নিউইয়র্ক ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় হিলারি : সব জাতি গোষ্ঠির সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার : কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:১১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০১৫
  • / ৮৭৫ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্টলেডি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়ন লাভের আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু করেছেন অভিবাসী বান্ধব নিউইয়র্ক সিটি থেকে। প্রথমবারের মত সিটির রুজভেল্ট আইল্যান্ড থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন হিলারি। নির্বাচনী প্রচারণায় তার সাথে ছিলেন মেয়ে চেলসি।
সাবেক ফার্স্টলেডী ও আগামীর ভাবী প্রেসিডেন্টকে বরণে শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকেই রুজভেল্ট এভিনিউতে জড়ো হতে থাকেন নিউইয়র্কের হাজার হাজার অধিবাসী। ছিলেন সাউথ এশিয়ান ও বাংলাদেশী মূলধারার রাজনীতিবিদরাও। পূর্ব ঘোষণা মতেই ঐদিন বেলা ১১.৪৫ মি. বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও তা শুরু করেন বেলা ১২টার দিকে।
Hillary 2নিউইয়র্কের রুজভেল্ট আইল্যান্ডে কয়েক হাজার সমর্থকদের সামনে হিলারি তাঁর প্রার্থিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। প্রচারণার প্রথম জনসভায় রিপাবলিকানদের কড়া সমালোচনা করে হিলারি বলেন, ‘রিপাবলিকানরা ধনীদের জন্য কাজ করে। তারা বৈষম্যে বিশ্বাসী। আমরা ধনী-গরিবের ব্যবধান কমিয়ে আনবো। সব জাতি-গোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করবো।’ হিলারির বক্তব্যের মাঝেই বারবার শ্লোগান ও হাততালি দিয়ে উপস্থিত হাজারো দশক-শ্রোতা তার প্রতি সমর্থন জানান। তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেয়া আগামীর নারী প্রেসেডিন্ট প্রার্থীকে। উপস্থিত জনতার মধ্যে বেশীরভাগই ছিলেন নারী।
বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা নিউইয়র্ক সিটিকে বেছে নেয়ার কারণ হচ্ছে ডেমোক্র্যাট বান্ধব নিউইয়র্ক। যেখানে বিভিন্ন ভাষাভাষীর নারী-পুরুষের অবস্থান বেশ শক্ত। যারা হিলারীকে প্রেসিডেন্টে হিসেবে দেখতে চান। হিলারীর প্রথম নির্বচানী জনসভায় উপস্থিত হওয়া অসংখ্য বাংলাদেশীর মধ্যে ছিলেন কমিউনিটি নেতা ওসমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা অভিভূত হিলারি অবশেষে মাঠে নেমেছেন। প্রচন্ড গরমে সবাই ঘামছিল। তবুও কেউ তাদের অবস্থান থেকে সরে যায়নি। হিলারির বক্তব্যে অভিবাসীদের মাঝে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশীসহ অসংখ্য অভিবাসী রয়েছেন যারা হিলারীকে চান। এছাড়াও নিউইয়র্কে প্রচুর পরিমাণ মহিলা ভোটার রয়েছেন যারার হিলারির জন্য হবেন টার্ণিং পয়েন্ট।’
এ বিষয়ে কথা বলেন, আরেক কমিউনিটি অ্যাক্টিভিটস ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমান্ডের চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ। তিনিও বলেন ‘ওবামা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে। আর হিলারি ক্লিনটনও আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’
বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী বলেন, ‘আমেরিকার ভঙ্গুর ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ওবামার নির্বাহী আদেশ রিপাবলিকানরা কার্যকরে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশা করছি হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে ওবামার মতই ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। অভিবাসী বান্ধব সব বিষয়ে তার অবস্থান থাকবে জোরালো।’
Hillary -Chelciaউল্লেখ্য, ৬৭ বছর বয়সী হিলারির এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর দ্বিতীয় দফা। এর আগেও হিলারি ক্লিনটন আট বছর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ছিলেন। বক্তৃতায় তিনি তার সব জাতি গোষ্ঠির প্রতি সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও করেন। যদিও এর আগে গেল মে মাসে নিউইয়র্কের ব্রকলীনে নির্বাচনী ক্যাম্পও প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক ফার্স্টলেডী। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় হিলারি : সব জাতি গোষ্ঠির সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার : কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

