নিউইয়র্ক ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

বাংলাদেশ কারো চোখ রাঙানোকে ভয় পায় না : মন্ত্রী মোজাম্মেল

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০১৫
  • / ৬৩৭ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্র সফররত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাতই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ। সেসময় বিচ্ছিন্নবাদী আন্দোলনের আশংকায় ঐ ভাষণে বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলেও পক্ষান্তরে ঐ ভাষণেই ছিলো স্বাধীনতার ঘোষণা। যে ভাষণে ‘আমি যদি হুমক দিবার নাও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবে…… এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’ যার মাধ্যমে স্বাধীনতার আহ্বান জানানো হয়। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আর কারো চোখ রাঙানোকে ভয় পায় না। স্বাধীনতা বিরোধীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যতই যতই বিরোধীতা করুক, প্রপাগন্ডা চালাক না কেন তাতে কোন কাজ হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ইতিহাসের যেকোন সময়ের চেয়ে ভাল অবস্থায় রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হবে না। তাই সম্মিলিতভাবে এই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে হবে।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ অয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী মোজাম্মেল হক উপরোক্ত কথা বলেন। ঐদিন শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অথিতি ছিলেন মন্ত্রীর সফর সঙ্গী বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি এম এ করিম ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান শামীম। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ ও মহিউদ্দিন দেওয়ান।
মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, সহ সভাপতি যথাক্রমে আকতার হোসেন, এম ফজলুর রহমান, সৈয়দ বশারত আলী, মাহবুবুর রহমান, সামসুদ্দীন আজাদ, লুৎফুর করীম যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, আব্দুল হাসিব মামুন ও চন্দন দত্ত, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুপ আলী প্রমুখ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবুল নসুর খান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান আলী, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী নিজাম, আনোয়ার হোসেন, আলী হোসেন গজনবী, মজিবুল মওলা, মাহবুবুর রহমান টুকু, শ্রমিক লীগ নেতা রুহেল চৌধুরী প্রমুখ। সভায় দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে টুইন টাওয়ার ধ্বংস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র লাদেনের সঙ্গে সংলাপ করেনি, আইএসের সন্ত্রাসী কর্মকন্ডের ভয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা তাদের সঙ্গে বৈঠক কিংবা সংলাপ-সমঝোতা করেনি। বিএনপি-জামায়াতকে এক মায়ের পেটের দুই ভাই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত এখন জঙ্গি সংগঠন। তাই তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়।
আলোচিত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঐ নিবাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় কিছুটা অঙ্গহানি হলেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দেশে-বিদেশে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ভূমিকায় দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তিনি গণতান্ত্রিক সরকার রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান।
মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বাংলাদেশের উন্নয়নের নেপথ্যে প্রবাসীদের বিশাল অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসী বাঙালীদের প্রদত্ত রেমিটেন্সে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে। এজন্য তিনি প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করার জন্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন।
সভায় ড. সিদ্দিকুর রহমান তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসার নাম করে তিনি আমেরিকায় রয়েছেন। তাকে নিউইয়র্ক থেকে বিতাড়িত করতে হবে। সাদেক হোসেন খোকা দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় একজন পলাতক আসামি। তিনি নিউইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্র শাখার পক্ষ থেকে এই গার্ড দেয়া হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

বাংলাদেশ কারো চোখ রাঙানোকে ভয় পায় না : মন্ত্রী মোজাম্মেল

প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০১৫

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্র সফররত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাতই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ। সেসময় বিচ্ছিন্নবাদী আন্দোলনের আশংকায় ঐ ভাষণে বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলেও পক্ষান্তরে ঐ ভাষণেই ছিলো স্বাধীনতার ঘোষণা। যে ভাষণে ‘আমি যদি হুমক দিবার নাও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবে…… এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’ যার মাধ্যমে স্বাধীনতার আহ্বান জানানো হয়। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আর কারো চোখ রাঙানোকে ভয় পায় না। স্বাধীনতা বিরোধীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যতই যতই বিরোধীতা করুক, প্রপাগন্ডা চালাক না কেন তাতে কোন কাজ হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ইতিহাসের যেকোন সময়ের চেয়ে ভাল অবস্থায় রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হবে না। তাই সম্মিলিতভাবে এই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে হবে।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ অয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী মোজাম্মেল হক উপরোক্ত কথা বলেন। ঐদিন শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অথিতি ছিলেন মন্ত্রীর সফর সঙ্গী বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি এম এ করিম ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান শামীম। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ ও মহিউদ্দিন দেওয়ান।
মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, সহ সভাপতি যথাক্রমে আকতার হোসেন, এম ফজলুর রহমান, সৈয়দ বশারত আলী, মাহবুবুর রহমান, সামসুদ্দীন আজাদ, লুৎফুর করীম যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, আব্দুল হাসিব মামুন ও চন্দন দত্ত, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুপ আলী প্রমুখ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবুল নসুর খান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান আলী, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী নিজাম, আনোয়ার হোসেন, আলী হোসেন গজনবী, মজিবুল মওলা, মাহবুবুর রহমান টুকু, শ্রমিক লীগ নেতা রুহেল চৌধুরী প্রমুখ। সভায় দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে টুইন টাওয়ার ধ্বংস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র লাদেনের সঙ্গে সংলাপ করেনি, আইএসের সন্ত্রাসী কর্মকন্ডের ভয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা তাদের সঙ্গে বৈঠক কিংবা সংলাপ-সমঝোতা করেনি। বিএনপি-জামায়াতকে এক মায়ের পেটের দুই ভাই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত এখন জঙ্গি সংগঠন। তাই তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়।
আলোচিত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঐ নিবাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় কিছুটা অঙ্গহানি হলেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দেশে-বিদেশে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ভূমিকায় দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তিনি গণতান্ত্রিক সরকার রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান।
মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বাংলাদেশের উন্নয়নের নেপথ্যে প্রবাসীদের বিশাল অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসী বাঙালীদের প্রদত্ত রেমিটেন্সে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে। এজন্য তিনি প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করার জন্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন।
সভায় ড. সিদ্দিকুর রহমান তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসার নাম করে তিনি আমেরিকায় রয়েছেন। তাকে নিউইয়র্ক থেকে বিতাড়িত করতে হবে। সাদেক হোসেন খোকা দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় একজন পলাতক আসামি। তিনি নিউইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্র শাখার পক্ষ থেকে এই গার্ড দেয়া হয়।