নিউইয়র্ক ১১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ভেবেছিলাম আর চাকরি করা হবে না’

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • / ৬৯৮ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। এই দিনটি প্রতিজন আমেরিকানের জন্য আনন্দের। প্রতি বছর এই দিনে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসার জামিল সারওয়ার জনির জন্য এ দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি কষ্টের। ২০১৩ সালের ৪ জুলাইয়ের কথা মনে করলে এখনো শিউরে ওঠেন তিনি। সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় সেদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে।
এদিন সিটির ব্রুকলীনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাটুতে জখম হন জামিল সারওয়ার জনি। সেদিনের পর ভেবেছিলেন আর বুঝি পুলিশের চাকরি করা হবে না। কিন্তু প্রবল আত্মবিশ্বাসী এই মানুষটি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। আরো বেশি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি অধিক পরিশ্রমী পুলিশ অফিসার। আর নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসারের কৃতিত্ব হিসাবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ থেকে পেলেন পদোন্নতি। জনি এখন ডিটেকটিভ।
এ উপলক্ষ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দুপুরে ম্যানহাটনে ওয়ান পুলিশ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে তুলে দেয়া হলো পদোন্নতির সার্টিফিকেট।
পিরোজপুরের কৃতি সন্তান, বাংলাদেশীদের গর্ব জামিল সারওয়ার জনি ছাড়াও এদিন ট্রাফিক বিভাগের আরো বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা পদোন্নতি লাভ করেছেন। হলভর্তি সহকর্মী, শুভাকাঙ্খী ও স্বজনদের সামনে এসব বাংলাদেশী কর্মকর্তারা তাদের পদোন্নতির সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে লেফটেন্যান্ট, সার্জেন্ট, ডিটেকটিভ ও অফিসার পদে প্রায় দুইশ এবং ট্রাফিক বিভাগে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশী কর্মকর্তা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এসব কর্মকর্তা তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করছেন।
ওয়ান পুলিশ প্লাজার বিশাল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর এনওয়াইপিডি’র শীর্ষ কর্মকর্তারা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। প্রথমে ট্রাফিক বিভাগের ৯৭জনকে পদোন্নতির সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এই ৯৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। এরপর ২৮ জন কর্মকর্তাকে তিনটি ধাপে ডিটেকটিভ হিসাবে পদোন্নতির সার্টিফিকেট দেয়া হয়। জামিল সারওয়ার একমাত্র বাংলাদেশী যিনি নিয়মিত পুলিশ বিভাগে শুক্রবার পদোন্নতি লাখ করলেন।
জামিল সারওয়ার জনির পদোন্নতির এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিনী লামিয়া নওশীন, তাদের সদ্য ভূমিষ্ট কন্যা জুনাইনা রূপকথা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা।
পদোন্নতির পাবার পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জামিল সারওয়ার জনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট যতœবান থাকার চেষ্টা করেছি। ডিপার্টমেন্ট আমাকে পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। এখন নতুন দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে চাই।’
স্বামীর পদোন্নতিতে দারুন খুশি স্ত্রী লামিয়া নওশীন। তিনি জানান, জনি আমার স্বামী, এজন্য যতটুকু গর্বিত, তার চেয়ে বেশি গর্বিত ও আনন্দিত যে তিনি একজন বাংলাদেশী। এই প্রবাসে তিনি বাংলাদেশীদের মুখ উজ্জল করেছেন।
জামিল সারওয়ার জনির সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরেক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসার মাহবুব রহমান বলেন, ‘আমরা এই পদোন্নতিতে দারুণ খুশি। তিনি ডিপার্টমেন্টে আমাদের মুখ উজ্জল করেছেন নিঃসন্দেহে।’
পদোন্নতির পর জামিল সারওয়ার জনিকে স্বাগত জানান, তার বন্ধু, সহকর্মী ও স্বজনেরা। তাৎক্ষণিক তাকে অভিনন্দন জানান, নবগঠিত বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা)-এর কর্মকর্তারা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জামিল সারওয়ার জনি। তার বাবা সারওয়ার হোসেন পেশায় আইনজীবী এবং মা রেনু সারওয়ার পিরোজপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। জনির শ্বশুর শেখ জাহিদ ফুয়াদ বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার।
জামিল সারওয়ার জনি সর্বশেষ নিউইয়র্ক পুলিশের ইন্টেলিজেন্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতি পেয়ে একই বিভাগে তিনি ডিটেকটিভ হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ভেবেছিলাম আর চাকরি করা হবে না’

