নিউইয়র্ক ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

রাব্বী আমায় ক্ষমা করো!

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৬
  • / ১১০১ বার পঠিত

শাহাব উদ্দিন সাগর: ফেইস বুকে কবে নাগাদ যে ফ্রেন্ড তালিকায় ছিল সঠিক মনে নেই। কিন্তু গেল বছরের শেষ দিকে হঠাৎ করে ইনবক্সে হাই! হ্যালো দিয়ে কথা শুরু। দুই-একটা লাইন লিখতে না লিখতেই বলে ফেললো ভাইয়া আমি রাব্বী, সময় টেলিভিশনে নিউজ পড়তাম এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকুরি করি। মুহুর্ত্বের মধ্যে প্রোফাইলে গিয়ে দেখি খুবই চেনা মুখ। কতবার না দেখেছি সময় টেলিভিশনের স্কীনে। এক কথা- দু’কথা বলতে বলতে রাব্বী বলেই ফেললো ভাইয়া; আমি আপনার টাইম পলিটিক্স টকশোটা দেখতে চাই, কিভাবে দেখবো জানাবেন? ওয়েব সাইটের লগ অন করার ঠিকানাটি দেয়ার কিছুক্ষণ পর আবার ইনবক্সে লেখা, ভাইয়া অনেক ভালো হয়েছে। মাঝে দু’একদিন কথা হয়নি। পরে আরেকদিন ইনবক্সে আমেরিকার দিনকাল সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ইউটিউবে থাকা আরো কয়েকটি আমার সঞ্চালনার টকশো’র প্রশংসা করল।
গত মাসে নিউইয়র্কে আমার পুত্র সন্তান জন্মের পর আমরা যখন বেশ খুশি আর আমার অফিস কলিগ আর আত্মীয় স্বজনরা আনন্দে আত্মহারা তখন গত সপ্তাহে গোলাম রাব্বীর অঝোর ধারায় কান্না জড়িত সাক্ষাৎকারটি দারুনভাবে আবেগ তাড়িত করেছে। বাংলাদেশের সময় টেলিভিশন রাব্বীকে নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত প্রতিবেদন যতবার না দেখেছি ততবার মনে হয়েছে নিউইয়র্কের নীল শ্বেতশুভ্র ঝলমলে রোদের আকাশটা চরম অন্ধকারে আমার মাথার উপর ভেঙ্গে পড়েছে। মাত্র দু’এক দিনের কথায় এত বেশি ভদ্র ও অমায়িক মনে হয়েছে তার জন্য কিছু করতে পারি কি না- সে চিন্তায় অস্থির ছিলাম। এরই মধ্যে নদীর জল অনেক ঘোলা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার সাব ইনসপেক্টর মাসুদকে ক্লোজ করা হয়েছে। গেল কয়েকদিন ধরে বিষয়টি খুবই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। কি হচ্ছে। কোন সময় গণমাধ্যমে খবর আসে এস আই মাসুদকে ক্লোজ করা হয়েছে। আবার কোন সময় পত্রিকার পাতায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ‘একটু ঘুমাতে চায় রাব্বী’।
রাব্বী আক্রান্ত হওয়ার পর নিউইয়র্ক সময় ৮ জানুয়ারী সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশনের নিউজরুমে এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। রাব্বীর অঝোর ধারায় কেঁদে সাক্ষাৎকার দেয়া দেখে খুবই গর্ব করে বলেছিলাম দায়ী পুলিশের উপযুক্ত শাস্তি হবে। এ কথা বলার পর পরই পাশে থাকা টাইম টেলিভিশনের ভিডিও জার্নালিস্ট জাকির হোসেন জাহিদ বলে উঠলেন,‘কঁচু কিচছুই হবে না পুলিশ কর্মকর্তার’। তারপরও দৃঢতার সঙ্গে বলেছিলাম পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি হবে। কিন্তু এমন শাস্তি হয়েছে যা অন্তত আমার মাঝে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। জাহিদ আমি সেদিন জোর গলায় বলেছিলাম এসআই মাসুদ সাসপেন্ড হবেন! কিন্তু নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার রাত পর্যন্ত সাসপেন্ড হয়নি, আমি ক্ষমা প্রার্থী। কারণ বাংলাদেশের পুলিশের শীর্ষ পদের প্রতি আমার আস্থা থেকেই বলেছিলাম তা।
Rabbi (BD Bank)১৪ জানুয়ারী টাইম টেলিভিশনের সংবাদপত্র পর্যালোচনা ভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রেস ভিউতে এসেছিলেন নিউইয়র্কের আই অন বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক রিমন ইসলাম। তার সঙ্গে আলাপকালে সমকাল পত্রিকায় ডিএমপি কমিশনার জনাব আছাদুজ্জামান মিয়ার একটি বক্তব্য পড়েছিলাম। তিনি রাব্বীর উপর ‘নির্যাতন’ প্রসঙ্গে বলেছেন ‘কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ নেবে না’। বিশ্লেষণ হয়েছে তা নিয়ে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ডিএমপি কমিশনার রাব্বীকে যখন ‘নির্যাতন’ করা হয় তখন কি এস আই মাসুদ পুলিশের সদস্য ছিলেন না? তিনি কি পুলিশী ইউনিফর্ম পড়ে রাব্বীর ওপর ‘হামলা’ চালাননি? মোহাম্মদপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পর এস আই মাসুদের কি র‌্যাঙ্ক কেড়ে নেয়া হয়েছে? ইউনিফর্ম জমা নেয়া হয়েছে? যদি কোনটিই না করা হয়, তাহলে মাসুদের দায় ডিএমপি তথা পুলিশ নেবে না কেন? সেই প্রশ্ন করার অধিকার হয়তো আমার আছে।
সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি প্রত্যাহার মানে শাস্তি কতটুকু? আমরাও মাঠে কাজ করতে গিয়ে কোন ধরনের সমস্যা করি তাহলে আমাদেরও প্রত্যাহার করা হয়। এর মানে এই নয় যে আমাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে বা শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমাকে বড় ধরনের শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমরা এমনও দেখি অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার পর অন্য কোন স্থানে পোর্ষ্টিং দেয়া হয়েছে বা সাসপেন্ড করার পর ফৌজদারি কার্যবিধিতে মামলা হয় না। সম্মানিত পুলিশ ভাইদের অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে মাসুদের বিষয়ে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোন কিছুতে অভিযুক্ত করা যাবে না, তার শাস্তির বিধান করা যাবে না বা তাকে চাকুরিচ্যুত করা যাবে না। কিন্তু সেই পরিণতি বা সব প্রশ্নের অবসান হতে কতদিন সময় লাগবে?
রাব্বী গণমাধ্যমকর্মী ছিল, এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা। ব্যাংক গভর্নর রাব্বীর ওপর নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি লিখেছেন। গভর্নর হয়তো তার দায়িত্ববোধ থেকে সেটি করেছেন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন পুলিশ বা মাননীয় পুলিশরা আপনাদের দায়িত্ববোধ কোথায়! আপনারা সবাই কি এস আই মাসুদের পক্ষে! আমি তা বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি রাব্বী উপর্যুক্ত বিচার পাবে, এস আই মাসুদ কৃতকর্মের জন্য শাস্তির মুখোমুখি হবেন, চাকরিচ্যুত হবেন, ফৌজদারি আইনে আদালতের মুখোমুখি হবেন। ধরে নিলাম তাই হলো। কিন্তু উঠতি বয়সী একজন রাব্বীর জীবনে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে সেটা মুছবে কে? গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ি রাব্বী সেদিন এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার পর তাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। বিশ্বাস করুন আমি যেখানে বসবাস করি সেই বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্কের পুলিশ কোন ব্যক্তিকে কোন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না, তার পরিচয় জানতে পারবে না, গায়ে হাত দেয়াতো দূরের কথা সুনিদির্ষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোন ধরনের প্রশ্নও করতে পারবেন না। গত ৭ জানুয়ারী কুইন্সের করোনায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক সিটি স্পিকার মেলিসা মার্ক। তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বা এনওয়াইপিডি পুলিশ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘বৈধ বা অবৈধ নিউইয়র্কের কোন মানুষকে পুলিশ গ্রেফতার করলে, কোন ধরনের পরিচয় দেবেন না, নাম বলবেন না, যদি কিছু জানতে চায় পুলিশকে বলবেন আপনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।’ কিন্তু বাংলাদেশে উল্টো। কথায় কথায় পুলিশ বেত্রাঘাত করে, রক্তচক্ষু দেখায়। আমি বিশ্বাস করি আমাদের পুলিশ বাহিনীর ক্ষমতা বেড়েছে, অনেকেই বিদেশে গিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শিক্ষা-দীক্ষায় বা সমাজে তাদের অবস্থান বদলাচ্ছে, কিন্তু মাসুদের মতো পুলিশের মন বদলাবে কখন!
