নিউইয়র্ক ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

এবার অস্ট্রেলিয়াতেই আপত্তি!

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৬
  • / ৬১৮ বার পঠিত

ঢাকা: অনাগ্রহ বা আপত্তি, যেটাই হোক, দক্ষিণ আফ্রিকার দিক থেকেই সেটি এসেছে প্রথম। কিন্তু এবার দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে আপত্তি এসেছে অস্ট্রেলিয়ানদের পক্ষ থেকে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) দাবি, এক মৌসুমে একটির বেশি দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে চান না অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়েরা। দিবা-রাত্রির টেস্ট নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, তা বড় ধাক্কাই খেল এই খবরে।
এ বছর অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার কথা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ টেস্ট দিয়ে, হোবার্ট ও অ্যাডিলেডে হবে বাকি দুটি টেস্ট। পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পরের সিরিজে ৩টি টেস্ট হবে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে। অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনা ছিল অ্যাডিলেডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ও ব্রিসবেনে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টটি হবে দিবা-রাত্রির। দক্ষিণ আফ্রিকা গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে অনাগ্রহ দেখানোয় পরিকল্পনাটা প্রথম কিছুটা শঙ্কার মুখে পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রথম আপত্তি ওঠার পর প্রোটিয়া অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সও বলে দেন, ঠিক এই মুহূর্তে দিবা-রাত্রিতে টেস্ট খেলতে তাঁরা খুব একটা স্বচ্ছন্দ নন।
তারপরও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অবশ্য হাল ছাড়েনি। বরং এ বিষয়ে দুই দেশের বোর্ড আলোচনায় বসে একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে বলে আশায় ছিলেন সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। কিন্তু এখন দিবা-রাত্রির টেস্ট নিয়ে খোদ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যেই অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডের সঙ্গে এক বৈঠকের পর কাল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টার নিকলসন বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলবে কি না, সেটি অনেক সমীকরণের অংশ। এখানে আরও কিছু ব্যাপার বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের যে মত পেয়েছি, তাতে দেখা যাচ্ছে, দিবা-রাত্রির টেস্ট নিয়ে তাদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। এই সংস্করণটা ক্রিকেটকে আরও ছড়িয়ে দিতে পারে—এটা তাঁরা সবাই মানছেন। তবে এই মুহূর্তে খেলোয়াড়েরা মৌসুমে শুধু একটাই দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে চান।’
কারণ হিসেবে গোলাপি বল নিয়ে খেলোয়াড়দের পুরোনো উদ্বেগের কথাগুলোই উঠে এসেছে নিকলসনের বক্তব্যে, ‘এটা তো আমরা সবাই বুঝতে পারছি, গোলাপি বলে খেলার ধরন ঐতিহ্যবাহী লাল বলের খেলা থেকে মৌলিকভাবেই আলাদা। রাতের আলোয় গোলাপি বল কতটুকু দেখা যায় বা না যায় এবং সেটির স্থায়িত্ব নিয়ে অনেক উদ্বেগ রয়েছে।’
তবে দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও পাকিস্তান কিন্তু দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে বেশ আগ্রহী। সে জন্যে আগামী অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে দুই টেস্টের একটি দিবা-রাত্রিতে খেলতে চায় পাকিস্তান। এরই মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে (ডব্লুআইসিবি) প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ডব্লুআইসিবি তাদের আগামী বৈঠকে প্রস্তাবটি বিবেচনা করবে বলেও জানিয়েছে। ক্রিকইনফো, আইএএনএস।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

এবার অস্ট্রেলিয়াতেই আপত্তি!

প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৬

ঢাকা: অনাগ্রহ বা আপত্তি, যেটাই হোক, দক্ষিণ আফ্রিকার দিক থেকেই সেটি এসেছে প্রথম। কিন্তু এবার দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে আপত্তি এসেছে অস্ট্রেলিয়ানদের পক্ষ থেকে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) দাবি, এক মৌসুমে একটির বেশি দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে চান না অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়েরা। দিবা-রাত্রির টেস্ট নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, তা বড় ধাক্কাই খেল এই খবরে।
এ বছর অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার কথা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ টেস্ট দিয়ে, হোবার্ট ও অ্যাডিলেডে হবে বাকি দুটি টেস্ট। পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পরের সিরিজে ৩টি টেস্ট হবে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে। অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনা ছিল অ্যাডিলেডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ও ব্রিসবেনে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টটি হবে দিবা-রাত্রির। দক্ষিণ আফ্রিকা গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে অনাগ্রহ দেখানোয় পরিকল্পনাটা প্রথম কিছুটা শঙ্কার মুখে পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রথম আপত্তি ওঠার পর প্রোটিয়া অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সও বলে দেন, ঠিক এই মুহূর্তে দিবা-রাত্রিতে টেস্ট খেলতে তাঁরা খুব একটা স্বচ্ছন্দ নন।
তারপরও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অবশ্য হাল ছাড়েনি। বরং এ বিষয়ে দুই দেশের বোর্ড আলোচনায় বসে একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে বলে আশায় ছিলেন সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। কিন্তু এখন দিবা-রাত্রির টেস্ট নিয়ে খোদ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যেই অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডের সঙ্গে এক বৈঠকের পর কাল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টার নিকলসন বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলবে কি না, সেটি অনেক সমীকরণের অংশ। এখানে আরও কিছু ব্যাপার বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের যে মত পেয়েছি, তাতে দেখা যাচ্ছে, দিবা-রাত্রির টেস্ট নিয়ে তাদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। এই সংস্করণটা ক্রিকেটকে আরও ছড়িয়ে দিতে পারে—এটা তাঁরা সবাই মানছেন। তবে এই মুহূর্তে খেলোয়াড়েরা মৌসুমে শুধু একটাই দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে চান।’
কারণ হিসেবে গোলাপি বল নিয়ে খেলোয়াড়দের পুরোনো উদ্বেগের কথাগুলোই উঠে এসেছে নিকলসনের বক্তব্যে, ‘এটা তো আমরা সবাই বুঝতে পারছি, গোলাপি বলে খেলার ধরন ঐতিহ্যবাহী লাল বলের খেলা থেকে মৌলিকভাবেই আলাদা। রাতের আলোয় গোলাপি বল কতটুকু দেখা যায় বা না যায় এবং সেটির স্থায়িত্ব নিয়ে অনেক উদ্বেগ রয়েছে।’
তবে দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও পাকিস্তান কিন্তু দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে বেশ আগ্রহী। সে জন্যে আগামী অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে দুই টেস্টের একটি দিবা-রাত্রিতে খেলতে চায় পাকিস্তান। এরই মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে (ডব্লুআইসিবি) প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ডব্লুআইসিবি তাদের আগামী বৈঠকে প্রস্তাবটি বিবেচনা করবে বলেও জানিয়েছে। ক্রিকইনফো, আইএএনএস।