নিউইয়র্ক ০৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

বাংলাদেশ কনস্যুলেটের স্থায়ী অফিসের চিন্তাভাবনা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:২১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৫
  • / ৬৩৬ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ মিশনের পর এবার নিউইয়র্ক কনস্যুলেটেরও নিজস্ব অফিসের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝামেলা এড়াতে বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সেবা দ্রুততর করতে অল্প ক’দিনের মধ্যে কনসুলেটে নতুন আরও দুটি মেশিন সংযুক্ত হতে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার কনস্যুলেট অফিসে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সাথে এসব কথা বলেন কনসাল জেনারেল।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারি প্রায় ৬ লাখের বেশী বাংলদেশীর মধ্যে প্রায় দুই তৃতীয়াংশের বাস নিউইয়র্কে। নিউইয়কর্, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ও আশপাশের এলাকা মিলে এই সংখ্যা গোটা আমেরিকায় থাকা বাংলাদেশীদের প্রায় তিন চতুর্থাংশ তথা চার লাখেরও বেশী। ফলে এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে বিভিন্ন সেবা দিতে সদাব্যস্ত সময় পার করতে হয় নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনসুলেটকে।
গত পহেলা ডিসেম্বর ম্যানহাটন থেকে স্থানান্তরিত হয়ে কুইন্সের এস্টোরিয়ায় নতুন অফিসে কাজ শুরু করেছে কনসুলেট। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন হচ্ছে কূটনীতিক পাড়া। এমন গুরুত্বপুর্ণ একটি অফিস, যোগাযোগের প্রাণ কেন্দ্র ম্যানহাটনের বদলে কেন এস্টোরিয়ায় আনতে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান বলেন, “আসলে আমরা ম্যানহাটনের যে ভবনটিতে আমাদের অফিস ছিল সেটা ল্যান্ড মালিকের প্রয়োজনেই আমাদের ছেড়ে দিতে হয়েছে। এটা ঠিক যে ম্যানহাটন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। যেহেতু কূটনীতিক পাড়া, সেহেতু সেখানে আমাদের অফিস থাকা ভালো ছিল। কুটনৈতিক পাড়ার বাইরে কনসুলেট অফিস করাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভালভাবে নেয়নি এমন গুঞ্জন ছিল দীর্ঘ দিনের।
NY Consulate_MRP-1তিনি বলেন, তবে আমি মনে করি কুইন্সের অফিসটি আমাদের প্রবাসীদের জন্য খুব ভালো হয়েছে। পাশেই বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস এবং এস্টোরিয়া এরিয়া রয়েছে। এছাড়াও বর্তমার অফিসটির যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, সাবওয়ে (ট্রেন স্টেশন) সংলঘœ হওয়া অন্যান্য এলাকা থেকেও বাংলাদেশীরা দ্রুত চলে আসতে পারেন। অন্যদিকে, এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমান গাড়ি পাকিং সুবিধা। যেটা ম্যানহাটনে ছিলনা।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী কার্যালয় থাকলেও কনস্যুলেটের কোন স্থায়ী কার্যালয় নেই। এ বিষয়ে কনসাল জেনারেল জানান, গ্রাহকদের স্বার্থে কনস্যুলেটের নিজস্ব ভবন নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়’সহ সশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদনও পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি চুড়ান্ত হলেই আপনারা জানতে পারবেন। বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
তবে, এস্টোরিয়ার নতুন অফিসে কনসুলেটের বর্তমান খোলামেলা জায়গায় সেবার মান নিয়ে অভিযোগ অনেক কমেছে বলে মনে করেন আগত সেবাপ্রার্থীরা। কিছু অব্যবস্থাপনা কথা তুলে ধরেন কেউ কেউ। তবে জনবলের সীমাবদ্ধার কথা উল্লেখ করে, অনাকাংখিত এসব বিষয়ে সচেতন থাকার কথা জানান কনসাল জেনারেল।
NY Consulate_MRP-3পাসপোর্ট মেশিন রিডেবলে রূপান্তর, নতুন প্রদান বা নবায়ন করা; ভিসা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ’র বেশী মানুষকে সেবা দেয়ার কথা জানিয়েছেন কনস্যুলেট কর্মকর্তারা। সরেজমিনে গিয়েও দেখা মেলে এমআরপি’সহ কনস্যুলেটে সুবিধা পেতে প্রবাসীদের দীর্ঘ লাইন। তবে অল্প দিনের মধ্যে মেশিন রিডবল পাসপোর্টের নতুন আরো দুটি মেশিন যুক্ত হলে সেবা দেয়ার এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন কনসাল জেনারেল।
এর আগে তৃতীয়বারের মতো জায়গা বদলে অবশেষে লং আইল্যান্ডে সিটির ৩৪-১৮ নর্দান ব্লুবার্ডে আসে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস। শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও গেল বছরের ১লা ডিসেম্বর সোমবার থেকে, নতুন ঠিকানায় গ্রাহক সেবা দেয়া শুরু হয়।
আরো উল্লেখ্য, প্রায় ২২ বছর আগে ম্যানহাটনের ২১১ ইষ্ট ৪৩ স্ট্রীটে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পথচলা শুরু হয়। ভবনটি ভেঙ্গে ফেলায় ২০১৪ সালের মার্চে জায়গা বদলে নিয়ে আসা হয় ম্যানহাটনের সিক্স এন্ড সেভেনথ এভিনিউর মধ্যবর্তী ১৩১ ওয়েস্ট ৩৩ স্ট্রীটে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