আরেকটি কথা: গেল কয়েকদিন আগে আমি এবং আমার অফিসের এক কলিগ রাত ১ টার দিকে লং আইল্যান্ড সিটির ব্রডওয়ের কোণায় থাকা টিডি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাসার দিকে আসছিলাম। বিশ্বাস করুন, আমাদের পেছন পেছন করে একটি পুলিশের গাড়ি বাসা পর্যন্ত আসে। আমরা বাসায় প্রবেশ করার কিছুক্ষণ পর পুলিশের গাড়িটি আবারও ব্যাংকের দিকে চলে যায়। নিউইয়র্কে অনেকদিন বসবাস করেন এমন একজনকে সকালে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওই রাতে কেন পুলিশ আমাদের ফলো করেছিল, ওই ভদ্রলোক সাবেক একজন পুলিশ কর্মকর্তাও। তিনি বলেন ‘আপনারা যে টাকা উঠালেন তা দেখে কোন সমস্যা হতে পারে, সে চিন্তা মাথায় রেখে আপনাদের নিরাপত্তা দিতেই পুলিশ পিছু নিয়েছিল’। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা কি চিন্তা করা যায়! এখানে হয়তো অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন; কথায় কথায় আমেরিকার সঙ্গে তুলনা দেন কেন? উত্তরে বলতে হয় সর্বশেষ শুক্রবার ১৫ জানুয়ারীর কথা। ওই দিন আমি গিয়েছিলাম ব্রুকলীনে আওয়ামী লীগের একটি সভা কাভার করতে। সে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,‘আমি সফরকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে আমাদের পুলিশকে ‘ইন্টিলিজেন্ট প্রশিক্ষণ’ দিয়ে সহায়তা করার কথা বলেছি।
মাননীয় মন্ত্রী যখন এ ধরনের সহযোগিতা চাইতে পারেন তখন আমার পক্ষে বাংলাদেশ আর আমেরিকাকে মিলানো স্বাভাবিক। এখানে প্রশ্ন জাগে; মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকার কাছ থেকে পুলিশের উন্নয়নের জন্য ‘ইন্টিলিজেন্ট প্রশিক্ষণ’চেয়েছেন কিন্তু এস আই মাসুদদের কিভাবে মানুষ করবেন সে সহযোগিতা দেবে কে!
