নিচ্ছে। আর কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমানের নিউইয়র্ক সফর ছিলো একান্তই ব্যক্তিগত। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠন বা দেয়া, না দেয়ার সাথে তার সফরের কোন সম্পর্ক নেই। তবে আমরা তার সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন। আশা করছি তিনি দলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ কেন্দ্রকে পরিস্থিতি অবহিত করে কমিটি গঠনের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।
দলের সাবেক সহ সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু বলেন, আমাদের আগামী দিনের নেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন, কেন্দ্রীয় নেতা মাহিদুর রহমানের নিউইয়র্ক সফর ব্যক্তিগত হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনে প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করছি। কেননা, তিনি তার সফরের মধ্য দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোভাব, অবস্থান আর মূল দাবী কমিটি’র ব্যাপারে ‘আন অফিসিয়াল’ হলেও কেন্দ্রকে অবহিত করবেন। তিনি বলেন, আমরা চাই দলের যোগ্য নেতৃত্ব আর ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসিম ভূঁইয়া বলেন, আমরা কমিটির অপেক্ষায় আছি। আশা করছি শীঘ্রই কেন্দ্র দলের যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে কমিটি দেবে। তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন যারা ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত, দলের দূর্দিনের সাথী-ত্যাগী আর ১/১১ ঘটনায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। তাই আমাদেরও প্রত্যাশা আমরা যারা, সময়-শ্রম, মেধা-অর্থ দিয়ে আপদে-বিপদে দলের জন্য কাজ করেছি, দলের পাশে রয়েছি অবশ্যই সেই নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন হবে।