নিউইয়র্ক ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

যুগান্তর : জনতার সঙ্গে পনের বছর

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৫
  • / ৮৫২ বার পঠিত

ঢাকা: সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। বলা হয় সমাজের দর্পণ। সমাজকে প্রতিফলিত করে দেখায় সে। এসব অভিধার কোনোটিই হালকা নয়। আর সে কারণেই সংবাদপত্রকে বহন করতে হয় স্বতঃপ্রণোদিত দায়িত্ব ও কর্তব্য। দৈনিক যুগান্তর আত্মপ্রকাশের পর থেকে গত পনের বছরে সেই কাজগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে সচেষ্ট ছিল।
একুশ শতকের সূচনায় যুগান্তরের যাত্রা শুরু। ২০০০ থেকে ২০১৫- পনের বছরের একটা দীর্ঘ পথযাত্রা। এই পনের বছরে বাংলাদেশের মানুষ, জলবায়ু, প্রকৃতি, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি সবকিছুকেই অনেক ঝড়-ঝাপটা, সিডর, আইলা প্রভৃতি মোকাবেলা করে চলতে হয়েছে। সেসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে যুগান্তরকেও। বাংলা ও বাঙালীর আবহমান সংগ্রামের ধারাবাহিকতার উত্তরসূরী হিসেবে যুগান্তরের সত্যের সন্ধানে নির্ভীক পথচলা।
১৯৭১-এ ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়। বাঙালীর দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পথযাত্রাও সব সময় কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না; বরং বলা চলে প্রায়ই কন্টকাকীর্ণ সে যাত্রা। সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতার যে মহান স্বপ্নে উজ্জীবিত বাঙালি জাতি ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তমূল্যে স্বাধীনতা অর্জন করে, স্বাধীনতার সেই স্বপ্ন বারবার হোঁচট খেয়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে কিন্তু এদেশের সংগ্রামী মানুষ বারবার ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তুপের ছাই থেকে পুনর্জন্ম নিয়েছে। জেগে উঠেছে গণতন্ত্রের স্বপ্নে, সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার আকাক্ষায়, মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার সংগগ্রামে।
২০০০ সালের ১ ফেব্রুয়ারী যুগান্তরের প্রথম সংখ্যায় পাঁচ কলামব্যাপী প্রধান শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল সামনে অন্ধকার সিঁড়ি- সংঘাতের পথে এগিয়ে চলেছে দেশ। প্রকাশনার পনের বর্ষের ১ ফেব্রুয়ারীতে আমরা এক অবরুদ্ধ, সন্ত্রস্ত দেশের অধিবাসী। সংঘাতের পথে নয় সংঘাতে নিমজ্জিত, হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কাঁদছে অগ্নিদগ্ধ নিরীহ মানুষ। আমরা এই নেতিবাচক দেশ চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম এক ইতিবাচক বাংলাদেশ। যার অভীপ্সায় প্রথম দিনের যুগান্তরে প্রথম কলামেই ছাপা হয়েছিল সিঙ্গেল কলাম প্রতিবেদন- সুপ্রভাত বাংলাদেশ- আমরা কী সেই ইতিবাচক বাংলাদেশের আকাংখাকে হারিয়ে ফেলেছি? রাজনীতিবিদদের মনের কথা জানি না কিন্তু প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত যখন উদ্বিগ্ন দেশবাসী আমাদেরপ্র্রশ্ন করেন- কোথায় চলেছে আমাদের এই প্রিয় দেশ? আমরা উত্তর দিতে পারি না বটে, তবে এ সত্য প্রতিনিয়তই উপলব্ধি করি তাদের মনের আকুলতা, তাদের স্বপ্ন-আকাক্সক্ষা বাংলাদেশের প্রতিটি ভোরকে তারা সুপ্রভাত বাংলাদেশ বলে স্বাগত জানাতে উদগ্রীব। তাদের সেই উদগ্রীবতা রাজনীতিবিদরা উপলব্ধি করবেন কবে?
