নিউইয়র্ক ০৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

মেধা-মনন সম্পর্কে হোয়াইট হাউজে ডাটাবেজ না থাকায় লোক নিয়োগের সময় বাংলাদেশীর নাম দেয়া সম্ভব হয় না

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০১৫
  • / ৫৩৮ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: ‘প্রধান বাংলা বাংলাদেশ, দ্বিতীয় বাংলা ভারত, প্রবাসীদের বিশ্ববাংলা বিশালতর আড়ত মোকাম কিংবা আড়ত-ঘরের মুক্ত স্বাধীন জানালা বাংলাদেশ ও ভারত-প্রবাস-সতীর্থ তিন বাংলা বঙ্গ স্মৃতি অঙ্গে নিয়ে রঙ্গে ভরা প্রবাস হয়তো মুখে আরেক ভাষা, হয়তো মানুষ দো-ভাষ মনের বাসায় মাতৃভাষায় সংলাপে সুখ, তৃপ্ত এমন মানুষ সঠিক মানুষ, সত্য আলোয় দৃপ্ত’। এমন মানুষ ক’জন আছেন-মূলধারাতে মুখ্য ক’জন পারেন জানান দিতে-তিন বাংলার দু:খ। কী সম্পদ, কী ইতিহাস, পারঙ্গমের প্রাণি মূলধারা আজ পেয়েছে এব বাঙালী রাজরাণী।’-এমন পংক্তিমালার কবিতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়ান-আমেরিকান এন্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স বিষয়ক উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদের প্রতি প্রবাসীদের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসার বহি:প্রকাশ ঘটানো হয় ড. নীনাকে প্রদত্ত নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গত ৮ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় পাশ্চাত্যে মহিয়সী বাঙালী রমণী হিসেবেই শুধু নয়, বহুজাতিক এ সমাজে নিজের কর্মগুণে বিশাল এ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ায় ড. নীনাকে এ সংবর্ধনার আয়োজন করে নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। সিটির কুইন্স প্যালেসে এ সংবর্ধনা সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের সভাপতি আতাউল আলম এবং অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভয়েজ অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, এটর্নী মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, কম্যুনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ডা. জিয়াউদ্দিন। কবিতাটি লিখেছেন সালেম সুলেরী।
সুদূর এ প্রবাসেও বাঙালীরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছেন না এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন মুল্লকের অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উল্লেখ করেন ওবামার এ উপদেষ্টা বলেন, ‘স্থপতি এফ আর খানের মেধার স্বীকৃতি মিলেছে শিকাগো সিটি কর্তৃক। কিন্তু আমেরিকায় জাতীয়ভাবে এখনও সিয়ার্স টাওয়ারের স্থপতি বাঙালী এফ আর খানের স্বীকৃতি মেলেনি। অথচ বিশ্বের অনেকেই এখন তার ধ্যান-ধারনায় নয়া সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করছেন।’ ড. নীনা বলেন, ‘বাঙালীরা মাছ খাই বলে আমাদের মেধা অনেক বেশী ও উন্নত। তবে আমরা এই প্রবাসেও ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না বলে মার্কিন মূলধারার অনেক সুযোগ আদায়ে সক্ষম হচ্ছি না।’ ‘এদেশে জন্ম অথবা বড় হওয়া সন্তানের কথা বিবেচনা করে হলেও আমরা যেন বিভেদ-বিভক্তির উর্দ্ধে উঠি’-আহবান নীনার।
‘বহুজাতিক এ দেশে বাঙালীরা এককভাবে নয়, এশিয়ান হিসেবে জোটবদ্ধ হতে হবে, তাহলেই কেন্দ্রীয় সরকারের বহুবিধ সুবিধা আদায় করা সম্ভব হবে-বলেন নীনা। নীনা উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশী-আমেরিকানরা মেধা এবং মননে অনেক এগিয়েছেন। কিন্তু সে সম্পর্কে কোন ডাটাবেজ না থাকায় হোয়াইট হাউজ, ক্যাপিটল হিল কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের সময় কোন বাংলাদেশীর নাম দেয়া সম্ভব হয় না।’
নীনা উল্লেখ করেন, ‘মূলধারায় সম্পৃক্ত হয়ে কেউ যেন বাঙালী সংস্কৃতিকে ভুলে না যাই। সর্বত্র বাঙালিত্ব সমুন্নত রাখতে হবে।’ ‘আমি কাজ করতে করতে একটি জায়গায় এসেছি। তাই বলে আমি চাই না যে, আমার এই আসাটা যেন শেষ না হয়। আমি এসেছি এবং চলে যাবো-এটি যেন না হয়। আমি সবসময় চাই যে, আমার এ আসাটা হচ্ছে শুরু, এবং তা যেন অব্যাহত থাকে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাঙালির আসন পোক্ত হউক’- প্রত্যাশা নীনার।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কবি সালেম সুলেরী নীনা আহমেদকে ঘিরে লেখা একটি কবিতা পাঠ করেন এবং তার কপি নীনাকে প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীনন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসানের সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

