নিউইয়র্ক ১১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবি শহীদ কাদরীর মরদেহ ঢাকায় দাফন সম্পন্ন ॥ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  • / ৯৩৩ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রাণপুরুষ কবি শহীদ কাদরীর মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকায় বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। ৩১ আগষ্ট বুধবার অপরাহ্নে কবির মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে সকালে কবির মরহেদ নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় পৌঁছার পর তাঁর কফিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনরারে নেয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া দেশের সর্বস্তরের মানুষ সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এদিকে ২৮ আগষ্ট রোববার বাদ মাগরিব জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে কবির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ২৯ আগষ্ট সোমবার রাতে কবির মরদেহ আমিরাত এয়ারলাইন্সের ইকে-২০২ ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি শহীদ কাদরী রোববার সকাল ৭টার দিকে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ নর্থ শোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি;শ্বাস ত্যাগ করেন। শারীরিক অসুস্থ্যতার জন্য ২২ আগষ্ট সোমবার কবিকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো।
নিউইয়কে অনুষ্ঠিত কবির নামাজে জানায় ইমামতি করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম ও খতিব মওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। কবির সাথে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী নোয়াখালীর প্রবাসী সানাউল্লাহ মাসুদেরও নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, সাবেক এমপি এম এম শাহীন, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যকার জামাল উদ্দিন হোসেন সহ প্রবাসের কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী এই নামাজে জানাজায় অংশ নেন।
Honar to S. Kadri-1শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা: ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, ৩১ আগষ্ট বুধবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি বিমানে ঢাকাস্থ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় কবির মরদেহ। এর আগে একই দিন ভোরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে কবির স্ত্রী নীরা কাদরী, কবিপুত্র আদনান কাদরী এবং পারিবারিক বন্ধু সাবিনা হাই উর্বি ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাদের সঙ্গে কবির মরদেহ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ বারিধারায় কবির বড় ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান ছোট ভাইয়ের মুখটি শেষবারের মতো দেখেন বড় ভাই। এরপর মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রিয় কবিকে।
শহীদ মিনারে প্রথমেই কবিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। এসময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিরন। এছাড়াও কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীরা কবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারের অনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
শহীদ মিনার থেকে কবি শহীদ কাদরীর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়োর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ জেহার কবির নামাজে জানাজা শেখে শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এরআগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল মিডিয়াকে জানান যে, কবি শহীদ কাদরীর মরদেহের আগেই ভোর ৫টা ১০ মিনিটে কাতার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকা আসবেন শহীদ কাদরীর স্ত্রী নীরা কাদরী ও ছেলে আদনান কাদরী। সময় স্বল্পতার কারণে একই ফ্লাইটে টিকিট করা সম্ভব হয়ে উঠেনি বলে তারা নিউইয়র্ক থেকে অন্য ফ্লাইটে ঢাকা যান। মাহবুবুল হক বলেন, সরকারি অর্থে নয়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত খরচে কবি এবং তার পরিবার স্বদেশের মাটিতে আসছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবি শহীদ কাদরীর মরদেহ ঢাকায় দাফন সম্পন্ন ॥ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬

নিউইয়র্ক: আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রাণপুরুষ কবি শহীদ কাদরীর মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকায় বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। ৩১ আগষ্ট বুধবার অপরাহ্নে কবির মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে সকালে কবির মরহেদ নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় পৌঁছার পর তাঁর কফিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনরারে নেয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া দেশের সর্বস্তরের মানুষ সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এদিকে ২৮ আগষ্ট রোববার বাদ মাগরিব জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে কবির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ২৯ আগষ্ট সোমবার রাতে কবির মরদেহ আমিরাত এয়ারলাইন্সের ইকে-২০২ ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি শহীদ কাদরী রোববার সকাল ৭টার দিকে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ নর্থ শোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি;শ্বাস ত্যাগ করেন। শারীরিক অসুস্থ্যতার জন্য ২২ আগষ্ট সোমবার কবিকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো।
নিউইয়কে অনুষ্ঠিত কবির নামাজে জানায় ইমামতি করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম ও খতিব মওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। কবির সাথে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী নোয়াখালীর প্রবাসী সানাউল্লাহ মাসুদেরও নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, সাবেক এমপি এম এম শাহীন, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যকার জামাল উদ্দিন হোসেন সহ প্রবাসের কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী এই নামাজে জানাজায় অংশ নেন।
Honar to S. Kadri-1শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা: ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, ৩১ আগষ্ট বুধবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি বিমানে ঢাকাস্থ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় কবির মরদেহ। এর আগে একই দিন ভোরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে কবির স্ত্রী নীরা কাদরী, কবিপুত্র আদনান কাদরী এবং পারিবারিক বন্ধু সাবিনা হাই উর্বি ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাদের সঙ্গে কবির মরদেহ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ বারিধারায় কবির বড় ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান ছোট ভাইয়ের মুখটি শেষবারের মতো দেখেন বড় ভাই। এরপর মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রিয় কবিকে।
শহীদ মিনারে প্রথমেই কবিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। এসময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিরন। এছাড়াও কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীরা কবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারের অনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
শহীদ মিনার থেকে কবি শহীদ কাদরীর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়োর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ জেহার কবির নামাজে জানাজা শেখে শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এরআগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল মিডিয়াকে জানান যে, কবি শহীদ কাদরীর মরদেহের আগেই ভোর ৫টা ১০ মিনিটে কাতার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকা আসবেন শহীদ কাদরীর স্ত্রী নীরা কাদরী ও ছেলে আদনান কাদরী। সময় স্বল্পতার কারণে একই ফ্লাইটে টিকিট করা সম্ভব হয়ে উঠেনি বলে তারা নিউইয়র্ক থেকে অন্য ফ্লাইটে ঢাকা যান। মাহবুবুল হক বলেন, সরকারি অর্থে নয়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত খরচে কবি এবং তার পরিবার স্বদেশের মাটিতে আসছেন।