নিউইয়র্ক ১১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নির্বাচনী অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পুরণ করবো : পিতার মতো জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করবো

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৫
  • / ৮৩৪ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) নব নির্বাচিত মেয়র আলহাজ সাঈদ খোকন তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পুরণ করার পাশাপাশি প্রয়াত পিতা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মরহুম মোহাম্মদ হানিফের মতো জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করে বলেছেন, রাজনীতির কঠিন সময়ে বাবাকে হারিয়ে জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয় পেয়েছি। নেত্রী আমাকে আগলে রেখেছেন, মেয়র বানিয়েছেন। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। আমি আমার সাধ্য মতো ঢাকাবাসী তথা দেশবাসী আর দলের জন্য কাজ করতে চাই। ঢাকা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন, দূষণ আর যানজট মুক্ত করতে চাই। এজন্য প্রবাসীসহ দেশবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ প্রদত্ত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আলহাজ সাঈদ খোকন এ কথা বলেন।
সিটির এস্টোরিয়াস্থ ক্লাব সনমে ১৪ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। দলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের পরিচালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ মুনাজাত করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম। এছাড়া পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন সুবল দেবনাথ। এরপর ভাষা আন্দোলন আর স্বাধীনতার যুদ্ধে শহীদ সহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। খবর ইউএনএ’র।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি যথাক্রমে সৈয়দ বসারত আলী, মাহবুবুর রহমান, সামসুদ্দীন আজাদ ও আবুল কাশেম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ ও আইরীন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, আব্দুল হাসিব মামুন ও মহিউদ্দিন দেওয়ান, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম (দুলাল মিয়া), মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ বখতিয়ার, জন সংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস, উপ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম জিকু, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নূরুজ্জামান সরদার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য শামসুল আবদীন, জহিরুল হক, হিন্দাল কাদীর বাপ্পা, আলী আহমেদ গজনবী ও খসরুজ্জামান খসরু, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন নিউইয়র্ক মহাগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কমান্ডার নবী, কানেকটিকাট আওয়ামী লীগের সভাপতি জুনেদ এ খান, নিউজার্সী আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক চুন্নু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসাইন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আলমের নেতৃত্বে যুবলীগ, সভানেত্রী অধ্যাপিকা শাহনাজন মমতাজ-এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র মহিলা লীগ, আহ্বায়ক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে সম্বর্ধিত অতিথি মেয়র সাঈদ খোকনকে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু লীগ ও নবীন লীগের পক্ষ থেকেও মেয়র সাঈদ খোকনকে ফুল দিয়ে সম্বর্ধিত করা হয়।
02সভায় মেয়র সাঈদ খোকন ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, আমাদের বাস থেকেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার সংগ্রামের শুরু করেন। ১৯৫৪ সাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর সাথে বাবা মোহাম্মদ হানিফের গভীর সম্পর্কের কারণে আওয়ামী লীগের সাথে আমাদের পরিবারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর নির্বাচন আর স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের সকল আন্দোলনেই আমাদের পরিবারের অবদান রয়েছে। ২১ আগষ্টের ভয়াবগ গ্রেনেড হামলার সময় বাবা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আগলে রেখে বাঁচিয়েছেন। তিনি বলেন, ৯০-এর মাঝামাঝি বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে আসি। ২০০৭ সালে তিনি (মোহাম্মদ হানিফ) চলে যান। রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন বাবাকে হারাই তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আগলে রেখেছেন, মেয়র বানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, জীবনের অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজকে এই পর্যায়ে দাঁড়িয়েছি। আমার জীবনের আর কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ তথা প্রবাসীদের সম্বর্ধনায় মুগ্ধ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি প্রবাসীদের কাছে ঋণী হয়ে রইলাম’।
মেয়র সাঈদ খোকন তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের কারণ উল্লেখ করে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরীর আমন্ত্রণে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘আওয়ার সিটিজ আওয়ার ক্লাইমেক্স’ কর্মসুচীতে অংশ নিতে আমরা ঢাকার দুই মেয়র ওয়াশিংটন আসি এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেই।
03চারশত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা শহরের ‘জলাবন্ধতা, যানজট, অপচ্ছিন্নতা’ সহ নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা শহরে ৫৬টি সংস্থা আর ১৪টি দপ্তর রয়েছে। কিন্তু এসব সংস্থা ও দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় নেই বলেই সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না। সম্মিলিতভাবেই এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। এজন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, হাজারো সমস্যার মধ্যে ঢাকাবাসী সুখ-দু:খে বসবাস করছেন। এমনটি আর পৃথিবীর কোন শহরে দেখতে পাওয়া যাবে না। আমাদের সমস্যা বেশী, আর্থিক সামর্থও কম। সীমিত সম্পদ নিয়েই আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
