নিউইয়র্ক ১১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ইমাম আলাউদ্দিন ও তারা উদ্দিন হত্যায় অভিযুক্ত অস্কার আদালতে

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৬
  • / ৫৯৪ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: আদালতে বেশ শান্ত ছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ইমাম আলাউদ্দিন আখুঞ্জি (৫৫) ও তার সহযোগী তারা উদ্দিন (৬৪)কে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত অস্কার মোরেল। এ সময় সে খুব কম কথা বলেছে। ১৬ আগষ্ট মঙ্গলবার তাকে নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এ সময় তার হাত ও পা ছিল শেকলে বাঁধা। সে ছিল একটি ঘিয়ে রঙের শার্ট ও কালো প্যান্ট। তাকে হাজির করা হয় কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে। সেখানে তার বিরুদ্ধে হত্যার দায়ে প্রথম দফা অভিযোগ ও অস্ত্র রাখার দায়ে দ্বিতীয় দফা অভিযোগ উত্থাপন করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সে। ভিডিওতে যে যুবককে দেখা গেছে সে অস্কার বলে স্বীকার করলেও সে হত্যার দায় অস্বীকার করেছে।
ব্রুকলীনের ৩৫ বছর বয়সী এই যুবকে যদি ইমাম আলাউদ্দিন ও তারা উদ্দিন হত্যায় অভিযুক্ত করে আদালত তাহলে প্যারোলবিহীল যাবজ্জীবন কারাদন্ড হতে পারে। ১৮ আগষ্ট বৃহস্পতিবার আবার এ মামলার শুনানি হবে বলে ঘোষণা করেছেন বিচারক ক্যারেন গোপি। এ সময়ে অভিযুক্ত অস্কার একজন আইনজীবী পাবে।
নিহত ইমাম আলাউদ্দিনের ভাই মাশুক উদ্দিন মঙ্গলবার আদালতে সাংবাদিকদের বলেন, নিহত দু’জনের পরিবারই ভেঙে পড়েছে। তারা মনে করছেন, এ হত্যাকান্ড হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষমুলক হত্যা। তিনি বলেন, এখানে একই সময়ে দু’জন মানুষকে হত্যা করা হলো। এর কারণ কি? এর একটাই কারণ থাকতে পারে। তাহলো হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষমুলক অপরাধ। এ সময় আদালতের বাইরে নিহতদের আত্মীয়-স্বজন কতগুলো ব্যানার ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাতে লেখা ‘আমরা সুবিচার চাই’। নিউইয়র্কের কুইন্সে নৃশংস ওই হত্যাকান্ডে ভীত সন্ত্রস্ত সেখানকার বাংলাদেশী সম্প্রদায়। এখনও তারা প্রিয় এই দু’জন ধর্মীয় নেতার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
মঙ্গলবার আদালতে যখন অস্কার মোরেলকে তোলা হয় তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিহত দুই বাংলাদেশীর আত্মীয়-স্বজন। এ সময় প্রকিসিউটর পিটার ম্যাককরম্যাক আদালতকে বলেন, সবচেয়ে ভীতিকর ও ঘৃণ্য ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটা ঠান্ডা মাথায় হত্যাকান্ড। এ হত্যাকান্ড পূর্ব পরিকল্পিত। মামলার বিবাদী বাংলাদেশী ওই দু’জন ব্যক্তির পিছন থেকে গিয়ে তাদের মাথায় বেশ কয়েক দফা গুলি করে। তাদেরকে রাস্তায় মারাত্মক জখম করে ফেলে যায়।
এদিকে ১৫ আগষ্ট সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা প্রধান রবার্ট বয়সে। তিনি বলেছেন, তারা সার্ভিলেন্স ভিডিওতে গুলি করার পর একটি কালো স্পোর্টস কারে করে সন্দেহজনক একজনকে পালাতে দেখেছেন। ওই গাড়িটি এ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর তিন মাইল পাড়ি দিয়ে গাড়িটি গিয়ে থাকে ব্রুকলীনে। পুলিশ কর্মকর্তারা যখন সন্দেহভাজনকে ধরতে যান তখন সে গোয়েন্দাদের গাড়ি কয়েকবার ফাঁকি দিয়ে সরে পরে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও বলেছেন, ধারণা করা হয় সন্দেহজনক ওই যুবকের ব্রুকলীনে রয়েছে একটি ওয়্যারহাউজ।
ওদিকে নিউইয়র্ক টাইমস, স্থানীয় ডেইলি নিউজ ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম মঙ্গলবার রিপোর্ট দিয়েছে যে, তল্লাশির সময় গোয়েন্দারা অস্কার মোরেলের বেসমেন্ট থেকে লাইসেন্সবিহিন একটি রিভলবার উদ্ধার করেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা ওই হত্যাকান্ডে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া তার অ্যাপার্টমেন্টে কিছু পোশাক পেয়েছে পুলিশ। হত্যার পর পালানোর সময় ভিডিওর যুবকের পরনে যে পোশাক ছিল তার সঙ্গে এগুলো মিলে যায়। অবশেষে মঙ্গলবার পুলিশ এ বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, তারা ০.৩৮ ক্যালিবারের একটি তাউরুস রিভলবার উদ্ধার করেছে।
Imam Alauddin+Tara Miah Pic_Inqilabউল্লেখ্য, গত ১৩ আগষ্ট শনিবার কুইন্সের ওজোন পার্কে অবস্থিত আল ফোরকান জামে মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশী ইমাম আলাউদ্দিন আখুঞ্জি ও অপর মুসল্লি তারা মিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ইমাম আলাউদ্দিনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে। আর তারা মিয়ার বাড়ি সিলেটে। (দৈনিক মানবজমিন)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ইমাম আলাউদ্দিন ও তারা উদ্দিন হত্যায় অভিযুক্ত অস্কার আদালতে

