নিউইয়র্ক ১১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

সংবাদপত্র-প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে : সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • / ৭৩৬ বার পঠিত

ঢাকা: সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছে সম্পাদক পরিষদ। ২৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ‘ডেইলি স্টার’ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সম্পাদক পরিষদের এক সভায় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রচার মাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার মাধ্যমের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে- উল্লেখ করে এতে বলা হয়, ‘সরকার ও প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনায় বাধা সৃষ্টি করছে। কখনো কখনো কোনো কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশনকে অন্যায়ভাবে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে তকমা দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশেষত সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি ও ক্যাপশন ছাপানোকে কেন্দ্র করে সংসদে দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রচার মাধ্যমের প্রতি বৈরী মনোভাবেরই প্রকাশ, যা কোন সরকারের কাছ থেকে কাম্য নয়। সংসদে সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ।
ইতোমধ্যে একাধিক সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে- উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকার অফিসে তল্লাশীর নামে পুলিশী হয়রানীর মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এছাড়াও একাধিক টিভি মালিককে গ্রেফতার করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘টিভি টকশো’তে নানাভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু টকশো বন্ধ করা হয়েছে। টকশো’র অতিথি তালিকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কী প্রচার হবে আর হবে না তা নিয়ে টেলিফোনে নির্দেশনাও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।
কোনো কোনো সাংবাদিককে সরকারি অনুষ্ঠানে ও দলীয় কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না- জানিয়ে সম্পাদক পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের কোন কোন সাংবাদিককে সরকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও দলীয় কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। প্রচার মাধ্যমসহ অন্যান্য পক্ষকে বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে অযথা হয়রানি করাটা স্বাধীন গণমাধ্যমের সহায়ক হতে পারে না।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘সংবাদপত্রসহ সকল প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তনিষ্ঠতা ও দলনিরপেক্ষতা সংরক্ষণে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অধিকতর দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণ আশা করি।
বিবৃতি প্রসঙ্গে ভিন্নমত: এদিকে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃপ প্রেরীত বিবৃতি প্রসঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন পরিষদের সভাপতি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর এক খবরে বলা হয়েছে:
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃততে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রচার মাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপক্ষেভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
মাহফুজ আনামের বিবৃতির বিষয়বস্তুর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পরিষদের সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলা দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা না করেই এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে কার সভাপতিত্বে, কোথায় সম্পাদক পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, কারা কারা উপস্থিত ছিলেন সে বিষয়েও কিছু উল্লেখ না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
গোলাম সারোয়ার বলেন, “পরশু দিন আমি জরুরী প্রয়োজনে আমেরিকায় চলে এসেছি। আমি সম্পাদক পরিষদের সভাপতি। বিবৃতিতে অনেক কড়া কড়া কথা আছে, যা আমার সঙ্গে আলাপ না করেই দেওয়া হয়েছে। আমি এই বিবৃতিকে ওন করি না।”
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে।
“সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার মাধ্যমের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। সরকার ও প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনায় বাধা সৃষ্টি করছে। কখনো কখনো কোনো কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশনকে অন্যায়ভাবে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে তকমা দেওয়া হচ্ছে।
“বিশেষত সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি ও ক্যাপশন ছাপানোকে কেন্দ্র করে সংসদে দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রচার মাধ্যমের প্রতি বৈরী মনোভাবেরই প্রকাশ, যা কোন সরকারের কাছ থেকে কাম্য নয়।
“সংসদে সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ।” বিবৃতিটিতে আরও বলা হয়, “ইতোমধ্যে একাধিক সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার অফিসে তল্লাশীর নামে পুলিশি হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।
“আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এছাড়াও একাধিক টিভি মালিককে গ্রেফতার করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়াও টিভি টকশোতে নানাভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু টকশো বন্ধ করা হয়েছে। টকশোর অতিথি তালিকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কী প্রচার হবে আর হবে না তা নিয়ে টেলিফোনে নির্দেশনাও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।”
‘গণমাধ্যমের কোন কোন সাংবাদিককে সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও দলীয় কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রচার মাধ্যমসহ অন্যান্য পক্ষকে বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে অযথা হয়রানি করাটা স্বাধীন গণমাধ্যমের সহায়ক হতে পারে না।”
“সংবাদপত্রসহ সকল প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দলনিরপেক্ষতা সংরক্ষণে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অধিকতর দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণ আশা করি,” বলা হয় মাহফুজ আনামের বিবৃতিতে।
বিবৃতিটি গোলাম সারওয়ারের সম্পাদনায় প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সমকালের ইন্টারনেট সংস্করণে প্রকাশ করা হলেও কিছুক্ষণ পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এদিকে বিবৃতি প্রসঙ্গে দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, “আমি সভায় যাইনি। বিবৃতির কনটেন্টের সঙ্গে আমি একমত নই।”
মাহফুজ আনামের সঙ্গে কয়েক দফা চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করার পর এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া দেননি তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