বিগত ঈদুল আযহার সময় নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী করার কথা উল্লেখ করে মেয়র খোকন বলেন, আমাদের আহ্বানে ঢাকাবাসী সারা দিয়েছেন। আমরা সফল হয়েছি। সবার সহযোগিতায় মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই কোরবানীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমি পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারিনি।
04মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, দুই কোটি মানুষের বসবাস ঢাকা শহরে। নিউইয়র্ক শহরে মানুষ যেভাবে ট্যাক্স দেয়, আমরা সেভাবে ট্যাক্স চালু করতে পারিনি। বিত্তবানরা ছাড়া আমাদের মানুষগুলো হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ। নিজেকে একজন মুজিব সৈনিক, জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী আর মোহাম্মদ হানিফের পুত্র দাবী করে মেয়র খোকন বলেন, আমার রাজনীতি দেশের খেটেখাওয়া মানুষের জন্য। আমি সব সময় তাদের পাশে থাকতে চাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ঢাকা শহরে যানজট দূর করতে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মান করেছে। ফলে যানজট অনেক কমে গেছে। ২০০৯ সালে ঢাকা মেট্রো রেলরাইনের কাজ শেষ হলে ঢাকা শহরের যানজট আরো কমে যাবে।
05মেয়র খোকন বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষত্রে প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় সার্বক্ষনিক আমাদের সাহায্য করছেন। এখন আমার অফিসে আমিসহ সকলকেই ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেসিমটেন্স আর গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের শ্রমে। এখন ঢাকা শহরের একজন রিক্স চালক প্রতি মাসে ২৫/৩০ হাজার টাকা আয় করে। পাশাপাশি জিনিসপত্রের মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকায় মানুষের কোন অভাব অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, ঢাকাবাসীদের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী প্রবাসে বাসবাস করায় প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে ‘হেল্প ডেস্ক’ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মেয়র সাঈদ খোকন।
06অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের বক্তব্যে ঢাকা শহরকে জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিচ্ছন্নতা আর মশামুক্ত করার জোর দাবী জানান এবং শহরের সমস্যা মোকাবেলায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। এজন্য প্রয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশী অভিজ্ঞ পেশাবীবিদের সাথে মতবিনিময় করা যেতে পারে বলে কেউ কেউ অভিমত ব্যক্ত করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নির্বাচনী অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পুরণ করবো : পিতার মতো জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করবো

প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৫

নিউইয়র্ক: ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) নব নির্বাচিত মেয়র আলহাজ সাঈদ খোকন তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পুরণ করার পাশাপাশি প্রয়াত পিতা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মরহুম মোহাম্মদ হানিফের মতো জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করে বলেছেন, রাজনীতির কঠিন সময়ে বাবাকে হারিয়ে জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয় পেয়েছি। নেত্রী আমাকে আগলে রেখেছেন, মেয়র বানিয়েছেন। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। আমি আমার সাধ্য মতো ঢাকাবাসী তথা দেশবাসী আর দলের জন্য কাজ করতে চাই। ঢাকা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন, দূষণ আর যানজট মুক্ত করতে চাই। এজন্য প্রবাসীসহ দেশবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ প্রদত্ত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আলহাজ সাঈদ খোকন এ কথা বলেন।
সিটির এস্টোরিয়াস্থ ক্লাব সনমে ১৪ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। দলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের পরিচালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ মুনাজাত করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম। এছাড়া পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন সুবল দেবনাথ। এরপর ভাষা আন্দোলন আর স্বাধীনতার যুদ্ধে শহীদ সহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। খবর ইউএনএ’র।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি যথাক্রমে সৈয়দ বসারত আলী, মাহবুবুর রহমান, সামসুদ্দীন আজাদ ও আবুল কাশেম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ ও আইরীন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, আব্দুল হাসিব মামুন ও মহিউদ্দিন দেওয়ান, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম (দুলাল মিয়া), মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ বখতিয়ার, জন সংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস, উপ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম জিকু, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নূরুজ্জামান সরদার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য শামসুল আবদীন, জহিরুল হক, হিন্দাল কাদীর বাপ্পা, আলী আহমেদ গজনবী ও খসরুজ্জামান খসরু, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন নিউইয়র্ক মহাগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কমান্ডার নবী, কানেকটিকাট আওয়ামী লীগের সভাপতি জুনেদ এ খান, নিউজার্সী আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক চুন্নু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসাইন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আলমের নেতৃত্বে যুবলীগ, সভানেত্রী অধ্যাপিকা শাহনাজন মমতাজ-এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র মহিলা লীগ, আহ্বায়ক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে সম্বর্ধিত অতিথি মেয়র সাঈদ খোকনকে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু লীগ ও নবীন লীগের পক্ষ থেকেও মেয়র সাঈদ খোকনকে ফুল দিয়ে সম্বর্ধিত করা হয়।
