নিউইয়র্ক ০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

সিটির পাবলিক স্কুলগুলে ছুটির দাবীতে সিটি হলের সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ : স্মারকলিপি পেশ

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৫
  • / ৫২৭ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: হিন্দু ধর্ম সম্প্রদায়ের প্রধান তিন উৎসব দিওয়ালী, জন্মাষ্টমি ও দূর্গাপূজার দশমি’তে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোয় ‘হিন্দু ধর্মীয়’ ছুটির দাবীতে ম্যানহাটানাস্থ সিটিহলের সামনে র‌্যালি ও সমাবেশ করেছে হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠন। নিউইয়র্কসহ ট্রাইষ্টেট এলকার সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নর-নারী এই সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা। ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এই সমাবেশ চলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নানা ধর্ম ও ভাষাভাষির শহর এই নিউইর্কে প্রায় দশ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাস। যাদের বেশীরভাগই দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান থেকে এসেছেন। খ্রিশ্চিয়ান, জুইশ কিংবা অতিসম্প্রতি মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে, সিটির পাবলিক স্কুলগুলোয় ছুটি ঘোষণা করা হলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কোনো ছুটি নেই। আর তাই হিন্দু ধর্মের প্রধান তিন উৎসব দিওয়ালী, জন্মাস্টমি ও দূর্গাপূজার দশমী’তে, সিটির পাবলিক স্কুলগুলোয় ছুটির দাবীতে এই র‌্যালির আয়োজন করে নিউইয়র্কের সকল হিন্দু ধর্মীয় ও অন্যান্য সংগঠন।
র‌্যালী ও সমাবেশে যোগদানকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিলো: আমেরিকান হিন্দু কাউন্সিল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ব খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ পূজা সমিতি, মহামায়া মন্দির, সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, ইউএসএ ইনক, শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ, শ্রীমদ্ভগবত গীতা সংঘ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ব্রঙ্কস পূজা কমিটি, সনাতনী পূজা কমিটি, ব্রঙ্কস, সনাতনী সেবা সংঘ ব্রঙ্কস, রাধাকৃষ্ণ সেবক সংঘ ব্রঙ্কস, শ্রীগুরু সংঘ, ওম শক্তি মন্দির, গৌড়-নিতাই টেম্পল ব্রুকলীন, বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির, বেদান্ত এসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক, হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ইন্টারন্যাশানাল মতুয়া মিশন ইনক, ইসকন, গুরুচক্র, সনাতন সেবাশ্রম ফাউন্ডেশন, হরিনাম সংঘ নিউইয়র্ক, অনির্বান ইউএসএ, রাধাকৃষ্ণ সম্প্রদায় নিউজার্সী, মহানাম সেবক সংঘ, রাধাকৃষ্ণ সম্প্রদায়, কলেজ পয়েন্ট, রাধামাধব মন্দির ব্রুকলীন, ইস্টকোস্ট দুর্গাপূজা এসোসিয়েশন, হিন্দুজ অব আমেরিকা, জাস্টিস ফর হিন্দুজ, বেদান্ত স্টাডি ও ফিলাস্থপিক সোসাইটি, নর্থ আমেরিকা হিন্দু কল্যাণ পরিষদ, বাবা লোকনাথ মিশন অব নিউইয়র্ক, হরিনাম সংঘ নিউইয়র্ক প্রভৃতি।
র‌্যালিতে অংশ নেয়া বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা জানান, নিউইয়র্কের বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মের, ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ছুটি থাকলেও হিন্দু ধর্মের প্রধান প্রধান উৎসবগুলোতে, পাবলিক স্কুলে কোনো ছুটি থাকেনা। অথচ প্রায় ১ মিলিয়ন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাস এই নিউইয়র্কে। তাই যোক্তিকভাবেই সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিও প্রশাসনের কাছে তারা, দিওয়ালী, জন্মাস্টমি ও দূর্গাপূজার দশমীতে ছুটি ঘোষণার দাবী জানাচ্ছেন।
সমাবেশের পর মেয়র বিল ডি ব্লাসিও’র কাছে একটি স্মারক লিপিও দেন তারা। স্মারকলিপিতে তিন উৎসবে সিটির স্কুলগুলোয় ছুটির আবেদন জানানো হয়। তাদের এই দাবীর পক্ষে প্রায় তিনশ লোকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে সিটি প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন র‌্যালির আয়োজক কমিটি। উল্লেখ্য, এই র‌্যালী ও সমাবেশ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন শিতাংশু গুহ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

