নিউইয়র্ক ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

বাংলাদেশে মৌলবাদের স্থান নেই : গাফফার চৌধুরী

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০১৫
  • / ১০২৩ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে নিরবে-নিভৃতে অনুষ্ঠিত হলো বিশিষ্ট কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সম্বর্ধনা সভা। রোববার অপরাহ্নে স্থানীয় ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে এই সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা করা হয়। সভাটি একই দিন সন্ধ্যা টায় জ্যাকসন হাইটস্থ জুইস সেন্টারে হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু অপ্রতিক ঘটনা এড়াতেই কৌশলে সভাটি ক্রাউন প্লাজায় নিয়ে যাওয়া হয়ে। এজন্য অবশ্য আয়োজকরা কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করেন। এমনকি মিডিয়াকেও এই সভা আয়োজনের কথা জানানো হয়নি। কোন মিডিয়াকেও সভাস্থলে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আয়োজকরা শুধুমাত্র গাফফার চৌধুরীর ভক্ত, সমর্থক আর শুভান্যুধায়ীদেরকেই ক্রাউন প্লাজায় সভা হওয়ার কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সম্মিলিত শক্তি এই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এদিকে পূর্ব ঘোষিত জুইস সেন্টারে গাফফার চৌধুরীর সম্বর্ধনা সভার কথা জেনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ প্রতিবাদী তৌহিদী জনতা রোববার সন্ধ্যা ৮টার দিকে ঐ সেন্টারে সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেন। সভায় দাবী করা হয় গত ৩ জুলাই জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে ‘মহান আল্লাহ, ইসলাম, নবী-রাসুল (সা:), আরবী ভাষা, হেজাফ’ প্রভৃতি বিষয়ে ‘বিতর্কিত-আপত্তিকর’ বক্তব্য রাখায় ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচতেই আয়োজকরা পালিয়ে গেছে। তৌহিদী জনতার ভয়ে তারা ঘোষণা দিয়েও তারা সভা করতে পারেনি। এটা ইসলামের বিজয়। বিক্ষোভকারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও গাফফফার বিরোধী নানা শ্লোগান দেন।
ক্রাউন প্লাজায় আয়োজিত সম্বর্ধনা সভায় আব্দুল গাফফার চৌধুরী দেশের চলমান রাজনীতির কথা তুলে ধরে বলেছেন বাংলাদেশে মৌলবাদের কোন স্থান নেই। উগ্র ইসলাম পন্থী আর মৌলবাদকে প্রতিহত না করতে পারলে দেশের স্বাধীনতার লক্ষ্য আদর্শ সফল হবে না। সম্বর্ধনা সভায় গাফফার চৌধুরী এমন কথাই বলেছেন বলে সভায় উপস্থিত একধিক প্রবাসী এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।
সভায় একুশে ফেব্রুয়ারীর অমর গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর হাতে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। এর আগে তাকে ফুলে তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সভায় ড. নূরন নবী, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, নিনি ওয়াহেদ, বেলাল বেগ, ড. জিনাত নবী, সরাফ সরকার, শিতাংশু গুহ, কমান্ডর নবী, সব্রত বিশ্বাস, স্বীকৃতি বড়ুয়া, ফাহিম রেজা নূর, মিথুন আহমেদ, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
bnp2জুইস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ: আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে সম্বর্ধনা প্রদানের জন্য পূর্ব ঘোষিত স্থান জুইস সেন্টারের সামনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও তৌহদী জনতার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সন্ধ্যা ৮টার দিকে এই সভাবেশ অনুশ্ঠিত হয়। এতে তারা বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। সমাবেশে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে যুগাতরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লর রহমানসহ সামসুল ইসলাম মজনু, হেলাল উদ্দিন সহ এবাদ চৌধুরী, আব্দুল খালেক আকন্দ, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমদ, সাদেক আহমেদ, আবুল খায়ের, নূরে আলম, আলতাফ, সেলিম রেজা, সাইদুর রহমান, সৈয়দ এনাম আহমেদ, মার্শাল