নিউইয়র্ক ১২:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

মন্তব্য প্রতিবেদন ॥ এশিয়া কাপ ক্রিকেট : মাঠে নেই কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ মার্চ ২০১৬
  • / ১১৭৭ বার পঠিত

সালাহউদ্দিন আহমেদ: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হলো ২০১৬ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেট। ৬ মার্চ রোববার মিরপুর ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দাপটের সাথে খেলেই চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ছিনিয়ে নিলো ভারত। অপরদিকে ভালো ব্যাটিং করে দূর্বল ফিল্ডিং-এর ব্যর্থতায় রানার্স আপ হতে হলো স্বাগতিক দেশ বাংলাদেশ-এর। দেশ ও প্রবাসের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর সকল চাওয়া-পাওয়া আর প্রত্যাশার দ্বার প্রান্তে এসেও কেন, কি কারণে বাংলাদেশের মাশরাফি বি মর্তুজার টাইগার বাহিনীকে পরাজয় মেনে নিতে হলো তা নিয়ে অনেকর মনেই নানা প্রশ্নের উদ্্েরগ ঘটেছে। সবার আগে যে প্রশ্নটি উঠেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন ফাইনাল খেলার দিন মাঠে উপস্থিত হলেন না।
ঝড়ো-বৃষ্টির পর বোববার রাতে ফ্লাড লাইটের আলোতে অনুষ্ঠিত খেলার শুরুতে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। খেলায় নির্ধারিত ১৫ ওভারে বাংলাদেশ ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১২০ রান সংগ্রহ করে। এই খেলায় বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং প্রশংসার দাবী রাখে। খেলার গতিও ছিলো স্বাভাবিক। খেলায় ক্যাপ্টেন মাশরাফি প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হলেও মোহাম্মদ উল্লাহ’র ব্যাটিং সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। খেলার ১৪তম ওভারে দুই ছক্কা আর একটি চারের মার নিয়ে তার সংগ্রহ ছিলো ২০ রান। টাইগারদের ব্যাটিং-এর পর দেশ-প্রবাসের সকল ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশীর ছিলো একই কথা। বাংলাদেশ জিতবে, বাংলাদেশ এবার চ্যাম্পিয়ন হবে। কিন্তু না, সব গুড়েবালি হয়ে গেলো। কি থেকে যেনো কি হলো। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার রান্না ঘরের বিড়াল বনে গেলো। ১২১ রানের টার্গেটে ভারতের ব্যাটিং-এর বিরুদ্ধে টাইগারদের বোলিং-ফিল্ডিং নিষ্প্রভ হয়ে গেলো। ভারতের দাপুটে ব্যাটিং-এর কাছে দাঁড়াতেই পারলো না বাংলাদেশ। একের পর এক চারের মার কাবু করে ফেললো সবাইকে। ফলে খেলার ফলাফল দাঁড়ালো: বাংলাদেশ: ১৫ ওভারে ১২০/৫। ভারত: ১৩.৫ ওভারে ১২২/২। ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।
ফাইনাল খেলা শেষে ঢাকার প্রথম আলো শিরোনাম করেছে ‘আবার সেই স্বপ্ন ভঙ্গ’, দৈনিক ইত্তেফাক-এর শিরোনাম হলো ‘লড়ে হারলো মাশরাফিরা’, মানবজমিন-এর শিরোনাম ‘এ যেন অসহায় আতœসমর্পণ’, যুগান্তর আর বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর শিরোনাম ‘এবারও পারলো না টাইগাররা’, কালের কন্ঠ’র শিরোনাম ‘স্বপ্ন ভঙ্গেও অনেক প্রাপ্তি’, দৈনিক নয়া দিগন্ত’র শিরোনাম ‘আরো একবার স্বপ্ন ভঙ্গ’, দৈনিক ইনকিলাব-এর শিরোনাম ‘আবারো ফাইনাল ট্রাজেডী’, দৈনিক জনকন্ঠ’র শিরোনাম ‘ভারতই জিতল’ আর কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা’র শিরোনাম হলো ‘ধনির ছক্কায় এবার বাংলা বিজয়’।
