নিউইয়র্ক ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : আজকাল-এর নতুন সম্পাদক মনজুর আহমদ, মুসা’র বিদায়

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:০৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৪
  • / ১৭৮৫ বার পঠিত

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার সম্পাদক পদে বিশিষ্ট সাংবদিক মনজুর আহমদ যোগ দিয়েছেন। তিনি বিদায়ী সম্পাদক আহমেদ মূসা’র স্থলাভিষিক্ত হলেন। গেলো সপ্তাহে এই রদবদল/নিয়োগ হয়েছে। এনিয়ে আজকাল-এর পাঁচ বছরে সম্পাদক পদে তিন জন সমপাদক মনোনীত হলেন। আজকাল-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন সাংবাদিক দর্পণ কবীর। তিনি বর্তমানে এটিএন নিউজ ইউএসএ’র বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দর্পণ কবীরের স্থলে বাংলা একাডেমী, ঢাকা’র সাবেক পরিচালক আহমদ মূসাকে নিয়োগ দেয়া হয়।
সাপ্তাহিক আজকাল-এ সাংবাদিক-লেখক-কলামিস্ট মনজুর আহমদ-এর সম্পাদক পদে নিয়োগ প্রসঙ্গে  ‘বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুর আহমদ আজকালের নতুন সম্পাদক’ শিরোনামে আজকাল কর্তৃপক্ষ প্রেরীত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে: বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুর আহমদ সাপ্তাহিক আজকালের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। ১ ডিসেম্বর সোমবার তিনি কাজে যোগদান করেন। পেশাগত জীবনে তিনি দৈনিক সংবাদ, দৈনিক পাকিস্তান পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা, দৈনিক বাংলাবাজার, দৈনিক অর্থনীতি ও দৈনিক দেশবাংলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মনজুর আহমদ অবিভক্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা। উল্লেখ্য, এরআগে আহমেদ মূসা ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আজকালের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
মনজুর আহমেদ নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় ১৯৫৭ সালে দৈনিক সংবাদের ঝিনাইদহ সংবাদদাতা হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন। এরপর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে চলে আসেন ঢাকায়। ইন্টারমিডিয়েটের রেজাল্ট প্রকাশের আগেই তিনি সংবাদ-এর প্রধান অফিসে যোগদান করেন। প্রথমে তিনি ছিলেন সংবাদের বিখ্যাত শিশু-কিশোর পাতা খেলাঘরের ভাইয়া। পরে একই বছর তিনি পত্রিকার সহসম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি শিফট ইনচার্জসহ বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। এরপর সিনিয়র সাবএডিটর হিসেবে যোগদান করেন তদানীন্তন দৈনিক পাকিস্তানে (পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা)। ১৯৭০ সালে তিনি রিপোর্টিং বিভাগে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালের ৩১ অক্টোবর দৈনিক বাংলার প্রকাশনা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত তিনি কূটনৈতিক প্রতিবেদক, চিফ রিপোর্টার ও স্পেশাল করেসপনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক বাংলা বন্ধ হওয়ার পর তিনি বাংলাবাজার পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এরপর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দৈনিক অর্থনীতির নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। এরপর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক দেশবাংলায়। ২০০০ সালের নভেম্বরে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাস শুরু করেন মনজুর আহমদ। তিনি নিউইয়র্কে সাপ্তাহিক এখন সময়-এ সাড়ে চার বছর কাজ করেছেন।
১৯৪২ সালের ২২ ডিসেম্বর যশোরে জন্মগ্রহণ করেন মনজুর আহমদ। ঝিনাইদহ হাই স্কুল থেকে মেট্রিক দেন ১৯৫৯ সালে। ১৯৬১ সালে খুলনা বিএল কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং পরে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।
তিনি বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মনজুর আহমদ হাঙ্গেরীতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব জার্নালিজম থেকে সাংবাদিকতায় উচ্চতর ডিগ্রি নেন ১৯৭২ সালে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মনজুর আহমদ একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে দেশে এবং প্রবাসে সুপরিচিত। ২টি উপন্যাস, বেশ কিছু ছোটগল্প ও ৩টি ইতিহাসগ্রন্থসহ তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৪টি। পেশাগত কাজে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন। ভ্রমণ করেছেন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ।
