নিউইয়র্ক ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী আর নেই

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০১৫
  • / ৬৯৬ বার পঠিত

খুলনা: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শেখ রাজ্জাক আলী (৮৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…….রাজিউন)। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ জুন রোববার বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে খুলনা মহানগরীর ফারাজীপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বেগম মাজেদা আলী, পাঁচ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
৮ জুন সোমবার বেলা ১১টায় খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তার গ্রামের বাড়ি পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ রাজ্জাক আলীর মৃত্যুতে সোমবার আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শেখ রাজ্জাক আলী ১৯২৮ সালে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুরে শেখ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত এন্তাজ আলী আর মাতার নাম মৃত গুলজে বাহার। ১৯৫৩ সালে প্রখ্যাত সমাজসেবী, ভাষা-সৈনিক ও লেখিকা অধ্যাপক বেগম মাজেদা আলী’র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের পাঁচ কন্যা সন্তানের মধ্যে বড় কন্যা ড. রানা রাজ্জাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক, দ্বিতীয় কন্যা ডা. সাহানা রাজ্জাক স্ত্রীরোগ (গাইনি) বিশেষজ্ঞ হিসেবে খুলনায় কর্মরত, তৃতীয় কন্যা জার্মানীতে কর্মরত ডা. এ্যানা রাজ্জাক মেডিসিন ও আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ, চতুর্থ কন্যা লীনা রাজ্জাক চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট এবং কনিষ্ঠ কন্যা ব্যারিস্টার ড. জনা রাজ্জাক ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের আইন বিভাগের অধ্যাপক।
শেখ রাজ্জাক আলী জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার পিসি রায় প্রতিষ্ঠিত পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলির আরকেবিকেএইচসি ইনস্টিটিউট হতে ম্যাট্রিক পাস করেন। খুলনার বিএল কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ডিগ্রি পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ সময় তিনি ডেইলি অবজারভারে সাংবাদিকতা করেন। ১৯৫২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। পরের বছর বাংলায় এমএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৪ সালে তিনি এলএলবি পাস করেন। ১৯৫৮ সালে খুলনা জজকোর্টে যোগদানের মাধ্যমে তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ১৯৬৩ সালে তিনি হাইকোর্টে যোগদান করেন। ১৯৭৩ সালে বার কাউন্সিলে সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭২ সালে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। তিনি বেশ কয়েকবার যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
শেখ রাজ্জাক আলী ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি মজলুম জনতো মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর হাতে। তিনি ন্যাপে যুক্ত হয়ে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর তিনি যোগ দেন জাসদে। ১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে জাসদের প্রার্থী ছিলেন। তিনি ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগদানের আগে ন্যাপের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি প্রথম বারের মতো খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য, ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় বারের মতো খুলনা-২ (খুলনা সদর-সোনাডাঙ্গা) আসন থেকে সংসদ সদস্য, ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ঠ সংসদে তৃতীয় বারের মতো এবং একই সালে ৭ম সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ থেকে কিছু দিনের জন্য আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ৫ই এপ্রিল তিনি ডেপুটি স্পিকার এবং ১২ অক্টোবর স্পিকার নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই বছরে শেখ রাজ্জাক আলী সার্ক পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে শেখ রাজ্জাক আলীর সভাপতিত্বেই জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অনুমোদন দেয়া হয়।
শেখ রাজ্জাক আলী ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়া মহাদেশের বহু দেশ সফর করেছেন। তিনি কিছু দিনের জন্য বিএনপি ক্ষমতায় এলে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। শেখ রাজ্জাক আলী খুলনা সিটি ল কলেজ, সুন্দরবন কলেজ, মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ, সবরুন্নেছা মহিলা কলেজ, খান এ সবুর মহিলা মাদরাসা, পাইকগাছা কলেজসহ বহু স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি খুলনার শিরোমনিস্থ চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
শেখ রাজ্জাক আলী ২০০২ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাই কমিশনার নিযুক্ত হন। তিনি ২০০৬ সালের শেষ দিকে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বে এলডিপি গঠন করেন। তিনি এই দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি হন। কিছুদিন পরেই তিনি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এরপর থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে নিভৃতে সময় কাটাতে থাকেন।
রাজ্জাক আলীর মৃত্যুতে খালেদার শোক: জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ রাজ্জাক আলীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবাণীতে তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে শেখ রাজ্জাক আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি এম নূরুল ইসলাম (দাদু ভাই), খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক খুলনা সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি, সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট শেখ তৈয়েবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, মহানগর মুসলিম লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্তার জাহান রুকু। (দৈনিক মানবজমিন)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী আর নেই