আর এই ফলাফলে নানা প্রশ্ন উঠে এলো ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন ফাইনাল খেলার দিন মাঠে নেই এমন প্রশ্নের পাশাপাশি আরো যেসব প্রশ্ন উঠে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলে: টাইগাররা ব্যাটিং-এ ভালো করলেও বোলিং-ফিল্ডিং-এ চুপছে গেলো কেনো, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে কেনো বল করতে দেয়া হলো না, বেশী রান দেয়ার পরও অফফর্মে থাকা সাকিবকে কেনো দু’ওভার বল করতে দেয়া হলো…….ইত্যাদি ইত্যাদি।
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেনো ফাইনাল খেলায় মাঠে উপস্থিত নেই’ এমন প্রশ্ন উঠতো না যদি না তিনি বাংলাদেশ-পাকিস্তান দলের খেলার দিন মাঠে উপস্থিত না হতেন। আমরা জানি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন ক্রিকেট প্রেমিক। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তার আন্তরিকতায় বিন্দুমাত্র অভাব নেই। বিশেষ করে দেশের ক্রিকেট এতোদূর আসতো না সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ আর আগ্রহ ছাড়া। ক্ষমতাসীন আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস জননেত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলার মাঠে গেলেই বিজয় নিশ্চিত হয়। বিষয়টি একাধিকবার লক্ষ্য করাও গেছে। সর্বশেষ ২ মার্চ ঢাকার মাঠে এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান’ দলের খেলার দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাঠে উপস্থিতি হওয়ার পরই বাংলাদেশ দলের জয় নিশ্চিত হলো। এমনটিই অনেকে বলছেন। এই ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে ফাইনালে উঠে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খেলার মাঠে উপস্থিত হওয়ায় তাঁকে টাইগারদের পাশাপাশি দেশ-প্রবাসের সকল বাঙালী/বাংলাদেশী স্বাগত জানিয়েছেন, নি:সন্দেহে খেলোয়াররা উৎসাহিত হয়েছেন। এজন্য অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যেখানে ফাইনাল খেলার দিন জয়ের জন্য টাইগারদের পাশে থাকা দরকার, তাদের উৎসাহিত করা দরকার। সেদিন কেনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাঠে উপস্থিত হলেন না! শুধু খেলা শেষ নয়, খেলার আগের দিন থেকেই নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠে ‘বাংলাদেশ-ভারত’ এর ফাইনাল ম্যাচে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাঠে উপস্থিত থাকবেন তো? কেউ কেউ বলছেন হার-জিতের কথা ভেবেই হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফাইনাল খেলার দিন মাঠে উপস্থিত হননি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