02সভায় মেয়র সাঈদ খোকন ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, আমাদের বাস থেকেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার সংগ্রামের শুরু করেন। ১৯৫৪ সাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর সাথে বাবা মোহাম্মদ হানিফের গভীর সম্পর্কের কারণে আওয়ামী লীগের সাথে আমাদের পরিবারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর নির্বাচন আর স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের সকল আন্দোলনেই আমাদের পরিবারের অবদান রয়েছে। ২১ আগষ্টের ভয়াবগ গ্রেনেড হামলার সময় বাবা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আগলে রেখে বাঁচিয়েছেন। তিনি বলেন, ৯০-এর মাঝামাঝি বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে আসি। ২০০৭ সালে তিনি (মোহাম্মদ হানিফ) চলে যান। রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন বাবাকে হারাই তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আগলে রেখেছেন, মেয়র বানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, জীবনের অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজকে এই পর্যায়ে দাঁড়িয়েছি। আমার জীবনের আর কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ তথা প্রবাসীদের সম্বর্ধনায় মুগ্ধ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি প্রবাসীদের কাছে ঋণী হয়ে রইলাম’।
মেয়র সাঈদ খোকন তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের কারণ উল্লেখ করে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরীর আমন্ত্রণে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘আওয়ার সিটিজ আওয়ার ক্লাইমেক্স’ কর্মসুচীতে অংশ নিতে আমরা ঢাকার দুই মেয়র ওয়াশিংটন আসি এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেই।
03চারশত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা শহরের ‘জলাবন্ধতা, যানজট, অপচ্ছিন্নতা’ সহ নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা শহরে ৫৬টি সংস্থা আর ১৪টি দপ্তর রয়েছে। কিন্তু এসব সংস্থা ও দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় নেই বলেই সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না। সম্মিলিতভাবেই এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। এজন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, হাজারো সমস্যার মধ্যে ঢাকাবাসী সুখ-দু:খে বসবাস করছেন। এমনটি আর পৃথিবীর কোন শহরে দেখতে পাওয়া যাবে না। আমাদের সমস্যা বেশী, আর্থিক সামর্থও কম। সীমিত সম্পদ নিয়েই আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
বিগত ঈদুল আযহার সময় নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী করার কথা উল্লেখ করে মেয়র খোকন বলেন, আমাদের আহ্বানে ঢাকাবাসী সারা দিয়েছেন। আমরা সফল হয়েছি। সবার সহযোগিতায় মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই কোরবানীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমি পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারিনি।
04মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, দুই কোটি মানুষের বসবাস ঢাকা শহরে। নিউইয়র্ক শহরে মানুষ যেভাবে ট্যাক্স দেয়, আমরা সেভাবে ট্যাক্স চালু করতে পারিনি। বিত্তবানরা ছাড়া আমাদের মানুষগুলো হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ। নিজেকে একজন মুজিব সৈনিক, জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী আর মোহাম্মদ হানিফের পুত্র দাবী করে মেয়র খোকন বলেন, আমার রাজনীতি দেশের খেটেখাওয়া মানুষের জন্য। আমি সব সময় তাদের পাশে থাকতে চাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ঢাকা শহরে যানজট দূর করতে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মান করেছে। ফলে যানজট অনেক কমে গেছে। ২০০৯ সালে ঢাকা মেট্রো রেলরাইনের কাজ শেষ হলে ঢাকা শহরের যানজট আরো কমে যাবে।
05মেয়র খোকন বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষত্রে প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় সার্বক্ষনিক আমাদের সাহায্য করছেন। এখন আমার অফিসে আমিসহ সকলকেই ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেসিমটেন্স আর গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের শ্রমে। এখন ঢাকা শহরের একজন রিক্স চালক প্রতি মাসে ২৫/৩০ হাজার টাকা আয় করে। পাশাপাশি জিনিসপত্রের মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকায় মানুষের কোন অভাব অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, ঢাকাবাসীদের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী প্রবাসে বাসবাস করায় প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে ‘হেল্প ডেস্ক’ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মেয়র সাঈদ খোকন।
06অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের বক্তব্যে ঢাকা শহরকে জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিচ্ছন্নতা আর মশামুক্ত করার জোর দাবী জানান এবং শহরের সমস্যা মোকাবেলায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। এজন্য প্রয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশী অভিজ্ঞ পেশাবীবিদের সাথে মতবিনিময় করা যেতে পারে বলে কেউ কেউ অভিমত ব্যক্ত করেন।