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর দার্শনিক জিজ্ঞাসায় লিখেছিলেন- পথের শেষ কোথায়? কী আছে শেষে?…/ হালভাঙা, পাল ছেঁড়া ব্যথা, চলেছে নিরুদ্দেশে/ কী আছে শেষে? পথের…/
দেশে বর্তমান বাস্তবতায় জীবনের স্থূল জিজ্ঞাসার উত্তরে এর চেয়ে গভীর নৈরাশ্যে নিপতিত আমরা। এই হালভাঙা, পাল ছেঁড়া দেশ আর দেশের মানুষের ভাগ্যে কী আছে শেষে? কে জানাবে উত্তর এপ্রশ্নের।
একুশ শতকের সূচনায় এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিনির্মাণের সংগ্রামের সহযোদ্ধা হিসেবে যুগান্তরের প্রকাশনা শুরু। মূলত দেশের বৃহত্তর মানুষের গণতান্ত্রিক আকাংখার মুখপত্র হিসেবেই এই দৈনিকের প্রকাশনা শুরু। বলা যায়, সমাজেরপ্র্রয়োজনীয়তাই আমাদের নেপথ্য প্রেরণা।
গণতন্ত্র এমন এক শাসনব্যবস্থা যাকে ক্রমাগত নানা অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে পরিশীলিত হতে হয়। সেই যাত্রায় সংবাদপত্র তার অন্যতম সহযোগী-সহযোদ্ধা। যখন গণতান্ত্রিক অধিকার লংঘিত হয়, দেখা যায় তার ত্রুটি-বিচ্যুতি বিকৃতি তখন সংবাদপত্রই অবিকৃতভাবে তার সামনে তুলে ধরে প্রকৃত চিত্র। এভাবেই ক্রমাগত নিশ্চিত হয় সাধারণ মানুষের অধিকার। দৈনিক যুগান্তর সেই অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে তার জন্ম থেকে সচেষ্ট ছিল। এখনও সে লক্ষ্যে অবিচল আছে।
যুগ্ন্তর গণতন্ত্রের মুখপত্র। যুগান্তর পাঠকের পত্রিকা। গত পনের বছরে গণমাধ্যমের অনেক রূপান্তর, পরিবর্তন ঘটেছে। সংবাদপত্রের পাশাপাশি ব্যাপক বিস্তৃত হয়েছে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট বেস্ড অনলাইন সংবাদ পোর্টাল, এফএম রেডিও, অনলাইন টিভি, মোবাইল ফোন বেস্ড সংবাদ পরিবেশন প্রভৃতি। এসব গণমাধ্যমই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে কাজ করছে।
গণমাধ্যমের এই ব্যাপক বিস্তৃতি পারস্পরিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের জন্ম দিয়েছে। তাই এখন গণমাধ্যমের অস্তিত্ব টিকে থাকার লড়াই অনেক তীব্র। অস্তিত্বের এই কঠিন লড়াইয়ের মাঠে দৈনিক যুগান্তর টিকে আছে দেশবাসীর প্রতি, পাঠকের কাছে দেয়া তার অঙ্গীকারে অবিচল থাকার কারণে। দীর্ঘ পনের বছরের পথচলার যুগান্তর কোনো গোষ্ঠীস্বার্থের পক্ষ নেয়নি, পক্ষ নেয়নি কোনো রাজনৈতিক দল ও মতের। সত্যের সন্ধানে থেকেছে সর্বদা নির্ভীক। যেখানেই দেশের স্বার্থ, দেশের মানুষের স্বার্থ বিপন্ন হয়েছে সেখানেই যুগান্তর দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের অধিকারে সোচ্চার প্রতিবাদী মিছিলে।
সমাজের সন্ত্রাস, অনিয়ম, দুর্নীতি দুরাচারের বিরুদ্ধে সব সময়ই যুগান্তর ছিল অকুতোভয়। কোনো রক্তচক্ষুই দমাতে পারেনি যুগান্তরের এই ভূমিকাকে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার পূরণে যুগান্তর দাঁড়িয়েছে বিপন্ন জনপদের অসহায় মানুষের পাশে, বন্যা, ঝড় প্রভৃতি দুর্যোগে ত্রাণ পৌঁছেছে দুর্গম অঞ্চলে। সারা দেশের তরুণদের নিয়ে জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবেলা কর্মসূচী ছড়িয়ে দিয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করেছে অসংখ্য সমাবেশ। যাতে দেশের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা পায়। দেশের সব বিভাগীয় শহরে দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন, সমস্যা তুলে ধরে তৈরি করেছে জনতার ইশতেহার- যাতে আমরা এদেশের পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের আপামর জনতার সম্মিলিত অবয়ব নির্মাণের চেষ্টা করেছি।