মন্তব্য প্রতিবেদন ॥ এশিয়া কাপ ক্রিকেট : মাঠে নেই কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?

প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ মার্চ ২০১৬

সালাহউদ্দিন আহমেদ: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হলো ২০১৬ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেট। ৬ মার্চ রোববার মিরপুর ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দাপটের সাথে খেলেই চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ছিনিয়ে নিলো ভারত। অপরদিকে ভালো ব্যাটিং করে দূর্বল ফিল্ডিং-এর ব্যর্থতায় রানার্স আপ হতে হলো স্বাগতিক দেশ বাংলাদেশ-এর। দেশ ও প্রবাসের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর সকল চাওয়া-পাওয়া আর প্রত্যাশার দ্বার প্রান্তে এসেও কেন, কি কারণে বাংলাদেশের মাশরাফি বি মর্তুজার টাইগার বাহিনীকে পরাজয় মেনে নিতে হলো তা নিয়ে অনেকর মনেই নানা প্রশ্নের উদ্্েরগ ঘটেছে। সবার আগে যে প্রশ্নটি উঠেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন ফাইনাল খেলার দিন মাঠে উপস্থিত হলেন না।
ঝড়ো-বৃষ্টির পর বোববার রাতে ফ্লাড লাইটের আলোতে অনুষ্ঠিত খেলার শুরুতে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। খেলায় নির্ধারিত ১৫ ওভারে বাংলাদেশ ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১২০ রান সংগ্রহ করে। এই খেলায় বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং প্রশংসার দাবী রাখে। খেলার গতিও ছিলো স্বাভাবিক। খেলায় ক্যাপ্টেন মাশরাফি প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হলেও মোহাম্মদ উল্লাহ’র ব্যাটিং সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। খেলার ১৪তম ওভারে দুই ছক্কা আর একটি চারের মার নিয়ে তার সংগ্রহ ছিলো ২০ রান। টাইগারদের ব্যাটিং-এর পর দেশ-প্রবাসের সকল ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশীর ছিলো একই কথা। বাংলাদেশ জিতবে, বাংলাদেশ এবার চ্যাম্পিয়ন হবে। কিন্তু না, সব গুড়েবালি হয়ে গেলো। কি থেকে যেনো কি হলো। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার রান্না ঘরের বিড়াল বনে গেলো। ১২১ রানের টার্গেটে ভারতের ব্যাটিং-এর বিরুদ্ধে টাইগারদের বোলিং-ফিল্ডিং নিষ্প্রভ হয়ে গেলো। ভারতের দাপুটে ব্যাটিং-এর কাছে দাঁড়াতেই পারলো না বাংলাদেশ। একের পর এক চারের মার কাবু করে ফেললো সবাইকে। ফলে খেলার ফলাফল দাঁড়ালো: বাংলাদেশ: ১৫ ওভারে ১২০/৫। ভারত: ১৩.৫ ওভারে ১২২/২। ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।
ফাইনাল খেলা শেষে ঢাকার প্রথম আলো শিরোনাম করেছে ‘আবার সেই স্বপ্ন ভঙ্গ’, দৈনিক ইত্তেফাক-এর শিরোনাম হলো ‘লড়ে হারলো মাশরাফিরা’, মানবজমিন-এর শিরোনাম ‘এ যেন অসহায় আতœসমর্পণ’, যুগান্তর আর বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর শিরোনাম ‘এবারও পারলো না টাইগাররা’, কালের কন্ঠ’র শিরোনাম ‘স্বপ্ন ভঙ্গেও অনেক প্রাপ্তি’, দৈনিক নয়া দিগন্ত’র শিরোনাম ‘আরো একবার স্বপ্ন ভঙ্গ’, দৈনিক ইনকিলাব-এর শিরোনাম ‘আবারো ফাইনাল ট্রাজেডী’, দৈনিক জনকন্ঠ’র শিরোনাম ‘ভারতই জিতল’ আর কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা’র শিরোনাম হলো ‘ধনির ছক্কায় এবার বাংলা বিজয়’।
আর এই ফলাফলে নানা প্রশ্ন উঠে এলো ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন ফাইনাল খেলার দিন মাঠে নেই এমন প্রশ্নের পাশাপাশি আরো যেসব প্রশ্ন উঠে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলে: টাইগাররা ব্যাটিং-এ ভালো করলেও বোলিং-ফিল্ডিং-এ চুপছে গেলো কেনো, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে কেনো বল করতে দেয়া হলো না, বেশী রান দেয়ার পরও অফফর্মে থাকা সাকিবকে কেনো দু’ওভার বল করতে দেয়া হলো…….ইত্যাদি ইত্যাদি।
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেনো ফাইনাল খেলায় মাঠে উপস্থিত নেই’ এমন প্রশ্ন উঠতো না যদি না তিনি বাংলাদেশ-পাকিস্তান দলের খেলার দিন মাঠে উপস্থিত না হতেন। আমরা জানি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন ক্রিকেট প্রেমিক। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তার আন্তরিকতায় বিন্দুমাত্র অভাব নেই। বিশেষ করে দেশের ক্রিকেট এতোদূর আসতো না সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ আর আগ্রহ ছাড়া। ক্ষমতাসীন আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস জননেত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলার মাঠে গেলেই বিজয় নিশ্চিত হয়। বিষয়টি একাধিকবার লক্ষ্য করাও গেছে। সর্বশেষ ২ মার্চ ঢাকার মাঠে এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান’ দলের খেলার দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাঠে উপস্থিতি হওয়ার পরই বাংলাদেশ দলের জয় নিশ্চিত হলো। এমনটিই অনেকে বলছেন। এই ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে ফাইনালে উঠে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খেলার মাঠে উপস্থিত হওয়ায় তাঁকে টাইগারদের পাশাপাশি দেশ-প্রবাসের সকল বাঙালী/বাংলাদেশী স্বাগত জানিয়েছেন, নি:সন্দেহে খেলোয়াররা উৎসাহিত হয়েছেন। এজন্য অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যেখানে ফাইনাল খেলার দিন জয়ের জন্য টাইগারদের পাশে থাকা দরকার, তাদের উৎসাহিত করা দরকার। সেদিন কেনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাঠে উপস্থিত হলেন না! শুধু খেলা শেষ নয়, খেলার আগের দিন থেকেই নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠে ‘বাংলাদেশ-ভারত’ এর ফাইনাল ম্যাচে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাঠে উপস্থিত থাকবেন তো? কেউ কেউ বলছেন হার-জিতের কথা ভেবেই হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফাইনাল খেলার দিন মাঠে উপস্থিত হননি।