নিউইয়র্ক ০৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834
শ্লোগান ‘সবার উপরে মাতৃভূমি’ : থাকছে না গ্রান্ড মার্শাল পজিশন : বর্জন বাংলাদেশ সোসাইটি’র

২৬ মে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ ডে প্যারেডে অংশ নিচ্ছে ৫০ টি সংগঠন

হককথা ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
  • / ১০৭ বার পঠিত

নিউইয়র্কে আগামী ২৬ মে রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’। ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট (ডব্লিউএইচআরডি) ইউএসএ’র আয়োজনে এই প্যারেডে প্রায় ৫০ টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করবে। প্যারেডের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন এবং প্যারেড অনুষ্ঠান সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

জ্যাকসন হাইটসে মামুন’স টিউটোরিয়ালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ডে প্যারেডের প্রধান উপদেষ্টা গিয়াস আহমেদ। এসময় আয়োজক সংগঠন ডব্লিউএইচআরডি’র সভাপতি শাহ শহীদুল হক সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, প্যারেড আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম বাদল, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামসের এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ফাহাদ সোলায়মান, প্যারেড আয়োজক কমিটির সংস্কৃতি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা সবিতা দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৬ মে রোববার রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ অ্যাভিনিউর ৬৯-৮৭ স্ট্রিটে এই প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে। হাজারো কর্ম ব্যস্ততার মধ্যেও নাড়ির টানে, দেশের টানে, মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসায় দল, মত, বর্ণ নির্বিশেষে এক অভিন্ন বাংলাদেশ ডে প্যারেডে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ সোসাইটি, বাপা, জেবিবির দুই গ্রুপের নেতৃবৃন্দও প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন। এ আয়োজনে দল মত নির্বিশেষে একক কিংবা দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। যারা আগে নাম তালিকাভুক্তি করবেন তারা আগে সিরিয়াল পাবেন। গ্রতিটি সংগঠনের জন্য ২০০ এবং একক অংশ গ্রহণের জন্য ৫০ ডলার রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠনের শ শ বরেণ্য শিল্পী সুললিত কন্ঠে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করবেন। এ পর্যন্ত আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহন করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহান স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদকে অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আমেরিকার মাটি ও মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ‘সবার উপরে মাতৃভূমি’ এটাই আমাদের স্লোগান।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বাংলাদেশ ডে প্যারেডের আহবায়ক ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক শাহ নেওয়াজ প্যারেডের সর্বশেষ প্রস্তুতি বিষয়ে জানান।

বাংলাদেশ ডে প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম বাদল শনিবার (২৫ মে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ডে প্যারেড আগামী রোববার ২৬ মে ২০২৪ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত ডে প্যারেডে সবার সর্বসম্মতিক্রমে একমত হয়েছি যে, এই বৎসর আমরা কোন গ্রান্ড মার্শাল পজিশন প্রদান করব না। কনভেনিং কমিটি প্যারেড শো পরিচালনা করবেন। কোন কোন পত্রিকায় যে খবর বের হয়েছে তা ডে প্যারেড কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত নয়, যা পত্রিকার নিজস্ব মতামত। প্যারেড কমিটি অনুমোদিত খবরকে প্রত্যাখান করে। কমিটির পক্ষ থেকে কনভেনার শাহ নেওয়াজ, কো-কনভেনার আবদুস সোবহান, সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম বাদল, চেয়ারপারসন শাহ শহীদুল হকের অনুমতি সাপেক্ষে প্রকাশিত খবরের জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং সবাইকে প্যারেডে উৎসব মুখর পরিবেশে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

ট্রাস্টি বোর্ড ও চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য : প্যারেড বর্জন বাংলাদেশ সোসাইটি’র এদিকে বাংলা প্রেস জানায়: রোববার (২৬ মে) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ ডে প্যারেড বর্জন করেছে নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি। সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড ও চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় বাংলাদেশ সোসাইটি উক্ত প্যারেডে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম এ আজিজ। এছাড়াও প্যারেডের ‘গ্র্যান্ড মার্শাল’ এ নিয়ে গত ১ সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতাদের মধ্যে টানা হেঁচড়ার পর অবশেষে প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল পদ বতিল করেছেন আয়োজক সংগঠন ডব্লিউএইচআরডি ইউএসএ।

গত ২২ মে বুধবার স্মার্ট টেক-এ অনুষ্ঠিত সভায় আহবায়ক শাহ নেওয়াজ কর্তৃক বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড ও চেয়ারম্যান এম এ আজিজকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। শাহ নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড হলো ‘ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা’। তার এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান উপস্থিত বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রব ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী। তারা তাৎক্ষণিক এ ধরনের মন্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবী করেন। এর আগে আয়োজকরা বাংলাদেশ সোসাইটির কাছ থেকে অর্থ সাহায্য চাইলে কমিটির সিদ্ধান্তের পর তা জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন সোসাইটির নেতারা। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সোসাইটি উক্ত প্যারেডে অংশ নেবেন না বলে জানান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম এ আজিজ। শুধু তাই নয় গ্র্যান্ড মার্শাল নির্ধারনের বিষয়ে আপত্তি করায় যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ আকিকুর রহমান ফারুকের গায়ে হাত তোলেন আহবায়ক শাহ নেওয়াজের স্ত্রী রানো নেওয়াজ।

