নিউইয়র্ক ১১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ই-মেইল বিতর্কে হিলারি

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০১৫
  • / ৫৬৭ বার পঠিত

ঢাকা: ই-মেইল কেলেঙ্কারি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এক রিপাবলিকানদলীয় আইনপ্রণেতা। হিলারি ক্লিনটনের সমালোচক বলে পরিচিত ওই রিপাবলিকান নেতা বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে সরকারি কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের বিষয়ে তিনি এপ্রিলের মধ্যে হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য নিতে চান। উল্লেখ্য, ধারণা করা হচ্ছিল, ওই সময়ই ২০১৬ সালে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দল থেকে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন হিলারি ক্লিনটন। ট্রে গৌডি নামের সাউথ ক্যারোলিনার ওই রিপাবলিকান দলীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য বলেছেন, আমি চাই এপ্রিলের মধ্যে এ কাজ (হিলারির সাক্ষ্য গ্রহণ) শেষ করতে।
ট্রে গৌডি ২০১২ সালে লিবিয়ার বেনগাজিতে ইউএস দূতাবাসে হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কংগ্রেসের একটি কমিটির প্রধান। ওই হামলায় লিবিয়ায় তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিহত হয়েছিলেন। তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ নিয়ে রিপাবলিকানদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এমএসএনবিসিকে ট্রে বলেন, দেরি হবার আগেই তিনি ই-মেইল কেলেঙ্কারির বিষয়ে হিলারির কাছ থেকে উত্তর চান। অভিযোগ উঠেছে, হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে সরকারি ই-মেইল ব্যাহারের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ই-মেইল ও তার নিউইয়র্কের বাড়িতে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করতেন। কিন্তু ট্রে গৌডি যে সময়ে হিলারির সাক্ষ্য নিতে চান, ঠিক সে সময়েই ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে হিলারি নিজের অবস্থান জানাবেন। ডেমোক্রেট নেতাদের মধ্যে হিলারিই নির্বাচনে প্রার্থিতা লাভের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছেন। ডেমোক্রেট সূত্রগুলো বলছিল, এপ্রিলের দিকে এ বিষয়ে নিজের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন তিনি। তার উপদেষ্টারা ভাবছিলেন, এ ঘোষণা সামনের গ্রীষ্ম পর্যন্ত দেয়া হবে না। কিন্তু ই-মেইল বিতর্ক শুরু হওয়ায় ঘোষণার সময় আগে নিয়ে আসতে হবে বলে ধারণা করছেন অনেক ডেমোক্রেট। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলে, হিলারি ক্লিনটন বেশি প্রস্তুত নেয়ার সময় পাবেন বলে তাদের ধারণা।
উল্লেখ্য, সরকারী ই-মেইল ব্যবহার না করা নিয়ে রিপাবলিকানদের তোপের মুখে রয়েছেন হিলারি। কিন্তু তার মতে, নিজের সুবিধার জন্যই একটি ই-মেইল ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সমালোচকরা এতে সন্তুষ্ট নন। তাদের অনেকে বলছেন, হিলারি স্বচ্ছতা এড়িয়ে চলেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছেন। রিপাবলিকান দলীয় সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সিনেটর র‌্যান্ড পল ১১ মার্চ বুধবার বলেছেন, হিলারি ক্লিনটন ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে জাতীয় নিরাপত্তা ও অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যসমূহ ঝুঁকিতে ফেলেছেন।
এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি হিলারির বিষয়কে ইঙ্গিত করে বলেন, আমার বিশ্বাস করার অনুভূতি কিছুটা লোপ পেয়েছে। তবে হিলারি নিজের ৫৫ হাজার ই-মেইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তাস্তর করেছেন। এসব পর্যালোচনা করতে কয়েক মাস সময় লাগবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা বেনগাজি হামলা নিয়ে গঠিত প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির কাছে ৩০০টি ই-মেইল সরবরাহ করেছে। কিন্তু ওই কমিটির প্রধান ট্রে গৌডি এরপরও বলছেন, ফাঁকফোকর এখনও বিদ্যমান। এছাড়া হিলারির ব্যক্তিগত কমিপউটার সার্ভার রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ১০ মার্চ ক্লিনটন বলেছেন, তিনি সার্ভার নিজের কাছেই রেখে দেবেন। কেননা, সেখানে তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে আদান-প্রদান হওয়া তথ্য রয়েছে। এছাড়াও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিছু ব্যক্তিগত ই-মেইল তিনি মুছে ফেলেছেন। আবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এ সপ্তাহে প্রকাশিত একটি খবর অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিল ক্লিনটন কখনই আর ই-মেইল ব্যবহার করেননি। ট্রে গৌডি বলেছেন, সার্ভারটি হস্তান্তরে ক্লিনটনকে বাধ্য করতে এখতিয়ার রাখে না তার কমিটি। কিন্তু পুরো প্রতিনিধি পরিষদ চাইলে তা সম্ভব।(দৈনিক মানবজমিন)