সিটির পাবলিক স্কুলগুলে ছুটির দাবীতে সিটি হলের সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ : স্মারকলিপি পেশ

প্রকাশের সময় : ১১:৪৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৫

নিউইয়র্ক: হিন্দু ধর্ম সম্প্রদায়ের প্রধান তিন উৎসব দিওয়ালী, জন্মাষ্টমি ও দূর্গাপূজার দশমি’তে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোয় ‘হিন্দু ধর্মীয়’ ছুটির দাবীতে ম্যানহাটানাস্থ সিটিহলের সামনে র‌্যালি ও সমাবেশ করেছে হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠন। নিউইয়র্কসহ ট্রাইষ্টেট এলকার সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নর-নারী এই সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা। ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এই সমাবেশ চলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নানা ধর্ম ও ভাষাভাষির শহর এই নিউইর্কে প্রায় দশ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাস। যাদের বেশীরভাগই দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান থেকে এসেছেন। খ্রিশ্চিয়ান, জুইশ কিংবা অতিসম্প্রতি মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে, সিটির পাবলিক স্কুলগুলোয় ছুটি ঘোষণা করা হলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কোনো ছুটি নেই। আর তাই হিন্দু ধর্মের প্রধান তিন উৎসব দিওয়ালী, জন্মাস্টমি ও দূর্গাপূজার দশমী’তে, সিটির পাবলিক স্কুলগুলোয় ছুটির দাবীতে এই র‌্যালির আয়োজন করে নিউইয়র্কের সকল হিন্দু ধর্মীয় ও অন্যান্য সংগঠন।
র‌্যালী ও সমাবেশে যোগদানকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিলো: আমেরিকান হিন্দু কাউন্সিল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ব খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ পূজা সমিতি, মহামায়া মন্দির, সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, ইউএসএ ইনক, শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ, শ্রীমদ্ভগবত গীতা সংঘ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ব্রঙ্কস পূজা কমিটি, সনাতনী পূজা কমিটি, ব্রঙ্কস, সনাতনী সেবা সংঘ ব্রঙ্কস, রাধাকৃষ্ণ সেবক সংঘ ব্রঙ্কস, শ্রীগুরু সংঘ, ওম শক্তি মন্দির, গৌড়-নিতাই টেম্পল ব্রুকলীন, বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির, বেদান্ত এসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক, হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ইন্টারন্যাশানাল মতুয়া মিশন ইনক, ইসকন, গুরুচক্র, সনাতন সেবাশ্রম ফাউন্ডেশন, হরিনাম সংঘ নিউইয়র্ক, অনির্বান ইউএসএ, রাধাকৃষ্ণ সম্প্রদায় নিউজার্সী, মহানাম সেবক সংঘ, রাধাকৃষ্ণ সম্প্রদায়, কলেজ পয়েন্ট, রাধামাধব মন্দির ব্রুকলীন, ইস্টকোস্ট দুর্গাপূজা এসোসিয়েশন, হিন্দুজ অব আমেরিকা, জাস্টিস ফর হিন্দুজ, বেদান্ত স্টাডি ও ফিলাস্থপিক সোসাইটি, নর্থ আমেরিকা হিন্দু কল্যাণ পরিষদ, বাবা লোকনাথ মিশন অব নিউইয়র্ক, হরিনাম সংঘ নিউইয়র্ক প্রভৃতি।
র‌্যালিতে অংশ নেয়া বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা জানান, নিউইয়র্কের বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মের, ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ছুটি থাকলেও হিন্দু ধর্মের প্রধান প্রধান উৎসবগুলোতে, পাবলিক স্কুলে কোনো ছুটি থাকেনা। অথচ প্রায় ১ মিলিয়ন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাস এই নিউইয়র্কে। তাই যোক্তিকভাবেই সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিও প্রশাসনের কাছে তারা, দিওয়ালী, জন্মাস্টমি ও দূর্গাপূজার দশমীতে ছুটি ঘোষণার দাবী জানাচ্ছেন।
সমাবেশের পর মেয়র বিল ডি ব্লাসিও’র কাছে একটি স্মারক লিপিও দেন তারা। স্মারকলিপিতে তিন উৎসবে সিটির স্কুলগুলোয় ছুটির আবেদন জানানো হয়। তাদের এই দাবীর পক্ষে প্রায় তিনশ লোকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে সিটি প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন র‌্যালির আয়োজক কমিটি। উল্লেখ্য, এই র‌্যালী ও সমাবেশ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন শিতাংশু গুহ।