মেধা-মনন সম্পর্কে হোয়াইট হাউজে ডাটাবেজ না থাকায় লোক নিয়োগের সময় বাংলাদেশীর নাম দেয়া সম্ভব হয় না

প্রকাশের সময় : ০৯:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০১৫

নিউইয়র্ক: ‘প্রধান বাংলা বাংলাদেশ, দ্বিতীয় বাংলা ভারত, প্রবাসীদের বিশ্ববাংলা বিশালতর আড়ত মোকাম কিংবা আড়ত-ঘরের মুক্ত স্বাধীন জানালা বাংলাদেশ ও ভারত-প্রবাস-সতীর্থ তিন বাংলা বঙ্গ স্মৃতি অঙ্গে নিয়ে রঙ্গে ভরা প্রবাস হয়তো মুখে আরেক ভাষা, হয়তো মানুষ দো-ভাষ মনের বাসায় মাতৃভাষায় সংলাপে সুখ, তৃপ্ত এমন মানুষ সঠিক মানুষ, সত্য আলোয় দৃপ্ত’। এমন মানুষ ক’জন আছেন-মূলধারাতে মুখ্য ক’জন পারেন জানান দিতে-তিন বাংলার দু:খ। কী সম্পদ, কী ইতিহাস, পারঙ্গমের প্রাণি মূলধারা আজ পেয়েছে এব বাঙালী রাজরাণী।’-এমন পংক্তিমালার কবিতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়ান-আমেরিকান এন্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স বিষয়ক উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদের প্রতি প্রবাসীদের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসার বহি:প্রকাশ ঘটানো হয় ড. নীনাকে প্রদত্ত নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গত ৮ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় পাশ্চাত্যে মহিয়সী বাঙালী রমণী হিসেবেই শুধু নয়, বহুজাতিক এ সমাজে নিজের কর্মগুণে বিশাল এ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ায় ড. নীনাকে এ সংবর্ধনার আয়োজন করে নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। সিটির কুইন্স প্যালেসে এ সংবর্ধনা সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের সভাপতি আতাউল আলম এবং অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভয়েজ অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, এটর্নী মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, কম্যুনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ডা. জিয়াউদ্দিন। কবিতাটি লিখেছেন সালেম সুলেরী।
সুদূর এ প্রবাসেও বাঙালীরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছেন না এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন মুল্লকের অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উল্লেখ করেন ওবামার এ উপদেষ্টা বলেন, ‘স্থপতি এফ আর খানের মেধার স্বীকৃতি মিলেছে শিকাগো সিটি কর্তৃক। কিন্তু আমেরিকায় জাতীয়ভাবে এখনও সিয়ার্স টাওয়ারের স্থপতি বাঙালী এফ আর খানের স্বীকৃতি মেলেনি। অথচ বিশ্বের অনেকেই এখন তার ধ্যান-ধারনায় নয়া সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করছেন।’ ড. নীনা বলেন, ‘বাঙালীরা মাছ খাই বলে আমাদের মেধা অনেক বেশী ও উন্নত। তবে আমরা এই প্রবাসেও ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না বলে মার্কিন মূলধারার অনেক সুযোগ আদায়ে সক্ষম হচ্ছি না।’ ‘এদেশে জন্ম অথবা বড় হওয়া সন্তানের কথা বিবেচনা করে হলেও আমরা যেন বিভেদ-বিভক্তির উর্দ্ধে উঠি’-আহবান নীনার।
‘বহুজাতিক এ দেশে বাঙালীরা এককভাবে নয়, এশিয়ান হিসেবে জোটবদ্ধ হতে হবে, তাহলেই কেন্দ্রীয় সরকারের বহুবিধ সুবিধা আদায় করা সম্ভব হবে-বলেন নীনা। নীনা উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশী-আমেরিকানরা মেধা এবং মননে অনেক এগিয়েছেন। কিন্তু সে সম্পর্কে কোন ডাটাবেজ না থাকায় হোয়াইট হাউজ, ক্যাপিটল হিল কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের সময় কোন বাংলাদেশীর নাম দেয়া সম্ভব হয় না।’
নীনা উল্লেখ করেন, ‘মূলধারায় সম্পৃক্ত হয়ে কেউ যেন বাঙালী সংস্কৃতিকে ভুলে না যাই। সর্বত্র বাঙালিত্ব সমুন্নত রাখতে হবে।’ ‘আমি কাজ করতে করতে একটি জায়গায় এসেছি। তাই বলে আমি চাই না যে, আমার এই আসাটা যেন শেষ না হয়। আমি এসেছি এবং চলে যাবো-এটি যেন না হয়। আমি সবসময় চাই যে, আমার এ আসাটা হচ্ছে শুরু, এবং তা যেন অব্যাহত থাকে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাঙালির আসন পোক্ত হউক’- প্রত্যাশা নীনার।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কবি সালেম সুলেরী নীনা আহমেদকে ঘিরে লেখা একটি কবিতা পাঠ করেন এবং তার কপি নীনাকে প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীনন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসানের সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে।