নিউইয়র্ক ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

পাক প্রেমী খালেদা ৭১-এর মতো আগুণে মানুষ পুড়িয়ে দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল ॥ বিমানে করে আমিও নিউইয়র্কে আসতে চাই

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • / ৮০২ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সম্বর্ধনা সভায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রাণের দাবী ‘নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক’ রুটে বিমানের পুনরায় চালুর দাবীর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিমানে করে আমিও নিউইয়র্কে আসতে চাই। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বোয়িং কোম্পানীর সাথে এনিয়ে বৈঠক করেছি। জেএফকে বিমানবন্দরের সøটটিও এজন্য ধরে রাখা হয়েছে। এয়ারক্রাফটের পর্যাপ্ততা ও নিরাপত্তাবিষয়ক কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই নিউইয়র্ক-ঢাকায় বিমানের রুট চালু হবে। সভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পাক প্রেমী খালেদা ৭১-এর মতো আগুণে মানুষ পুড়িয়ে দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সকল ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশ আতœমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার ম্যানহাটানের হিলটন হোটেলের বল রুমে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংবর্ধনা কমিটির সদস্য সচিব সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রবাসী কলাণ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ছাড়াও ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীগের কার্য নির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন এবং অঙ্গরাজ্যসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন।
সভায় অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউএস কংগ্রেসওম্যান ইভেট ক্লার্ক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দিপু মনি, সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের বন ও পরিবেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ প্রমুখ।
সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন দেশ গড়ার আগেই ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেলো। কারাগারে হত্যা করলো জাতীয় চার নেতাকে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছে। ফলে দেশে সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। বাংলাদেশ আতœমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন সন্ত্রাস-নৈরাজ্য আর জঙ্গীবাদ দমন করে দেশকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করছে তখন খালেদা জ্বলাও-পোড়াও’র রাজনীতি করে দেশকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী ‘পাক প্রীতি’ ভুলতে পারেননি বলেই, ৭১’র মতো জ্বালাও-পোড়াও’র মাধ্যমে মানুষকে হত্যা করে দেশকে ধ্বংস করার রাজনীতি করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) এক বাড়ীতে ৬৫জনের সাথে ৯২ দিন বসে থেকে মানুষ পুড়িয়ে মেরে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেও সফল হননি। প্রধানমন্ত্রী দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি অর্জনে প্রবাসীদের অবদান রয়েছে। সবাইকে মিলেই দেশটি গড়তে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ৩৮ মিনিটের ভাষণে বিএনপি-জামাতের নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের ‘সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা’র রাজনীতি, মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড আর ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, কৃষক লীগসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ প্রবাসীদের উপস্থিতিতে গগণ বিদারী শ্লোগান আর করতালির মধ্যে বিকেল ৪টা চার মিনিটে সম্বর্ধনাস্থলে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতেই বিকেল সাড়ে তিনটায় আনুষ্ঠানটিকভাবে সম্বর্ধনা সভার কাজ শুরু হয়।
সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম কাজী কাইয়ুম, বাইবেল থেকে পাঠ করেন ডা. টমাস দুলু রায়, গীতা থেকে পাঠ করেন সুশিল সাহা আর ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন ধর্মেন্দ্র মহাথেরো। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এম ফজলুর রহমান, সহ সভাপতি মাহবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ ও আইরীন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা ও চন্দন দত্ত, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আবুল মনসুর খান, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, আওয়ামী লীগ নেতা হিন্দাল কাদির বাপ্পা, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী, ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উদ্দিন, ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. অরূপ চৌধুরী, জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, পেনসেলভেনিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, মিশিগান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ, নিউজার্সী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ ও সাউথ জার্সী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহীন প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর বিক্রম) এমপি, গোলন্দাস বাদল এমপি, আব্দুল ওয়াদুদ দারা এমপি প্রমুখকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণের শুরুতেই বলেন, আজ অনেকেই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাদের সেই শুভেচ্ছা হাতে না পেলেও হৃদয়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করলাম। যারা