প্রকাশের সময় : ১০:৩৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৬

নিউইয়র্ক: আদালতে বেশ শান্ত ছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ইমাম আলাউদ্দিন আখুঞ্জি (৫৫) ও তার সহযোগী তারা উদ্দিন (৬৪)কে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত অস্কার মোরেল। এ সময় সে খুব কম কথা বলেছে। ১৬ আগষ্ট মঙ্গলবার তাকে নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এ সময় তার হাত ও পা ছিল শেকলে বাঁধা। সে ছিল একটি ঘিয়ে রঙের শার্ট ও কালো প্যান্ট। তাকে হাজির করা হয় কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে। সেখানে তার বিরুদ্ধে হত্যার দায়ে প্রথম দফা অভিযোগ ও অস্ত্র রাখার দায়ে দ্বিতীয় দফা অভিযোগ উত্থাপন করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সে। ভিডিওতে যে যুবককে দেখা গেছে সে অস্কার বলে স্বীকার করলেও সে হত্যার দায় অস্বীকার করেছে।
ব্রুকলীনের ৩৫ বছর বয়সী এই যুবকে যদি ইমাম আলাউদ্দিন ও তারা উদ্দিন হত্যায় অভিযুক্ত করে আদালত তাহলে প্যারোলবিহীল যাবজ্জীবন কারাদন্ড হতে পারে। ১৮ আগষ্ট বৃহস্পতিবার আবার এ মামলার শুনানি হবে বলে ঘোষণা করেছেন বিচারক ক্যারেন গোপি। এ সময়ে অভিযুক্ত অস্কার একজন আইনজীবী পাবে।
নিহত ইমাম আলাউদ্দিনের ভাই মাশুক উদ্দিন মঙ্গলবার আদালতে সাংবাদিকদের বলেন, নিহত দু’জনের পরিবারই ভেঙে পড়েছে। তারা মনে করছেন, এ হত্যাকান্ড হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষমুলক হত্যা। তিনি বলেন, এখানে একই সময়ে দু’জন মানুষকে হত্যা করা হলো। এর কারণ কি? এর একটাই কারণ থাকতে পারে। তাহলো হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষমুলক অপরাধ। এ সময় আদালতের বাইরে নিহতদের আত্মীয়-স্বজন কতগুলো ব্যানার ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাতে লেখা ‘আমরা সুবিচার চাই’। নিউইয়র্কের কুইন্সে নৃশংস ওই হত্যাকান্ডে ভীত সন্ত্রস্ত সেখানকার বাংলাদেশী সম্প্রদায়। এখনও তারা প্রিয় এই দু’জন ধর্মীয় নেতার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
মঙ্গলবার আদালতে যখন অস্কার মোরেলকে তোলা হয় তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিহত দুই বাংলাদেশীর আত্মীয়-স্বজন। এ সময় প্রকিসিউটর পিটার ম্যাককরম্যাক আদালতকে বলেন, সবচেয়ে ভীতিকর ও ঘৃণ্য ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটা ঠান্ডা মাথায় হত্যাকান্ড। এ হত্যাকান্ড পূর্ব পরিকল্পিত। মামলার বিবাদী বাংলাদেশী ওই দু’জন ব্যক্তির পিছন থেকে গিয়ে তাদের মাথায় বেশ কয়েক দফা গুলি করে। তাদেরকে রাস্তায় মারাত্মক জখম করে ফেলে যায়।
এদিকে ১৫ আগষ্ট সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা প্রধান রবার্ট বয়সে। তিনি বলেছেন, তারা সার্ভিলেন্স ভিডিওতে গুলি করার পর একটি কালো স্পোর্টস কারে করে সন্দেহজনক একজনকে পালাতে দেখেছেন। ওই গাড়িটি এ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর তিন মাইল পাড়ি দিয়ে গাড়িটি গিয়ে থাকে ব্রুকলীনে। পুলিশ কর্মকর্তারা যখন সন্দেহভাজনকে ধরতে যান তখন সে গোয়েন্দাদের গাড়ি কয়েকবার ফাঁকি দিয়ে সরে পরে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও বলেছেন, ধারণা করা হয় সন্দেহজনক ওই যুবকের ব্রুকলীনে রয়েছে একটি ওয়্যারহাউজ।
ওদিকে নিউইয়র্ক টাইমস, স্থানীয় ডেইলি নিউজ ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম মঙ্গলবার রিপোর্ট দিয়েছে যে, তল্লাশির সময় গোয়েন্দারা অস্কার মোরেলের বেসমেন্ট থেকে লাইসেন্সবিহিন একটি রিভলবার উদ্ধার করেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা ওই হত্যাকান্ডে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া তার অ্যাপার্টমেন্টে কিছু পোশাক পেয়েছে পুলিশ। হত্যার পর পালানোর সময় ভিডিওর যুবকের পরনে যে পোশাক ছিল তার সঙ্গে এগুলো মিলে যায়। অবশেষে মঙ্গলবার পুলিশ এ বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, তারা ০.৩৮ ক্যালিবারের একটি তাউরুস রিভলবার উদ্ধার করেছে।
Imam Alauddin+Tara Miah Pic_Inqilabউল্লেখ্য, গত ১৩ আগষ্ট শনিবার কুইন্সের ওজোন পার্কে অবস্থিত আল ফোরকান জামে মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশী ইমাম আলাউদ্দিন আখুঞ্জি ও অপর মুসল্লি তারা মিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ইমাম আলাউদ্দিনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে। আর তারা মিয়ার বাড়ি সিলেটে। (দৈনিক মানবজমিন)