নিউইয়র্ক ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

৩-১ গোলে জিতল রিয়াল

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০১:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
  • / ৯৭৪ বার পঠিত

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা, মুহূর্তে মুহূর্তে ম্যাচের রঙ বদল, আক্রমণের পর পাল্টা আক্রমণ, কী ছিল না এল ক্ল্যাসিকোয়! সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মৌসুমের প্রথম ক্ল্যাসিক লড়াই। মুখোমুখি দুই বিশ্বসেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। সঙ্গে দুই বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি এবং রোনালদো। ৯০ মিনিটের উত্তেজনার বারুদে ঠাসা ম্যাচটিতে ৩-১ গোলে জিতল রিয়াল মাদ্রিদই। মেসিকে হারিয়ে দিলেন রোনালদো।

এল ক্ল্যাসিকোয় গোল করা যার জন্য নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেই মেসি গোল পেলেন না। পেনাল্টি থেকে গোলের স্বাদ পূরণ করেছেন রোনালদো। তবে অসাধারন দুটি গোল এসেছে নেইমার এবং করিম বেনজেমার পা থেকে। রিয়ালের হয়ে বাকি গোলটি করেছেন ডিফেন্ডার পেপে। সব মিলিয়ে উপভোগ্য একটি এল ক্ল্যাসিকো দেখল ফুটবলপ্রেমীরা।

তবে নিজেদের মাঠেই শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদ। ৪ মিনিটেই অসাধার এক গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার নেইমার জুনিয়র। সুয়ারেজের অসাধারণ এক পাস থেকে বক্সের মাঝ বরাবর বল নিয়ন্ত্রনে নেন নেইমার এরপর দু’জনকে কাটিয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক শট নেন তিনি। ইকার ক্যাসিয়াসের মত গোলরক্ষককে দর্শক বানিয়ে রিয়ালের জালে বল জড়ালেন তিনি।

গোল হজমের পর অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদও হন্যে হয়ে ওঠে পরিশোধ করার জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ। অবশেষে ৩৫ মিনিটেই এসে যায় কাংখিত সুযোগটা। মার্সেলোর একটি ক্রস ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত দিয়ে ঠেকান বার্সা ডিফেন্ডার পিকে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক নিতে আসেন রোনালদো। গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোকে পরাস্ত করে রোনালদোর শট বল জড়িয়ে যায় বার্সার জালে। ১-১ সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। লিগে ৯ ম্যাচে রোনালদোর গোল দাঁড়াল ১৬টিতে।

এ অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দু’দল। বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। এরই ফলশ্র“তিতে ৫০ মিনিটে কর্নার পায় লজ ব্লাঙ্কোজরা। শট নেন টনি ক্রুস। ভেসে আসা বলে দারুন হেড করেন পেপে। বল জড়িয়ে যায় বার্সার জালে। ২-১ এ এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

১১ মিনিট পর আবারও গোল। এবারও রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সার চেয়ে ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে রিয়াল। ৬১ মিনিটে অসাধারন গোলটি করেন করিম বেনজেমা। ইনিয়েস্তা এবং হ্যাভিয়ের মাচেরানোর কাছ থেকে বল কেড়ে নেন ইসকো। তিনি এগিয়ে দেন হামেস রদ্রিগুয়েজের কাছে। হামেস কাটিয়ে বল পাস দেন বেনজেমাকে। এরপরই ডান পায়ের দুরন্ত শট। বল জড়িয়ে যায় বার্সার জালে।

এরপর দু’গোলমুখেই মুহূর্মুহূ আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু কেউই আর কারও জাল খুঁজে পায়নি। এই জয়ে টেবিলে বার্সার সঙ্গে রিয়ালের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ১ পয়েন্ট। ৯ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ২২। রিয়ালের পয়েন্ট ২১।

এল ক্ল্যাসিকোর আগে ৮ ম্যাচে একটি গোলও হজম করেনি বার্সেলোনা। দিয়েছিল ২৩টি। লা লিগার মৌসুমে এই প্রথম গোল হজম করলো কাতালানরা।

বার্সার হয়ে কাংখিত অভিষেক ঘটলো লুইস সুয়ারেজের। বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনির কাঁধে কামড় দেওয়ার পর ৪ মাসের নিষেধাজ্ঞা ছিল সুয়ারেজের ওপর। সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন তিনি। এবার বার্সার জার্সি গায়ে অভিষেক ঘটলো একেবারে উত্তেজনায় ঠাসা এল ক্ল্যাসিকোয়।

শুধু অভিষিক্ত হয়েই নয়, অসাধারণ পারফরম্যান্সও দেখিয়েছেন উরুগুইয়ান এই স্ট্রাইকার। নেইমারের গোলের উৎসও ছিলেন তিনি। এছাড়া বেশ কয়েকবার রিয়ালের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

অপরদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোলপোস্ট আগলানোর দায়িত্ব পান অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস। এল ক্ল্যাসিকো বলেই হয়তো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে ক্যাসিয়াসের ওপর আস্থা রাখলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