বাংলাদেশ কনস্যুলেটের স্থায়ী অফিসের চিন্তাভাবনা

প্রকাশের সময় : ১১:২১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৫

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ মিশনের পর এবার নিউইয়র্ক কনস্যুলেটেরও নিজস্ব অফিসের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝামেলা এড়াতে বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সেবা দ্রুততর করতে অল্প ক’দিনের মধ্যে কনসুলেটে নতুন আরও দুটি মেশিন সংযুক্ত হতে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার কনস্যুলেট অফিসে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সাথে এসব কথা বলেন কনসাল জেনারেল।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারি প্রায় ৬ লাখের বেশী বাংলদেশীর মধ্যে প্রায় দুই তৃতীয়াংশের বাস নিউইয়র্কে। নিউইয়কর্, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ও আশপাশের এলাকা মিলে এই সংখ্যা গোটা আমেরিকায় থাকা বাংলাদেশীদের প্রায় তিন চতুর্থাংশ তথা চার লাখেরও বেশী। ফলে এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে বিভিন্ন সেবা দিতে সদাব্যস্ত সময় পার করতে হয় নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনসুলেটকে।
গত পহেলা ডিসেম্বর ম্যানহাটন থেকে স্থানান্তরিত হয়ে কুইন্সের এস্টোরিয়ায় নতুন অফিসে কাজ শুরু করেছে কনসুলেট। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন হচ্ছে কূটনীতিক পাড়া। এমন গুরুত্বপুর্ণ একটি অফিস, যোগাযোগের প্রাণ কেন্দ্র ম্যানহাটনের বদলে কেন এস্টোরিয়ায় আনতে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান বলেন, “আসলে আমরা ম্যানহাটনের যে ভবনটিতে আমাদের অফিস ছিল সেটা ল্যান্ড মালিকের প্রয়োজনেই আমাদের ছেড়ে দিতে হয়েছে। এটা ঠিক যে ম্যানহাটন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। যেহেতু কূটনীতিক পাড়া, সেহেতু সেখানে আমাদের অফিস থাকা ভালো ছিল। কুটনৈতিক পাড়ার বাইরে কনসুলেট অফিস করাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভালভাবে নেয়নি এমন গুঞ্জন ছিল দীর্ঘ দিনের।
NY Consulate_MRP-1তিনি বলেন, তবে আমি মনে করি কুইন্সের অফিসটি আমাদের প্রবাসীদের জন্য খুব ভালো হয়েছে। পাশেই বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস এবং এস্টোরিয়া এরিয়া রয়েছে। এছাড়াও বর্তমার অফিসটির যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, সাবওয়ে (ট্রেন স্টেশন) সংলঘœ হওয়া অন্যান্য এলাকা থেকেও বাংলাদেশীরা দ্রুত চলে আসতে পারেন। অন্যদিকে, এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমান গাড়ি পাকিং সুবিধা। যেটা ম্যানহাটনে ছিলনা।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী কার্যালয় থাকলেও কনস্যুলেটের কোন স্থায়ী কার্যালয় নেই। এ বিষয়ে কনসাল জেনারেল জানান, গ্রাহকদের স্বার্থে কনস্যুলেটের নিজস্ব ভবন নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়’সহ সশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদনও পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি চুড়ান্ত হলেই আপনারা জানতে পারবেন। বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
তবে, এস্টোরিয়ার নতুন অফিসে কনসুলেটের বর্তমান খোলামেলা জায়গায় সেবার মান নিয়ে অভিযোগ অনেক কমেছে বলে মনে করেন আগত সেবাপ্রার্থীরা। কিছু অব্যবস্থাপনা কথা তুলে ধরেন কেউ কেউ। তবে জনবলের সীমাবদ্ধার কথা উল্লেখ করে, অনাকাংখিত এসব বিষয়ে সচেতন থাকার কথা জানান কনসাল জেনারেল।
NY Consulate_MRP-3পাসপোর্ট মেশিন রিডেবলে রূপান্তর, নতুন প্রদান বা নবায়ন করা; ভিসা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ’র বেশী মানুষকে সেবা দেয়ার কথা জানিয়েছেন কনস্যুলেট কর্মকর্তারা। সরেজমিনে গিয়েও দেখা মেলে এমআরপি’সহ কনস্যুলেটে সুবিধা পেতে প্রবাসীদের দীর্ঘ লাইন। তবে অল্প দিনের মধ্যে মেশিন রিডবল পাসপোর্টের নতুন আরো দুটি মেশিন যুক্ত হলে সেবা দেয়ার এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন কনসাল জেনারেল।
এর আগে তৃতীয়বারের মতো জায়গা বদলে অবশেষে লং আইল্যান্ডে সিটির ৩৪-১৮ নর্দান ব্লুবার্ডে আসে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস। শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও গেল বছরের ১লা ডিসেম্বর সোমবার থেকে, নতুন ঠিকানায় গ্রাহক সেবা দেয়া শুরু হয়।
আরো উল্লেখ্য, প্রায় ২২ বছর আগে ম্যানহাটনের ২১১ ইষ্ট ৪৩ স্ট্রীটে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পথচলা শুরু হয়। ভবনটি ভেঙ্গে ফেলায় ২০১৪ সালের মার্চে জায়গা বদলে নিয়ে আসা হয় ম্যানহাটনের সিক্স এন্ড সেভেনথ এভিনিউর মধ্যবর্তী ১৩১ ওয়েস্ট ৩৩ স্ট্রীটে।