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

নিউইয়র্ক: ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। এই দিনটি প্রতিজন আমেরিকানের জন্য আনন্দের। প্রতি বছর এই দিনে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসার জামিল সারওয়ার জনির জন্য এ দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি কষ্টের। ২০১৩ সালের ৪ জুলাইয়ের কথা মনে করলে এখনো শিউরে ওঠেন তিনি। সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় সেদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে।
এদিন সিটির ব্রুকলীনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাটুতে জখম হন জামিল সারওয়ার জনি। সেদিনের পর ভেবেছিলেন আর বুঝি পুলিশের চাকরি করা হবে না। কিন্তু প্রবল আত্মবিশ্বাসী এই মানুষটি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। আরো বেশি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি অধিক পরিশ্রমী পুলিশ অফিসার। আর নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসারের কৃতিত্ব হিসাবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ থেকে পেলেন পদোন্নতি। জনি এখন ডিটেকটিভ।
এ উপলক্ষ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দুপুরে ম্যানহাটনে ওয়ান পুলিশ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে তুলে দেয়া হলো পদোন্নতির সার্টিফিকেট।
পিরোজপুরের কৃতি সন্তান, বাংলাদেশীদের গর্ব জামিল সারওয়ার জনি ছাড়াও এদিন ট্রাফিক বিভাগের আরো বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা পদোন্নতি লাভ করেছেন। হলভর্তি সহকর্মী, শুভাকাঙ্খী ও স্বজনদের সামনে এসব বাংলাদেশী কর্মকর্তারা তাদের পদোন্নতির সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে লেফটেন্যান্ট, সার্জেন্ট, ডিটেকটিভ ও অফিসার পদে প্রায় দুইশ এবং ট্রাফিক বিভাগে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশী কর্মকর্তা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এসব কর্মকর্তা তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করছেন।
ওয়ান পুলিশ প্লাজার বিশাল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর এনওয়াইপিডি’র শীর্ষ কর্মকর্তারা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। প্রথমে ট্রাফিক বিভাগের ৯৭জনকে পদোন্নতির সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এই ৯৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। এরপর ২৮ জন কর্মকর্তাকে তিনটি ধাপে ডিটেকটিভ হিসাবে পদোন্নতির সার্টিফিকেট দেয়া হয়। জামিল সারওয়ার একমাত্র বাংলাদেশী যিনি নিয়মিত পুলিশ বিভাগে শুক্রবার পদোন্নতি লাখ করলেন।
জামিল সারওয়ার জনির পদোন্নতির এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিনী লামিয়া নওশীন, তাদের সদ্য ভূমিষ্ট কন্যা জুনাইনা রূপকথা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা।
পদোন্নতির পাবার পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জামিল সারওয়ার জনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট যতœবান থাকার চেষ্টা করেছি। ডিপার্টমেন্ট আমাকে পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। এখন নতুন দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে চাই।’
স্বামীর পদোন্নতিতে দারুন খুশি স্ত্রী লামিয়া নওশীন। তিনি জানান, জনি আমার স্বামী, এজন্য যতটুকু গর্বিত, তার চেয়ে বেশি গর্বিত ও আনন্দিত যে তিনি একজন বাংলাদেশী। এই প্রবাসে তিনি বাংলাদেশীদের মুখ উজ্জল করেছেন।
জামিল সারওয়ার জনির সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরেক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসার মাহবুব রহমান বলেন, ‘আমরা এই পদোন্নতিতে দারুণ খুশি। তিনি ডিপার্টমেন্টে আমাদের মুখ উজ্জল করেছেন নিঃসন্দেহে।’
পদোন্নতির পর জামিল সারওয়ার জনিকে স্বাগত জানান, তার বন্ধু, সহকর্মী ও স্বজনেরা। তাৎক্ষণিক তাকে অভিনন্দন জানান, নবগঠিত বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা)-এর কর্মকর্তারা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জামিল সারওয়ার জনি। তার বাবা সারওয়ার হোসেন পেশায় আইনজীবী এবং মা রেনু সারওয়ার পিরোজপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। জনির শ্বশুর শেখ জাহিদ ফুয়াদ বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার।
জামিল সারওয়ার জনি সর্বশেষ নিউইয়র্ক পুলিশের ইন্টেলিজেন্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতি পেয়ে একই বিভাগে তিনি ডিটেকটিভ হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।