৩-১ গোলে জিতল রিয়াল

প্রকাশের সময় : ০১:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৪

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা, মুহূর্তে মুহূর্তে ম্যাচের রঙ বদল, আক্রমণের পর পাল্টা আক্রমণ, কী ছিল না এল ক্ল্যাসিকোয়! সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মৌসুমের প্রথম ক্ল্যাসিক লড়াই। মুখোমুখি দুই বিশ্বসেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। সঙ্গে দুই বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি এবং রোনালদো। ৯০ মিনিটের উত্তেজনার বারুদে ঠাসা ম্যাচটিতে ৩-১ গোলে জিতল রিয়াল মাদ্রিদই। মেসিকে হারিয়ে দিলেন রোনালদো।

এল ক্ল্যাসিকোয় গোল করা যার জন্য নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেই মেসি গোল পেলেন না। পেনাল্টি থেকে গোলের স্বাদ পূরণ করেছেন রোনালদো। তবে অসাধারন দুটি গোল এসেছে নেইমার এবং করিম বেনজেমার পা থেকে। রিয়ালের হয়ে বাকি গোলটি করেছেন ডিফেন্ডার পেপে। সব মিলিয়ে উপভোগ্য একটি এল ক্ল্যাসিকো দেখল ফুটবলপ্রেমীরা।

তবে নিজেদের মাঠেই শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদ। ৪ মিনিটেই অসাধার এক গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার নেইমার জুনিয়র। সুয়ারেজের অসাধারণ এক পাস থেকে বক্সের মাঝ বরাবর বল নিয়ন্ত্রনে নেন নেইমার এরপর দু’জনকে কাটিয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক শট নেন তিনি। ইকার ক্যাসিয়াসের মত গোলরক্ষককে দর্শক বানিয়ে রিয়ালের জালে বল জড়ালেন তিনি।

গোল হজমের পর অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদও হন্যে হয়ে ওঠে পরিশোধ করার জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ। অবশেষে ৩৫ মিনিটেই এসে যায় কাংখিত সুযোগটা। মার্সেলোর একটি ক্রস ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত দিয়ে ঠেকান বার্সা ডিফেন্ডার পিকে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক নিতে আসেন রোনালদো। গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোকে পরাস্ত করে রোনালদোর শট বল জড়িয়ে যায় বার্সার জালে। ১-১ সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। লিগে ৯ ম্যাচে রোনালদোর গোল দাঁড়াল ১৬টিতে।

এ অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দু’দল। বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। এরই ফলশ্র“তিতে ৫০ মিনিটে কর্নার পায় লজ ব্লাঙ্কোজরা। শট নেন টনি ক্রুস। ভেসে আসা বলে দারুন হেড করেন পেপে। বল জড়িয়ে যায় বার্সার জালে। ২-১ এ এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

১১ মিনিট পর আবারও গোল। এবারও রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সার চেয়ে ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে রিয়াল। ৬১ মিনিটে অসাধারন গোলটি করেন করিম বেনজেমা। ইনিয়েস্তা এবং হ্যাভিয়ের মাচেরানোর কাছ থেকে বল কেড়ে নেন ইসকো। তিনি এগিয়ে দেন হামেস রদ্রিগুয়েজের কাছে। হামেস কাটিয়ে বল পাস দেন বেনজেমাকে। এরপরই ডান পায়ের দুরন্ত শট। বল জড়িয়ে যায় বার্সার জালে।

এরপর দু’গোলমুখেই মুহূর্মুহূ আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু কেউই আর কারও জাল খুঁজে পায়নি। এই জয়ে টেবিলে বার্সার সঙ্গে রিয়ালের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ১ পয়েন্ট। ৯ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ২২। রিয়ালের পয়েন্ট ২১।

এল ক্ল্যাসিকোর আগে ৮ ম্যাচে একটি গোলও হজম করেনি বার্সেলোনা। দিয়েছিল ২৩টি। লা লিগার মৌসুমে এই প্রথম গোল হজম করলো কাতালানরা।

বার্সার হয়ে কাংখিত অভিষেক ঘটলো লুইস সুয়ারেজের। বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনির কাঁধে কামড় দেওয়ার পর ৪ মাসের নিষেধাজ্ঞা ছিল সুয়ারেজের ওপর। সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন তিনি। এবার বার্সার জার্সি গায়ে অভিষেক ঘটলো একেবারে উত্তেজনায় ঠাসা এল ক্ল্যাসিকোয়।

শুধু অভিষিক্ত হয়েই নয়, অসাধারণ পারফরম্যান্সও দেখিয়েছেন উরুগুইয়ান এই স্ট্রাইকার। নেইমারের গোলের উৎসও ছিলেন তিনি। এছাড়া বেশ কয়েকবার রিয়ালের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

অপরদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোলপোস্ট আগলানোর দায়িত্ব পান অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস। এল ক্ল্যাসিকো বলেই হয়তো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে ক্যাসিয়াসের ওপর আস্থা রাখলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।