নিউইয়র্ক ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

পাঁচ মাস আগেই মামলা, গ্রেপ্তারের চেষ্টা ছিল না

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ জুলাই ২০১৬
  • / ৮৮৫ বার পঠিত

ঢাকা: গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস আগে নিবরাস ইসলামের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার খবর জানতে পারে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস–বিরোধী আইনে গত ৯ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় একটি মামলাও হয়। কিন্তু পুলিশ তখন তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলেও নিবরাসকে ধরার চেষ্টা করেনি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর ছিদ্দিক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) মামলাটি করেছিল তাই এর তদন্তও তারা করেছে। এর সঙ্গে থানা-পুলিশের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তখন নিবরাসের নাম পাওয়া যায়। কিন্তু ঠিকানা তারা বলেনি। রিমান্ডে নেওয়ার পরও ওই তিনজন নিবরাসের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
নিবরাসের একজন স্বজন প্রথম আলোকে বলেন, নিবরাসের নিখোঁজের বিষয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে ওই একই ডায়েরিতে তৌসিফ ও শেহজাদ নামের আরও দুজনের নিখোঁজের কথা উল্লেখ আছে। এর মধ্যে তৌসিফ মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শেহজাদ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের। আবার ৯ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় করা মামলায় তৌসিফ ও শেহজাদকে পলাতক আসামি দেখানো হয়। ধানমন্ডি থানার ওই জিডিতে নিবরাসসহ তিনজনেরই পুরো নাম-ঠিকানা ছিল।
শাহবাগ থানায় করা ওই মামলার এজাহারে দেখা যায়, ৯ ফেব্রুয়ারি ডিবির জঙ্গি দমন ও আন্তদেশীয় অপরাধ নিরোধ টিমের (দক্ষিণ) উপপরিদর্শক আবুল বাশার মামলাটি করেন।
এজাহারে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মূল ভবনের বিপরীতে ফুটওভারব্রিজের নিচে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে রাইয়ান মিনহাজ ওরফে রাইজু ওরফে আরমিন (২৪), আহমেদ শাম্বুর রায়হান ওরফে চিলার (২৩) ও তৌহিদ বিন আহমেদ ওরফে রিয়াজ ওরফে কাচ্চিকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিনজন জানান, তাঁদের সঙ্গে আরও আট-নয়জন ছিলেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পলাতক ব্যক্তিরা হলেন নিবরাস ইসলাম ওরফে শিমু (২৪), সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক ওরফে মরক্ক (২৪), তৌশিক (২৪), সাবাব সালাউদ্দিন ওরফে হক ওরফে হনু, সালভি আলী ওরফে মালাভী (২৫), রিফাত, তুরাজ (২৮), ইয়াসিন তালুকদার ও গালিব (২৭)।
এজাহারে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজন ঢাকা শহরে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করার জন্য একত্র হয়েছিলেন বলে জানান। তাঁদের কাছ থেকে জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসেট, হার্ডডিস্ক, জিহাদি বই ও অন্য মালামাল জব্দ করা হয়।
১ জুলাই রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় নিবরাস ইসলামসহ অন্য জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে পরদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযানে নিবরাসসহ হামলাকারী সব জঙ্গি নিহত হয়।
এই হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ পেলে নিবরাসের পরিবার বলেছে, তিনি মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র ছিলেন। তিনি গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফেরেন। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি নিবরাস একটি চিরকুট লিখে বাসা ছাড়েন। এরপর থেকে তিনি নিরুদ্দেশ ছিলেন।
নিবরাস ঢাকার উত্তরার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেন। অবশ্য নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিবরাস ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনটি সেমিস্টার সম্পন্ন করে নিবরাস মালয়েশিয়ায় চলে যান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

পাঁচ মাস আগেই মামলা, গ্রেপ্তারের চেষ্টা ছিল না

প্রকাশের সময় : ১১:২৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ জুলাই ২০১৬

ঢাকা: গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস আগে নিবরাস ইসলামের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার খবর জানতে পারে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস–বিরোধী আইনে গত ৯ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় একটি মামলাও হয়। কিন্তু পুলিশ তখন তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলেও নিবরাসকে ধরার চেষ্টা করেনি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর ছিদ্দিক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) মামলাটি করেছিল তাই এর তদন্তও তারা করেছে। এর সঙ্গে থানা-পুলিশের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তখন নিবরাসের নাম পাওয়া যায়। কিন্তু ঠিকানা তারা বলেনি। রিমান্ডে নেওয়ার পরও ওই তিনজন নিবরাসের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
নিবরাসের একজন স্বজন প্রথম আলোকে বলেন, নিবরাসের নিখোঁজের বিষয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে ওই একই ডায়েরিতে তৌসিফ ও শেহজাদ নামের আরও দুজনের নিখোঁজের কথা উল্লেখ আছে। এর মধ্যে তৌসিফ মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শেহজাদ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের। আবার ৯ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় করা মামলায় তৌসিফ ও শেহজাদকে পলাতক আসামি দেখানো হয়। ধানমন্ডি থানার ওই জিডিতে নিবরাসসহ তিনজনেরই পুরো নাম-ঠিকানা ছিল।
শাহবাগ থানায় করা ওই মামলার এজাহারে দেখা যায়, ৯ ফেব্রুয়ারি ডিবির জঙ্গি দমন ও আন্তদেশীয় অপরাধ নিরোধ টিমের (দক্ষিণ) উপপরিদর্শক আবুল বাশার মামলাটি করেন।
এজাহারে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মূল ভবনের বিপরীতে ফুটওভারব্রিজের নিচে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে রাইয়ান মিনহাজ ওরফে রাইজু ওরফে আরমিন (২৪), আহমেদ শাম্বুর রায়হান ওরফে চিলার (২৩) ও তৌহিদ বিন আহমেদ ওরফে রিয়াজ ওরফে কাচ্চিকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিনজন জানান, তাঁদের সঙ্গে আরও আট-নয়জন ছিলেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পলাতক ব্যক্তিরা হলেন নিবরাস ইসলাম ওরফে শিমু (২৪), সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক ওরফে মরক্ক (২৪), তৌশিক (২৪), সাবাব সালাউদ্দিন ওরফে হক ওরফে হনু, সালভি আলী ওরফে মালাভী (২৫), রিফাত, তুরাজ (২৮), ইয়াসিন তালুকদার ও গালিব (২৭)।
এজাহারে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজন ঢাকা শহরে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করার জন্য একত্র হয়েছিলেন বলে জানান। তাঁদের কাছ থেকে জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসেট, হার্ডডিস্ক, জিহাদি বই ও অন্য মালামাল জব্দ করা হয়।
১ জুলাই রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় নিবরাস ইসলামসহ অন্য জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে পরদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযানে নিবরাসসহ হামলাকারী সব জঙ্গি নিহত হয়।
এই হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ পেলে নিবরাসের পরিবার বলেছে, তিনি মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র ছিলেন। তিনি গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফেরেন। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি নিবরাস একটি চিরকুট লিখে বাসা ছাড়েন। এরপর থেকে তিনি নিরুদ্দেশ ছিলেন।
নিবরাস ঢাকার উত্তরার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেন। অবশ্য নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিবরাস ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনটি সেমিস্টার সম্পন্ন করে নিবরাস মালয়েশিয়ায় চলে যান।