নিউইয়র্ক ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

সিয়াম সাধনার রমজান মাসে ইফতারীতে অপচয়! সংযম প্রয়োজন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০১৫
  • / ৬০১ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: সিয়াম সাধনার মাস রমজান। আতœশুদ্ধির মাস রমজান। সংযমের মাস রমজান। গত ১৮ জুন থেকে নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় একই দিন পবিত্র রোজা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই রহমতের রোজা হিসেবে মাসব্যাপী রমজানের ১০ রোজা অতিবাহিত হলো। এর পরের ১০ রোজা মাগফিরাতের জন্য আর শেষের ১০ রোজা নাজতের। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বাংলাদেশীসহ পুরো মুসলিম কমিউনিটিতে ধর্মীয় আবহ বিরাজ করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আর সামাজিক সংগঠনগুলোর আয়োজনে চলছে ইফতার পার্টি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে ইফতারের জন্য তৈরী নানা খাবার অপচয় হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা দেখেও না দেখার ভান করছেন, আবার কেউ বুঝেও না বুঝার ভান করছেন। অপরদিকে ইফতারীর অপচয়ে বিব্রতবোধ করছেন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ। তারা বলছেন, গতানুগতিক ধারার ইফতার পার্টির আয়োজন না করে, ইফতারের অপচয় রোধে খাবার পরিবেশনে নতুন ধারা সৃষ্টি করা যেতে পারে। তারা মনে করেন ইফতারী পরিবেশনে প্যাকেট সরবরাহ না করে বুফে পদ্ধতি অনুসরণ করলে খাবার অনেকটা অপচয় রোধ সম্ভব হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি রমজান মাসে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ব্যক্তি উদ্যোগ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে অন্তত তিন শতাধিক ইফতার পার্টির আয়োজন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সংগঠনের ইফতার পার্টি সম্পন্ন হয়েছে। সপ্তাহের উইকেন্ড শনি ও রোববার ছাড়াও উইক ডে-তেও ইফতার পার্টির আয়োজন হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি ইফতার পার্টিতে ১০০ থেকে ৩০০ লোকের জন্য ইফতারীর আয়োজন হচ্ছে। আর এই আয়োজনে প্যাকেট প্রতি ৬-১০ ডলার আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ২৫ ডলার ব্যয় হচ্ছে। এর বাইরেও আন্যান্য প্রয়োজনে জনপ্রতি গড়ে আরো ২/৩ ডলার ব্যয় হচ্ছে। ফলে ইফতার পার্টিগুলোতে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইফতার পার্টিগুলোতে সাধারণত প্যাকেট খবার পরিবেশিত হচ্ছে। এসব প্যাকেটে ৮-১২, ক্ষেত্র বিশেষে ১০-১৫ আইটেমের খাবার থাকছে। অনেক রেষ্টুরেষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যবসার স্বার্থে আর ক্রেতাদের নজর কাড়তে ইফতারী বক্সে খাবারের আইটেম বাড়ানোর এক প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ফলে ইফতারীর প্যাকেট বক্সে পরিবেশিত খাবারের আইটেমগুলো এতো বেশী হয়ে যাচ্ছে যা অনেক রোজাদারের পক্ষেই খাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে অনেক খাবার অপচয় হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, কেউ ফল খাচ্ছেন তো, বুট-মুড়ি-ছোলা-পিয়াজুঁ খাচ্ছেন না, আবার কেউ বুট-মুড়ি-ছোলা-পিয়াজুঁ খাচ্ছেন তো, ফল খাচ্ছেন না। আবার কেউ বা খিচুরী-বিরীয়ানী খাচ্ছেন, আবার কেউ খাচ্ছেন না। অনেকে আবার কলা-জিলাপী খাচ্ছেন, আবার কেউ খাচ্ছেন না। আবার অরেক খাবারেই অতিমাত্রায় বেসন ব্যবহার করায় লঙ্কা সহ এজাতীয় খাবার কেউই খাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে অনেক খাবার নষ্ট বা অপচয় হচ্ছে।
পবিত্র রমজান মাসে ইফতারীর অপচয় রোধে সচেতন রোজাদাররা গতানুগতিক ধারার ইফতার পার্টির আয়োজন না করে, ইফতারের খাবার পরিবেশনে নতুন ধারা সৃষ্টি করার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা মনে করেন ইফতারী পরিবেশনে প্যাকেট সরবরাহ না করে বুফে পদ্ধতি অনুসরণ করলে খাবার অনেকটা অপচয় রোধ সম্ভব হবে। এই পদ্ধতিতে যার যেটা খেতে ইচ্ছে করবে সে তাই নেবেন এবং খাবেন। তারা বলেন, খাবারের চাহিদা আর রুচি একেকজনের কাছে একক রকম। তাই বুফে পদ্ধতি বা এমন জাতীয় নিয়মে খাবার পরিবেশিত হলে একদিকে যেমন ইফতারী নষ্ট বা অপচয় কম হবে, অন্যদিকে রুচির বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে।
এদিকে কোন কোন রেষ্টুরেন্টে আবার আগের দিনের বাসী খাবার বিশেষ করে বুট-পিয়াজুঁ, হালিম, খিচুরী, বিরিয়ানী বা জিলাপী পরিবেশনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে দুটো ইফতার পার্টিতে বাসী খাবার পরিবেশিত হওয়ায় রোজাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। (সাপ্তাহিক পরিচয়)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

