নিউইয়র্ক ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

কমিউনিটির পরিচিত মুখ জাহাঙ্গীর আলম আর নেই

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৪
  • / ৭৮৬ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিত মুখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোনিয়েশন ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও জাহাঙ্গীর ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৮) আর নেই। মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত জাহাঙ্গীর আলম গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিবাগত মধ্যরাত প্রায় একটার দিকে হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ম্যানহাটানস্থ বিশ্বখ্যাত ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার স্নোন কেটারিং মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী পারভীন আলম ও একমাত্র পুত্র নাইয়ান সহ অনেক আতœ¦ীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভান্যুধায়ী রেখে গেছেন।
কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিতজন, অসাধারণ মানবিক গুণসম্পন্ন, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রায় দেড় যুগ আগে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন। সবার দোয়ায় তিনি দু’বার ক্যান্সার জয় করে সবার মাঝে ফিরে এসেছিলেন, মরণব্যাধীকে একপ্রকার জয় করেই তিনি কমিউনিটির নানা সেবা ও সামাজিকতায় সংশ্লিষ্ট হয়েছিলেন। মৃত্যুর দুয়ার থেকে তার ফিরে আশা ছিলো ‘মির‌্যাকল’। আপাত নিরাময়ের আড়ালে হয়তো তার অজান্তেই কর্কটের বীজ রয়ে গিয়েছিল তাঁর শরীরে। তিনি আবারো অসুস্থ্য হয়ে পড়লে দু সপ্তাহ আগে তাকে স্নোন কেটারিং মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা গত ১ ডিসেম্বর তার আইয়ুষ্কাল সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন। ডাক্তাররা বলেছিলেন এই পৃথিবীতে তার সময় আর মাত্র ২৪ ঘন্টা। খবরটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কমিউনিটির পরিচিতজনরা তাকে দেখতে দিনভর দলে দলে তার স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনরা ছুটে যান হাসপাতালে। তিনি অবস্থান করছিলেন স্নোন কেটারিং-এর ৫৩১ নম্বর রুমে। জাহাঙ্গীর আলমের অবস্থা ছিলো আশংকাজনক। তিনি কোন কথা বলতে পারছিলেন না, কাউকে চিনতেও পারছিলেন না। তাকে ঘুমের ওষুধ আর পেইন কিলার দিয়ে অচেতন রাখা হয়েছিলো।
সুদর্শন জাহাঙ্গীর আলম গত ২৪ নভেম্বর বিকেলে সিটির এস্টোরিয়াস্থ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাথে সাথে ম্যানহাটানের ৬৭ ও ৬৮ স্ট্রীটের মাঝে ইয়র্ক এন্ড ফাস্ট এভিনিউস্থ স্লোন মেমোরিয়াল ক্যাটারিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে ৪ ডিসেম্বর বৃহস্প্রতিবার বাদ জোহর জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে  (জেএমসি) মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন অপরাহ্নে তার মরদেহ লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটর মেমোরিয়াল গোরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। জেএমসি’র পেশ ইমাম মওলানা আবু জাফর বেগ জানাজা নামাজে ইমামতি করেন। জানাজায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন ইউএসএ-এর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা সহ প্রবাসের বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এবং মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের বন্ধু-শুভান্যুধায়ীরা অংশ নেন। জানাজা নামাজ শেষে সর্বস্তরের প্রবাসীরা জাহাঙ্গীর আলমের মুখমন্ডল এক নজর দেখার জন্য জেএমসি প্রঙ্গনে ভীর জমান। তারা আবেগ-আপ্লুত হৃদয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে শেষ বিদায় জানান।
কুমিল্লার সন্তান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন সময়ে জাসদের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৯০-এর দশকে তিনি নিউইয়র্ক আসেন। নিউইয়র্কে এসেও তিনি স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। জড়িত ছিলেন ইউএস কমিটি ফর ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ নামক সংগঠনে।
এদিকে জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন ও  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন ইউএস ইন্্ক’র সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, ড. দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আমিনুল্লাহ, আলী ইমাম শিকদার, মোহাম্মদ হোসেন খান, ড. মাহফুজ চৌধুরী, ফখরুল আলম, এবাদ চৌধুরী, মোস্তাক আহমেদ, নার্গিস আহমেদ, মাফ মিসবাহ  উদ্দিন, এডভোকেবট মজিবুর রহমান, মোল্লা মনিরুজ্জামান, আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, বেদারুল ইসলাম বাবলা, স্বপন বড়–য়া, ডা. নাফিজ খান, আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, গোলাম মোস্তফা, গাজী ,শামসুদ্দিন, এ্যানী ফেরদৌস, রুহুল আমীন সরকার, এ কে আজাদ তালুকদার প্রমুখ অসুস্থাবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে দেখতে হাসপাতালে যান।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

