নিউইয়র্ক ১০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কের রাস্তায় প্রথমবারের মতো হাজারো কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০১:১৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • / ৭৫৫ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কের রাস্তায় এই প্রথমবারের মতো হাজারো কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হলো। শত-সহ¯্র-হাজারো কন্ঠে একসাথে উচ্চারিত হলো ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস আমার প্রাণে। ও মা আমার প্রাণে বাঁজায় বাশি সোনার বাংলা…………….’। এ এক অন্যরকম দৃশ্য, অন্য রকম পরিববেশ, অন্যরকম অনুভূতি। সবুজে ঘেরা রক্তলাল পতাকা আর লাল-সবুজের পোশাকে শত-সহ¯্র প্রবাসী বাঙালী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত অন্যতম এলাকা ব্রঙ্কসের ‘বাংলাবাজার খ্যাত’ স্টারলিং এভিনিউ সংলগ্ন পার্ডি স্ট্রিটে ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠান কমিউনিটিসহ ভিনদেশীদের দৃষ্টি কাড়ে। উত্তর আমেরিকায় স্যাটেলাইট টিভি সংযোগ বিপননকারী প্রতিষ্ঠান টোটাল ক্যাবল উদ্যেগ আর বাংলাদেশী আমেরিকান কমুনিটি কাউন্সিল-এর সহযোগিতায় ‘জাতীয় সঙ্গীত গাইবো নতুন প্রজম্মকে নিয়ে’ শ্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন আর বিশেষ অতিথি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সেপুলভিদা।
বৃষ্টিস্নাত বিরুপ পরিবেশে সর্বস্তরের শত-সহ¯্র প্রবাসী বাংলাদেশী মাথায় ‘লাল-সবুজ ব্যাজ’ বেধে আর বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বাবা-মায়ের হাত ধরে নতুন প্রজম্মের বিপুল সংখ্যক ছেলে-মেয়েদের অংশ গ্রহণও ছিলো লক্ষ্য করার মতো। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই সঙ্গীত কিংবদন্তী রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসানের নেতৃত্বে প্রবাস ও বাংলাদেশের দেড় শতাধিক সঙ্গীত শিল্পী এতে কন্ঠ মেলান বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষায় নিউইয়র্কে ‘হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা’ গাইবার ধারাবাহিক আয়োজনের এটি ছিলো প্রথম আয়োজন। পরবর্তীতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা ও ব্রুকলীনে ধারাবাহিকভাবে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
অনুষ্ঠানটি সফল করতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী দুপুর থেকেই স্টারলিং এভিনিউতে জড়ো হতে থাকেন। ক্রমে ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেল ৪টা নাগাদ পুরো পার্ডি স্ট্রিট লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এছাড়াও ছিলো উৎসুক জনতার ভীড়। প্রায় সাত হাজারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশী এসময় একত্রিত হন এবং একসঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানটি কেন্দ্র করে বিশালকারের হাইড্রোলিক মঞ্চ স্থাপন করা হয়। এছাড়াও নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে স্টল বসানো হয়। মূলমঞ্চে প্রবাসের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন। বেলা সাড়ে চারটায় আমন্ত্রিত অতিথি ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজকরা মঞ্চে আসেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিদ্বয় ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঢাকা থেকে আগত চ্যানেল আই’র অন্যতম পরিচালক জহির উদ্দিন মামুন, অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এটর্নী পেরি ডি সিলভা, মামুনস টিউটোরিয়ালের প্রিন্সিপ্যাল শেখ আল মামুন, হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা আয়োজনের মূল উগ্যেক্তা ও টোটাল ক্যাবলের সিইও আহমেদুল বারো ভুইয়া পুলক এবং আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশী আমেরিকান কম্যুনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এডভোকেট এন. মজুমদার। এ সময় বাংলাদেশী আমেরিকান কম্যুনিটি কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক নজরুল হক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম বাদশা, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার চৌধুরী খসরু, মনজুর চৌধুরী জগলুল, কো অর্ডিনেটর সাখাওয়াত আলী, রেজাউল ইসলাম সেলিম, এন ইসলাম মামুন, সদস্য সিরাজুল ইসলাম খান, বোরহান উদ্দিন, শাহ আলম, ওমেন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন, নর্থ ব্রঙ্কসের কমুনিটি নেতা আব্দুর রহিম. জামাল হোসাইন, আব্দুর রকিব, মহিবুর রহমান, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আশরাফুল হাসান বুলবুল ও টোটাল ক্যাবলের কনসালটেন্ট হাসানুজ্জামান সাকী।