এক কথায়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় যুগান্তর তার সাহসী ভূমিকা ও অঙ্গীকারে অবিচল ছিল। এখনও আছে আর ভবিষ্যতেও অবিচল থাকবে বলেই অঙ্গীকারবদ্ধ। (দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

যুগান্তর : জনতার সঙ্গে পনের বছর

প্রকাশের সময় : ০৯:০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৫

ঢাকা: সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। বলা হয় সমাজের দর্পণ। সমাজকে প্রতিফলিত করে দেখায় সে। এসব অভিধার কোনোটিই হালকা নয়। আর সে কারণেই সংবাদপত্রকে বহন করতে হয় স্বতঃপ্রণোদিত দায়িত্ব ও কর্তব্য। দৈনিক যুগান্তর আত্মপ্রকাশের পর থেকে গত পনের বছরে সেই কাজগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে সচেষ্ট ছিল।
একুশ শতকের সূচনায় যুগান্তরের যাত্রা শুরু। ২০০০ থেকে ২০১৫- পনের বছরের একটা দীর্ঘ পথযাত্রা। এই পনের বছরে বাংলাদেশের মানুষ, জলবায়ু, প্রকৃতি, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি সবকিছুকেই অনেক ঝড়-ঝাপটা, সিডর, আইলা প্রভৃতি মোকাবেলা করে চলতে হয়েছে। সেসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে যুগান্তরকেও। বাংলা ও বাঙালীর আবহমান সংগ্রামের ধারাবাহিকতার উত্তরসূরী হিসেবে যুগান্তরের সত্যের সন্ধানে নির্ভীক পথচলা।
১৯৭১-এ ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়। বাঙালীর দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পথযাত্রাও সব সময় কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না; বরং বলা চলে প্রায়ই কন্টকাকীর্ণ সে যাত্রা। সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতার যে মহান স্বপ্নে উজ্জীবিত বাঙালি জাতি ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তমূল্যে স্বাধীনতা অর্জন করে, স্বাধীনতার সেই স্বপ্ন বারবার হোঁচট খেয়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে কিন্তু এদেশের সংগ্রামী মানুষ বারবার ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তুপের ছাই থেকে পুনর্জন্ম নিয়েছে। জেগে উঠেছে গণতন্ত্রের স্বপ্নে, সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার আকাক্ষায়, মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার সংগগ্রামে।
২০০০ সালের ১ ফেব্রুয়ারী যুগান্তরের প্রথম সংখ্যায় পাঁচ কলামব্যাপী প্রধান শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল সামনে অন্ধকার সিঁড়ি- সংঘাতের পথে এগিয়ে চলেছে দেশ। প্রকাশনার পনের বর্ষের ১ ফেব্রুয়ারীতে আমরা এক অবরুদ্ধ, সন্ত্রস্ত দেশের অধিবাসী। সংঘাতের পথে নয় সংঘাতে নিমজ্জিত, হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কাঁদছে অগ্নিদগ্ধ নিরীহ মানুষ। আমরা এই নেতিবাচক দেশ চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম এক ইতিবাচক বাংলাদেশ। যার অভীপ্সায় প্রথম দিনের যুগান্তরে প্রথম কলামেই ছাপা হয়েছিল সিঙ্গেল কলাম প্রতিবেদন- সুপ্রভাত বাংলাদেশ- আমরা কী সেই ইতিবাচক বাংলাদেশের আকাংখাকে হারিয়ে ফেলেছি? রাজনীতিবিদদের মনের কথা জানি না কিন্তু প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত যখন উদ্বিগ্ন দেশবাসী আমাদেরপ্র্রশ্ন করেন- কোথায় চলেছে আমাদের এই প্রিয় দেশ? আমরা উত্তর দিতে পারি না বটে, তবে এ সত্য প্রতিনিয়তই উপলব্ধি করি তাদের মনের আকুলতা, তাদের স্বপ্ন-আকাক্সক্ষা বাংলাদেশের প্রতিটি ভোরকে তারা সুপ্রভাত বাংলাদেশ বলে স্বাগত জানাতে উদগ্রীব। তাদের সেই উদগ্রীবতা রাজনীতিবিদরা উপলব্ধি করবেন কবে?