সংবাদপত্র-প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে : সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি

প্রকাশের সময় : ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ঢাকা: সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছে সম্পাদক পরিষদ। ২৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ‘ডেইলি স্টার’ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সম্পাদক পরিষদের এক সভায় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রচার মাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার মাধ্যমের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে- উল্লেখ করে এতে বলা হয়, ‘সরকার ও প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনায় বাধা সৃষ্টি করছে। কখনো কখনো কোনো কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশনকে অন্যায়ভাবে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে তকমা দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশেষত সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি ও ক্যাপশন ছাপানোকে কেন্দ্র করে সংসদে দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রচার মাধ্যমের প্রতি বৈরী মনোভাবেরই প্রকাশ, যা কোন সরকারের কাছ থেকে কাম্য নয়। সংসদে সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ।
ইতোমধ্যে একাধিক সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে- উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকার অফিসে তল্লাশীর নামে পুলিশী হয়রানীর মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এছাড়াও একাধিক টিভি মালিককে গ্রেফতার করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘টিভি টকশো’তে নানাভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু টকশো বন্ধ করা হয়েছে। টকশো’র অতিথি তালিকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কী প্রচার হবে আর হবে না তা নিয়ে টেলিফোনে নির্দেশনাও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।
কোনো কোনো সাংবাদিককে সরকারি অনুষ্ঠানে ও দলীয় কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না- জানিয়ে সম্পাদক পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের কোন কোন সাংবাদিককে সরকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও দলীয় কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। প্রচার মাধ্যমসহ অন্যান্য পক্ষকে বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে অযথা হয়রানি করাটা স্বাধীন গণমাধ্যমের সহায়ক হতে পারে না।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘সংবাদপত্রসহ সকল প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তনিষ্ঠতা ও দলনিরপেক্ষতা সংরক্ষণে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অধিকতর দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণ আশা করি।
বিবৃতি প্রসঙ্গে ভিন্নমত: এদিকে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃপ প্রেরীত বিবৃতি প্রসঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন পরিষদের সভাপতি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর এক খবরে বলা হয়েছে:
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃততে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রচার মাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপক্ষেভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
মাহফুজ আনামের বিবৃতির বিষয়বস্তুর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পরিষদের সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলা দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা না করেই এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে কার সভাপতিত্বে, কোথায় সম্পাদক পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, কারা কারা উপস্থিত ছিলেন সে বিষয়েও কিছু উল্লেখ না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
গোলাম সারোয়ার বলেন, “পরশু দিন আমি জরুরী প্রয়োজনে আমেরিকায় চলে এসেছি। আমি সম্পাদক পরিষদের সভাপতি। বিবৃতিতে অনেক কড়া কড়া কথা আছে, যা আমার সঙ্গে আলাপ না করেই দেওয়া হয়েছে। আমি এই বিবৃতিকে ওন করি না।”
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে।
“সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার মাধ্যমের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। সরকার ও প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনায় বাধা সৃষ্টি করছে। কখনো কখনো কোনো কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশনকে অন্যায়ভাবে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে তকমা দেওয়া হচ্ছে।
“বিশেষত সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি ও ক্যাপশন ছাপানোকে কেন্দ্র করে সংসদে দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রচার মাধ্যমের প্রতি বৈরী মনোভাবেরই প্রকাশ, যা কোন সরকারের কাছ থেকে কাম্য নয়।
“সংসদে সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ।” বিবৃতিটিতে আরও বলা হয়, “ইতোমধ্যে একাধিক সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার অফিসে তল্লাশীর নামে পুলিশি হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।
“আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এছাড়াও একাধিক টিভি মালিককে গ্রেফতার করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়াও টিভি টকশোতে নানাভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু টকশো বন্ধ করা হয়েছে। টকশোর অতিথি তালিকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কী প্রচার হবে আর হবে না তা নিয়ে টেলিফোনে নির্দেশনাও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।”
‘গণমাধ্যমের কোন কোন সাংবাদিককে সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও দলীয় কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রচার মাধ্যমসহ অন্যান্য পক্ষকে বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে অযথা হয়রানি করাটা স্বাধীন গণমাধ্যমের সহায়ক হতে পারে না।”
“সংবাদপত্রসহ সকল প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দলনিরপেক্ষতা সংরক্ষণে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অধিকতর দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণ আশা করি,” বলা হয় মাহফুজ আনামের বিবৃতিতে।
বিবৃতিটি গোলাম সারওয়ারের সম্পাদনায় প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সমকালের ইন্টারনেট সংস্করণে প্রকাশ করা হলেও কিছুক্ষণ পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এদিকে বিবৃতি প্রসঙ্গে দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, “আমি সভায় যাইনি। বিবৃতির কনটেন্টের সঙ্গে আমি একমত নই।”
মাহফুজ আনামের সঙ্গে কয়েক দফা চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করার পর এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া দেননি তিনি।