ফারুক বলেন, উপস্থিত সবার সামনেই একজন মহিলা তার গায়ে হাত তুলেছে। কিন্তু কেউই তেমনভাবে কোন প্রতিবাদ করেনি। তাকে অপমানিত করার জন্য তিনি বিচার চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ডে প্যারেডের আহ্বায়ক শাহ নেওয়াজের সাথে মুঠোফোনের বার্তায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশ সোসাইটি প্যারেডে অংশ নেবেন। এম এ আজিজ অংশ নিতে নিষেধ করেছেন, তারপও সোসাইটি অংশ নেবে। তিনিও অংশ নিতে চাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন আহবায়ক শাহ নেওয়াজ। তবে প্যারেডে কোন গ্র্যান্ড মার্শাল থাকছে না। তিনি আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন। গ্র্যান্ড মার্শাল বানিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এ ব্যাপারেও তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

বাংলাদেশ ডে প্যারেডের চেয়ারপার্সন শাহ শহীদুল হক সাঈদের সাথে মুঠোফোনের বার্তায় যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য দেননি। তবে সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান জানান গতকাল সাধারন সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দীকীর সাথে তার কথা হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি প্যারেডে অংশ নেবেন। সভাপতি অসুস্থ বলে আসতে পারবেন না। প্যারেডে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সভাপতি ও সম্পাদক একটি টিভি চ্যানেলেও প্রকাশ করেছেন বলে আব্দুস সোবহান উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডসহ চেয়ারম্যান এম এ আজিজের বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি প্যারেডে অংশ নেবে না এটা শতভাগ সত্য। এটা নিয়ে বিভ্রান্তির কোন কারণ নেই। সোসাইটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এটা। কেউ যদি অংশ নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলে থাকেন তা মিথ্যে কথা। সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে এ ব্যাপারে তার কথা হয়েছে জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন গ্র্যান্ড মার্শাল পদের জন্য ডব্লিউএইচআরডি’র সভাপতি এবং বাংলাদেশ ডে প্যারেডের চেয়ারপারসন শাহ শহীদুল হক সাঈদ তার কাছ থেকে ৫০ হাজার ডলার দাবি করেছিলেন। তিনি এত পরিমাণ অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করার পর থেকেই গ্র্যান্ড মার্শাল পদের জন্য বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতাদের মধ্যে শুরু হয় টানা হেঁচড়া। শেষ পর্যন্ত গ্র্যান্ড মার্শাল পদ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

শ্লোগান ‘সবার উপরে মাতৃভূমি’ : থাকছে না গ্রান্ড মার্শাল পজিশন : বর্জন বাংলাদেশ সোসাইটি’র

২৬ মে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ ডে প্যারেডে অংশ নিচ্ছে ৫০ টি সংগঠন

প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

নিউইয়র্কে আগামী ২৬ মে রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’। ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট (ডব্লিউএইচআরডি) ইউএসএ’র আয়োজনে এই প্যারেডে প্রায় ৫০ টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করবে। প্যারেডের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন এবং প্যারেড অনুষ্ঠান সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

জ্যাকসন হাইটসে মামুন’স টিউটোরিয়ালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ডে প্যারেডের প্রধান উপদেষ্টা গিয়াস আহমেদ। এসময় আয়োজক সংগঠন ডব্লিউএইচআরডি’র সভাপতি শাহ শহীদুল হক সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, প্যারেড আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম বাদল, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামসের এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ফাহাদ সোলায়মান, প্যারেড আয়োজক কমিটির সংস্কৃতি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা সবিতা দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৬ মে রোববার রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ অ্যাভিনিউর ৬৯-৮৭ স্ট্রিটে এই প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে। হাজারো কর্ম ব্যস্ততার মধ্যেও নাড়ির টানে, দেশের টানে, মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসায় দল, মত, বর্ণ নির্বিশেষে এক অভিন্ন বাংলাদেশ ডে প্যারেডে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ সোসাইটি, বাপা, জেবিবির দুই গ্রুপের নেতৃবৃন্দও প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন। এ আয়োজনে দল মত নির্বিশেষে একক কিংবা দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। যারা আগে নাম তালিকাভুক্তি করবেন তারা আগে সিরিয়াল পাবেন। গ্রতিটি সংগঠনের জন্য ২০০ এবং একক অংশ গ্রহণের জন্য ৫০ ডলার রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠনের শ শ বরেণ্য শিল্পী সুললিত কন্ঠে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করবেন। এ পর্যন্ত আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহন করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহান স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদকে অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আমেরিকার মাটি ও মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ‘সবার উপরে মাতৃভূমি’ এটাই আমাদের স্লোগান।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বাংলাদেশ ডে প্যারেডের আহবায়ক ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক শাহ নেওয়াজ প্যারেডের সর্বশেষ প্রস্তুতি বিষয়ে জানান।