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০১৫

খুলনা: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শেখ রাজ্জাক আলী (৮৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…….রাজিউন)। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ জুন রোববার বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে খুলনা মহানগরীর ফারাজীপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বেগম মাজেদা আলী, পাঁচ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
৮ জুন সোমবার বেলা ১১টায় খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তার গ্রামের বাড়ি পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ রাজ্জাক আলীর মৃত্যুতে সোমবার আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শেখ রাজ্জাক আলী ১৯২৮ সালে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুরে শেখ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত এন্তাজ আলী আর মাতার নাম মৃত গুলজে বাহার। ১৯৫৩ সালে প্রখ্যাত সমাজসেবী, ভাষা-সৈনিক ও লেখিকা অধ্যাপক বেগম মাজেদা আলী’র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের পাঁচ কন্যা সন্তানের মধ্যে বড় কন্যা ড. রানা রাজ্জাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক, দ্বিতীয় কন্যা ডা. সাহানা রাজ্জাক স্ত্রীরোগ (গাইনি) বিশেষজ্ঞ হিসেবে খুলনায় কর্মরত, তৃতীয় কন্যা জার্মানীতে কর্মরত ডা. এ্যানা রাজ্জাক মেডিসিন ও আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ, চতুর্থ কন্যা লীনা রাজ্জাক চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট এবং কনিষ্ঠ কন্যা ব্যারিস্টার ড. জনা রাজ্জাক ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের আইন বিভাগের অধ্যাপক।
শেখ রাজ্জাক আলী জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার পিসি রায় প্রতিষ্ঠিত পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলির আরকেবিকেএইচসি ইনস্টিটিউট হতে ম্যাট্রিক পাস করেন। খুলনার বিএল কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ডিগ্রি পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ সময় তিনি ডেইলি অবজারভারে সাংবাদিকতা করেন। ১৯৫২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। পরের বছর বাংলায় এমএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৪ সালে তিনি এলএলবি পাস করেন। ১৯৫৮ সালে খুলনা জজকোর্টে যোগদানের মাধ্যমে তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ১৯৬৩ সালে তিনি হাইকোর্টে যোগদান করেন। ১৯৭৩ সালে বার কাউন্সিলে সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭২ সালে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। তিনি বেশ কয়েকবার যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
শেখ রাজ্জাক আলী ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি মজলুম জনতো মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর হাতে। তিনি ন্যাপে যুক্ত হয়ে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর তিনি যোগ দেন জাসদে। ১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে জাসদের প্রার্থী ছিলেন। তিনি ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগদানের আগে ন্যাপের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি প্রথম বারের মতো খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য, ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় বারের মতো খুলনা-২ (খুলনা সদর-সোনাডাঙ্গা) আসন থেকে সংসদ সদস্য, ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ঠ সংসদে তৃতীয় বারের মতো এবং একই সালে ৭ম সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ থেকে কিছু দিনের জন্য আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ৫ই এপ্রিল তিনি ডেপুটি স্পিকার এবং ১২ অক্টোবর স্পিকার নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই বছরে শেখ রাজ্জাক আলী সার্ক পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে শেখ রাজ্জাক আলীর সভাপতিত্বেই জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অনুমোদন দেয়া হয়।
শেখ রাজ্জাক আলী ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়া মহাদেশের বহু দেশ সফর করেছেন। তিনি কিছু দিনের জন্য বিএনপি ক্ষমতায় এলে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। শেখ রাজ্জাক আলী খুলনা সিটি ল কলেজ, সুন্দরবন কলেজ, মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ, সবরুন্নেছা মহিলা কলেজ, খান এ সবুর মহিলা মাদরাসা, পাইকগাছা কলেজসহ বহু স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি খুলনার শিরোমনিস্থ চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
শেখ রাজ্জাক আলী ২০০২ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাই কমিশনার নিযুক্ত হন। তিনি ২০০৬ সালের শেষ দিকে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বে এলডিপি গঠন করেন। তিনি এই দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি হন। কিছুদিন পরেই তিনি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এরপর থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে নিভৃতে সময় কাটাতে থাকেন।
রাজ্জাক আলীর মৃত্যুতে খালেদার শোক: জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ রাজ্জাক আলীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবাণীতে তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে শেখ রাজ্জাক আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি এম নূরুল ইসলাম (দাদু ভাই), খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক খুলনা সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি, সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট শেখ তৈয়েবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, মহানগর মুসলিম লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্তার জাহান রুকু। (দৈনিক মানবজমিন)