প্রকাশের সময় : ১১:১১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০১৫

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্টলেডি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়ন লাভের আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু করেছেন অভিবাসী বান্ধব নিউইয়র্ক সিটি থেকে। প্রথমবারের মত সিটির রুজভেল্ট আইল্যান্ড থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন হিলারি। নির্বাচনী প্রচারণায় তার সাথে ছিলেন মেয়ে চেলসি।
সাবেক ফার্স্টলেডী ও আগামীর ভাবী প্রেসিডেন্টকে বরণে শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকেই রুজভেল্ট এভিনিউতে জড়ো হতে থাকেন নিউইয়র্কের হাজার হাজার অধিবাসী। ছিলেন সাউথ এশিয়ান ও বাংলাদেশী মূলধারার রাজনীতিবিদরাও। পূর্ব ঘোষণা মতেই ঐদিন বেলা ১১.৪৫ মি. বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও তা শুরু করেন বেলা ১২টার দিকে।
Hillary 2নিউইয়র্কের রুজভেল্ট আইল্যান্ডে কয়েক হাজার সমর্থকদের সামনে হিলারি তাঁর প্রার্থিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। প্রচারণার প্রথম জনসভায় রিপাবলিকানদের কড়া সমালোচনা করে হিলারি বলেন, ‘রিপাবলিকানরা ধনীদের জন্য কাজ করে। তারা বৈষম্যে বিশ্বাসী। আমরা ধনী-গরিবের ব্যবধান কমিয়ে আনবো। সব জাতি-গোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করবো।’ হিলারির বক্তব্যের মাঝেই বারবার শ্লোগান ও হাততালি দিয়ে উপস্থিত হাজারো দশক-শ্রোতা তার প্রতি সমর্থন জানান। তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেয়া আগামীর নারী প্রেসেডিন্ট প্রার্থীকে। উপস্থিত জনতার মধ্যে বেশীরভাগই ছিলেন নারী।
বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা নিউইয়র্ক সিটিকে বেছে নেয়ার কারণ হচ্ছে ডেমোক্র্যাট বান্ধব নিউইয়র্ক। যেখানে বিভিন্ন ভাষাভাষীর নারী-পুরুষের অবস্থান বেশ শক্ত। যারা হিলারীকে প্রেসিডেন্টে হিসেবে দেখতে চান। হিলারীর প্রথম নির্বচানী জনসভায় উপস্থিত হওয়া অসংখ্য বাংলাদেশীর মধ্যে ছিলেন কমিউনিটি নেতা ওসমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা অভিভূত হিলারি অবশেষে মাঠে নেমেছেন। প্রচন্ড গরমে সবাই ঘামছিল। তবুও কেউ তাদের অবস্থান থেকে সরে যায়নি। হিলারির বক্তব্যে অভিবাসীদের মাঝে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশীসহ অসংখ্য অভিবাসী রয়েছেন যারা হিলারীকে চান। এছাড়াও নিউইয়র্কে প্রচুর পরিমাণ মহিলা ভোটার রয়েছেন যারার হিলারির জন্য হবেন টার্ণিং পয়েন্ট।’
এ বিষয়ে কথা বলেন, আরেক কমিউনিটি অ্যাক্টিভিটস ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমান্ডের চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ। তিনিও বলেন ‘ওবামা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে। আর হিলারি ক্লিনটনও আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’
বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী বলেন, ‘আমেরিকার ভঙ্গুর ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ওবামার নির্বাহী আদেশ রিপাবলিকানরা কার্যকরে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশা করছি হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে ওবামার মতই ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। অভিবাসী বান্ধব সব বিষয়ে তার অবস্থান থাকবে জোরালো।’
Hillary -Chelciaউল্লেখ্য, ৬৭ বছর বয়সী হিলারির এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর দ্বিতীয় দফা। এর আগেও হিলারি ক্লিনটন আট বছর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ছিলেন। বক্তৃতায় তিনি তার সব জাতি গোষ্ঠির প্রতি সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও করেন। যদিও এর আগে গেল মে মাসে নিউইয়র্কের ব্রকলীনে নির্বাচনী ক্যাম্পও প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক ফার্স্টলেডী। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)