নিউইয়র্ক ১১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কে বিএনপি‘র ৪ কেন্দ্রীয় নেতার বৈঠক নিয়ে কৌতুহল

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৫
  • / ৬৩০ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে নিউইয়র্কে বৈঠকে মিলিত হলেন বিএনপি নেতা ড. মঈন খান, সাদেক হোসেন খোকা এবং এহসানুল হক মিলন। ৪ নেতার বৈঠকে কী কথা হয়েছে তা নিশ্চিত করে জানা সম্ভব হয়নি। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রচন্ডভাবে হতাশ। কারণ, এই ৪ জনের কেউই রাজনৈতিক কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এমনকি মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাক্ষাতই দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। আসছে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেএফকে এয়ারপোর্ট এবং জাতিসংঘের সামনে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল, জাসাস, স্বেচ্ছাসেবক দল, তারেক পরিষদ, ছাত্রদলসহ সমমনা সংগঠনগুলো। ২৩ আগস্ট রোববার নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ‘যেখানে হাসিনা-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি উপলক্ষে একটি প্রস্তুতি সভা আহবান করেছে যুবদল ও ছাত্রদল। এমনি সময়ে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন নির্লিপ্ততায় মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে বলে জানা যায়।
এদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘চিকিৎসার জন্যে নিউইয়র্কে এসেছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। আমি আগে থেকেই নিউইয়র্কে রয়েছি ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্যে। এরইমধ্যে জ্যেষ্ঠ কন্যাকে এমআইটিতে পিএইচডি কোর্সে ভর্তির জন্যে নিউইয়র্কে এসেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। ড. খান আমার খোঁজ-খবর নিতে এসেছিলেন। সে সময় আমাদের আরেক নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল, আমরা একসাথেই ছিলেন। ফলে ৪ জন কিছুটা সময় কাটাই এবং পরস্পরের কুশলাদি বিনিময় হয়। বিশেষ করে আমার এবং মহাসচিবের চিকিৎসার গতি-প্রকৃতি স্থান পায় এ আলোচনায়।’
সাবেক মেয়র খোকা উল্লেখ করেন, ‘আমার চিকিৎসা চলছে। আল্লাহর রহমতে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অর্থাৎ অবস্থার কোন অবনিত ঘটেনি। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ১১ আগস্ট নিউইয়র্কে এসেছেন। ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ৩ চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা পরীক্ষা করেছেন তাকে। ২৪ আগস্ট সোমবার বিশ্বখ্যাত কর্ণেল হাসপাতালের প্রখ্যাত একজন চিকিৎসক তাকে দেখবেন। এরপরই হয়তো তার চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ খোকা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘মহাসচিবের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ, অস্ত্রোপচারের উপযোগী নয় তার শারীরিক অবস্থা। এখন পর্যন্ত যে ৩ চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করেছেন তারা এমন মতামত ব্যক্ত করে শুধুমাত্র ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন।’ ‘২৪ আগস্ট যে চিকিৎসক তাকে দেখবেন-তার মতামতের অপেক্ষায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। এ জন্যে দেশবাসীর দোয়া কামনা করা হয়েছে’- উল্লেখ করেন সাদেক হোসেন খোকা।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন গতমাসে নিউইয়র্কে এসেছেন। কিন্তু তাকে বিএনপির কোন কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। মিলন চিকিৎসার জন্যেও আসেননি নিউইয়র্কে।
সাদেক হোসেন খোকাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না কয়েক মাস যাবত। অপরদিকে, সিঙ্গাপুর থেকে জেএফকে এয়ারপোর্টে ১১ আগস্ট অবতরণের পর সমবেত নেতা-কর্মীদের মির্জা ফখরুল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মাননীয় আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্যে এসেছেন। তাই রাজনেতিক কোন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন না। মির্জা ফখরুল অবস্থান করছেন নিউইয়র্ক সিটির একটি হোটেলে। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়া কাউকে সাক্ষাৎও দিচ্ছেন না মির্জা ফখরুল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কে বিএনপি‘র ৪ কেন্দ্রীয় নেতার বৈঠক নিয়ে কৌতুহল