বলা বাহুল্য; গোলাম রাব্বীর ঘটনা নিয়ে যখন গণমাধ্যম সরব তখনই ডিডিসিসি’র পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাশকে পুলিশ পিটিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনার পর বাংলাদেশের একটি দৈনিক সংবাদ ছেপেছে ঠিক এভাবে ‘মাছের রাজা ইলিশ, দেশের রাজা পুলিশ’। এ সংবাদের পর খুবই প্রশ্ন জাগছিল। কিভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।
শুক্রবার (১৫ জানুয়ারী) দুপুরে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে এমআরভি’র উদ্বোধনের পর সুযোগ হয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে রাব্বী আর ডিসিসিসির কর্মকর্তার উপর নির্যাতনের বিষয়ে জানার। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেমন শুনেছেন আমিও শুনেছি, আপনারা জানেন ওই ঘটনার সময় আমি দেশের বাইরে আছি, তবে অপরাধী যেই হউক না কেন, তার শাস্তি হবে।’
মাননীয় মন্ত্রী সম্মানের সঙ্গে বলছি; এ ধরনের বক্তব্যে আমি ব্যক্তিগতভাবে মোটেও খুশি হতে পারিনি। কারণ আমি জানি বাংলাদেশের সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবরা-খবর সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রীদের পৌঁছে দেন। যদিও মন্ত্রী দেশের ভেতরে বা বাইরে থাকেন।
রাব্বী বা ডিসিসি’র কর্মকর্তার দুনিয়া জানা ঘটনা আপনাকে যদি সংশ্লিষ্টরা না জানায় সেটি সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা। আর মাসুদ এখনও প্রত্যাহার হয়ে দিব্যি আছেন এবং হাসপাতাল বেডে রাব্বী হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন। সে ব্যর্থতা কি আমাদের মতো জনগণের!
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনি যখন ব্রুকলীন আওয়ামী লীগের সভায় ছিলেন তখন অনেক বক্তা আপনার অনেক প্রশংসা করেছেন। আমি তাদের প্রশংসার সঙ্গে একমত, কিন্তু রাব্বী বা ডিসিসিসি’র কর্মকর্তার উপর নির্যাতনের পর আপনার দপ্তর কেন নিশ্চুপ সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
প্রশ্ন করতে চায়; আজ যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা বা গণমাধ্যমের কোন কর্মকর্তা পুলিশ সদস্য নয়, তাদের দূরের কোন আত্মীয়ের গায়েও হাত দিত, তাহলে কি তারা চৌদ্দ শিকের বাইরে থাকতে পারতেন? তারা কি প্রত্যাহার হয়ে থাকতে পারতেন? নিশ্চয়ই পুলিশ হয়তো লঘু অপরাধেও হাত কড়া পরাতেন। কিন্তু আমাদের দেশের মাসুদরা এখন শুধু প্রত্যাহার হন বা চাকরিচ্যুত হন, কিন্তু ফৌজদারী অপরাধে আদালতের মুখোমুখি হন না। মনে পড়ে সাবদার আলীর সেই কথা; ‘কাক আর সামরাজ্যবাদ মূলত জ্ঞাতি ভাই, হাউড়া ব্রিজ লোহার ব্রেশিয়ার বা একজন পুলিশ একটি রাষ্ট্র।’
আমি গত কয়েকদিন ধরে রাব্বীর ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরও তেমন কোন কর্মসূচী দেখছিনা। হয়তো অনেকেই বলতে পারেন রাব্বীতো এখন গণমাধ্যম কর্মী নয়। মনে রাখতে হবে কোন অধ্যাপক অবসর নেয়ার পরও তিনি অধ্যাপক থাকেন, পেশায় নিয়মিত না হওয়ার পরও ডাক্তার বা আইনজীবীরা, ডাক্তার বা আইনজীবী হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকেন। রাব্বী বাংলাদশে ব্যাংকে চাকরি করলেও তিনিও কিন্তু গণমাধ্যমকর্মী। কারণ তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে এখনও সংবাদ পাঠ করতে পারবেন। সুতরাং ডিইউজের নির্বাচনে যেমন সম্মানিত সাংবাদিক নেতাদের জয়ী হওয়ার জন্য ক্যাম্পেইন জরুরি ঠিক তেমনিভাবে রাব্বীর জন্য বেশি কিছু করারও জরুরি। আমি সুদুর আমেরিকা থেকে রাব্বী তোমার জন্য কিছুই করতে পারছি না। হাসপাতালের বেড়ে তোমার উদ্বিগ্ন চোখ মুখ দেখে শুধু সহমর্মিতা জানাতে পারি, মধ্যরাতে বসে একটি লেখা লিখতে পারি। রাব্বী তুমি আমায় ক্ষমা করো। ১৫ জানুয়ারী’২০১৫
নিউইয়র্ক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

রাব্বী আমায় ক্ষমা করো!

