নিউইয়র্ক ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের নির্দেশ : ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা চলবে না: ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০১৫
  • / ৮০৮ বার পঠিত

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালীর প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে জড়িত। আর তাই ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের ভাবমূর্তি যাতে কোনোভাবেই ক্ষুন্ন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি ছাত্রলীগের এই মূল নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমি এটুকুই চাইব, ছাত্রলীগ যেন সব সময় একটা আদর্শ নিয়ে চলে। কারণ আদর্শহীন সংগঠন ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, জাতির স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক ঝড়-ঝাপ্টা, বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করতে হয়েছে। বারবার আঘাত এসেছে। শুধু দেশের ভেতরে নয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়েছে। সততার শক্তি থেকেই এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলার শক্তি পেয়েছি। সততার শক্তি অপরিসীম। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এই অগ্রযাত্রা আর কেউ রুখতে পারবে না ইনশাল্লাহ। ২৫ জুলাই শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহওরাওয়ার্দী উদ্যানে উপমহাদেশের প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুদিনব্যাপী ২৮তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে। এই খুনির রাজত্ব আর যাতে দেশে ফিরে আসতে না পারে সেজন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের লালন-পালন ও পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে আমার প্রতিজ্ঞা ছিল একদিন না একদিন বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করব। জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থনে আমরা সে প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছি। তবে এজন্য আমাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করেছি। শুধু সততার শক্তির জোরেই এসব গুরুদায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের গড্ডলিকায় গা না ভাসিয়ে সততার জোরে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, লেখাপড়া করার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে আমি খাতা-কলম তুলে দিয়েছিলাম। তাই নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ সংগঠনের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা মনে রাখতে হবে। যারা নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী ও পড়াশোনায় মনোযোগী তাদের হাতেই আগামী দিনের নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। এই নেতৃত্ব যাতে চাপিয়ে না দিয়ে নির্বাচিত হতে পারে সে ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবে নেতৃত্ব উঠে এলে সংগঠন শক্তিশালী হবে, এগিয়ে যাবে।
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সকাল থেকেই সারাদেশ থেকে আগত ছাত্রলীগের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটররাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লক্ষাধিক নেতা-কর্মী মিছিল সহকারে সম্মেলনস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জাতীয় পতাকা ও ছাত্রলীগের নিজস্ব পতাকা, রং-বেরঙের বেলুন, ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। সংগঠনটির রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে দৃষ্টিনন্দন টুপি-গেঞ্জি পরিহিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সেখানে রীতিমতো উত্সবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। দীর্ঘ চার বছর পর অনুষ্ঠিত এই জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সুশৃক্সখল পরিবেশে মুহুর্মুহু স্লোগান আর বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। শুধু বর্তমান নেতৃত্বই নয়, সুদীর্ঘ সময়ে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটির নেতৃত্ব পাওয়া সাবেক নেতাদের পদচারণাতেও মুখর হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সম্মেলনকে ঘিরে রীতিমতো নবীন-প্রবীণ ছাত্রলীগের নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা টাওয়ার’ সংলগ্ন স্থানে বিশাল মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন। সামনেই বিশাল প্যান্ডেলে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সংগঠনের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসসহ সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা বসেন। এ সময় সম্মেলনস্থল ছাড়াও আশপাশের সড়কগুলোতে ছিল নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১টার কিছু পরে সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে লক্ষাধিক নেতা-কর্মী গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এরপর শেখ হাসিনা জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমসহ দেশের ১০১টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিট এবং বিদেশের ৯টি শাখার নেতারা সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসন গ্রহণ করলে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এ সময় ভিশন-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১কে সামনে রেখে প্রস্তুতকৃত একটি ক্রেস্টও তারা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। পরে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এ সময় ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’ কালজয়ী এই দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্যও পরিবেশন করা হয়। এরপরই শুরু হয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার ৪২ মিনিটের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছাত্রলীগ ও এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধুর একটি উদৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু ভোগের কথা চিন্তা করে যারা নেতৃত্ব দেবে, তারা দেশকেও কিছু দিতে পারবেন না, জাতিকেও কিছু দিতে পারবে না। ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ জাতির সব অর্জন ও উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। যখন বাঙালির ওপর আঘাত এসেছে, তাদের ভাষার অধিকার কেড়ে নেওয়ারপ্রচেষ্টা চলেছে- তখনই এই সংগঠনের জন্ম। সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামেও ছাত্রলীগ কখনো পিছিয়ে থাকেনি। শহীদদের তালিকায়ও দেখা যাবে প্রতিটি অর্জনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাই বেশি জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ যারা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে, তারাই একদিন জাতির চালিকাশক্তি হবে কিংবা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবে। আজ আমরা যারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছি, আমরাও একদিন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবেই কাজ শুরু করেছিলাম। এ জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন যেকোনো মহত্ অর্জনের জন্য বড় ত্যাগ করতে হবে। ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শে গড়ে উঠতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও একযোগে সারাদেশে বোমাবাজি দেখা গেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা ফিরিয়ে আনতে। শিক্ষার মান যেন বজায় থাকে, দেশ যেন শান্তিপূর্ণ হয়- সেদিকে লক্ষ্য নিয়েই নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ছাত্রলীগ করেই আজ এই নেতৃত্বে এসেছি। ছাত্রলীগের কর্মী থাকলেও নেতা হওয়ার সুযোগ আমার কখনো হয়নি। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমাকে কখনো একটা সদস্য পদ দেওয়া হয়নি। এটা আমার একটা দুঃখ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের চরম দুঃসময়ে প্রতিটি আন্দোলনেই আমি রাজপথে ছিলাম। সেই স্কুল জীবন থেকে। আজিমপুর গার্লস স্কুলে পড়ার সময় গেট ও ওয়াল টপকিয়ে মিছিলে যোগ দিতাম। কলেজেও সেভাবেই যোগ দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, ইডেন ইন্টারমিডিয়েট কলেজে আমি ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির একজন সামান্য সদস্য ছিলাম।
এবার সম্মেলন দুই বছর দেরি হওয়ার ধারাবাহিকতা রাখতে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বয়সসীমা ২৯ বছর করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি একটা সুনির্দিষ্ট বয়স ঠিক করে দিয়েছিলাম। ২৭ বছর করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। সেই বৈরি অবস্থা কাটিয়ে এক বছরের মাথায় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়া নিজ কার্যালয়ে ৯২ দিন স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষকে হত্যা করেছেন, সারাদেশে হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতা চালিয়েছেন। এ অবস্থায় সম্মেলন করা কঠিন ছিল। এসব বৈরি অবস্থার কারণে সঠিক সময়ে ছাত্রলীগের সম্মেলন হতে পারেনি। দুই বছর নষ্ট হয়েছে। তাই গ্রেস পিরিয়ড দিতে হয়। এখন সেটা ২৯ বছর হয়ে গেছে। নতুন নেতৃত্বের বয়স ২৯ বছরই থাকতে হবে। ছাত্রলীগের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ভোটে নির্বাচিত হবে। কেউ ঠিক করে দেবে না। কাউন্সিলে ভোট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ দেশে ছাত্রলীগের সম্মেলনেই প্রথম আমরা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করেছিলাম। সেই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এখন জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার হচ্ছে। এবারের ভোটেও যেন তা ব্যবহার হয়।
ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক জয়দেব নন্দী, অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবদুল কাদের মহিউদ্দিন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কুন্ডু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যে বাংলাদেশ ছিল রিক্ত, নিঃস্ব, সেই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি বলেন, এ দেশের যদি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কেউ করে থাকে, সে হচ্ছে জিয়াউর রহমান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বায়নের যুগে অনেক আধুনিক দেশেই ছাত্র রাজনীতি এখন বিলুপ্তির পথে। কেননা সেখানকার ছাত্ররা তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, দেশ ও জাতির দিকে তাদের মনোযোগ কম। কিন্তু উপমহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এখনও দেশ ও জাতির জন্য আত্মোত্সর্গ করে যাচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশকে বদলাতে হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের উপযোগী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ুন। তাহলে রাজনীতি কিংবা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে শিখতে হবে না। মুজিব পরিবারকে জানুন। তাহলে সবকিছু শিখতে পারবেন।
জানা গেছে, ২৬ জুলাই রোবববার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন হবে। শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে। সংগঠনের শীর্ষ দুই পদের জন্য মোট ২৪২ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪ জনের মনোনয়নপত্র বিভিন্ন কারণে বাতিল করা হয়েছে। এখন সভাপতি পদে ৬৪ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪২ জন প্রার্থী রয়েছেন। (দৈনিক ইত্তেফাক)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের নির্দেশ : ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা চলবে না: ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০১৫