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ই-মেইল বিতর্কে হিলারি

প্রকাশের সময় : ১২:৫১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০১৫

ঢাকা: ই-মেইল কেলেঙ্কারি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এক রিপাবলিকানদলীয় আইনপ্রণেতা। হিলারি ক্লিনটনের সমালোচক বলে পরিচিত ওই রিপাবলিকান নেতা বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে সরকারি কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের বিষয়ে তিনি এপ্রিলের মধ্যে হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য নিতে চান। উল্লেখ্য, ধারণা করা হচ্ছিল, ওই সময়ই ২০১৬ সালে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দল থেকে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন হিলারি ক্লিনটন। ট্রে গৌডি নামের সাউথ ক্যারোলিনার ওই রিপাবলিকান দলীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য বলেছেন, আমি চাই এপ্রিলের মধ্যে এ কাজ (হিলারির সাক্ষ্য গ্রহণ) শেষ করতে।
ট্রে গৌডি ২০১২ সালে লিবিয়ার বেনগাজিতে ইউএস দূতাবাসে হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কংগ্রেসের একটি কমিটির প্রধান। ওই হামলায় লিবিয়ায় তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিহত হয়েছিলেন। তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ নিয়ে রিপাবলিকানদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এমএসএনবিসিকে ট্রে বলেন, দেরি হবার আগেই তিনি ই-মেইল কেলেঙ্কারির বিষয়ে হিলারির কাছ থেকে উত্তর চান। অভিযোগ উঠেছে, হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে সরকারি ই-মেইল ব্যাহারের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ই-মেইল ও তার নিউইয়র্কের বাড়িতে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করতেন। কিন্তু ট্রে গৌডি যে সময়ে হিলারির সাক্ষ্য নিতে চান, ঠিক সে সময়েই ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে হিলারি নিজের অবস্থান জানাবেন। ডেমোক্রেট নেতাদের মধ্যে হিলারিই নির্বাচনে প্রার্থিতা লাভের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছেন। ডেমোক্রেট সূত্রগুলো বলছিল, এপ্রিলের দিকে এ বিষয়ে নিজের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন তিনি। তার উপদেষ্টারা ভাবছিলেন, এ ঘোষণা সামনের গ্রীষ্ম পর্যন্ত দেয়া হবে না। কিন্তু ই-মেইল বিতর্ক শুরু হওয়ায় ঘোষণার সময় আগে নিয়ে আসতে হবে বলে ধারণা করছেন অনেক ডেমোক্রেট। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলে, হিলারি ক্লিনটন বেশি প্রস্তুত নেয়ার সময় পাবেন বলে তাদের ধারণা।
উল্লেখ্য, সরকারী ই-মেইল ব্যবহার না করা নিয়ে রিপাবলিকানদের তোপের মুখে রয়েছেন হিলারি। কিন্তু তার মতে, নিজের সুবিধার জন্যই একটি ই-মেইল ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সমালোচকরা এতে সন্তুষ্ট নন। তাদের অনেকে বলছেন, হিলারি স্বচ্ছতা এড়িয়ে চলেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছেন। রিপাবলিকান দলীয় সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সিনেটর র‌্যান্ড পল ১১ মার্চ বুধবার বলেছেন, হিলারি ক্লিনটন ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে জাতীয় নিরাপত্তা ও অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যসমূহ ঝুঁকিতে ফেলেছেন।
এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি হিলারির বিষয়কে ইঙ্গিত করে বলেন, আমার বিশ্বাস করার অনুভূতি কিছুটা লোপ পেয়েছে। তবে হিলারি নিজের ৫৫ হাজার ই-মেইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তাস্তর করেছেন। এসব পর্যালোচনা করতে কয়েক মাস সময় লাগবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা বেনগাজি হামলা নিয়ে গঠিত প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির কাছে ৩০০টি ই-মেইল সরবরাহ করেছে। কিন্তু ওই কমিটির প্রধান ট্রে গৌডি এরপরও বলছেন, ফাঁকফোকর এখনও বিদ্যমান। এছাড়া হিলারির ব্যক্তিগত কমিপউটার সার্ভার রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ১০ মার্চ ক্লিনটন বলেছেন, তিনি সার্ভার নিজের কাছেই রেখে দেবেন। কেননা, সেখানে তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে আদান-প্রদান হওয়া তথ্য রয়েছে। এছাড়াও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিছু ব্যক্তিগত ই-মেইল তিনি মুছে ফেলেছেন। আবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এ সপ্তাহে প্রকাশিত একটি খবর অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিল ক্লিনটন কখনই আর ই-মেইল ব্যবহার করেননি। ট্রে গৌডি বলেছেন, সার্ভারটি হস্তান্তরে ক্লিনটনকে বাধ্য করতে এখতিয়ার রাখে না তার কমিটি। কিন্তু পুরো প্রতিনিধি পরিষদ চাইলে তা সম্ভব।(দৈনিক মানবজমিন)