কমিউনিটির পরিচিত মুখ জাহাঙ্গীর আলম আর নেই

প্রকাশের সময় : ০৯:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিত মুখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোনিয়েশন ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও জাহাঙ্গীর ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৮) আর নেই। মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত জাহাঙ্গীর আলম গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিবাগত মধ্যরাত প্রায় একটার দিকে হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ম্যানহাটানস্থ বিশ্বখ্যাত ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার স্নোন কেটারিং মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী পারভীন আলম ও একমাত্র পুত্র নাইয়ান সহ অনেক আতœ¦ীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভান্যুধায়ী রেখে গেছেন।
কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিতজন, অসাধারণ মানবিক গুণসম্পন্ন, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রায় দেড় যুগ আগে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন। সবার দোয়ায় তিনি দু’বার ক্যান্সার জয় করে সবার মাঝে ফিরে এসেছিলেন, মরণব্যাধীকে একপ্রকার জয় করেই তিনি কমিউনিটির নানা সেবা ও সামাজিকতায় সংশ্লিষ্ট হয়েছিলেন। মৃত্যুর দুয়ার থেকে তার ফিরে আশা ছিলো ‘মির‌্যাকল’। আপাত নিরাময়ের আড়ালে হয়তো তার অজান্তেই কর্কটের বীজ রয়ে গিয়েছিল তাঁর শরীরে। তিনি আবারো অসুস্থ্য হয়ে পড়লে দু সপ্তাহ আগে তাকে স্নোন কেটারিং মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা গত ১ ডিসেম্বর তার আইয়ুষ্কাল সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন। ডাক্তাররা বলেছিলেন এই পৃথিবীতে তার সময় আর মাত্র ২৪ ঘন্টা। খবরটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কমিউনিটির পরিচিতজনরা তাকে দেখতে দিনভর দলে দলে তার স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনরা ছুটে যান হাসপাতালে। তিনি অবস্থান করছিলেন স্নোন কেটারিং-এর ৫৩১ নম্বর রুমে। জাহাঙ্গীর আলমের অবস্থা ছিলো আশংকাজনক। তিনি কোন কথা বলতে পারছিলেন না, কাউকে চিনতেও পারছিলেন না। তাকে ঘুমের ওষুধ আর পেইন কিলার দিয়ে অচেতন রাখা হয়েছিলো।
সুদর্শন জাহাঙ্গীর আলম গত ২৪ নভেম্বর বিকেলে সিটির এস্টোরিয়াস্থ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাথে সাথে ম্যানহাটানের ৬৭ ও ৬৮ স্ট্রীটের মাঝে ইয়র্ক এন্ড ফাস্ট এভিনিউস্থ স্লোন মেমোরিয়াল ক্যাটারিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে ৪ ডিসেম্বর বৃহস্প্রতিবার বাদ জোহর জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে  (জেএমসি) মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন অপরাহ্নে তার মরদেহ লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটর মেমোরিয়াল গোরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। জেএমসি’র পেশ ইমাম মওলানা আবু জাফর বেগ জানাজা নামাজে ইমামতি করেন। জানাজায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন ইউএসএ-এর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা সহ প্রবাসের বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এবং মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের বন্ধু-শুভান্যুধায়ীরা অংশ নেন। জানাজা নামাজ শেষে সর্বস্তরের প্রবাসীরা জাহাঙ্গীর আলমের মুখমন্ডল এক নজর দেখার জন্য জেএমসি প্রঙ্গনে ভীর জমান। তারা আবেগ-আপ্লুত হৃদয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে শেষ বিদায় জানান।
কুমিল্লার সন্তান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন সময়ে জাসদের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৯০-এর দশকে তিনি নিউইয়র্ক আসেন। নিউইয়র্কে এসেও তিনি স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। জড়িত ছিলেন ইউএস কমিটি ফর ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ নামক সংগঠনে।
এদিকে জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন ও  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন ইউএস ইন্্ক’র সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, ড. দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আমিনুল্লাহ, আলী ইমাম শিকদার, মোহাম্মদ হোসেন খান, ড. মাহফুজ চৌধুরী, ফখরুল আলম, এবাদ চৌধুরী, মোস্তাক আহমেদ, নার্গিস আহমেদ, মাফ মিসবাহ  উদ্দিন, এডভোকেবট মজিবুর রহমান, মোল্লা মনিরুজ্জামান, আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, বেদারুল ইসলাম বাবলা, স্বপন বড়–য়া, ডা. নাফিজ খান, আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, গোলাম মোস্তফা, গাজী ,শামসুদ্দিন, এ্যানী ফেরদৌস, রুহুল আমীন সরকার, এ কে আজাদ তালুকদার প্রমুখ অসুস্থাবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে দেখতে হাসপাতালে যান।