নিউইয়র্ক ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

কামাারুজ্জামানের আপিলের রায় প্রকাশ : মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • / ৭৩৪ বার পঠিত

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ স্বাক্ষরের পর সুপ্রীমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখার এই রায় প্রকাশ করে। বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্াব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। প্রকাশিত রায়টি ৫৭৭ পৃষ্ঠার। ২০১৩ সালে ৯ মে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মৃত্যুদন্ড দিয়ে কামারুজ্জামানের আপিলের রায় ঘোষণা করেন। পরে ৬ জুন ফাঁসির দন্ড মওকুফ চেয়ে সুপ্রীমকোর্টে আপিল করেন জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান। আর ট্রাইব্যুনালে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় আপিল করেনি। আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ডের সাজা বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। তবে বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিয়া কামরুজ্জামানকে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। প্রায় ৪ মাস পর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো।
প্রকাশিত রায়ে উল্লেখ্য করা হয়েছে, রায়ের সার্টিফায়েড কপি তৈরির পর কামারুজ্জামান ১৫ দিন সময় পাবেন রিভিউ করার জন্য। যদি এই সময়ের মধ্যে কামারুজ্জামান রিভিউ করেন তাহলে রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার পর রায় কার্যকর করতে পারবে সরকার। আর তিনি যদি রিভিউ না করেন তবে সরকারকে রায় কার্যকর করতে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে আপিল বিভাগ বলেছেন। রায়ে আরও বলা হয়েছে, আপিল বিভাগ রুলসে রিভিউ দায়েরের ক্ষেত্রে যে সময়সীমার কথা বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনের অধীনে রায়ের রিভিউর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এ ক্ষেত্রে ১৫ দিনের সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হবে। রায়ে আদালত বলেছেন, আপিল বিভাগের মৃত্যুদন্ডের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুপরোয়ানা জারির আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের সুযোগ দিবেন। একই সঙ্গে তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। যদি কোনো রিভিউ অথবা প্রাণ ভিক্ষার আবেদন দায়ের করা হয় ওই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা যাবে না।
দুপুর একটা ৫৫ মিনিটে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে ৫৭৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। এর আগে সাড়ে বারোটার দিকে চার বিচারপতি রায়ে স্বাক্ষর করেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দিন থেকে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করার জন্য ১৫ দিনের সময় পাচ্ছেন আসামিপক্ষ। এদিন গণনা শুরু হয়েছে বিচারপতিদের পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষরের পর থেকেই। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি আপিল বিভাগের তৃতীয় রায়। কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদন্ডাদেশের পর আপিল বিভাগ জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁর মৃত্যুদন্ড হয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের প্রতিক্রিয়া : আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কামারুজ্জামানের মামলার ব্যাপারে আমাদের এতোদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটলো। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর মৃত্যু পরোয়ানা জারির জন্য তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল কারাগারে মৃত্যু পরোয়ানা পাঠাবে। সেটা ট্রাইব্যুনাল আজও করতে পারে, কালও করতে পারে। ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠালে সরকারের পক্ষে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দিন দিতে কোনো অসুবিধা নাই। তবে রিভিউ আবেদনে এই প্রক্রিয়া থমকে যাবে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলও জানান। অবশ্য আসামিপক্ষ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবে। আর সে ক্ষেত্রে মৃত্যু পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যাবে। তবে এর মধ্যেও সরকার তার প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে রাখতে পারে বলে মনে করেন রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা। এই ১৫ দিন রাষ্ট্রকে অপেক্ষা করতে হবে বলে আপিল বিভাগ রিভিউর রায়ে বলেন নাই। ধরেন, কেউ যদি রিভিউ না করে, তাহলে কি রাষ্ট্র বসে থাকবে? রিভিউ হলে শুনানি কখন হবে- প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা সর্বোচ্চ আদালতই ঠিক করবেন। আমরা প্রত্যাশা করব, এটা যেন ঝুলে না থাকে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এটা যেন নিষ্পত্তি করা হয়। প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার সুযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি (কামারুজ্জামান) যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা করেন, অবশ্যই সেই অধিকার সংবিধানেই দেওয়া আছে। রাষ্ট্রপতি কিভাবে তো নিষ্পত্তি করবেন, সেটা রাষ্ট্রপতির বিষয়। কিন্তু জেলখানায় পরোয়ানা গেলে তাকে প্রাণ ভিক্ষা করবেন কি না, রিভিউ করবেন কি না, এগুলো জানতে চাওয়া হয়। প্রাণভিক্ষার অধিকারটা সব সময় দেওয়া হয়। রিভিউর আগেও উনি চাইতে পারেন। তবে স্বাভাবিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রাণভিক্ষার নিয়ম।
উল্লেখ্য, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ১৯৫২ সালের ৪ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলায় জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের ময়মনসিংহ জেলার প্রধান ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পরের বছর ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন কামারুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে থেকে মাস্টার্স পাস করার পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমনের আমলে ১৯৭৮-৭৯ সালে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে কামারুজ্জামান মূল দল জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর রুকনের দায়িত্ব পান। ১৯৮২-১৯৮৩ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র সাপ্তাহিক সোনার বাংলার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি দলে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। (দৈনিক ইনকিলাব)

