নিউইয়র্ক ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলা : রানা এমপিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ এপ্রিল ২০১৬
  • / ৯৪০ বার পঠিত

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমানুর রহমান খান (রানা) এমপি, তাঁর তিন ভাইসহ মামলার পলাতক ১০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। টাঙ্গাইলের সদর উপজেলা আমলি আদালত ৬ এপ্রিল বুধবার এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারী আলোচিত এই হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। এতে টাঙ্গাইল-৩ আসনে (ঘাটাইল) আওয়ামী লীগের সাংসদ আমানুরসহ মোট ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সাক্ষী করা হয় মোট ৩৩ জনকে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আমলি আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলাম বুধবার অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। এরপর রানা এমপি, তাঁর তিন ভাইসহ পলাতক থাকা ১০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আমানুর রহমান খান রানা এমপি’র তিন ভাই হলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাকন) এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা)। পলাতক অন্য ছয় আসামি হলেন রানা এমপি’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, স্থানীয় গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারের দারোয়ান বাবু মিয়া, যুবলীগের তৎকালীন তিন নেতা আলমগীর হোসেন (চাঁন), নাসির উদ্দিন (নুরু) ও ছানোয়ার হোসেন এবং সাবেক পৌর কমিশনার মাছুদুর রহমান। অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য চারজন হলেন আনিছুল ইসলাম (রাজা), মোহাম্মদ আলী, সমীর ও ফরিদ আহমেদ। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে। এর মধ্যে রাজা ও মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দির মাধ্যমেই ফারুক আহমেদ হত্যাকান্ডে রানা এমপি, তাঁর তিন ভাইসহ অন্য আসামিদের জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে।
আওয়ামী লীগের নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারী রাতে তাঁর কলেজপাড়ার বাসার কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি সদর থানার পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার পায় ডিবি। তদন্ত শেষে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মাহফিজুর রহমান ৩ ফেব্রুয়ারী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
farukh-tangail-tmঅভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে রানা এমপি ও তাঁর ছোট ভাই বাপ্পা তাঁদের কলেজপাড়ার বাসার কাছে গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে রাজার মাধ্যমে ফারুককে ডেকে নেন। এ সময় তাঁকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থিতা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন বাপ্পা। একই পদের প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন আমানুরের ভাই সহিদুরও। রাজি না হওয়ায় ফারুককে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে মৃতদেহ তাঁরই বাসার সামনে ফেলে আসা হয়।
ফারুক টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। একাত্তরে মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত রণাঙ্গন নামের একটি পত্রিকার সহ সম্পাদক ছিলেন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ‘প্রতিরোধযুদ্ধে’ অংশ নিয়ে পঙ্গ হন তিনি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খান পরিবার টাঙ্গাইল শহরে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তাদের দাপটের মুখে এলাকায় ও দলে কেউই মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। ফলে চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অর্ধশত মামলা হলেও বাদী ও সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হননি। এ কারণে অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আবার কিছু মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
ফারুক হত্যা মামলায় নাম আসার পর থেকে রানা এমপি ও তাঁর ভাইদের আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে পুলিশের খাতায় রানা এমপি ‘পলাতক’ হলেও নিজের সংসদ সদস্য পদ রক্ষায় গত বছরের ৫ জুলাই সংসদে যান। অবশ্য, হাজিরা খাতায় সই করেই চলে যান তিনি।
সন্তোষ প্রকাশ, মিছিল-সমাবেশ: আদালত ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী। বুধবার আদালতের আদেশের পর তাঁরা আদালত এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাহার আহমেদ। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নাহার আহমেদ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন গোলাম কিবরিয়া, সোলায়মান হাসান প্রমুখ।
সমাবেশে নাহার আহমেদ বলেন, তিনি আদালতের এই আদেশে সন্তুষ্ট। এখন মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে নিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। তিনি অভিযুক্তদের ফাঁসি তাবী করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলা : রানা এমপিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ এপ্রিল ২০১৬

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমানুর রহমান খান (রানা) এমপি, তাঁর তিন ভাইসহ মামলার পলাতক ১০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। টাঙ্গাইলের সদর উপজেলা আমলি আদালত ৬ এপ্রিল বুধবার এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারী আলোচিত এই হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। এতে টাঙ্গাইল-৩ আসনে (ঘাটাইল) আওয়ামী লীগের সাংসদ আমানুরসহ মোট ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সাক্ষী করা হয় মোট ৩৩ জনকে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আমলি আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলাম বুধবার অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। এরপর রানা এমপি, তাঁর তিন ভাইসহ পলাতক থাকা ১০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আমানুর রহমান খান রানা এমপি’র তিন ভাই হলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাকন) এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা)। পলাতক অন্য ছয় আসামি হলেন রানা এমপি’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, স্থানীয় গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারের দারোয়ান বাবু মিয়া, যুবলীগের তৎকালীন তিন নেতা আলমগীর হোসেন (চাঁন), নাসির উদ্দিন (নুরু) ও ছানোয়ার হোসেন এবং সাবেক পৌর কমিশনার মাছুদুর রহমান। অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য চারজন হলেন আনিছুল ইসলাম (রাজা), মোহাম্মদ আলী, সমীর ও ফরিদ আহমেদ। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে। এর মধ্যে রাজা ও মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দির মাধ্যমেই ফারুক আহমেদ হত্যাকান্ডে রানা এমপি, তাঁর তিন ভাইসহ অন্য আসামিদের জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে।
আওয়ামী লীগের নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারী রাতে তাঁর কলেজপাড়ার বাসার কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি সদর থানার পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার পায় ডিবি। তদন্ত শেষে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মাহফিজুর রহমান ৩ ফেব্রুয়ারী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
farukh-tangail-tmঅভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে রানা এমপি ও তাঁর ছোট ভাই বাপ্পা তাঁদের কলেজপাড়ার বাসার কাছে গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে রাজার মাধ্যমে ফারুককে ডেকে নেন। এ সময় তাঁকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থিতা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন বাপ্পা। একই পদের প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন আমানুরের ভাই সহিদুরও। রাজি না হওয়ায় ফারুককে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে মৃতদেহ তাঁরই বাসার সামনে ফেলে আসা হয়।
ফারুক টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। একাত্তরে মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত রণাঙ্গন নামের একটি পত্রিকার সহ সম্পাদক ছিলেন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ‘প্রতিরোধযুদ্ধে’ অংশ নিয়ে পঙ্গ হন তিনি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খান পরিবার টাঙ্গাইল শহরে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তাদের দাপটের মুখে এলাকায় ও দলে কেউই মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। ফলে চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অর্ধশত মামলা হলেও বাদী ও সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হননি। এ কারণে অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আবার কিছু মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
ফারুক হত্যা মামলায় নাম আসার পর থেকে রানা এমপি ও তাঁর ভাইদের আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে পুলিশের খাতায় রানা এমপি ‘পলাতক’ হলেও নিজের সংসদ সদস্য পদ রক্ষায় গত বছরের ৫ জুলাই সংসদে যান। অবশ্য, হাজিরা খাতায় সই করেই চলে যান তিনি।
সন্তোষ প্রকাশ, মিছিল-সমাবেশ: আদালত ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী। বুধবার আদালতের আদেশের পর তাঁরা আদালত এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাহার আহমেদ। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নাহার আহমেদ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন গোলাম কিবরিয়া, সোলায়মান হাসান প্রমুখ।
সমাবেশে নাহার আহমেদ বলেন, তিনি আদালতের এই আদেশে সন্তুষ্ট। এখন মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে নিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। তিনি অভিযুক্তদের ফাঁসি তাবী করেন।