নিউইয়র্ক ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

জাতির উদ্দেশ্যে ওবামার ভাষণ : ‘সন্ত্রাসবাদের সাথে আমেরিকান মুসলিমরা জড়িত নয়’ ॥ উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটি

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৫
  • / ৮২৮ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: অবশেষে দেশে বিরাজমান আই এস হুমকির ভীতি দুর করতে প্রকাশ্য জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পাঁচ পন্থায় সিরিয়া এবং ইরাকে আই এস দমন কৌশল ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি, অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে মুসলিম বিদ্বেশ ছড়ানো বন্ধে গণমাধ্যম’সহ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবীদদের কাছে বিশেষ অনুরোধ রাখেন প্রেসিডেন্ট। কিছু মুসলিম উগ্র সন্ত্রাসকে সমর্থক করছেন-এই সত্যকে মেনে নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নজরদারী বাড়ানো আর নির্মূলের ওয়াদা করেন তিনি।
ওয়াশিংটনস্থ ওভার অফিস থেকে ৬ ডিসেম্বর রোববার রাত ৮ টায় শুরু হওয়া দীর্ঘ ১৩ মিনিট ব্যাপী এ ভাষণে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান-বার্নাদিনোর সন্ত্রাসী হামলার ১৭জন নিহতের ঘটনাকে টেনে এনে বলেন, যে ভাবে অবাধে অস্ত্র বেচা-কেনা চলছে; তা বন্ধ করতে হবে। এসময়ে তিনি ওবামা আবারো অস্ত্র নিয়ন্ত্রন করে অভ্যন্তরীন হত্যাকান্ড বন্ধে তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ফ্রান্সের প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী জঙ্গি-সংগঠন আইএস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ লাখ মুসলিম অভিবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ঠিক সে সময়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাষণকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারি এসব মুসলিম নাগরিক ও অভিবাসীরা।
প্রেসিডেন্ট ওবামার যখন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন তখনই বিভিন্ন হোটেল ও অফিস আদালতে যে যেখানেই অবস্থান করছেন সবার নজর ছিল টিভি পর্দায়। আমেরিকার রাজনীতিতে বর্তমান সময়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা নানা সমালোচনার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন। একই সাথে আইএস এর হুমকি মোকাবেলায় তার প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে রিপাবলিকান শিবিরে।
জাতীয় ভাষণে কি কি ভাবে এবং পন্থায় উগ্র সন্ত্রাসীদের দমনে কাজ করছে তার সরকার; সেটা অবহিত করেন তিনি। এ সময়ে স্থলসেনা পাঠিয়ে আবারো যুদ্ধ শুরুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ও কথা বলেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার সান-র্বানাদিনোর ঘটনা টেনে এনে ওবামা বলেন, আমাদের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীন নজরদারী বৃদ্ধি হয়েছে। তাসফিন মালিকের মত নাগরিকরা যেন এ দেশে আর প্রবেশ না করতে পারে জন্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন তিনি। তবে, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকান মুসলিমরা যাতে কোন (হেট ক্রাইমের) বৈষম্যের শিকার কিংবা অনিরাপদ বোধ না করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা’সহ সবার প্রতি আহ্বান জানান বারাক ওবামা। তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে ঘিরে কোনভাবেই আমেরিকার সাথে ইসলাম কে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানো যাবে না। জানান, এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, লাখো আমেরিকান মুসলিম দেশের জন্য কাজ করছে। তাদের বেশিরভাগই এই দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তাই এর সাথে বিশেষ কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা বা তাদের কে বিভক্তির মধ্যে ঠেলে দেয়া যাবে না বলে সবাইকে জানিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট। তার মতে, আইএস’র মত জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো আমেরিকায় বিভেদ বাড়াতে সেটাই চায়।
এদিকে, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে মুসলিম বিদ্বেশী মনোভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজনৈতিক বিতর্কেও স্থান পাচ্ছে। রিপাবলিকান শীর্ষ প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, কেউ মানুক আর নাই মানুক, আমি বলবো, আমারা ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে যারা উগ্র,তাদের সাথে এখন যুদ্ধ করছি। ট্রাম্প নিজেকে একজন সুক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দাবী করে বলেন, তলে তলে আমেরিকাকে ধ্বংশ করতে অনেক কিছুই চলছে, এটা বিশ্বাস করতে হবে। অন্যদিকে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বেগবান করার আগে, আবারো ইসলাম এবং জিহাদী উগ্র ইসালামের ধারণাকে একত্রে গুলিয়ে না ফেলার জন্য আহবান জানালেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারী ক্লিনটন।
এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী বলেন, ৯/১১-এর ঘটনার পর আমাদের অনেকে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। বর্তমানে আবার আইএস উত্থানের তা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে। কিছু দিন আগে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গিকার করেছেন। আজকে খোদ প্রেসিডেন্ট ওবামা আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে করে আমাদের ভেতরে যে ভয় এবং আতঙ্ক কাজ করছিল তা অনেকটা প্রশমিত হয়েছে। একই ভাবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পাগল ও উন্মাদ আখ্যা দিয়ে; হিলারী তার যোগ্য জবাব দিবেন বলেও আশা করেন প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির নেতারা।
তবে, এমন এক সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে বিশ্ব ব্যাপী তোলপাড় চলছে; যখন আমেরিকান শীর্ষ রাজনীতিকরা আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এই সুযোগ নিচ্ছেন বলেও মনে করেন কেউ কেউ। তাদের মতে মুসলিমদের মাঝে আত্ববিশ্বাসের ঘাটতি কমাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