মনজুর আহমদের পিতা ডা. কে. আহমেদ ছিলেন রাজনীতিক ও সমাজসেবক। তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ডা. কে. আহমেদের নামকরণে ঝিনাইদহের একটি রাস্তা ও পৌর মিলনায়তন রয়েছে। মনজুর আহমদের মা মনোয়ারা খাতুন ছিলেন ঝিনাইদহ সরকারি গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঝিনাইদহ মহিলা পরিষদের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মনজুর আহমদের স্ত্রী বিশিষ্ট অভিনেত্রী রেখা আহমেদ। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
আজকাল-এর সম্পাদক পদে মনজুর আহমদ-এর যোগদান আর আহমেদ মূসার বিদায় কমিউনিটি বিশেষ করে মিডিয়া মহলে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। কেননা, মনজুর আহমদ ও আহমেদ মূসা উভয়ই কমিউনিটির শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তবে যেভাবে আহমেদ মূসা-কে আজকাল-এর সম্পাদক পদ থেকে বিদায় জানানো হয়েছে তা অনেককেই ব্যথিত করেছে। জানা যায়, গত সপ্তাহের আজকাল প্রকাশের জন্য প্রেসে যাওয়ার পরে মধ্যরাতে নাকি আজকাল কর্তৃপক্ষ আহমেদ মূসাকে জানিয়ে দেন যে, আগামী কাল থেকে আপনাকে আর অফিসে আসার প্রয়োজন নেই। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে আহমেদ মূসা পত্রিকা প্রেসে পাঠানোর পর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে আজকাল-এর সম্পাদক পদের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিস্তু সেই সময় আজকাল কর্তৃপক্ষ তার সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে উদ্ভুত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেন।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিত মুখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোনিয়েশন ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও জাহাঙ্গীর ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৮) আর নেই। মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত জাহাঙ্গীর আলম গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ম্যানহাটানের বিশ্বখ্যাত ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার স্নোন কেটারিং মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী পারভীন আলম ও একমাত্র পুত্র নাইয়ান সহ অনেক আতœ¦ীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভান্যুধায়ী রেখে গেছেন। কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিতজন, অসাধারণ মানবিক গুণসম্পন্ন, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রায় ১৯৯৩ সালে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন। মাঝে তিনি সুস্থ্য হয়ে উঠেছিরেন এবং সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত ছিলেন। সর্বশেষ গত ২৪ নভেম্বর বিকেলে এস্টোরিয়াস্থ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাথে সাথে ম্যানহাটানের স্লোন মেমোরিয়াল ক্যাটারিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ নি:শ্বাস ত্যাগের সময় স্ত্রী, পুত্র, বোন, ভগ্নিপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ প্রমুখ হাসপাতালে তার পাশে ছিলেন।  গত ৪ ডিসেম্বর বৃহস্প্রতিবার বাদ জোহর জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে (জেএমসি) মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন অপরাহ্নে তার মরদেহ লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল গোরস্থানে বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক নিউইয়র্ক ক্রয়কৃত ও সংরক্ষিত কবরে তার মরদেহ দাফন করা হয়। আমরা তার বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করছি।
চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিচয়-এ প্রকাশিত ‘সাবধান : আইআরএস’র নামে টেলিফোনে প্রতারণা বাড়ছে’, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত ‘লেনদেন ও ব্যক্তিগত তথ্য দিতে সতর্ক হোন ॥ চারপাশে ভয়ানক ক্রেডিট কার্ড প্রতারক দল’ ও ‘নিউইয়র্কের অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্য : কমিউনিটিতে প্রশ্ন কারা দেয়, কারা পায়’, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র ‘কে এই সর্দার? ৯ বছরে ২৭ বার গ্রেফতার’ শীর্ষক খবর পাঠক মহলে আলোচিত হয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বার্তা সংস্থা ইউএনএ পরিবেশিত ‘যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ, বিএনপি, জাপা, জাসদ সমাচার ॥ অফিস ছাড়াই চলছে দলীয় কর্মকান্ড : নানা সমস্যা’ শীর্ষক খবর পাঠক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের ৯মাসের সশ¯্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার দামাল ছেলেরা বিজয় অর্জন করে। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। নীল আকাশে পত পত করে উড়ে ‘লাল-সবুজ’-এর পতাকা। বিজয়ের এই মাসে সকল শহীদদের প্রতি রইল লাল সালাম আর গভীর শ্রদ্ধা। বিজয় মাসে নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলো বিশেষ আর অনুসন্ধানী রিপোর্ট/প্রতিবেদন/ফিচার প্রকাশ করে পাঠকমহলের প্রত্যাশা পূরণ করবে এটাই কাম্য। ০৫ ডিসেম্বর’২০১৪ (সাপ্তাহিক পরিচয়)