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৬

শাহাব উদ্দিন সাগর: ফেইস বুকে কবে নাগাদ যে ফ্রেন্ড তালিকায় ছিল সঠিক মনে নেই। কিন্তু গেল বছরের শেষ দিকে হঠাৎ করে ইনবক্সে হাই! হ্যালো দিয়ে কথা শুরু। দুই-একটা লাইন লিখতে না লিখতেই বলে ফেললো ভাইয়া আমি রাব্বী, সময় টেলিভিশনে নিউজ পড়তাম এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকুরি করি। মুহুর্ত্বের মধ্যে প্রোফাইলে গিয়ে দেখি খুবই চেনা মুখ। কতবার না দেখেছি সময় টেলিভিশনের স্কীনে। এক কথা- দু’কথা বলতে বলতে রাব্বী বলেই ফেললো ভাইয়া; আমি আপনার টাইম পলিটিক্স টকশোটা দেখতে চাই, কিভাবে দেখবো জানাবেন? ওয়েব সাইটের লগ অন করার ঠিকানাটি দেয়ার কিছুক্ষণ পর আবার ইনবক্সে লেখা, ভাইয়া অনেক ভালো হয়েছে। মাঝে দু’একদিন কথা হয়নি। পরে আরেকদিন ইনবক্সে আমেরিকার দিনকাল সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ইউটিউবে থাকা আরো কয়েকটি আমার সঞ্চালনার টকশো’র প্রশংসা করল।
গত মাসে নিউইয়র্কে আমার পুত্র সন্তান জন্মের পর আমরা যখন বেশ খুশি আর আমার অফিস কলিগ আর আত্মীয় স্বজনরা আনন্দে আত্মহারা তখন গত সপ্তাহে গোলাম রাব্বীর অঝোর ধারায় কান্না জড়িত সাক্ষাৎকারটি দারুনভাবে আবেগ তাড়িত করেছে। বাংলাদেশের সময় টেলিভিশন রাব্বীকে নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত প্রতিবেদন যতবার না দেখেছি ততবার মনে হয়েছে নিউইয়র্কের নীল শ্বেতশুভ্র ঝলমলে রোদের আকাশটা চরম অন্ধকারে আমার মাথার উপর ভেঙ্গে পড়েছে। মাত্র দু’এক দিনের কথায় এত বেশি ভদ্র ও অমায়িক মনে হয়েছে তার জন্য কিছু করতে পারি কি না- সে চিন্তায় অস্থির ছিলাম। এরই মধ্যে নদীর জল অনেক ঘোলা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার সাব ইনসপেক্টর মাসুদকে ক্লোজ করা হয়েছে। গেল কয়েকদিন ধরে বিষয়টি খুবই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। কি হচ্ছে। কোন সময় গণমাধ্যমে খবর আসে এস আই মাসুদকে ক্লোজ করা হয়েছে। আবার কোন সময় পত্রিকার পাতায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ‘একটু ঘুমাতে চায় রাব্বী’।
রাব্বী আক্রান্ত হওয়ার পর নিউইয়র্ক সময় ৮ জানুয়ারী সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশনের নিউজরুমে এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। রাব্বীর অঝোর ধারায় কেঁদে সাক্ষাৎকার দেয়া দেখে খুবই গর্ব করে বলেছিলাম দায়ী পুলিশের উপযুক্ত শাস্তি হবে। এ কথা বলার পর পরই পাশে থাকা টাইম টেলিভিশনের ভিডিও জার্নালিস্ট জাকির হোসেন জাহিদ বলে উঠলেন,‘কঁচু কিচছুই হবে না পুলিশ কর্মকর্তার’। তারপরও দৃঢতার সঙ্গে বলেছিলাম পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি হবে। কিন্তু এমন শাস্তি হয়েছে যা অন্তত আমার মাঝে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। জাহিদ আমি সেদিন জোর গলায় বলেছিলাম এসআই মাসুদ সাসপেন্ড হবেন! কিন্তু নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার রাত পর্যন্ত সাসপেন্ড হয়নি, আমি ক্ষমা প্রার্থী। কারণ বাংলাদেশের পুলিশের শীর্ষ পদের প্রতি আমার আস্থা থেকেই বলেছিলাম তা।
Rabbi (BD Bank)১৪ জানুয়ারী টাইম টেলিভিশনের সংবাদপত্র পর্যালোচনা ভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রেস ভিউতে এসেছিলেন নিউইয়র্কের আই অন বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক রিমন ইসলাম। তার সঙ্গে আলাপকালে সমকাল পত্রিকায় ডিএমপি কমিশনার জনাব আছাদুজ্জামান মিয়ার একটি বক্তব্য পড়েছিলাম। তিনি রাব্বীর উপর ‘নির্যাতন’ প্রসঙ্গে বলেছেন ‘কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ নেবে না’। বিশ্লেষণ হয়েছে তা নিয়ে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ডিএমপি কমিশনার রাব্বীকে যখন ‘নির্যাতন’ করা হয় তখন কি এস আই মাসুদ পুলিশের সদস্য ছিলেন না? তিনি কি পুলিশী ইউনিফর্ম পড়ে রাব্বীর ওপর ‘হামলা’ চালাননি? মোহাম্মদপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পর এস আই মাসুদের কি র‌্যাঙ্ক কেড়ে নেয়া হয়েছে? ইউনিফর্ম জমা নেয়া হয়েছে? যদি কোনটিই না করা হয়, তাহলে মাসুদের দায় ডিএমপি তথা পুলিশ নেবে না কেন? সেই প্রশ্ন করার অধিকার হয়তো আমার আছে।
সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি প্রত্যাহার মানে শাস্তি কতটুকু? আমরাও মাঠে কাজ করতে গিয়ে কোন ধরনের সমস্যা করি তাহলে আমাদেরও প্রত্যাহার করা হয়। এর মানে এই নয় যে আমাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে বা শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমাকে বড় ধরনের শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমরা এমনও দেখি অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার পর অন্য কোন স্থানে পোর্ষ্টিং দেয়া হয়েছে বা সাসপেন্ড করার পর ফৌজদারি কার্যবিধিতে মামলা হয় না। সম্মানিত পুলিশ ভাইদের অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে মাসুদের বিষয়ে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোন কিছুতে অভিযুক্ত করা যাবে না, তার শাস্তির বিধান করা যাবে না বা তাকে চাকুরিচ্যুত করা যাবে না। কিন্তু সেই পরিণতি বা সব প্রশ্নের অবসান হতে কতদিন সময় লাগবে?
রাব্বী গণমাধ্যমকর্মী ছিল, এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা। ব্যাংক গভর্নর রাব্বীর ওপর নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি লিখেছেন। গভর্নর হয়তো তার দায়িত্ববোধ থেকে সেটি করেছেন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন পুলিশ বা মাননীয় পুলিশরা আপনাদের দায়িত্ববোধ কোথায়! আপনারা সবাই কি এস আই মাসুদের পক্ষে! আমি তা বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি রাব্বী উপর্যুক্ত বিচার পাবে, এস আই মাসুদ কৃতকর্মের জন্য শাস্তির মুখোমুখি হবেন, চাকরিচ্যুত হবেন, ফৌজদারি আইনে আদালতের মুখোমুখি হবেন। ধরে নিলাম তাই হলো। কিন্তু উঠতি বয়সী একজন রাব্বীর জীবনে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে সেটা মুছবে কে? গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ি রাব্বী সেদিন এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার পর তাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। বিশ্বাস করুন আমি যেখানে বসবাস করি সেই বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্কের পুলিশ কোন ব্যক্তিকে কোন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না, তার পরিচয় জানতে পারবে না, গায়ে হাত দেয়াতো দূরের কথা সুনিদির্ষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোন ধরনের প্রশ্নও করতে পারবেন না। গত ৭ জানুয়ারী কুইন্সের করোনায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক সিটি স্পিকার মেলিসা মার্ক। তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বা এনওয়াইপিডি পুলিশ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘বৈধ বা অবৈধ নিউইয়র্কের কোন মানুষকে পুলিশ গ্রেফতার করলে, কোন ধরনের পরিচয় দেবেন না, নাম বলবেন না, যদি কিছু জানতে চায় পুলিশকে বলবেন আপনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।’ কিন্তু বাংলাদেশে উল্টো। কথায় কথায় পুলিশ বেত্রাঘাত করে, রক্তচক্ষু দেখায়। আমি বিশ্বাস করি আমাদের পুলিশ বাহিনীর ক্ষমতা বেড়েছে, অনেকেই বিদেশে গিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শিক্ষা-দীক্ষায় বা সমাজে তাদের অবস্থান বদলাচ্ছে, কিন্তু মাসুদের মতো পুলিশের মন বদলাবে কখন!