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালীর প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে জড়িত। আর তাই ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের ভাবমূর্তি যাতে কোনোভাবেই ক্ষুন্ন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি ছাত্রলীগের এই মূল নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমি এটুকুই চাইব, ছাত্রলীগ যেন সব সময় একটা আদর্শ নিয়ে চলে। কারণ আদর্শহীন সংগঠন ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, জাতির স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক ঝড়-ঝাপ্টা, বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করতে হয়েছে। বারবার আঘাত এসেছে। শুধু দেশের ভেতরে নয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়েছে। সততার শক্তি থেকেই এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলার শক্তি পেয়েছি। সততার শক্তি অপরিসীম। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এই অগ্রযাত্রা আর কেউ রুখতে পারবে না ইনশাল্লাহ। ২৫ জুলাই শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহওরাওয়ার্দী উদ্যানে উপমহাদেশের প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুদিনব্যাপী ২৮তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে। এই খুনির রাজত্ব আর যাতে দেশে ফিরে আসতে না পারে সেজন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের লালন-পালন ও পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে আমার প্রতিজ্ঞা ছিল একদিন না একদিন বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করব। জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থনে আমরা সে প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছি। তবে এজন্য আমাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করেছি। শুধু সততার শক্তির জোরেই এসব গুরুদায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের গড্ডলিকায় গা না ভাসিয়ে সততার জোরে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, লেখাপড়া করার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে আমি খাতা-কলম তুলে দিয়েছিলাম। তাই নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ সংগঠনের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা মনে রাখতে হবে। যারা নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী ও পড়াশোনায় মনোযোগী তাদের হাতেই আগামী দিনের নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। এই নেতৃত্ব যাতে চাপিয়ে না দিয়ে নির্বাচিত হতে পারে সে ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবে নেতৃত্ব উঠে এলে সংগঠন শক্তিশালী হবে, এগিয়ে যাবে।
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সকাল থেকেই সারাদেশ থেকে আগত ছাত্রলীগের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটররাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লক্ষাধিক নেতা-কর্মী মিছিল সহকারে সম্মেলনস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জাতীয় পতাকা ও ছাত্রলীগের নিজস্ব পতাকা, রং-বেরঙের বেলুন, ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। সংগঠনটির রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে দৃষ্টিনন্দন টুপি-গেঞ্জি পরিহিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সেখানে রীতিমতো উত্সবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। দীর্ঘ চার বছর পর অনুষ্ঠিত এই জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সুশৃক্সখল পরিবেশে মুহুর্মুহু স্লোগান আর বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। শুধু বর্তমান নেতৃত্বই নয়, সুদীর্ঘ সময়ে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটির নেতৃত্ব পাওয়া সাবেক নেতাদের পদচারণাতেও মুখর হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সম্মেলনকে ঘিরে রীতিমতো নবীন-প্রবীণ ছাত্রলীগের নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা টাওয়ার’ সংলগ্ন স্থানে বিশাল মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন। সামনেই বিশাল প্যান্ডেলে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সংগঠনের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসসহ সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা বসেন। এ সময় সম্মেলনস্থল ছাড়াও আশপাশের সড়কগুলোতে ছিল নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১টার কিছু পরে সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে লক্ষাধিক নেতা-কর্মী গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এরপর শেখ হাসিনা জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমসহ দেশের ১০১টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিট এবং বিদেশের ৯টি শাখার নেতারা সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসন গ্রহণ করলে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এ সময় ভিশন-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১কে সামনে রেখে প্রস্তুতকৃত একটি ক্রেস্টও তারা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। পরে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এ সময় ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’ কালজয়ী এই দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্যও পরিবেশন করা হয়। এরপরই শুরু হয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার ৪২ মিনিটের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছাত্রলীগ ও এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধুর একটি উদৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু ভোগের কথা চিন্তা করে যারা নেতৃত্ব দেবে, তারা দেশকেও কিছু দিতে পারবেন না, জাতিকেও কিছু দিতে পারবে না। ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ জাতির সব অর্জন ও উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। যখন বাঙালির ওপর আঘাত এসেছে, তাদের ভাষার অধিকার কেড়ে নেওয়ারপ্রচেষ্টা চলেছে- তখনই এই সংগঠনের জন্ম। সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামেও ছাত্রলীগ কখনো পিছিয়ে থাকেনি। শহীদদের তালিকায়ও দেখা যাবে প্রতিটি অর্জনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাই বেশি জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ যারা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে, তারাই একদিন জাতির চালিকাশক্তি হবে কিংবা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবে। আজ আমরা যারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছি, আমরাও একদিন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবেই কাজ শুরু করেছিলাম। এ জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন যেকোনো মহত্ অর্জনের জন্য বড় ত্যাগ করতে হবে। ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শে গড়ে উঠতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও একযোগে সারাদেশে বোমাবাজি দেখা গেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা ফিরিয়ে আনতে। শিক্ষার মান যেন বজায় থাকে, দেশ যেন শান্তিপূর্ণ হয়- সেদিকে লক্ষ্য নিয়েই নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ছাত্রলীগ করেই আজ এই নেতৃত্বে এসেছি। ছাত্রলীগের কর্মী থাকলেও নেতা হওয়ার সুযোগ আমার কখনো হয়নি। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমাকে কখনো একটা সদস্য পদ দেওয়া হয়নি। এটা আমার একটা দুঃখ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের চরম দুঃসময়ে প্রতিটি আন্দোলনেই আমি রাজপথে ছিলাম। সেই স্কুল জীবন থেকে। আজিমপুর গার্লস স্কুলে পড়ার সময় গেট ও ওয়াল টপকিয়ে মিছিলে যোগ দিতাম। কলেজেও সেভাবেই যোগ দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, ইডেন ইন্টারমিডিয়েট কলেজে আমি ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির একজন সামান্য সদস্য ছিলাম।
এবার সম্মেলন দুই বছর দেরি হওয়ার ধারাবাহিকতা রাখতে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বয়সসীমা ২৯ বছর করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি একটা সুনির্দিষ্ট বয়স ঠিক করে দিয়েছিলাম। ২৭ বছর করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। সেই বৈরি অবস্থা কাটিয়ে এক বছরের মাথায় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়া নিজ কার্যালয়ে ৯২ দিন স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষকে হত্যা করেছেন, সারাদেশে হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতা চালিয়েছেন। এ অবস্থায় সম্মেলন করা কঠিন ছিল। এসব বৈরি অবস্থার কারণে সঠিক সময়ে ছাত্রলীগের সম্মেলন হতে পারেনি। দুই বছর নষ্ট হয়েছে। তাই গ্রেস পিরিয়ড দিতে হয়। এখন সেটা ২৯ বছর হয়ে গেছে। নতুন নেতৃত্বের বয়স ২৯ বছরই থাকতে হবে। ছাত্রলীগের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ভোটে নির্বাচিত হবে। কেউ ঠিক করে দেবে না। কাউন্সিলে ভোট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ দেশে ছাত্রলীগের সম্মেলনেই প্রথম আমরা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করেছিলাম। সেই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এখন জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার হচ্ছে। এবারের ভোটেও যেন তা ব্যবহার হয়।
ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক জয়দেব নন্দী, অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবদুল কাদের মহিউদ্দিন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কুন্ডু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যে বাংলাদেশ ছিল রিক্ত, নিঃস্ব, সেই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি বলেন, এ দেশের যদি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কেউ করে থাকে, সে হচ্ছে জিয়াউর রহমান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বায়নের যুগে অনেক আধুনিক দেশেই ছাত্র রাজনীতি এখন বিলুপ্তির পথে। কেননা সেখানকার ছাত্ররা তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, দেশ ও জাতির দিকে তাদের মনোযোগ কম। কিন্তু উপমহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এখনও দেশ ও জাতির জন্য আত্মোত্সর্গ করে যাচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশকে বদলাতে হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের উপযোগী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ুন। তাহলে রাজনীতি কিংবা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে শিখতে হবে না। মুজিব পরিবারকে জানুন। তাহলে সবকিছু শিখতে পারবেন।
জানা গেছে, ২৬ জুলাই রোবববার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন হবে। শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে। সংগঠনের শীর্ষ দুই পদের জন্য মোট ২৪২ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪ জনের মনোনয়নপত্র বিভিন্ন কারণে বাতিল করা হয়েছে। এখন সভাপতি পদে ৬৪ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪২ জন প্রার্থী রয়েছেন। (দৈনিক ইত্তেফাক)