অনুষ্ঠানে ড. আব্দুল মোমেন বলেন, সারা পৃথিবীতে আজ মারামারি হানাহানি চলছে। কিন্তু আমরা তা চাইনা। আমরা পৃথিবীতে শান্তি চাই। আসলে মানুষের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ বেড়েছে। একজন অন্যজনকে সহ্য করতে পারেন না। এগুলোই আমাদের শান্তি দিতে চায়না। এজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতি সংঘে কালচারাল পিস নামে একটা প্রস্তাব তুলেছিলাম। বিশ্বেও ১৯৩টি দেশে তাতে সমর্থন দিয়েছে। তাই আমরা বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই আপনারা সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টিতে এগিয়ে আসুন। ড. মোমেন হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা আয়োজনের ভুয়সী প্রসংশা করে বলেন এ ধরনের আয়োজন এ প্রজম্মের ছেলে মেয়েদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি গভীর মমতা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অ্যাসেম্বলীম্যান রাইস সেপুলভিদা প্রবাসী বাংলাদেশী মানুষের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা জানান এবং এই আয়োজনের প্রশংসা করেন। ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশী কমুনিটির পাশে সবসময় ছিলেন এবং ভবিষ্যতে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।
আহমেদুল বারো ভূইয়া পুলক বলেন, ‘ইয়েস ইউ মেক ইট। আমরা পেরেছি। সকল ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তের জাল ভেদ করে আমরা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতকে এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কন্ঠে তুলে দিতে পেরেছি। এটাই আমাদের স্বার্থকতা। এ অন্যরকম এক ভালোলাগার মুহুর্ত। এটা এখন ইতিহাস। আমরা এখন বলতে পারি আমরা প্রবাসেও আমাদের জাতি স্বত্তার চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছি’। এডভোকেট এন মজুমদার বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা এ মহত উদ্যোগ নিয়ে ছিলাম তা এখন আর কথার কথা নয়, সত্যি। এই সত্যিকে সঙ্গে নিয়ে হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা লক্ষ্য কন্ঠ, কোটি কন্ঠে ছড়িয়ে যাবে গোটা বিশ্বে। বাংলাদেশীদের মনে, মননে, অস্থিতে, অস্থিমজ্জায়।এই আয়োজনকে স্বার্থক করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।
শেখ আল মামুন বলেন, হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা এ ধরনেরএকটি মহতি আয়োজনে সঙ্গে থাকতে পেরে আমরা সত্যিই খুব খুশি।
বক্তৃতা পর্বের শুরু হয়ে ‘হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা গাওয়া’র প্রস্তুতি। প্রথিতযশা কন্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসান প্রবাস এবং বাংলাদেশের দেড় শতাধিক শিল্পী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে মঞ্চে আসেন। প্রথমেই ‘ওরা আমার মায়ের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’ গান দুটি সমবেত কন্ঠে গাওয়া হয়। এরপর হাজারো কন্ঠ এক হয়ে গাইতে শুরু করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি………..’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো বাংলাদেশী এবং তাদের সন্তানরা বাংলাদেশের পতাকা নেড়ে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। পরে বাংলাদেশের এ প্রজম্মের জনপ্রিয় শিল্পী তানভীর তারেক, ইলিয়াস, রবি চৌধুরী এবং পড়শি গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তাদের সঙ্গে যন্ত্রশিল্পী ছিলেন কি বোর্ডে পাথর্, জোহান লিড গিটার শান্ত, বেইজ গিটার, তবলায় তপন মোদক। সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে ছিলেন কন্ঠশিল্পী তানভীর শাহিন।
উল্লেখ্য, প্রবাসী শিল্পীদের প্রতি উপেক্ষা করার অভিযোগ করে ব্রঙ্কস এলাকার কয়েকটি বাংলাদেশী সংগঠন এই আয়োজনের বিরোধী করে। সংগঠনগুরোর নেতৃবৃন্দ এবিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন। তাদের বিরোধীতা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি সফল হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কের রাস্তায় প্রথমবারের মতো হাজারো কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত

প্রকাশের সময় : ০১:১৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কের রাস্তায় এই প্রথমবারের মতো হাজারো কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হলো। শত-সহ¯্র-হাজারো কন্ঠে একসাথে উচ্চারিত হলো ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস আমার প্রাণে। ও মা আমার প্রাণে বাঁজায় বাশি সোনার বাংলা…………….’। এ এক অন্যরকম দৃশ্য, অন্য রকম পরিববেশ, অন্যরকম অনুভূতি। সবুজে ঘেরা রক্তলাল পতাকা আর লাল-সবুজের পোশাকে শত-সহ¯্র প্রবাসী বাঙালী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত অন্যতম এলাকা ব্রঙ্কসের ‘বাংলাবাজার খ্যাত’ স্টারলিং এভিনিউ সংলগ্ন পার্ডি স্ট্রিটে ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠান কমিউনিটিসহ ভিনদেশীদের দৃষ্টি কাড়ে। উত্তর আমেরিকায় স্যাটেলাইট টিভি সংযোগ বিপননকারী প্রতিষ্ঠান টোটাল ক্যাবল উদ্যেগ আর বাংলাদেশী আমেরিকান কমুনিটি কাউন্সিল-এর সহযোগিতায় ‘জাতীয় সঙ্গীত গাইবো নতুন প্রজম্মকে নিয়ে’ শ্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন আর বিশেষ অতিথি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সেপুলভিদা।
বৃষ্টিস্নাত বিরুপ পরিবেশে সর্বস্তরের শত-সহ¯্র প্রবাসী বাংলাদেশী মাথায় ‘লাল-সবুজ ব্যাজ’ বেধে আর বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বাবা-মায়ের হাত ধরে নতুন প্রজম্মের বিপুল সংখ্যক ছেলে-মেয়েদের অংশ গ্রহণও ছিলো লক্ষ্য করার মতো। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই সঙ্গীত কিংবদন্তী রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসানের নেতৃত্বে প্রবাস ও বাংলাদেশের দেড় শতাধিক সঙ্গীত শিল্পী এতে কন্ঠ মেলান বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষায় নিউইয়র্কে ‘হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা’ গাইবার ধারাবাহিক আয়োজনের এটি ছিলো প্রথম আয়োজন। পরবর্তীতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা ও ব্রুকলীনে ধারাবাহিকভাবে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
অনুষ্ঠানটি সফল করতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী দুপুর থেকেই স্টারলিং এভিনিউতে জড়ো হতে থাকেন। ক্রমে ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেল ৪টা নাগাদ পুরো পার্ডি স্ট্রিট লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এছাড়াও ছিলো উৎসুক জনতার ভীড়। প্রায় সাত হাজারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশী এসময় একত্রিত হন এবং একসঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানটি কেন্দ্র করে বিশালকারের হাইড্রোলিক মঞ্চ স্থাপন করা হয়। এছাড়াও নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে স্টল বসানো হয়। মূলমঞ্চে প্রবাসের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন। বেলা সাড়ে চারটায় আমন্ত্রিত অতিথি ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজকরা মঞ্চে আসেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিদ্বয় ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঢাকা থেকে আগত চ্যানেল আই’র অন্যতম পরিচালক জহির উদ্দিন মামুন, অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এটর্নী পেরি ডি সিলভা, মামুনস টিউটোরিয়ালের প্রিন্সিপ্যাল শেখ আল মামুন, হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা আয়োজনের মূল উগ্যেক্তা ও টোটাল ক্যাবলের সিইও আহমেদুল বারো ভুইয়া পুলক এবং আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশী আমেরিকান কম্যুনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এডভোকেট এন. মজুমদার। এ সময় বাংলাদেশী আমেরিকান কম্যুনিটি কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক নজরুল হক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম বাদশা, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার চৌধুরী খসরু, মনজুর চৌধুরী জগলুল, কো অর্ডিনেটর সাখাওয়াত আলী, রেজাউল ইসলাম সেলিম, এন ইসলাম মামুন, সদস্য সিরাজুল ইসলাম খান, বোরহান উদ্দিন, শাহ আলম, ওমেন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন, নর্থ ব্রঙ্কসের কমুনিটি নেতা আব্দুর রহিম. জামাল হোসাইন, আব্দুর রকিব, মহিবুর রহমান, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আশরাফুল হাসান বুলবুল ও টোটাল ক্যাবলের কনসালটেন্ট হাসানুজ্জামান সাকী।