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

কামাারুজ্জামানের আপিলের রায় প্রকাশ : মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ স্বাক্ষরের পর সুপ্রীমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখার এই রায় প্রকাশ করে। বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্াব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। প্রকাশিত রায়টি ৫৭৭ পৃষ্ঠার। ২০১৩ সালে ৯ মে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মৃত্যুদন্ড দিয়ে কামারুজ্জামানের আপিলের রায় ঘোষণা করেন। পরে ৬ জুন ফাঁসির দন্ড মওকুফ চেয়ে সুপ্রীমকোর্টে আপিল করেন জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান। আর ট্রাইব্যুনালে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় আপিল করেনি। আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ডের সাজা বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। তবে বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিয়া কামরুজ্জামানকে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। প্রায় ৪ মাস পর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো।
প্রকাশিত রায়ে উল্লেখ্য করা হয়েছে, রায়ের সার্টিফায়েড কপি তৈরির পর কামারুজ্জামান ১৫ দিন সময় পাবেন রিভিউ করার জন্য। যদি এই সময়ের মধ্যে কামারুজ্জামান রিভিউ করেন তাহলে রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার পর রায় কার্যকর করতে পারবে সরকার। আর তিনি যদি রিভিউ না করেন তবে সরকারকে রায় কার্যকর করতে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে আপিল বিভাগ বলেছেন। রায়ে আরও বলা হয়েছে, আপিল বিভাগ রুলসে রিভিউ দায়েরের ক্ষেত্রে যে সময়সীমার কথা বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনের অধীনে রায়ের রিভিউর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এ ক্ষেত্রে ১৫ দিনের সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হবে। রায়ে আদালত বলেছেন, আপিল বিভাগের মৃত্যুদন্ডের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুপরোয়ানা জারির আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের সুযোগ দিবেন। একই সঙ্গে তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। যদি কোনো রিভিউ অথবা প্রাণ ভিক্ষার আবেদন দায়ের করা হয় ওই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা যাবে না।
দুপুর একটা ৫৫ মিনিটে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে ৫৭৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। এর আগে সাড়ে বারোটার দিকে চার বিচারপতি রায়ে স্বাক্ষর করেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দিন থেকে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করার জন্য ১৫ দিনের সময় পাচ্ছেন আসামিপক্ষ। এদিন গণনা শুরু হয়েছে বিচারপতিদের পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষরের পর থেকেই। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি আপিল বিভাগের তৃতীয় রায়। কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদন্ডাদেশের পর আপিল বিভাগ জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁর মৃত্যুদন্ড হয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের প্রতিক্রিয়া : আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কামারুজ্জামানের মামলার ব্যাপারে আমাদের এতোদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটলো। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর মৃত্যু পরোয়ানা জারির জন্য তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল কারাগারে মৃত্যু পরোয়ানা পাঠাবে। সেটা ট্রাইব্যুনাল আজও করতে পারে, কালও করতে পারে। ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠালে সরকারের পক্ষে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দিন দিতে কোনো অসুবিধা নাই। তবে রিভিউ আবেদনে এই প্রক্রিয়া থমকে যাবে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলও জানান। অবশ্য আসামিপক্ষ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবে। আর সে ক্ষেত্রে মৃত্যু পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যাবে। তবে এর মধ্যেও সরকার তার প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে রাখতে পারে বলে মনে করেন রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা। এই ১৫ দিন রাষ্ট্রকে অপেক্ষা করতে হবে বলে আপিল বিভাগ রিভিউর রায়ে বলেন নাই। ধরেন, কেউ যদি রিভিউ না করে, তাহলে কি রাষ্ট্র বসে থাকবে? রিভিউ হলে শুনানি কখন হবে- প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা সর্বোচ্চ আদালতই ঠিক করবেন। আমরা প্রত্যাশা করব, এটা যেন ঝুলে না থাকে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এটা যেন নিষ্পত্তি করা হয়। প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার সুযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি (কামারুজ্জামান) যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা করেন, অবশ্যই সেই অধিকার সংবিধানেই দেওয়া আছে। রাষ্ট্রপতি কিভাবে তো নিষ্পত্তি করবেন, সেটা রাষ্ট্রপতির বিষয়। কিন্তু জেলখানায় পরোয়ানা গেলে তাকে প্রাণ ভিক্ষা করবেন কি না, রিভিউ করবেন কি না, এগুলো জানতে চাওয়া হয়। প্রাণভিক্ষার অধিকারটা সব সময় দেওয়া হয়। রিভিউর আগেও উনি চাইতে পারেন। তবে স্বাভাবিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রাণভিক্ষার নিয়ম।
উল্লেখ্য, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ১৯৫২ সালের ৪ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলায় জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের ময়মনসিংহ জেলার প্রধান ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পরের বছর ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন কামারুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে থেকে মাস্টার্স পাস করার পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমনের আমলে ১৯৭৮-৭৯ সালে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে কামারুজ্জামান মূল দল জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর রুকনের দায়িত্ব পান। ১৯৮২-১৯৮৩ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র সাপ্তাহিক সোনার বাংলার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি দলে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। (দৈনিক ইনকিলাব)