সিয়াম সাধনার রমজান মাসে ইফতারীতে অপচয়! সংযম প্রয়োজন

প্রকাশের সময় : ১২:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০১৫

নিউইয়র্ক: সিয়াম সাধনার মাস রমজান। আতœশুদ্ধির মাস রমজান। সংযমের মাস রমজান। গত ১৮ জুন থেকে নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় একই দিন পবিত্র রোজা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই রহমতের রোজা হিসেবে মাসব্যাপী রমজানের ১০ রোজা অতিবাহিত হলো। এর পরের ১০ রোজা মাগফিরাতের জন্য আর শেষের ১০ রোজা নাজতের। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বাংলাদেশীসহ পুরো মুসলিম কমিউনিটিতে ধর্মীয় আবহ বিরাজ করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আর সামাজিক সংগঠনগুলোর আয়োজনে চলছে ইফতার পার্টি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে ইফতারের জন্য তৈরী নানা খাবার অপচয় হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা দেখেও না দেখার ভান করছেন, আবার কেউ বুঝেও না বুঝার ভান করছেন। অপরদিকে ইফতারীর অপচয়ে বিব্রতবোধ করছেন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ। তারা বলছেন, গতানুগতিক ধারার ইফতার পার্টির আয়োজন না করে, ইফতারের অপচয় রোধে খাবার পরিবেশনে নতুন ধারা সৃষ্টি করা যেতে পারে। তারা মনে করেন ইফতারী পরিবেশনে প্যাকেট সরবরাহ না করে বুফে পদ্ধতি অনুসরণ করলে খাবার অনেকটা অপচয় রোধ সম্ভব হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি রমজান মাসে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ব্যক্তি উদ্যোগ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে অন্তত তিন শতাধিক ইফতার পার্টির আয়োজন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সংগঠনের ইফতার পার্টি সম্পন্ন হয়েছে। সপ্তাহের উইকেন্ড শনি ও রোববার ছাড়াও উইক ডে-তেও ইফতার পার্টির আয়োজন হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি ইফতার পার্টিতে ১০০ থেকে ৩০০ লোকের জন্য ইফতারীর আয়োজন হচ্ছে। আর এই আয়োজনে প্যাকেট প্রতি ৬-১০ ডলার আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ২৫ ডলার ব্যয় হচ্ছে। এর বাইরেও আন্যান্য প্রয়োজনে জনপ্রতি গড়ে আরো ২/৩ ডলার ব্যয় হচ্ছে। ফলে ইফতার পার্টিগুলোতে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইফতার পার্টিগুলোতে সাধারণত প্যাকেট খবার পরিবেশিত হচ্ছে। এসব প্যাকেটে ৮-১২, ক্ষেত্র বিশেষে ১০-১৫ আইটেমের খাবার থাকছে। অনেক রেষ্টুরেষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যবসার স্বার্থে আর ক্রেতাদের নজর কাড়তে ইফতারী বক্সে খাবারের আইটেম বাড়ানোর এক প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ফলে ইফতারীর প্যাকেট বক্সে পরিবেশিত খাবারের আইটেমগুলো এতো বেশী হয়ে যাচ্ছে যা অনেক রোজাদারের পক্ষেই খাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে অনেক খাবার অপচয় হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, কেউ ফল খাচ্ছেন তো, বুট-মুড়ি-ছোলা-পিয়াজুঁ খাচ্ছেন না, আবার কেউ বুট-মুড়ি-ছোলা-পিয়াজুঁ খাচ্ছেন তো, ফল খাচ্ছেন না। আবার কেউ বা খিচুরী-বিরীয়ানী খাচ্ছেন, আবার কেউ খাচ্ছেন না। অনেকে আবার কলা-জিলাপী খাচ্ছেন, আবার কেউ খাচ্ছেন না। আবার অরেক খাবারেই অতিমাত্রায় বেসন ব্যবহার করায় লঙ্কা সহ এজাতীয় খাবার কেউই খাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে অনেক খাবার নষ্ট বা অপচয় হচ্ছে।
পবিত্র রমজান মাসে ইফতারীর অপচয় রোধে সচেতন রোজাদাররা গতানুগতিক ধারার ইফতার পার্টির আয়োজন না করে, ইফতারের খাবার পরিবেশনে নতুন ধারা সৃষ্টি করার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা মনে করেন ইফতারী পরিবেশনে প্যাকেট সরবরাহ না করে বুফে পদ্ধতি অনুসরণ করলে খাবার অনেকটা অপচয় রোধ সম্ভব হবে। এই পদ্ধতিতে যার যেটা খেতে ইচ্ছে করবে সে তাই নেবেন এবং খাবেন। তারা বলেন, খাবারের চাহিদা আর রুচি একেকজনের কাছে একক রকম। তাই বুফে পদ্ধতি বা এমন জাতীয় নিয়মে খাবার পরিবেশিত হলে একদিকে যেমন ইফতারী নষ্ট বা অপচয় কম হবে, অন্যদিকে রুচির বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে।
এদিকে কোন কোন রেষ্টুরেন্টে আবার আগের দিনের বাসী খাবার বিশেষ করে বুট-পিয়াজুঁ, হালিম, খিচুরী, বিরিয়ানী বা জিলাপী পরিবেশনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে দুটো ইফতার পার্টিতে বাসী খাবার পরিবেশিত হওয়ায় রোজাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। (সাপ্তাহিক পরিচয়)