প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৫

নিউইয়র্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে নিউইয়র্কে বৈঠকে মিলিত হলেন বিএনপি নেতা ড. মঈন খান, সাদেক হোসেন খোকা এবং এহসানুল হক মিলন। ৪ নেতার বৈঠকে কী কথা হয়েছে তা নিশ্চিত করে জানা সম্ভব হয়নি। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রচন্ডভাবে হতাশ। কারণ, এই ৪ জনের কেউই রাজনৈতিক কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এমনকি মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাক্ষাতই দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। আসছে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেএফকে এয়ারপোর্ট এবং জাতিসংঘের সামনে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল, জাসাস, স্বেচ্ছাসেবক দল, তারেক পরিষদ, ছাত্রদলসহ সমমনা সংগঠনগুলো। ২৩ আগস্ট রোববার নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ‘যেখানে হাসিনা-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি উপলক্ষে একটি প্রস্তুতি সভা আহবান করেছে যুবদল ও ছাত্রদল। এমনি সময়ে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন নির্লিপ্ততায় মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে বলে জানা যায়।
এদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘চিকিৎসার জন্যে নিউইয়র্কে এসেছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। আমি আগে থেকেই নিউইয়র্কে রয়েছি ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্যে। এরইমধ্যে জ্যেষ্ঠ কন্যাকে এমআইটিতে পিএইচডি কোর্সে ভর্তির জন্যে নিউইয়র্কে এসেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। ড. খান আমার খোঁজ-খবর নিতে এসেছিলেন। সে সময় আমাদের আরেক নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল, আমরা একসাথেই ছিলেন। ফলে ৪ জন কিছুটা সময় কাটাই এবং পরস্পরের কুশলাদি বিনিময় হয়। বিশেষ করে আমার এবং মহাসচিবের চিকিৎসার গতি-প্রকৃতি স্থান পায় এ আলোচনায়।’
সাবেক মেয়র খোকা উল্লেখ করেন, ‘আমার চিকিৎসা চলছে। আল্লাহর রহমতে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অর্থাৎ অবস্থার কোন অবনিত ঘটেনি। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ১১ আগস্ট নিউইয়র্কে এসেছেন। ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ৩ চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা পরীক্ষা করেছেন তাকে। ২৪ আগস্ট সোমবার বিশ্বখ্যাত কর্ণেল হাসপাতালের প্রখ্যাত একজন চিকিৎসক তাকে দেখবেন। এরপরই হয়তো তার চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ খোকা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘মহাসচিবের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ, অস্ত্রোপচারের উপযোগী নয় তার শারীরিক অবস্থা। এখন পর্যন্ত যে ৩ চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করেছেন তারা এমন মতামত ব্যক্ত করে শুধুমাত্র ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন।’ ‘২৪ আগস্ট যে চিকিৎসক তাকে দেখবেন-তার মতামতের অপেক্ষায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। এ জন্যে দেশবাসীর দোয়া কামনা করা হয়েছে’- উল্লেখ করেন সাদেক হোসেন খোকা।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন গতমাসে নিউইয়র্কে এসেছেন। কিন্তু তাকে বিএনপির কোন কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। মিলন চিকিৎসার জন্যেও আসেননি নিউইয়র্কে।
সাদেক হোসেন খোকাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না কয়েক মাস যাবত। অপরদিকে, সিঙ্গাপুর থেকে জেএফকে এয়ারপোর্টে ১১ আগস্ট অবতরণের পর সমবেত নেতা-কর্মীদের মির্জা ফখরুল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মাননীয় আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্যে এসেছেন। তাই রাজনেতিক কোন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন না। মির্জা ফখরুল অবস্থান করছেন নিউইয়র্ক সিটির একটি হোটেলে। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়া কাউকে সাক্ষাৎও দিচ্ছেন না মির্জা ফখরুল।