মুরাদ, আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ আলী রেজা, রেজাউল আজাদ ভুইয়া, শহাহীন আহমেদ, জীবন শফিক, সাদেক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: এদিকে রোববার রাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রেরীত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে: কিংবদন্তীর সাংবাদিক, একুশের গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে কখনোই কোন তালেবানী পতাকা উড়বে না- এ বিশ্বাস নিয়ে আমি ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, শত অপপ্রচার ও প্রতিকুলতার মধ্যে আজকে এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি যেভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন, তাতে আমি আশাবাদী। বাংলদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির বিজয় নিশ্চিত। রোববার ১২ জুলাই জ্যামাইকার ক্রাউন প্লাজা হোটেলের সভাকক্ষে নিউইয়র্ক প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধ পক্ষীয় বাঙালী সমাজ প্রদত্ত নাগরিক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অনুষ্ঠানের মডারেটর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরন নবী বলেন, আমাদের এই অনুষ্ঠানটি ছিলো জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হুমকিতে জুইস সেন্টার কর্তৃপক্ষ ভেন্যু বাতিল করে দেয়। ফলে কয়েক ঘন্টার নোটিশে আমাদের এই সভার আয়োজন করতে হয়। ড. নূরন নবী বলেন, মৌলবাদী শক্তি ঘোষণা দিয়েছিলো, তারা কোন অনুষ্ঠান করতে দেবেনা। কিন্তু আজ উদীচী ও আমরা দু’টি অনুষ্ঠান করে তার জবাব দিয়েছি।
অনুষ্ঠানে আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের শত্রু দুটি: মৌলবাদ ও দুর্নীতি। এ দু’টো ধ্বংস করা না গেলে আধুনিক, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করা যাবেনা। এজন্যে সেকুলার সোসাইটির ভুমিকা অনেক বেশি। তিনি বলেন, ধর্মান্ধতা বাংলাদেশে প্রগতির পক্ষে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদীরা প্রগতিশীলদের ‘মুরতাদ’ ঘোষণা দেয়া সম্পর্কে গাফফার চৌধুরী বলেন, একদা এই মৌলবাদী গোষ্ঠী কাজী নজরুল ইসলামকে ‘কাফের’ ঘোষণা করেছিলো। এমনকি কাজী নজরুলকে ঢাকায় সভা পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু আজ নজরুলকে বলা হয়, ‘মুসলিম গণজাগরণের নায়ক’। কবি ইকবালকে ‘কাফের’ ঘোষণা করেছিলো মৌলবাদীরা। অথচ সেই ইকবালই এখন পাকিস্তানের জাতীয় কবি। তিনি বলেন, এইসব মৌলবাদী ও ফতোয়াবাজদের দের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন দরকার। তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কারণে আজ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অবস্থা করুন। তিনি বলেন, অন্য ধর্মীয় মানুষের হাতে যত মুসলমান মারা যাচ্ছে, তারচেয়ে দশগুণ বেশি মুসলমান মারা যাচ্ছে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। তিনি বলেন, একসময় ভেটিকানের আধিপত্যের বিরুদ্ধে ক্রিস্টানরা আন্দোলন করেছিলো। তেমনি এখন মৌলবাদ ও ফতোয়াবাজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন দরকার।
অনুষ্ঠানে একুশের গানের প্রণেতা গাফফার চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এটি প্রদান কালে পরে শোনান বেলাল বেগ। সন্মিলিতভাবে এটি তার হাতে তুলে দেন, সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, বেলাল বেগ, শিতাংশু গুহ, উদীচীর সুব্রত বিশ্বাস, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ফাহীম রেজা নুর ও স্বীকৃতি বড়ুয়া। ক্রেস্টে লেখা ছিলো:
কিংবদন্তী কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী
বাঙালীর নবজাগরণের যাদুমন্ত্র, অমর একুশের গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’র রচয়িতা, কিংবদন্তী কলাম লেখক, কবি ও সাহিত্যিক, নির্ভীক সাংবাদিক, সত্য ও ন্যায়প্র্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্নেহধন্য, বাঙালী জাতীয়তাবাদের মহীররুহ, দৃপ্তকন্ঠ, আবদুল গাফফার চৌধুরীর বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং দেশ ও জাতির প্রতি বহুমুখি অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ কৃতজ্ঞ দেশবাসীর পক্ষে এই শ্রদ্ধাঞ্জলী তাঁর করকমলে অর্পন করা হল।
নিউইয়র্ক প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধ পক্ষীয় বাঙালী সমাজ, জুলাই ১২, ২০১৫
অনুষ্ঠানের শুরুতে উদীচীর শিশু শিল্পীরা দু’টি গান পরিবেশন করে। একুশের গান পরিবেশনার সময় সবাই উঠে দাড়িয়ে সন্মান জানান। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে গাফফার চৌধুরীকে ফুলের তোড়া উপহার দেন, ড. জিনাত নবী, নিনি ওয়াহেদ, মিথুন আহমদ, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, আলপনা গুহ, উর্বি হাই, জীবন বিশ্বাস, গোপাল সন্যাল প্রমুখ। এর আগে উদীচীর শিশু শিল্পীরা একেএকে অনেকে গাফফার চৌধুরীর হাতে ফুল তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিতাংশু গুহ‘র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত এক প্রশ্নোত্তরে গাফফার চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ত থেকে বহু যুদ্ধাপরাধীর জন্ম হয়েছে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। মূল অপরাধীদের বিচার শেষ হবেই। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই এই বিচারটা হতে পারছে, অন্য কারো পক্ষে এই বিচার করা সম্ভব ছিলো না। এই বিচার শেষ করতে শেখ হাসিনাকে সাহায্য করতে একট ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দরকার।
সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের আজকের এই অনুষ্ঠান স্থানান্তর আয়োজকদের বাধ্যবাধকতার কারণ হিসাবে মৌলবাদীদের ষড়যন্ত্রের কথা বললে, হাউজ থেকে জামাত-বিএনপি’র বিরুদ্ধে ‘শেম শেম’ উচ্চারিত হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মিথুন আহমদ প্রশ্ন করেন, মৌলবাদীদের উত্থান বা সাম্প্রতিক সংকট থেকে উত্তরণের রণকৌশল কি হওয়া উচিত? উত্তরে গাফফার চৌধুরী বলেন, এজন্যে একটি সামাজিক বিপ্লব দরকার। হাসিনার পক্ষে একা কঠিন। তিনি বলেন, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

বাংলাদেশে মৌলবাদের স্থান নেই : গাফফার চৌধুরী

প্রকাশের সময় : ১০:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০১৫

নিউইয়র্ক: কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে নিরবে-নিভৃতে অনুষ্ঠিত হলো বিশিষ্ট কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সম্বর্ধনা সভা। রোববার অপরাহ্নে স্থানীয় ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে এই সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা করা হয়। সভাটি একই দিন সন্ধ্যা টায় জ্যাকসন হাইটস্থ জুইস সেন্টারে হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু অপ্রতিক ঘটনা এড়াতেই কৌশলে সভাটি ক্রাউন প্লাজায় নিয়ে যাওয়া হয়ে। এজন্য অবশ্য আয়োজকরা কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করেন। এমনকি মিডিয়াকেও এই সভা আয়োজনের কথা জানানো হয়নি। কোন মিডিয়াকেও সভাস্থলে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আয়োজকরা শুধুমাত্র গাফফার চৌধুরীর ভক্ত, সমর্থক আর শুভান্যুধায়ীদেরকেই ক্রাউন প্লাজায় সভা হওয়ার কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সম্মিলিত শক্তি এই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এদিকে পূর্ব ঘোষিত জুইস সেন্টারে গাফফার চৌধুরীর সম্বর্ধনা সভার কথা জেনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ প্রতিবাদী তৌহিদী জনতা রোববার সন্ধ্যা ৮টার দিকে ঐ সেন্টারে সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেন। সভায় দাবী করা হয় গত ৩ জুলাই জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে ‘মহান আল্লাহ, ইসলাম, নবী-রাসুল (সা:), আরবী ভাষা, হেজাফ’ প্রভৃতি বিষয়ে ‘বিতর্কিত-আপত্তিকর’ বক্তব্য রাখায় ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচতেই আয়োজকরা পালিয়ে গেছে। তৌহিদী জনতার ভয়ে তারা ঘোষণা দিয়েও তারা সভা করতে পারেনি। এটা ইসলামের বিজয়। বিক্ষোভকারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও গাফফফার বিরোধী নানা শ্লোগান দেন।
ক্রাউন প্লাজায় আয়োজিত সম্বর্ধনা সভায় আব্দুল গাফফার চৌধুরী দেশের চলমান রাজনীতির কথা তুলে ধরে বলেছেন বাংলাদেশে মৌলবাদের কোন স্থান নেই। উগ্র ইসলাম পন্থী আর মৌলবাদকে প্রতিহত না করতে পারলে দেশের স্বাধীনতার লক্ষ্য আদর্শ সফল হবে না। সম্বর্ধনা সভায় গাফফার চৌধুরী এমন কথাই বলেছেন বলে সভায় উপস্থিত একধিক প্রবাসী এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।
সভায় একুশে ফেব্রুয়ারীর অমর গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর হাতে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। এর আগে তাকে ফুলে তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সভায় ড. নূরন নবী, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, নিনি ওয়াহেদ, বেলাল বেগ, ড. জিনাত নবী, সরাফ সরকার, শিতাংশু গুহ, কমান্ডর নবী, সব্রত বিশ্বাস, স্বীকৃতি বড়ুয়া, ফাহিম রেজা নূর, মিথুন আহমেদ, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
bnp2জুইস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ: আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে সম্বর্ধনা প্রদানের জন্য পূর্ব ঘোষিত স্থান জুইস সেন্টারের সামনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও তৌহদী জনতার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সন্ধ্যা ৮টার দিকে এই সভাবেশ অনুশ্ঠিত হয়। এতে তারা বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। সমাবেশে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে যুগাতরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লর রহমানসহ সামসুল ইসলাম মজনু, হেলাল উদ্দিন সহ এবাদ চৌধুরী, আব্দুল খালেক আকন্দ, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমদ, সাদেক আহমেদ, আবুল খায়ের, নূরে আলম, আলতাফ, সেলিম রেজা, সাইদুর রহমান, সৈয়দ এনাম আহমেদ, মার্শাল মুরাদ, আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ আলী রেজা, রেজাউল আজাদ ভুইয়া, শহাহীন আহমেদ, জীবন শফিক, সাদেক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: এদিকে রোববার রাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রেরীত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে: কিংবদন্তীর সাংবাদিক, একুশের গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে কখনোই কোন তালেবানী পতাকা উড়বে না- এ বিশ্বাস নিয়ে আমি ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, শত অপপ্রচার ও প্রতিকুলতার মধ্যে আজকে এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি যেভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন, তাতে আমি আশাবাদী। বাংলদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির বিজয় নিশ্চিত। রোববার ১২ জুলাই জ্যামাইকার ক্রাউন প্লাজা হোটেলের সভাকক্ষে নিউইয়র্ক প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধ পক্ষীয় বাঙালী সমাজ প্রদত্ত নাগরিক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অনুষ্ঠানের মডারেটর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরন নবী বলেন, আমাদের এই অনুষ্ঠানটি ছিলো জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হুমকিতে জুইস সেন্টার কর্তৃপক্ষ ভেন্যু বাতিল করে দেয়। ফলে কয়েক ঘন্টার নোটিশে আমাদের এই সভার আয়োজন করতে হয়। ড. নূরন নবী বলেন, মৌলবাদী শক্তি ঘোষণা দিয়েছিলো, তারা কোন অনুষ্ঠান করতে দেবেনা। কিন্তু আজ উদীচী ও আমরা দু’টি অনুষ্ঠান করে তার জবাব দিয়েছি।