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : আজকাল-এর নতুন সম্পাদক মনজুর আহমদ, মুসা’র বিদায়

প্রকাশের সময় : ০৪:০৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার সম্পাদক পদে বিশিষ্ট সাংবদিক মনজুর আহমদ যোগ দিয়েছেন। তিনি বিদায়ী সম্পাদক আহমেদ মূসা’র স্থলাভিষিক্ত হলেন। গেলো সপ্তাহে এই রদবদল/নিয়োগ হয়েছে। এনিয়ে আজকাল-এর পাঁচ বছরে সম্পাদক পদে তিন জন সমপাদক মনোনীত হলেন। আজকাল-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন সাংবাদিক দর্পণ কবীর। তিনি বর্তমানে এটিএন নিউজ ইউএসএ’র বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দর্পণ কবীরের স্থলে বাংলা একাডেমী, ঢাকা’র সাবেক পরিচালক আহমদ মূসাকে নিয়োগ দেয়া হয়।
সাপ্তাহিক আজকাল-এ সাংবাদিক-লেখক-কলামিস্ট মনজুর আহমদ-এর সম্পাদক পদে নিয়োগ প্রসঙ্গে  ‘বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুর আহমদ আজকালের নতুন সম্পাদক’ শিরোনামে আজকাল কর্তৃপক্ষ প্রেরীত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে: বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুর আহমদ সাপ্তাহিক আজকালের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। ১ ডিসেম্বর সোমবার তিনি কাজে যোগদান করেন। পেশাগত জীবনে তিনি দৈনিক সংবাদ, দৈনিক পাকিস্তান পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা, দৈনিক বাংলাবাজার, দৈনিক অর্থনীতি ও দৈনিক দেশবাংলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মনজুর আহমদ অবিভক্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা। উল্লেখ্য, এরআগে আহমেদ মূসা ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আজকালের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
মনজুর আহমেদ নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় ১৯৫৭ সালে দৈনিক সংবাদের ঝিনাইদহ সংবাদদাতা হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন। এরপর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে চলে আসেন ঢাকায়। ইন্টারমিডিয়েটের রেজাল্ট প্রকাশের আগেই তিনি সংবাদ-এর প্রধান অফিসে যোগদান করেন। প্রথমে তিনি ছিলেন সংবাদের বিখ্যাত শিশু-কিশোর পাতা খেলাঘরের ভাইয়া। পরে একই বছর তিনি পত্রিকার সহসম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি শিফট ইনচার্জসহ বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। এরপর সিনিয়র সাবএডিটর হিসেবে যোগদান করেন তদানীন্তন দৈনিক পাকিস্তানে (পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা)। ১৯৭০ সালে তিনি রিপোর্টিং বিভাগে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালের ৩১ অক্টোবর দৈনিক বাংলার প্রকাশনা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত তিনি কূটনৈতিক প্রতিবেদক, চিফ রিপোর্টার ও স্পেশাল করেসপনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক বাংলা বন্ধ হওয়ার পর তিনি বাংলাবাজার পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এরপর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দৈনিক অর্থনীতির নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। এরপর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক দেশবাংলায়। ২০০০ সালের নভেম্বরে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাস শুরু করেন মনজুর আহমদ। তিনি নিউইয়র্কে সাপ্তাহিক এখন সময়-এ সাড়ে চার বছর কাজ করেছেন।
১৯৪২ সালের ২২ ডিসেম্বর যশোরে জন্মগ্রহণ করেন মনজুর আহমদ। ঝিনাইদহ হাই স্কুল থেকে মেট্রিক দেন ১৯৫৯ সালে। ১৯৬১ সালে খুলনা বিএল কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং পরে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।
তিনি বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মনজুর আহমদ হাঙ্গেরীতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব জার্নালিজম থেকে সাংবাদিকতায় উচ্চতর ডিগ্রি নেন ১৯৭২ সালে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মনজুর আহমদ একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে দেশে এবং প্রবাসে সুপরিচিত। ২টি উপন্যাস, বেশ কিছু ছোটগল্প ও ৩টি ইতিহাসগ্রন্থসহ তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৪টি। পেশাগত কাজে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন। ভ্রমণ করেছেন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ।
মনজুর আহমদের পিতা ডা. কে. আহমেদ ছিলেন রাজনীতিক ও সমাজসেবক। তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ডা. কে. আহমেদের নামকরণে ঝিনাইদহের একটি রাস্তা ও পৌর মিলনায়তন রয়েছে। মনজুর আহমদের মা মনোয়ারা খাতুন ছিলেন ঝিনাইদহ সরকারি গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঝিনাইদহ মহিলা পরিষদের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মনজুর আহমদের স্ত্রী বিশিষ্ট অভিনেত্রী রেখা আহমেদ। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
