নিউইয়র্ক ০৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

শত বছরে পদার্পণ করল কিংবদন্তির হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০১৫
  • / ১০৬০ বার পঠিত

ঈশ্বরদী (পাবনা): শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পৃথিবীর অন্যতম দর্শনীয় ঈশ্বরদীর অদূরে পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এখনও মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে আছে। অবিভক্ত ভারতের যোগাযোগের ইতিহাসে এই সেতু নির্মাণ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ অবিভক্ত ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর যাত্রা শুরু করে ৪ মার্চ শর্তবর্ষে পদার্পণ করল এ ঐতিহাসিক সেতুটি।
দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে পাকশী হার্ডিঞ্জ সেতু শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে নানা কর্মসূচী ঘোষণা করেছে স্থানীয় হার্ডিঞ্জ সেতু শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ। পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ সেতুর শতবর্ষ পদার্পণ উপলক্ষে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর ২টায় পাকশী হার্ডিঞ্জ সেতু চত্বরে কেক কাটা ও ১০টি মোমবাতি প্রজ্জলন করে হার্ডিঞ্জ সেতু শতবর্ষে পদার্পন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হবে। এ জন্য সেতুর পাশে তৈরি করা হয়েছে একটি মুক্ত মঞ্চ। দুপুর থেকে মঞ্চে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য আজিজুর রহমান শরীফ। স্থানীয় পর্যায়ে শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে রয়েছে উদীচীর শিল্পী গোষ্ঠী, খেলাঘর এবং স্পন্দন সাউন্ড সিস্টেম পাকশী।
স্থানীয় নাগরিকেদের উদ্যোগে রেলওয়ে সেতুর শতবর্ষ পূর্তির এসব আয়োজন করা হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টির তেমন গুরুত্ব না দিয়ে দায়সারাভাবে দিনটি উদযাপন করবে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, দিবসটি উদযাপন করার জন্য কোন আয়োজন করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেননি।
পাকশী বিভাগীয় সেতু প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯০৯ সালে প্রথমভাগে প্রাথমিক জরিপ, অবস্থান, স্থান নির্বাচন করে হার্ডিঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে তা শেষ হয় ১৯১৪ সালের ডিসেম্বরে। হার্ডিঞ্জ সেতু প্রকল্পটির মূল নকশা প্রণয়ন করেন ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার উইলিয়াম রবার্ট গেইলস। সেতুটি নির্মাণে ২৪ হাজার ৪০০ কর্মী নিয়োগ করা হয়। ওই সময়ের হিসাবে সেতুটি তৈরিতে ব্যয় হয় মূল স্প্যানে ১ কোটি ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯৬ টাকা। স্থাপনের জন্য পাঁচ লাখ ১০ হাজার ৮৪৯ টাকা, নদী নিয়ন্ত্রণের জন্য ৯৪ লাখ আট হাজার ৩৪৬ টাকা। দুই পাশে লাইনের জন্য ৭১ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৪ টাকা।
সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারী পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ট্রেনটি খুলনা অভিমুখে ডাউন লাইনে সেতুটি অতিক্রম করে এবং একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারী আপ লাইনে দ্বিতীয় পরীক্ষামূলক মালবাহী ট্রেন সেতুটি অতিক্রম করে। ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সেতুর উপর দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তাঁর নামানুসারে সেতুটির নামকরণ করা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। (দৈনিক কালের কন্ঠ)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

শত বছরে পদার্পণ করল কিংবদন্তির হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

প্রকাশের সময় : ১০:০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০১৫

ঈশ্বরদী (পাবনা): শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পৃথিবীর অন্যতম দর্শনীয় ঈশ্বরদীর অদূরে পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এখনও মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে আছে। অবিভক্ত ভারতের যোগাযোগের ইতিহাসে এই সেতু নির্মাণ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ অবিভক্ত ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর যাত্রা শুরু করে ৪ মার্চ শর্তবর্ষে পদার্পণ করল এ ঐতিহাসিক সেতুটি।
দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে পাকশী হার্ডিঞ্জ সেতু শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে নানা কর্মসূচী ঘোষণা করেছে স্থানীয় হার্ডিঞ্জ সেতু শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ। পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ সেতুর শতবর্ষ পদার্পণ উপলক্ষে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর ২টায় পাকশী হার্ডিঞ্জ সেতু চত্বরে কেক কাটা ও ১০টি মোমবাতি প্রজ্জলন করে হার্ডিঞ্জ সেতু শতবর্ষে পদার্পন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হবে। এ জন্য সেতুর পাশে তৈরি করা হয়েছে একটি মুক্ত মঞ্চ। দুপুর থেকে মঞ্চে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য আজিজুর রহমান শরীফ। স্থানীয় পর্যায়ে শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে রয়েছে উদীচীর শিল্পী গোষ্ঠী, খেলাঘর এবং স্পন্দন সাউন্ড সিস্টেম পাকশী।
স্থানীয় নাগরিকেদের উদ্যোগে রেলওয়ে সেতুর শতবর্ষ পূর্তির এসব আয়োজন করা হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টির তেমন গুরুত্ব না দিয়ে দায়সারাভাবে দিনটি উদযাপন করবে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, দিবসটি উদযাপন করার জন্য কোন আয়োজন করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেননি।
পাকশী বিভাগীয় সেতু প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯০৯ সালে প্রথমভাগে প্রাথমিক জরিপ, অবস্থান, স্থান নির্বাচন করে হার্ডিঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে তা শেষ হয় ১৯১৪ সালের ডিসেম্বরে। হার্ডিঞ্জ সেতু প্রকল্পটির মূল নকশা প্রণয়ন করেন ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার উইলিয়াম রবার্ট গেইলস। সেতুটি নির্মাণে ২৪ হাজার ৪০০ কর্মী নিয়োগ করা হয়। ওই সময়ের হিসাবে সেতুটি তৈরিতে ব্যয় হয় মূল স্প্যানে ১ কোটি ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯৬ টাকা। স্থাপনের জন্য পাঁচ লাখ ১০ হাজার ৮৪৯ টাকা, নদী নিয়ন্ত্রণের জন্য ৯৪ লাখ আট হাজার ৩৪৬ টাকা। দুই পাশে লাইনের জন্য ৭১ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৪ টাকা।
সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারী পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ট্রেনটি খুলনা অভিমুখে ডাউন লাইনে সেতুটি অতিক্রম করে এবং একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারী আপ লাইনে দ্বিতীয় পরীক্ষামূলক মালবাহী ট্রেন সেতুটি অতিক্রম করে। ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সেতুর উপর দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তাঁর নামানুসারে সেতুটির নামকরণ করা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। (দৈনিক কালের কন্ঠ)