অনুষ্ঠানে আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের শত্রু দুটি: মৌলবাদ ও দুর্নীতি। এ দু’টো ধ্বংস করা না গেলে আধুনিক, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করা যাবেনা। এজন্যে সেকুলার সোসাইটির ভুমিকা অনেক বেশি। তিনি বলেন, ধর্মান্ধতা বাংলাদেশে প্রগতির পক্ষে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদীরা প্রগতিশীলদের ‘মুরতাদ’ ঘোষণা দেয়া সম্পর্কে গাফফার চৌধুরী বলেন, একদা এই মৌলবাদী গোষ্ঠী কাজী নজরুল ইসলামকে ‘কাফের’ ঘোষণা করেছিলো। এমনকি কাজী নজরুলকে ঢাকায় সভা পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু আজ নজরুলকে বলা হয়, ‘মুসলিম গণজাগরণের নায়ক’। কবি ইকবালকে ‘কাফের’ ঘোষণা করেছিলো মৌলবাদীরা। অথচ সেই ইকবালই এখন পাকিস্তানের জাতীয় কবি। তিনি বলেন, এইসব মৌলবাদী ও ফতোয়াবাজদের দের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন দরকার। তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কারণে আজ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অবস্থা করুন। তিনি বলেন, অন্য ধর্মীয় মানুষের হাতে যত মুসলমান মারা যাচ্ছে, তারচেয়ে দশগুণ বেশি মুসলমান মারা যাচ্ছে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। তিনি বলেন, একসময় ভেটিকানের আধিপত্যের বিরুদ্ধে ক্রিস্টানরা আন্দোলন করেছিলো। তেমনি এখন মৌলবাদ ও ফতোয়াবাজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন দরকার।
অনুষ্ঠানে একুশের গানের প্রণেতা গাফফার চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এটি প্রদান কালে পরে শোনান বেলাল বেগ। সন্মিলিতভাবে এটি তার হাতে তুলে দেন, সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, বেলাল বেগ, শিতাংশু গুহ, উদীচীর সুব্রত বিশ্বাস, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ফাহীম রেজা নুর ও স্বীকৃতি বড়ুয়া। ক্রেস্টে লেখা ছিলো:
কিংবদন্তী কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী
বাঙালীর নবজাগরণের যাদুমন্ত্র, অমর একুশের গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’র রচয়িতা, কিংবদন্তী কলাম লেখক, কবি ও সাহিত্যিক, নির্ভীক সাংবাদিক, সত্য ও ন্যায়প্র্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্নেহধন্য, বাঙালী জাতীয়তাবাদের মহীররুহ, দৃপ্তকন্ঠ, আবদুল গাফফার চৌধুরীর বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং দেশ ও জাতির প্রতি বহুমুখি অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ কৃতজ্ঞ দেশবাসীর পক্ষে এই শ্রদ্ধাঞ্জলী তাঁর করকমলে অর্পন করা হল।
নিউইয়র্ক প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধ পক্ষীয় বাঙালী সমাজ, জুলাই ১২, ২০১৫
অনুষ্ঠানের শুরুতে উদীচীর শিশু শিল্পীরা দু’টি গান পরিবেশন করে। একুশের গান পরিবেশনার সময় সবাই উঠে দাড়িয়ে সন্মান জানান। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে গাফফার চৌধুরীকে ফুলের তোড়া উপহার দেন, ড. জিনাত নবী, নিনি ওয়াহেদ, মিথুন আহমদ, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, আলপনা গুহ, উর্বি হাই, জীবন বিশ্বাস, গোপাল সন্যাল প্রমুখ। এর আগে উদীচীর শিশু শিল্পীরা একেএকে অনেকে গাফফার চৌধুরীর হাতে ফুল তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিতাংশু গুহ‘র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত এক প্রশ্নোত্তরে গাফফার চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ত থেকে বহু যুদ্ধাপরাধীর জন্ম হয়েছে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। মূল অপরাধীদের বিচার শেষ হবেই। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই এই বিচারটা হতে পারছে, অন্য কারো পক্ষে এই বিচার করা সম্ভব ছিলো না। এই বিচার শেষ করতে শেখ হাসিনাকে সাহায্য করতে একট ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দরকার।
সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের আজকের এই অনুষ্ঠান স্থানান্তর আয়োজকদের বাধ্যবাধকতার কারণ হিসাবে মৌলবাদীদের ষড়যন্ত্রের কথা বললে, হাউজ থেকে জামাত-বিএনপি’র বিরুদ্ধে ‘শেম শেম’ উচ্চারিত হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মিথুন আহমদ প্রশ্ন করেন, মৌলবাদীদের উত্থান বা সাম্প্রতিক সংকট থেকে উত্তরণের রণকৌশল কি হওয়া উচিত? উত্তরে গাফফার চৌধুরী বলেন, এজন্যে একটি সামাজিক বিপ্লব দরকার। হাসিনার পক্ষে একা কঠিন। তিনি বলেন, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।