নিউইয়র্ক ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কে মির্জা ফখরুলের চেকআপ শুরু : সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না নেতা-কর্মীদের

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৫
  • / ৫৭১ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। ১৪ আগষ্ট শুক্রবার সিটির কর্নেল হাসপাতালে প্রথম তার শারীরিক চেকআপ করা হয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মির্জা ফখরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাংলাদেশী-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. জালাল আহমেদ মির্জা ফখরুলের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এসময় সিঙ্গাপুরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে ডা. জালাল মির্জা ফখরুলের সাথে আলোচনা করেন।
এদিকে নিউইয়র্ক পৌছার পরই মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বস্ত্রীক স্থানীয় লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে উঠেছেন। দু’একদিনের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক নেতার বাসায় উঠতে পারেন বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন।
অপরদিকে শারীরিক অবস্থার কতা বিবেচনায় রেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম দলীয় নেতা-কর্মীদের কোন সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় নেতা সাদেক হোসেন খোকা সহ হাতেগোনা কয়েকজন নেতাই তার সাথে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা দলের মহাসচিব একটু সুস্থ্য হলেই নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ দেবেন এবং দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে সাথে নিয়ে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। হুইল চেয়ারে চড়ে সহধর্মিনী রাহাত মির্জার সঙ্গে বিমানবন্দরের অভ্যর্থনা লাউঞ্জে আসার পর কেন্দ্রীয় বিএনপি’র এক নেতাসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কতিপয় নেতা মিজা ফখরুল ইসলামকে স্বাগত এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্র আসার আগে গত ২৭ জুলাই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এবং ইকোনো হসপিটালের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তিনি ক্যারোটিভ আর্টারি ব্লকেজ ও হার্টসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। আরো উল্লেখ্য, টানা ছয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকাবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার প্রখ্যাত মির্জা পরিবারের সন্তান। ১৯৪৮ সালে তার জন্ম। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী মির্জা ফখরুল পেশায় ছিলেন কলেজ শিক্ষক। ১৯৯০ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচত হওয়ার পর প্রথমে বিএনপি সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মনোনীত হন এবং ২০১১ সালের মার্চ মাসে বিএনপির মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন ইন্তেকাল করার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে অদ্যবদী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কে মির্জা ফখরুলের চেকআপ শুরু : সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না নেতা-কর্মীদের

প্রকাশের সময় : ১০:৫৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৫

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। ১৪ আগষ্ট শুক্রবার সিটির কর্নেল হাসপাতালে প্রথম তার শারীরিক চেকআপ করা হয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মির্জা ফখরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাংলাদেশী-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. জালাল আহমেদ মির্জা ফখরুলের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এসময় সিঙ্গাপুরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে ডা. জালাল মির্জা ফখরুলের সাথে আলোচনা করেন।
এদিকে নিউইয়র্ক পৌছার পরই মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বস্ত্রীক স্থানীয় লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে উঠেছেন। দু’একদিনের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক নেতার বাসায় উঠতে পারেন বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন।
অপরদিকে শারীরিক অবস্থার কতা বিবেচনায় রেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম দলীয় নেতা-কর্মীদের কোন সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় নেতা সাদেক হোসেন খোকা সহ হাতেগোনা কয়েকজন নেতাই তার সাথে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা দলের মহাসচিব একটু সুস্থ্য হলেই নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ দেবেন এবং দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে সাথে নিয়ে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। হুইল চেয়ারে চড়ে সহধর্মিনী রাহাত মির্জার সঙ্গে বিমানবন্দরের অভ্যর্থনা লাউঞ্জে আসার পর কেন্দ্রীয় বিএনপি’র এক নেতাসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কতিপয় নেতা মিজা ফখরুল ইসলামকে স্বাগত এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্র আসার আগে গত ২৭ জুলাই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এবং ইকোনো হসপিটালের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তিনি ক্যারোটিভ আর্টারি ব্লকেজ ও হার্টসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। আরো উল্লেখ্য, টানা ছয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকাবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার প্রখ্যাত মির্জা পরিবারের সন্তান। ১৯৪৮ সালে তার জন্ম। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী মির্জা ফখরুল পেশায় ছিলেন কলেজ শিক্ষক। ১৯৯০ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচত হওয়ার পর প্রথমে বিএনপি সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মনোনীত হন এবং ২০১১ সালের মার্চ মাসে বিএনপির মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন ইন্তেকাল করার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে অদ্যবদী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।