অনুষ্ঠানে ড. আব্দুল মোমেন বলেন, সারা পৃথিবীতে আজ মারামারি হানাহানি চলছে। কিন্তু আমরা তা চাইনা। আমরা পৃথিবীতে শান্তি চাই। আসলে মানুষের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ বেড়েছে। একজন অন্যজনকে সহ্য করতে পারেন না। এগুলোই আমাদের শান্তি দিতে চায়না। এজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতি সংঘে কালচারাল পিস নামে একটা প্রস্তাব তুলেছিলাম। বিশ্বেও ১৯৩টি দেশে তাতে সমর্থন দিয়েছে। তাই আমরা বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই আপনারা সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টিতে এগিয়ে আসুন। ড. মোমেন হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা আয়োজনের ভুয়সী প্রসংশা করে বলেন এ ধরনের আয়োজন এ প্রজম্মের ছেলে মেয়েদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি গভীর মমতা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অ্যাসেম্বলীম্যান রাইস সেপুলভিদা প্রবাসী বাংলাদেশী মানুষের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা জানান এবং এই আয়োজনের প্রশংসা করেন। ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশী কমুনিটির পাশে সবসময় ছিলেন এবং ভবিষ্যতে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।
আহমেদুল বারো ভূইয়া পুলক বলেন, ‘ইয়েস ইউ মেক ইট। আমরা পেরেছি। সকল ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তের জাল ভেদ করে আমরা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতকে এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কন্ঠে তুলে দিতে পেরেছি। এটাই আমাদের স্বার্থকতা। এ অন্যরকম এক ভালোলাগার মুহুর্ত। এটা এখন ইতিহাস। আমরা এখন বলতে পারি আমরা প্রবাসেও আমাদের জাতি স্বত্তার চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছি’। এডভোকেট এন মজুমদার বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা এ মহত উদ্যোগ নিয়ে ছিলাম তা এখন আর কথার কথা নয়, সত্যি। এই সত্যিকে সঙ্গে নিয়ে হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা লক্ষ্য কন্ঠ, কোটি কন্ঠে ছড়িয়ে যাবে গোটা বিশ্বে। বাংলাদেশীদের মনে, মননে, অস্থিতে, অস্থিমজ্জায়।এই আয়োজনকে স্বার্থক করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।
শেখ আল মামুন বলেন, হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা এ ধরনেরএকটি মহতি আয়োজনে সঙ্গে থাকতে পেরে আমরা সত্যিই খুব খুশি।
বক্তৃতা পর্বের শুরু হয়ে ‘হাজারো কন্ঠে সোনার বাংলা গাওয়া’র প্রস্তুতি। প্রথিতযশা কন্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসান প্রবাস এবং বাংলাদেশের দেড় শতাধিক শিল্পী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে মঞ্চে আসেন। প্রথমেই ‘ওরা আমার মায়ের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’ গান দুটি সমবেত কন্ঠে গাওয়া হয়। এরপর হাজারো কন্ঠ এক হয়ে গাইতে শুরু করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি………..’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো বাংলাদেশী এবং তাদের সন্তানরা বাংলাদেশের পতাকা নেড়ে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। পরে বাংলাদেশের এ প্রজম্মের জনপ্রিয় শিল্পী তানভীর তারেক, ইলিয়াস, রবি চৌধুরী এবং পড়শি গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তাদের সঙ্গে যন্ত্রশিল্পী ছিলেন কি বোর্ডে পাথর্, জোহান লিড গিটার শান্ত, বেইজ গিটার, তবলায় তপন মোদক। সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে ছিলেন কন্ঠশিল্পী তানভীর শাহিন।
উল্লেখ্য, প্রবাসী শিল্পীদের প্রতি উপেক্ষা করার অভিযোগ করে ব্রঙ্কস এলাকার কয়েকটি বাংলাদেশী সংগঠন এই আয়োজনের বিরোধী করে। সংগঠনগুরোর নেতৃবৃন্দ এবিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন। তাদের বিরোধীতা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি সফল হয়।