জাতির উদ্দেশ্যে ওবামার ভাষণ : ‘সন্ত্রাসবাদের সাথে আমেরিকান মুসলিমরা জড়িত নয়’ ॥ উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটি

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৫

নিউইয়র্ক: অবশেষে দেশে বিরাজমান আই এস হুমকির ভীতি দুর করতে প্রকাশ্য জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পাঁচ পন্থায় সিরিয়া এবং ইরাকে আই এস দমন কৌশল ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি, অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে মুসলিম বিদ্বেশ ছড়ানো বন্ধে গণমাধ্যম’সহ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবীদদের কাছে বিশেষ অনুরোধ রাখেন প্রেসিডেন্ট। কিছু মুসলিম উগ্র সন্ত্রাসকে সমর্থক করছেন-এই সত্যকে মেনে নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নজরদারী বাড়ানো আর নির্মূলের ওয়াদা করেন তিনি।
ওয়াশিংটনস্থ ওভার অফিস থেকে ৬ ডিসেম্বর রোববার রাত ৮ টায় শুরু হওয়া দীর্ঘ ১৩ মিনিট ব্যাপী এ ভাষণে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান-বার্নাদিনোর সন্ত্রাসী হামলার ১৭জন নিহতের ঘটনাকে টেনে এনে বলেন, যে ভাবে অবাধে অস্ত্র বেচা-কেনা চলছে; তা বন্ধ করতে হবে। এসময়ে তিনি ওবামা আবারো অস্ত্র নিয়ন্ত্রন করে অভ্যন্তরীন হত্যাকান্ড বন্ধে তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ফ্রান্সের প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী জঙ্গি-সংগঠন আইএস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ লাখ মুসলিম অভিবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ঠিক সে সময়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাষণকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারি এসব মুসলিম নাগরিক ও অভিবাসীরা।
প্রেসিডেন্ট ওবামার যখন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন তখনই বিভিন্ন হোটেল ও অফিস আদালতে যে যেখানেই অবস্থান করছেন সবার নজর ছিল টিভি পর্দায়। আমেরিকার রাজনীতিতে বর্তমান সময়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা নানা সমালোচনার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন। একই সাথে আইএস এর হুমকি মোকাবেলায় তার প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে রিপাবলিকান শিবিরে।
জাতীয় ভাষণে কি কি ভাবে এবং পন্থায় উগ্র সন্ত্রাসীদের দমনে কাজ করছে তার সরকার; সেটা অবহিত করেন তিনি। এ সময়ে স্থলসেনা পাঠিয়ে আবারো যুদ্ধ শুরুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ও কথা বলেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার সান-র্বানাদিনোর ঘটনা টেনে এনে ওবামা বলেন, আমাদের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীন নজরদারী বৃদ্ধি হয়েছে। তাসফিন মালিকের মত নাগরিকরা যেন এ দেশে আর প্রবেশ না করতে পারে জন্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন তিনি। তবে, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকান মুসলিমরা যাতে কোন (হেট ক্রাইমের) বৈষম্যের শিকার কিংবা অনিরাপদ বোধ না করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা’সহ সবার প্রতি আহ্বান জানান বারাক ওবামা। তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে ঘিরে কোনভাবেই আমেরিকার সাথে ইসলাম কে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানো যাবে না। জানান, এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, লাখো আমেরিকান মুসলিম দেশের জন্য কাজ করছে। তাদের বেশিরভাগই এই দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তাই এর সাথে বিশেষ কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা বা তাদের কে বিভক্তির মধ্যে ঠেলে দেয়া যাবে না বলে সবাইকে জানিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট। তার মতে, আইএস’র মত জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো আমেরিকায় বিভেদ বাড়াতে সেটাই চায়।
এদিকে, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে মুসলিম বিদ্বেশী মনোভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজনৈতিক বিতর্কেও স্থান পাচ্ছে। রিপাবলিকান শীর্ষ প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, কেউ মানুক আর নাই মানুক, আমি বলবো, আমারা ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে যারা উগ্র,তাদের সাথে এখন যুদ্ধ করছি। ট্রাম্প নিজেকে একজন সুক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দাবী করে বলেন, তলে তলে আমেরিকাকে ধ্বংশ করতে অনেক কিছুই চলছে, এটা বিশ্বাস করতে হবে। অন্যদিকে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বেগবান করার আগে, আবারো ইসলাম এবং জিহাদী উগ্র ইসালামের ধারণাকে একত্রে গুলিয়ে না ফেলার জন্য আহবান জানালেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারী ক্লিনটন।
এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী বলেন, ৯/১১-এর ঘটনার পর আমাদের অনেকে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। বর্তমানে আবার আইএস উত্থানের তা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে। কিছু দিন আগে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গিকার করেছেন। আজকে খোদ প্রেসিডেন্ট ওবামা আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে করে আমাদের ভেতরে যে ভয় এবং আতঙ্ক কাজ করছিল তা অনেকটা প্রশমিত হয়েছে। একই ভাবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পাগল ও উন্মাদ আখ্যা দিয়ে; হিলারী তার যোগ্য জবাব দিবেন বলেও আশা করেন প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির নেতারা।
তবে, এমন এক সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে বিশ্ব ব্যাপী তোলপাড় চলছে; যখন আমেরিকান শীর্ষ রাজনীতিকরা আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এই সুযোগ নিচ্ছেন বলেও মনে করেন কেউ কেউ। তাদের মতে মুসলিমদের মাঝে আত্ববিশ্বাসের ঘাটতি কমাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)