আরেকটি কথা: গেল কয়েকদিন আগে আমি এবং আমার অফিসের এক কলিগ রাত ১ টার দিকে লং আইল্যান্ড সিটির ব্রডওয়ের কোণায় থাকা টিডি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাসার দিকে আসছিলাম। বিশ্বাস করুন, আমাদের পেছন পেছন করে একটি পুলিশের গাড়ি বাসা পর্যন্ত আসে। আমরা বাসায় প্রবেশ করার কিছুক্ষণ পর পুলিশের গাড়িটি আবারও ব্যাংকের দিকে চলে যায়। নিউইয়র্কে অনেকদিন বসবাস করেন এমন একজনকে সকালে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওই রাতে কেন পুলিশ আমাদের ফলো করেছিল, ওই ভদ্রলোক সাবেক একজন পুলিশ কর্মকর্তাও। তিনি বলেন ‘আপনারা যে টাকা উঠালেন তা দেখে কোন সমস্যা হতে পারে, সে চিন্তা মাথায় রেখে আপনাদের নিরাপত্তা দিতেই পুলিশ পিছু নিয়েছিল’। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা কি চিন্তা করা যায়! এখানে হয়তো অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন; কথায় কথায় আমেরিকার সঙ্গে তুলনা দেন কেন? উত্তরে বলতে হয় সর্বশেষ শুক্রবার ১৫ জানুয়ারীর কথা। ওই দিন আমি গিয়েছিলাম ব্রুকলীনে আওয়ামী লীগের একটি সভা কাভার করতে। সে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,‘আমি সফরকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে আমাদের পুলিশকে ‘ইন্টিলিজেন্ট প্রশিক্ষণ’ দিয়ে সহায়তা করার কথা বলেছি।
মাননীয় মন্ত্রী যখন এ ধরনের সহযোগিতা চাইতে পারেন তখন আমার পক্ষে বাংলাদেশ আর আমেরিকাকে মিলানো স্বাভাবিক। এখানে প্রশ্ন জাগে; মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকার কাছ থেকে পুলিশের উন্নয়নের জন্য ‘ইন্টিলিজেন্ট প্রশিক্ষণ’চেয়েছেন কিন্তু এস আই মাসুদদের কিভাবে মানুষ করবেন সে সহযোগিতা দেবে কে!
