নিউইয়র্ক ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

টাঙ্গাইলে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : হতাহত ৪ : বন্ধ ঘোষণা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০১৫
  • / ৬৫৯ বার পঠিত

টাঙ্গাইল: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্তোস্থ মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাত্রলীগ নামধারী ছাত্রদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বেলা পৌনে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোশারফের অবস্থা অবনতি হলে তাকে বিকেলে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে নেয়া হয়। পথেই বিকেল ৬টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মোহাম্দ শামছুল আলম মোশারফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোশাররফ বিশ্বব্যিালয়ের অপরাধতত্ব ও পুলিশ বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি মুক্ত থাকলেও ছাত্রলীগ পরিচয়ে মোশারফ গ্রুপের প্রধান মোশারফ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্নস্থানে ব্যানার টাঙিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এছাড়াও মনিরুল ইসলাম মনি গ্রুপ ও সুমন ফকির গ্রুপ নামে অপর দুটি গ্রুপও রয়েছে। বর্তমানে সুমন ফকির গ্রুপ নিষ্ক্রিয় থাকলেও অপর দুই গ্রুপ টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও ভাটোয়ারা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এ নিয়ে মাঝ মধ্যেই দুই গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ছয় মে রাতে মোশারফ গ্রুপের ছাত্ররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে মনি গ্রুপের লোকজনকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়। এর প্রতিশোধ নিতে মনি গ্রুপ বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেটে অবস্থান নেয়। তারা প্রথমে মান্নান হলে ঢুকে মোশারফ হোসেনকে কুপিয়ে ও বেদম পিটিয়ে আহত করে। এরপর কাফেটিরিয়ার সামনে ফয়সাল হোসেন ও রাশেদুল ইসলাম বাধনকে পিটিয়ে আহত করে। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে মোশারফ গ্রুপের ছাত্ররা একত্রিত হয়ে মনি গ্রুপের ছাত্রদের ধাওয়া করে করে। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টাধাওয়া। এ সময় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে দুই প্লাটুন পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভিসির সঙ্গে বৈঠক করেন।
পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শান্তি-শৃঙ্খলার যাতে বিঘœ না ঘটে সে কারণে সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
অপরদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে বৃহস্প্রতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

টাঙ্গাইলে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : হতাহত ৪ : বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশের সময় : ০৪:০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০১৫

টাঙ্গাইল: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্তোস্থ মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাত্রলীগ নামধারী ছাত্রদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বেলা পৌনে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোশারফের অবস্থা অবনতি হলে তাকে বিকেলে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে নেয়া হয়। পথেই বিকেল ৬টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মোহাম্দ শামছুল আলম মোশারফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোশাররফ বিশ্বব্যিালয়ের অপরাধতত্ব ও পুলিশ বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি মুক্ত থাকলেও ছাত্রলীগ পরিচয়ে মোশারফ গ্রুপের প্রধান মোশারফ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্নস্থানে ব্যানার টাঙিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এছাড়াও মনিরুল ইসলাম মনি গ্রুপ ও সুমন ফকির গ্রুপ নামে অপর দুটি গ্রুপও রয়েছে। বর্তমানে সুমন ফকির গ্রুপ নিষ্ক্রিয় থাকলেও অপর দুই গ্রুপ টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও ভাটোয়ারা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এ নিয়ে মাঝ মধ্যেই দুই গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ছয় মে রাতে মোশারফ গ্রুপের ছাত্ররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে মনি গ্রুপের লোকজনকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়। এর প্রতিশোধ নিতে মনি গ্রুপ বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেটে অবস্থান নেয়। তারা প্রথমে মান্নান হলে ঢুকে মোশারফ হোসেনকে কুপিয়ে ও বেদম পিটিয়ে আহত করে। এরপর কাফেটিরিয়ার সামনে ফয়সাল হোসেন ও রাশেদুল ইসলাম বাধনকে পিটিয়ে আহত করে। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে মোশারফ গ্রুপের ছাত্ররা একত্রিত হয়ে মনি গ্রুপের ছাত্রদের ধাওয়া করে করে। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টাধাওয়া। এ সময় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে দুই প্লাটুন পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভিসির সঙ্গে বৈঠক করেন।
পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শান্তি-শৃঙ্খলার যাতে বিঘœ না ঘটে সে কারণে সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
অপরদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে বৃহস্প্রতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।