আজ আসতে পারেননি তিনি উপস্থিত প্রবাসীদের মাধ্যমে তাদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পৌছে দেয়ার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরই আমি নিউইয়র্কে আসি। এই একদিনই আপনাদের (প্রবাসী) সাথে দেখা হয়, আমার ভাল লাগে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা কারো কাছে মাথা নত করতে চাই না। আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ দেশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৬ বিলিয়নের ওপরে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে এখন অনেক শক্তিশালী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মধ্যম আয়ের দেশের প্রথম সোপানে পা রেখেছি। জিডিপির গ্রোথ অতিতের চেয়ে অনেক ভালো। উন্নয়নের পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে ৯০ ভাগই নিজস্ব অর্থায়নেই করছি। এসব দেখে বিরোধীদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশ অনেক দুর এগিয়েছে। খাদ্যের কোন হাহাকার নেই। বর্তমানে দেশে ২২.৪ ভাগ দরিদ্র এবং হত দরিদ্র হার হচ্ছে ৪.৯ শতাংশ। তিনি বিদ্যুৎ-এর উন্নয়ন, ঘাটতি পূরণে সোলার বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে দেশের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পোস্ট অফিসকে আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা, কর্মসংস্থানে প্রায় দেড় কোটি লোকের চাকুরীর ব্যবস্থা, শিক্ষা-ক্ষেত্রে সফলতা, ২০১৫ সালে বিনামূল্যে ৬২ কোটি ৪৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯শ ২৯টি বই বিতরণ’সহ উন্নয়নের নানা চিত্র প্রবাসীদের মাঝে তুলে ধরে বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের সর্বজনীন অনুষ্ঠান। অর্থমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে উৎসব ভাতা চালু করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন দেশ গড়ার আগেই ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেলো। কারাগারে হত্যা করলো জাতীয় চার নেতাকে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছে। ফলে দেশে সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। বাংলাদেশ আতœমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি অর্জনে প্রবাসীদের অবদান রয়েছে। সবাইকে মিলেই দেশটি গড়তে হবে।
প্রবাসীদের দাবীর মুখে বিমান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী জানান, আমরা বোয়িং কোম্পানি থেকে অনেকগুলো বিমান কিনেছি। গতকালও এ বিষয়ে আমি কথা বলেছি। জেএফকেতে আমাদের বিমানের স্লট ধরে রাখা হচ্ছে। তবে, নানা সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে। তাই বিমান চালু করা যাচ্ছে না। তবে, আমি আশা করছি বিমান চালু হবে। কারণ আমি নিজেও তো চাই বিমানে করে নিউইয়র্কে আসতে। উল্লেখ্য, গত বছরও তার সম্মানে আয়োজিত সম্বর্ধনা সভায় একই রকম আশার বাণী শোনান প্রধানমন্ত্রী।
কংগ্রেসওম্যান ইভেট ক্লার্ক বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের ভূয়শী প্রসংশা আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল জায়েন্ট’ আখ্যায়িত করে বলেন, শুধু ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ নয়’ সকল ক্ষেত্রেই চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রুকলীন থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসওম্যান। কিন্তু আমি একজন ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত। জ্যমাইকা আমার মাতৃভূমি। আমি বিশ্বাস করি আপনারা যারা বাংলাদেশী-আমেরিকান আজকে এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই মাতৃভূমির টান অনূভব করেন। তাই দেশের স্বার্থ রক্ষায় আপনারা কাজ করে যাবেন বলেও আমি বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, ‘উই ওয়ান্ট টু ডু বেষ্ট আওয়ার পিপলস’।
সভায় ডা. দিপু মনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। সীমান্ত সমস্যার সমাধান, সমুদ্র বিজয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সবই হয়েছে, হচ্ছে। তিনি বলেন, হাসিনাই পারেন, হাসিনাই পারবেন। আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে।
ড. হাসান মাহমুদ বলেন, বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। আগে বিশ্ব মিডিয়ায় শিরোনাম হতো বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ। এখন বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ, খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশ। এখন দেশে ৭০% মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। আগামী দুই বছরে শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে। বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জারের মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন নয়, উপচে পড়া ঝুড়ির দেশ। শেখ হাসিনাকে স্বপ্ন বাস্তবায়নের ঠিকানা উল্লেখ করে সাবেক মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে মানুষ মালয়েশিয়ার মহাথির মোহাম্মদের কথা নয়, শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা বলবে।
মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা, যোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেভাবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনাও সেভাবেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করছেন। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে খুনীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। তিনি বলেন, প্রবাসীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ১০মিনিট কথা বলেছেন। প্রবাসীদের কল্যাণে জেলায় জেলায় প্রবাসী সেল গঠন করা হচ্ছে।
ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ বলেন, আমরা ভালো আছি, দেশের মানুষও ভালো আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন, অগ্রগতি আর গণতন্ত্র একই সাথে এগিয়ে চলেছে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. সিদ্দিকুর রহমান জননেত্রী শেখ হাসিনাকে তৃতীয় বিশ্বের সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো আর প্রশংসা করার ভাষা নেই। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে কি হয়নি? তিনি তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ড তুলে ধরেন।
সভায় আইরিন পারভীন তার বক্তব্যে মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরেন।
ফারুক আহমেদ বলেন, ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীন সরকারের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের সাথে নিয়ে দেশে যাওয়ার ফলেই বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা আজো অব্যাহত রয়েছে। তিনি স্থানীয় কন্স্যুলেটের মাধ্যমে প্রবাসীদের আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র/ভোটার আইডি) প্রদানের দাবী জানান।
মহিউদ্দিন দেওয়ান বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীর বাইরেও আমি বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচিত সহ সভাপতি হিসেবে প্রবাসীদের প্রাণের দাবী ‘নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক’ রুটে বিমান চালুর বিষয়টি প্রবাসীরা জানতে চান। তিনি বিমানের দাবীটি পূরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আব্দুল হাসিব মামুন বাংলাদেশে জ্বালাও-পোড়াও’র মাধ্যমে মানুষ মারার রাজনীতির জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ফাঁসি দাবী করেন।
হাজী এনাম নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বসবাসকারী প্রবাসীর দেশে নিজ বাসায় খুন ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীরা দেশে নিরাপত্তা চায়। তিনিও ‘নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক’ রুটে বিমান চালুর দাবী জানান।
সংবর্ধনা শুরুর আগে প্রবাসের শিল্পীরা দেশাত্ববোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এতে শিল্পী শহীদ হাসান সহ সবিতা দাস, কামরুজামান বাবুল, শাহ মাহবুব, লিমন চৌধুরী, প্রদীপ দাস, বিশ্বজিৎ দত্ত, পপি-হ্যাপি মোদক প্রমুখ একক ও যৌথভাবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তবলায় ছিলেন তপন মোদক। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্মরণে কবিতা পাঠ করেন জিএইচ আরজু।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বক্তব্য চলাকালীন সময়ে সংবর্ধনাস্থলে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগতম জানিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা শ্লোগানে মুখর করে তোলেন। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসন নেয়ার পর ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ এবং স্বপরিপারে নিহত বঙ্গবন্ধু, কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতাসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শহীদ হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও শিল্পী সবিতা দাসের নেতৃত্বে বহ্নিশিখার শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করার পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রকাশিত ‘বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস : লাঞ্ছিত মানবতা’ শীর্ষক ভিডিও’র ডকুমেন্ট প্রদর্শিত হয়। ৯:৪০ মিনিটের এই ভিডিওতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের বিগত আন্দোলনের সহিংস ঘটনার সচিত্র বিবরণ তুলে ধরা হয়। পিনপতন নিরবতায় প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ ও উপস্থিত শত-সহস্র প্রবাসী ভিডিওটি প্রত্যক্ষ করেন। ভিডিও প্রদর্শন শেষে উপস্থিত জনতার একাংশ দেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর জ্বালাও-পোড়াও’র মাধ্যমে মানুষ মারার জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ফাঁসি দাবী করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ‘বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস : লাঞ্ছিত মানবতা’ শীর্ষক গ্রন্থ ও ভিডিও’র মোড়ক উন্মোচন করেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর সম্বর্ধনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ-শ্রমিক লীগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কোন্দলে সৃষ্ট বিরোধীতায় অনুষ্ঠানে মৃদু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নেতাদের বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা থেমে থেমে চলে উত্তেজনা। পরে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের হস্তক্ষেপ ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সৃষ্ট হট্টগোল স্তিমিত হয়ে যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর, সভা শেষেও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। যুবলীগের একাংশের কর্মীরা একটি অঙ্গরাজ্যের এক নেতার উপর চড়াও হতে চাইলে যুবলীগের শীর্ষ নেতারা ক্ষুব্ধ কর্মীদের সংযত করে। সম্বর্ধনা সভায় মূল্যায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী অধ্যাপিকা মমতাজ বেগমসহ করেকজন মহিলা লীগ নেত্রী। একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জ্যামাইকা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। যুবলীগ-মহিলা লীগের অভিযোগ তাদের মূল্যায়ণ না করে অঙ্গরাজ্যের নেতাদেরকে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ দিয়ে অধিক হারে মূল্যায়িত করা হয়েছে। তারা জাতিসংঘের সামনে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি সমাবেশে যোগ না দেওয়ারও কথা বলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

পাক প্রেমী খালেদা ৭১-এর মতো আগুণে মানুষ পুড়িয়ে দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল ॥ বিমানে করে আমিও নিউইয়র্কে আসতে চাই

প্রকাশের সময় : ০৮:২৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

নিউইয়র্ক: প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সম্বর্ধনা সভায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রাণের দাবী ‘নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক’ রুটে বিমানের পুনরায় চালুর দাবীর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিমানে করে আমিও নিউইয়র্কে আসতে চাই। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বোয়িং কোম্পানীর সাথে এনিয়ে বৈঠক করেছি। জেএফকে বিমানবন্দরের সøটটিও এজন্য ধরে রাখা হয়েছে। এয়ারক্রাফটের পর্যাপ্ততা ও নিরাপত্তাবিষয়ক কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই নিউইয়র্ক-ঢাকায় বিমানের রুট চালু হবে। সভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পাক প্রেমী খালেদা ৭১-এর মতো আগুণে মানুষ পুড়িয়ে দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সকল ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশ আতœমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার ম্যানহাটানের হিলটন হোটেলের বল রুমে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংবর্ধনা কমিটির সদস্য সচিব সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রবাসী কলাণ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ছাড়াও ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীগের কার্য নির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন এবং অঙ্গরাজ্যসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন।
সভায় অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউএস কংগ্রেসওম্যান ইভেট ক্লার্ক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দিপু মনি, সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের বন ও পরিবেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ প্রমুখ।
সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন দেশ গড়ার আগেই ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেলো। কারাগারে হত্যা করলো জাতীয় চার নেতাকে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছে। ফলে দেশে সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। বাংলাদেশ আতœমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন সন্ত্রাস-নৈরাজ্য আর জঙ্গীবাদ দমন করে দেশকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করছে তখন খালেদা জ্বলাও-পোড়াও’র রাজনীতি করে দেশকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী ‘পাক প্রীতি’ ভুলতে পারেননি বলেই, ৭১’র মতো জ্বালাও-পোড়াও’র মাধ্যমে মানুষকে হত্যা করে দেশকে ধ্বংস করার রাজনীতি করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) এক বাড়ীতে ৬৫জনের সাথে ৯২ দিন বসে থেকে মানুষ পুড়িয়ে মেরে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেও সফল হননি। প্রধানমন্ত্রী দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি অর্জনে প্রবাসীদের অবদান রয়েছে। সবাইকে মিলেই দেশটি গড়তে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ৩৮ মিনিটের ভাষণে বিএনপি-জামাতের নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের ‘সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা’র রাজনীতি, মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড আর ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, কৃষক লীগসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ প্রবাসীদের উপস্থিতিতে গগণ বিদারী শ্লোগান আর করতালির মধ্যে বিকেল ৪টা চার মিনিটে সম্বর্ধনাস্থলে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতেই বিকেল সাড়ে তিনটায় আনুষ্ঠানটিকভাবে সম্বর্ধনা সভার কাজ শুরু হয়।
সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম কাজী কাইয়ুম, বাইবেল থেকে পাঠ করেন ডা. টমাস দুলু রায়, গীতা থেকে পাঠ করেন সুশিল সাহা আর ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন ধর্মেন্দ্র মহাথেরো। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এম ফজলুর রহমান, সহ সভাপতি মাহবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ ও আইরীন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা ও চন্দন দত্ত, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আবুল মনসুর খান, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, আওয়ামী লীগ নেতা হিন্দাল কাদির বাপ্পা, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী, ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উদ্দিন, ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. অরূপ চৌধুরী, জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, পেনসেলভেনিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, মিশিগান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ, নিউজার্সী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ ও সাউথ জার্সী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহীন প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর বিক্রম) এমপি, গোলন্দাস বাদল এমপি, আব্দুল ওয়াদুদ দারা এমপি প্রমুখকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণের শুরুতেই বলেন, আজ অনেকেই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাদের সেই শুভেচ্ছা হাতে না পেলেও হৃদয়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করলাম। যারা আজ আসতে পারেননি তিনি উপস্থিত প্রবাসীদের মাধ্যমে তাদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পৌছে দেয়ার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরই আমি নিউইয়র্কে আসি। এই একদিনই আপনাদের (প্রবাসী) সাথে দেখা হয়, আমার ভাল লাগে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা কারো কাছে মাথা নত করতে চাই না। আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ দেশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৬ বিলিয়নের ওপরে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে এখন অনেক শক্তিশালী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মধ্যম আয়ের দেশের প্রথম সোপানে পা রেখেছি। জিডিপির গ্রোথ অতিতের চেয়ে অনেক ভালো। উন্নয়নের পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে ৯০ ভাগই নিজস্ব অর্থায়নেই করছি। এসব দেখে বিরোধীদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশ অনেক দুর এগিয়েছে। খাদ্যের কোন হাহাকার নেই। বর্তমানে দেশে ২২.৪ ভাগ দরিদ্র এবং হত দরিদ্র হার হচ্ছে ৪.৯ শতাংশ। তিনি বিদ্যুৎ-এর উন্নয়ন, ঘাটতি পূরণে সোলার বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে দেশের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পোস্ট অফিসকে আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা, কর্মসংস্থানে প্রায় দেড় কোটি লোকের চাকুরীর ব্যবস্থা, শিক্ষা-ক্ষেত্রে সফলতা, ২০১৫ সালে বিনামূল্যে ৬২ কোটি ৪৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯শ ২৯টি বই বিতরণ’সহ উন্নয়নের নানা চিত্র প্রবাসীদের মাঝে তুলে ধরে বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের সর্বজনীন অনুষ্ঠান। অর্থমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে উৎসব ভাতা চালু করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন দেশ গড়ার আগেই ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেলো। কারাগারে হত্যা করলো জাতীয় চার নেতাকে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছে। ফলে দেশে সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। বাংলাদেশ আতœমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি অর্জনে প্রবাসীদের অবদান রয়েছে। সবাইকে মিলেই দেশটি গড়তে হবে।
প্রবাসীদের দাবীর মুখে বিমান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী জানান, আমরা বোয়িং কোম্পানি থেকে অনেকগুলো বিমান কিনেছি। গতকালও এ বিষয়ে আমি কথা বলেছি। জেএফকেতে আমাদের বিমানের স্লট ধরে রাখা হচ্ছে। তবে, নানা সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে। তাই বিমান চালু করা যাচ্ছে না। তবে, আমি আশা করছি বিমান চালু হবে। কারণ আমি নিজেও তো চাই বিমানে করে নিউইয়র্কে আসতে। উল্লেখ্য, গত বছরও তার সম্মানে আয়োজিত সম্বর্ধনা সভায় একই রকম আশার বাণী শোনান প্রধানমন্ত্রী।
কংগ্রেসওম্যান ইভেট ক্লার্ক বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের ভূয়শী প্রসংশা আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল জায়েন্ট’ আখ্যায়িত করে বলেন, শুধু ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ নয়’ সকল ক্ষেত্রেই চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রুকলীন থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসওম্যান। কিন্তু আমি একজন ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত। জ্যমাইকা আমার মাতৃভূমি। আমি বিশ্বাস করি আপনারা যারা বাংলাদেশী-আমেরিকান আজকে এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই মাতৃভূমির টান অনূভব করেন। তাই দেশের স্বার্থ রক্ষায় আপনারা কাজ করে যাবেন বলেও আমি বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, ‘উই ওয়ান্ট টু ডু বেষ্ট আওয়ার পিপলস’।
সভায় ডা. দিপু মনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। সীমান্ত সমস্যার সমাধান, সমুদ্র বিজয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সবই হয়েছে, হচ্ছে। তিনি বলেন, হাসিনাই পারেন, হাসিনাই পারবেন। আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে।
ড. হাসান মাহমুদ বলেন, বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। আগে বিশ্ব মিডিয়ায় শিরোনাম হতো বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ। এখন বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ, খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশ। এখন দেশে ৭০% মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। আগামী দুই বছরে শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে। বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জারের মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন নয়, উপচে পড়া ঝুড়ির দেশ। শেখ হাসিনাকে স্বপ্ন বাস্তবায়নের ঠিকানা উল্লেখ করে সাবেক মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে মানুষ মালয়েশিয়ার মহাথির মোহাম্মদের কথা নয়, শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা বলবে।
মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা, যোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেভাবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনাও সেভাবেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করছেন। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে খুনীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। তিনি বলেন, প্রবাসীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ১০মিনিট কথা বলেছেন। প্রবাসীদের কল্যাণে জেলায় জেলায় প্রবাসী সেল গঠন করা হচ্ছে।
ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ বলেন, আমরা ভালো আছি, দেশের মানুষও ভালো আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন, অগ্রগতি আর গণতন্ত্র একই সাথে এগিয়ে চলেছে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. সিদ্দিকুর রহমান জননেত্রী শেখ হাসিনাকে তৃতীয় বিশ্বের সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো আর প্রশংসা করার ভাষা নেই। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে কি হয়নি? তিনি তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ড তুলে ধরেন।
সভায় আইরিন পারভীন তার বক্তব্যে মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরেন।
ফারুক আহমেদ বলেন, ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীন সরকারের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের সাথে নিয়ে দেশে যাওয়ার ফলেই বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা আজো অব্যাহত রয়েছে। তিনি স্থানীয় কন্স্যুলেটের মাধ্যমে প্রবাসীদের আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র/ভোটার আইডি) প্রদানের দাবী জানান।
মহিউদ্দিন দেওয়ান বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীর বাইরেও আমি বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচিত সহ সভাপতি হিসেবে প্রবাসীদের প্রাণের দাবী ‘নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক’ রুটে বিমান চালুর বিষয়টি প্রবাসীরা জানতে চান। তিনি বিমানের দাবীটি পূরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আব্দুল হাসিব মামুন বাংলাদেশে জ্বালাও-পোড়াও’র মাধ্যমে মানুষ মারার রাজনীতির জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ফাঁসি দাবী করেন।
হাজী এনাম নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বসবাসকারী প্রবাসীর দেশে নিজ বাসায় খুন ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীরা দেশে নিরাপত্তা চায়। তিনিও ‘নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক’ রুটে বিমান চালুর দাবী জানান।
সংবর্ধনা শুরুর আগে প্রবাসের শিল্পীরা দেশাত্ববোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এতে শিল্পী শহীদ হাসান সহ সবিতা দাস, কামরুজামান বাবুল, শাহ মাহবুব, লিমন চৌধুরী, প্রদীপ দাস, বিশ্বজিৎ দত্ত, পপি-হ্যাপি মোদক প্রমুখ একক ও যৌথভাবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তবলায় ছিলেন তপন মোদক। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্মরণে কবিতা পাঠ করেন জিএইচ আরজু।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বক্তব্য চলাকালীন সময়ে সংবর্ধনাস্থলে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগতম জানিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা শ্লোগানে মুখর করে তোলেন। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসন নেয়ার পর ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ এবং স্বপরিপারে নিহত বঙ্গবন্ধু, কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতাসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শহীদ হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও শিল্পী সবিতা দাসের নেতৃত্বে বহ্নিশিখার শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করার পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রকাশিত ‘বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস : লাঞ্ছিত মানবতা’ শীর্ষক ভিডিও’র ডকুমেন্ট প্রদর্শিত হয়। ৯:৪০ মিনিটের এই ভিডিওতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের বিগত আন্দোলনের সহিংস ঘটনার সচিত্র বিবরণ তুলে ধরা হয়। পিনপতন নিরবতায় প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ ও উপস্থিত শত-সহস্র প্রবাসী ভিডিওটি প্রত্যক্ষ করেন। ভিডিও প্রদর্শন শেষে উপস্থিত জনতার একাংশ দেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর জ্বালাও-পোড়াও’র মাধ্যমে মানুষ মারার জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ফাঁসি দাবী করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ‘বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস : লাঞ্ছিত মানবতা’ শীর্ষক গ্রন্থ ও ভিডিও’র মোড়ক উন্মোচন করেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর সম্বর্ধনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ-শ্রমিক লীগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কোন্দলে সৃষ্ট বিরোধীতায় অনুষ্ঠানে মৃদু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নেতাদের বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা থেমে থেমে চলে উত্তেজনা। পরে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের হস্তক্ষেপ ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সৃষ্ট হট্টগোল স্তিমিত হয়ে যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর, সভা শেষেও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। যুবলীগের একাংশের কর্মীরা একটি অঙ্গরাজ্যের এক নেতার উপর চড়াও হতে চাইলে যুবলীগের শীর্ষ নেতারা ক্ষুব্ধ কর্মীদের সংযত করে। সম্বর্ধনা সভায় মূল্যায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী অধ্যাপিকা মমতাজ বেগমসহ করেকজন মহিলা লীগ নেত্রী। একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জ্যামাইকা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। যুবলীগ-মহিলা লীগের অভিযোগ তাদের মূল্যায়ণ না করে অঙ্গরাজ্যের নেতাদেরকে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ দিয়ে অধিক হারে মূল্যায়িত করা হয়েছে। তারা জাতিসংঘের সামনে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি সমাবেশে যোগ না দেওয়ারও কথা বলেন।