বলা বাহুল্য; গোলাম রাব্বীর ঘটনা নিয়ে যখন গণমাধ্যম সরব তখনই ডিডিসিসি’র পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাশকে পুলিশ পিটিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনার পর বাংলাদেশের একটি দৈনিক সংবাদ ছেপেছে ঠিক এভাবে ‘মাছের রাজা ইলিশ, দেশের রাজা পুলিশ’। এ সংবাদের পর খুবই প্রশ্ন জাগছিল। কিভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।
শুক্রবার (১৫ জানুয়ারী) দুপুরে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে এমআরভি’র উদ্বোধনের পর সুযোগ হয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে রাব্বী আর ডিসিসিসির কর্মকর্তার উপর নির্যাতনের বিষয়ে জানার। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেমন শুনেছেন আমিও শুনেছি, আপনারা জানেন ওই ঘটনার সময় আমি দেশের বাইরে আছি, তবে অপরাধী যেই হউক না কেন, তার শাস্তি হবে।’
মাননীয় মন্ত্রী সম্মানের সঙ্গে বলছি; এ ধরনের বক্তব্যে আমি ব্যক্তিগতভাবে মোটেও খুশি হতে পারিনি। কারণ আমি জানি বাংলাদেশের সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবরা-খবর সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রীদের পৌঁছে দেন। যদিও মন্ত্রী দেশের ভেতরে বা বাইরে থাকেন।
রাব্বী বা ডিসিসি’র কর্মকর্তার দুনিয়া জানা ঘটনা আপনাকে যদি সংশ্লিষ্টরা না জানায় সেটি সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা। আর মাসুদ এখনও প্রত্যাহার হয়ে দিব্যি আছেন এবং হাসপাতাল বেডে রাব্বী হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন। সে ব্যর্থতা কি আমাদের মতো জনগণের!
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনি যখন ব্রুকলীন আওয়ামী লীগের সভায় ছিলেন তখন অনেক বক্তা আপনার অনেক প্রশংসা করেছেন। আমি তাদের প্রশংসার সঙ্গে একমত, কিন্তু রাব্বী বা ডিসিসিসি’র কর্মকর্তার উপর নির্যাতনের পর আপনার দপ্তর কেন নিশ্চুপ সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
প্রশ্ন করতে চায়; আজ যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা বা গণমাধ্যমের কোন কর্মকর্তা পুলিশ সদস্য নয়, তাদের দূরের কোন আত্মীয়ের গায়েও হাত দিত, তাহলে কি তারা চৌদ্দ শিকের বাইরে থাকতে পারতেন? তারা কি প্রত্যাহার হয়ে থাকতে পারতেন? নিশ্চয়ই পুলিশ হয়তো লঘু অপরাধেও হাত কড়া পরাতেন। কিন্তু আমাদের দেশের মাসুদরা এখন শুধু প্রত্যাহার হন বা চাকরিচ্যুত হন, কিন্তু ফৌজদারী অপরাধে আদালতের মুখোমুখি হন না। মনে পড়ে সাবদার আলীর সেই কথা; ‘কাক আর সামরাজ্যবাদ মূলত জ্ঞাতি ভাই, হাউড়া ব্রিজ লোহার ব্রেশিয়ার বা একজন পুলিশ একটি রাষ্ট্র।’
আমি গত কয়েকদিন ধরে রাব্বীর ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরও তেমন কোন কর্মসূচী দেখছিনা। হয়তো অনেকেই বলতে পারেন রাব্বীতো এখন গণমাধ্যম কর্মী নয়। মনে রাখতে হবে কোন অধ্যাপক অবসর নেয়ার পরও তিনি অধ্যাপক থাকেন, পেশায় নিয়মিত না হওয়ার পরও ডাক্তার বা আইনজীবীরা, ডাক্তার বা আইনজীবী হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকেন। রাব্বী বাংলাদশে ব্যাংকে চাকরি করলেও তিনিও কিন্তু গণমাধ্যমকর্মী। কারণ তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে এখনও সংবাদ পাঠ করতে পারবেন। সুতরাং ডিইউজের নির্বাচনে যেমন সম্মানিত সাংবাদিক নেতাদের জয়ী হওয়ার জন্য ক্যাম্পেইন জরুরি ঠিক তেমনিভাবে রাব্বীর জন্য বেশি কিছু করারও জরুরি। আমি সুদুর আমেরিকা থেকে রাব্বী তোমার জন্য কিছুই করতে পারছি না। হাসপাতালের বেড়ে তোমার উদ্বিগ্ন চোখ মুখ দেখে শুধু সহমর্মিতা জানাতে পারি, মধ্যরাতে বসে একটি লেখা লিখতে পারি। রাব্বী তুমি আমায় ক্ষমা করো। ১৫ জানুয়ারী’২০১৫
নিউইয়র্ক।