আজকাল-এর সম্পাদক পদে মনজুর আহমদ-এর যোগদান আর আহমেদ মূসার বিদায় কমিউনিটি বিশেষ করে মিডিয়া মহলে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। কেননা, মনজুর আহমদ ও আহমেদ মূসা উভয়ই কমিউনিটির শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তবে যেভাবে আহমেদ মূসা-কে আজকাল-এর সম্পাদক পদ থেকে বিদায় জানানো হয়েছে তা অনেককেই ব্যথিত করেছে। জানা যায়, গত সপ্তাহের আজকাল প্রকাশের জন্য প্রেসে যাওয়ার পরে মধ্যরাতে নাকি আজকাল কর্তৃপক্ষ আহমেদ মূসাকে জানিয়ে দেন যে, আগামী কাল থেকে আপনাকে আর অফিসে আসার প্রয়োজন নেই। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে আহমেদ মূসা পত্রিকা প্রেসে পাঠানোর পর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে আজকাল-এর সম্পাদক পদের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিস্তু সেই সময় আজকাল কর্তৃপক্ষ তার সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে উদ্ভুত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেন।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিত মুখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোনিয়েশন ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও জাহাঙ্গীর ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৮) আর নেই। মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত জাহাঙ্গীর আলম গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ম্যানহাটানের বিশ্বখ্যাত ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার স্নোন কেটারিং মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী পারভীন আলম ও একমাত্র পুত্র নাইয়ান সহ অনেক আতœ¦ীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভান্যুধায়ী রেখে গেছেন। কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিতজন, অসাধারণ মানবিক গুণসম্পন্ন, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রায় ১৯৯৩ সালে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন। মাঝে তিনি সুস্থ্য হয়ে উঠেছিরেন এবং সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত ছিলেন। সর্বশেষ গত ২৪ নভেম্বর বিকেলে এস্টোরিয়াস্থ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাথে সাথে ম্যানহাটানের স্লোন মেমোরিয়াল ক্যাটারিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ নি:শ্বাস ত্যাগের সময় স্ত্রী, পুত্র, বোন, ভগ্নিপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ প্রমুখ হাসপাতালে তার পাশে ছিলেন।  গত ৪ ডিসেম্বর বৃহস্প্রতিবার বাদ জোহর জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে (জেএমসি) মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন অপরাহ্নে তার মরদেহ লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল গোরস্থানে বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক নিউইয়র্ক ক্রয়কৃত ও সংরক্ষিত কবরে তার মরদেহ দাফন করা হয়। আমরা তার বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করছি।
চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিচয়-এ প্রকাশিত ‘সাবধান : আইআরএস’র নামে টেলিফোনে প্রতারণা বাড়ছে’, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত ‘লেনদেন ও ব্যক্তিগত তথ্য দিতে সতর্ক হোন ॥ চারপাশে ভয়ানক ক্রেডিট কার্ড প্রতারক দল’ ও ‘নিউইয়র্কের অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্য : কমিউনিটিতে প্রশ্ন কারা দেয়, কারা পায়’, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র ‘কে এই সর্দার? ৯ বছরে ২৭ বার গ্রেফতার’ শীর্ষক খবর পাঠক মহলে আলোচিত হয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বার্তা সংস্থা ইউএনএ পরিবেশিত ‘যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ, বিএনপি, জাপা, জাসদ সমাচার ॥ অফিস ছাড়াই চলছে দলীয় কর্মকান্ড : নানা সমস্যা’ শীর্ষক খবর পাঠক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের ৯মাসের সশ¯্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার দামাল ছেলেরা বিজয় অর্জন করে। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। নীল আকাশে পত পত করে উড়ে ‘লাল-সবুজ’-এর পতাকা। বিজয়ের এই মাসে সকল শহীদদের প্রতি রইল লাল সালাম আর গভীর শ্রদ্ধা। বিজয় মাসে নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলো বিশেষ আর অনুসন্ধানী রিপোর্ট/প্রতিবেদন/ফিচার প্রকাশ করে পাঠকমহলের প্রত্যাশা পূরণ করবে এটাই কাম্য। ০৫ ডিসেম্বর’২০১৪ (সাপ্তাহিক পরিচয়)