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর দার্শনিক জিজ্ঞাসায় লিখেছিলেন- পথের শেষ কোথায়? কী আছে শেষে?…/ হালভাঙা, পাল ছেঁড়া ব্যথা, চলেছে নিরুদ্দেশে/ কী আছে শেষে? পথের…/
দেশে বর্তমান বাস্তবতায় জীবনের স্থূল জিজ্ঞাসার উত্তরে এর চেয়ে গভীর নৈরাশ্যে নিপতিত আমরা। এই হালভাঙা, পাল ছেঁড়া দেশ আর দেশের মানুষের ভাগ্যে কী আছে শেষে? কে জানাবে উত্তর এপ্রশ্নের।
একুশ শতকের সূচনায় এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিনির্মাণের সংগ্রামের সহযোদ্ধা হিসেবে যুগান্তরের প্রকাশনা শুরু। মূলত দেশের বৃহত্তর মানুষের গণতান্ত্রিক আকাংখার মুখপত্র হিসেবেই এই দৈনিকের প্রকাশনা শুরু। বলা যায়, সমাজেরপ্র্রয়োজনীয়তাই আমাদের নেপথ্য প্রেরণা।
গণতন্ত্র এমন এক শাসনব্যবস্থা যাকে ক্রমাগত নানা অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে পরিশীলিত হতে হয়। সেই যাত্রায় সংবাদপত্র তার অন্যতম সহযোগী-সহযোদ্ধা। যখন গণতান্ত্রিক অধিকার লংঘিত হয়, দেখা যায় তার ত্রুটি-বিচ্যুতি বিকৃতি তখন সংবাদপত্রই অবিকৃতভাবে তার সামনে তুলে ধরে প্রকৃত চিত্র। এভাবেই ক্রমাগত নিশ্চিত হয় সাধারণ মানুষের অধিকার। দৈনিক যুগান্তর সেই অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে তার জন্ম থেকে সচেষ্ট ছিল। এখনও সে লক্ষ্যে অবিচল আছে।
যুগ্ন্তর গণতন্ত্রের মুখপত্র। যুগান্তর পাঠকের পত্রিকা। গত পনের বছরে গণমাধ্যমের অনেক রূপান্তর, পরিবর্তন ঘটেছে। সংবাদপত্রের পাশাপাশি ব্যাপক বিস্তৃত হয়েছে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট বেস্ড অনলাইন সংবাদ পোর্টাল, এফএম রেডিও, অনলাইন টিভি, মোবাইল ফোন বেস্ড সংবাদ পরিবেশন প্রভৃতি। এসব গণমাধ্যমই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে কাজ করছে।
গণমাধ্যমের এই ব্যাপক বিস্তৃতি পারস্পরিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের জন্ম দিয়েছে। তাই এখন গণমাধ্যমের অস্তিত্ব টিকে থাকার লড়াই অনেক তীব্র। অস্তিত্বের এই কঠিন লড়াইয়ের মাঠে দৈনিক যুগান্তর টিকে আছে দেশবাসীর প্রতি, পাঠকের কাছে দেয়া তার অঙ্গীকারে অবিচল থাকার কারণে। দীর্ঘ পনের বছরের পথচলার যুগান্তর কোনো গোষ্ঠীস্বার্থের পক্ষ নেয়নি, পক্ষ নেয়নি কোনো রাজনৈতিক দল ও মতের। সত্যের সন্ধানে থেকেছে সর্বদা নির্ভীক। যেখানেই দেশের স্বার্থ, দেশের মানুষের স্বার্থ বিপন্ন হয়েছে সেখানেই যুগান্তর দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের অধিকারে সোচ্চার প্রতিবাদী মিছিলে।
সমাজের সন্ত্রাস, অনিয়ম, দুর্নীতি দুরাচারের বিরুদ্ধে সব সময়ই যুগান্তর ছিল অকুতোভয়। কোনো রক্তচক্ষুই দমাতে পারেনি যুগান্তরের এই ভূমিকাকে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার পূরণে যুগান্তর দাঁড়িয়েছে বিপন্ন জনপদের অসহায় মানুষের পাশে, বন্যা, ঝড় প্রভৃতি দুর্যোগে ত্রাণ পৌঁছেছে দুর্গম অঞ্চলে। সারা দেশের তরুণদের নিয়ে জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবেলা কর্মসূচী ছড়িয়ে দিয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করেছে অসংখ্য সমাবেশ। যাতে দেশের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা বিষয়ে সঠিক পথনির্দেশনা পায়। দেশের সব বিভাগীয় শহরে দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন, সমস্যা তুলে ধরে তৈরি করেছে জনতার ইশতেহার- যাতে আমরা এদেশের পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের আপামর জনতার সম্মিলিত অবয়ব নির্মাণের চেষ্টা করেছি।
এক কথায়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় যুগান্তর তার সাহসী ভূমিকা ও অঙ্গীকারে অবিচল ছিল। এখনও আছে আর ভবিষ্যতেও অবিচল থাকবে বলেই অঙ্গীকারবদ্ধ। (দৈনিক যুগান্তর)