বাংলাদেশ ডে প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম বাদল শনিবার (২৫ মে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ডে প্যারেড আগামী রোববার ২৬ মে ২০২৪ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত ডে প্যারেডে সবার সর্বসম্মতিক্রমে একমত হয়েছি যে, এই বৎসর আমরা কোন গ্রান্ড মার্শাল পজিশন প্রদান করব না। কনভেনিং কমিটি প্যারেড শো পরিচালনা করবেন। কোন কোন পত্রিকায় যে খবর বের হয়েছে তা ডে প্যারেড কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত নয়, যা পত্রিকার নিজস্ব মতামত। প্যারেড কমিটি অনুমোদিত খবরকে প্রত্যাখান করে। কমিটির পক্ষ থেকে কনভেনার শাহ নেওয়াজ, কো-কনভেনার আবদুস সোবহান, সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম বাদল, চেয়ারপারসন শাহ শহীদুল হকের অনুমতি সাপেক্ষে প্রকাশিত খবরের জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং সবাইকে প্যারেডে উৎসব মুখর পরিবেশে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

ট্রাস্টি বোর্ড ও চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য : প্যারেড বর্জন বাংলাদেশ সোসাইটি’র এদিকে বাংলা প্রেস জানায়: রোববার (২৬ মে) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ ডে প্যারেড বর্জন করেছে নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি। সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড ও চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় বাংলাদেশ সোসাইটি উক্ত প্যারেডে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম এ আজিজ। এছাড়াও প্যারেডের ‘গ্র্যান্ড মার্শাল’ এ নিয়ে গত ১ সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতাদের মধ্যে টানা হেঁচড়ার পর অবশেষে প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল পদ বতিল করেছেন আয়োজক সংগঠন ডব্লিউএইচআরডি ইউএসএ।

গত ২২ মে বুধবার স্মার্ট টেক-এ অনুষ্ঠিত সভায় আহবায়ক শাহ নেওয়াজ কর্তৃক বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড ও চেয়ারম্যান এম এ আজিজকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। শাহ নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড হলো ‘ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা’। তার এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান উপস্থিত বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রব ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী। তারা তাৎক্ষণিক এ ধরনের মন্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবী করেন। এর আগে আয়োজকরা বাংলাদেশ সোসাইটির কাছ থেকে অর্থ সাহায্য চাইলে কমিটির সিদ্ধান্তের পর তা জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন সোসাইটির নেতারা। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সোসাইটি উক্ত প্যারেডে অংশ নেবেন না বলে জানান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম এ আজিজ। শুধু তাই নয় গ্র্যান্ড মার্শাল নির্ধারনের বিষয়ে আপত্তি করায় যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ আকিকুর রহমান ফারুকের গায়ে হাত তোলেন আহবায়ক শাহ নেওয়াজের স্ত্রী রানো নেওয়াজ।

ফারুক বলেন, উপস্থিত সবার সামনেই একজন মহিলা তার গায়ে হাত তুলেছে। কিন্তু কেউই তেমনভাবে কোন প্রতিবাদ করেনি। তাকে অপমানিত করার জন্য তিনি বিচার চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ডে প্যারেডের আহ্বায়ক শাহ নেওয়াজের সাথে মুঠোফোনের বার্তায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশ সোসাইটি প্যারেডে অংশ নেবেন। এম এ আজিজ অংশ নিতে নিষেধ করেছেন, তারপও সোসাইটি অংশ নেবে। তিনিও অংশ নিতে চাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন আহবায়ক শাহ নেওয়াজ। তবে প্যারেডে কোন গ্র্যান্ড মার্শাল থাকছে না। তিনি আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন। গ্র্যান্ড মার্শাল বানিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এ ব্যাপারেও তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

বাংলাদেশ ডে প্যারেডের চেয়ারপার্সন শাহ শহীদুল হক সাঈদের সাথে মুঠোফোনের বার্তায় যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য দেননি। তবে সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান জানান গতকাল সাধারন সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দীকীর সাথে তার কথা হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি প্যারেডে অংশ নেবেন। সভাপতি অসুস্থ বলে আসতে পারবেন না। প্যারেডে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সভাপতি ও সম্পাদক একটি টিভি চ্যানেলেও প্রকাশ করেছেন বলে আব্দুস সোবহান উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডসহ চেয়ারম্যান এম এ আজিজের বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি প্যারেডে অংশ নেবে না এটা শতভাগ সত্য। এটা নিয়ে বিভ্রান্তির কোন কারণ নেই। সোসাইটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এটা। কেউ যদি অংশ নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলে থাকেন তা মিথ্যে কথা। সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে এ ব্যাপারে তার কথা হয়েছে জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন গ্র্যান্ড মার্শাল পদের জন্য ডব্লিউএইচআরডি’র সভাপতি এবং বাংলাদেশ ডে প্যারেডের চেয়ারপারসন শাহ শহীদুল হক সাঈদ তার কাছ থেকে ৫০ হাজার ডলার দাবি করেছিলেন। তিনি এত পরিমাণ অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করার পর থেকেই গ্র্যান্ড মার্শাল পদের জন্য বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতাদের মধ্যে শুরু হয় টানা হেঁচড়া। শেষ পর্যন্ত গ্র্যান্ড মার্শাল পদ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।