নিউইয়র্ক ১১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে : নিউইয়র্কে মতবিনিময় সভায় আইজিপি শহীদুল হক

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০১৫
  • / ৭৯১ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: সৌদি আরব ও দুবাই সফর শেষে স্ব-স্ত্রীক নিউইয়র্ক সফর করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক-(আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ৩১ মে রোববার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার তাজমহল পার্টি হলে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। আওয়ামী ঘরানার যুব কমান্ডের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন সাঈদ রহমান মান্নান, বেদারুল ইসলাম বাবলা, আইরিন পারভীন, কমান্ডার নুরন্নবী’সহ স্বাধীনতা পক্ষের শক্তির দাবিদার প্রবাসী ব্যবসায়ী, কমিউিনটি নেতা’সহ বিশিষ্টজনেরা।
মতবিনিময় সভা হলেও অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শককে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোন সুযোগ ছিলনা। আইজিপির বক্তব্যের আগেই আয়োজকদের মধ্যে থেকে প্রশ্ন করতে বারণ করা হয়। সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের পরিচয় পর্বে শেষে রাত ৯.১০ মি. বক্তব্য শুরু করেন আইজিপি। আর শেষ করেন ১০.৪৫ মি. এ। এসময়ে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা শ্লোগানে শ্লোগানে আইজপিকে স্বাধুবাদ জানান। বক্তব্যের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান তুলে ধরেন আইজিপি। এছাড়াও প্রবাসীদের কল্যাণে একটি বিশেষ সেল গঠনের আশ্বাসও দেন। যাতে করে দেশ ভ্রমণে বিমানবন্দর তথা কোথাও কোন সমস্যায় পড়তে না হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে দাবি করে আইজিপি বলেন, ‘অনেকে বলেন দেশে হিউম্যান রাইটস নাই, মানবাধিকার নাই। এসব প্রপাগান্ডা। বরং বাংলাদেশে বতর্মানে অনেক ভালো মানবাধিকার ভোগ করছে জনগণ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থকেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে যাচ্ছে। আর তা বাস্তবায়ন করছে পুলিশ। যারা বলছে দেশে আইনের শাসন নাই তারা মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই যে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হয়েছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের বিচারও আইনী প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ চাইলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের ‘টার্গেট কিলিং’ করে মেরে ফেলতে পারতো। কি বলেন পারতো না? এসব টার্গেট কিলিং কিন্তু কোন ব্যাপার ছিলনা। কিন্তু তা না করে আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করে তাদের রায় কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।’
দেশের বিরুদ্ধে বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, ‘এরা লবিস্ট বসিয়ে অর্থ দিয়ে, স্টেটমেন্ট দিয়ে দেশে লোক পাঠাচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে আপনাদের। কারণ আপনারা প্রবাসীরাই হচ্ছেন প্রত্যেকে দেশের একজন কূটনীতিক/রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশ আপনাদের কাছে নাড়ীর টানের মত। তাই দেশকে ভালবাসুন। দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হউন। আপনার অনৈক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের হয়ে কাজ করবেন’।
দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান তুলে ধরে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘২০০৯ সালের পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সর্বক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি’র লক্ষ্যমাত্র) অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যা আপনাদের মত প্রবাসীদের অবদান। বিদ্যুৎ ও খ্যাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ দেশ। একসময়ে উত্তর বঙ্গে মঙ্গার কথা শোনা যেতো। এখন আর কী এসব শোনা যায়? না যায় না। কারণ এখন বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানিও করছে। আপনার অতীতের পরিসংখ্যান দেখলেই সব বুঝতে পারবেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ‘আজকে আপনারা দেখেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিপ্লোমেসী এফিসিয়েন্সি (কূটনৈতিক দক্ষতা) দীর্ঘ বছরের অমীমাংসিত ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সমুদ্র বিজয়, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ’সহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। এছাড়াও রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ সর্বক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি।’
বাংলাদেশ উন্নয়নের দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী একটি মডেল রাষ্ট্র। এই যে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের বৈরীতা থাকলেও তারাও স্বীকার করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্বয়ং সম্পূর্ণ ও সন্ত্রাসী মোকাবেলায় অনেক এগিয়েছে। আমাদের দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূততো সবখানে এসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন।
প্রতিটি কথার পরপরই করতালি দিয়ে আইজিপিকে সাধুবাদ জানান উপস্থিত প্রবাসীরা। দায়িত্ব পালনে পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে শহীদুল হক জানান, ‘পুলিশ সবার কাছে তো দুরের কথা পরিবারের কাছেও প্রিয় ব্যক্তি নন। এই যে আমার স্ত্রী আপনাদের সামনে বসা। তিনিও আমাকে নানা অভিযোগ করেন সময় দিতে পারি না বলে। আপনারাই বলুন ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদিও ১৫-১৮ ঘন্টা ডিউটি করতে হয় তাহলে পরিবারকে সময় দিবো কী করে? নিয়মের বাইরেও নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় পুলিশকে। পারিবারিক কলহ, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ইত্যাদি ফ্যামেলি কোর্ট কিংবা আদালতের বিষয়। অথচ মানুষ ছুটে আসেন পুলিশের কাছে। স্বামী বউকে মারেন ইত্যাদি। তখন বেসিক পুলিশিং ব্যহত হয় আমাদের। তবুও আমরা কৌশলেই সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করি’।
বিরোধী দল বিএনপির টানা অবরোধ ইস্যুকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এই যে ৯০-৯২ দিন দেশের যে ভাবে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ঐরকম একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা রাজনীতির নামে ঘটানো হয়েছে। যা ছিল সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বলতে পারেন সে সময়ে আমরা সন্ত্রাসীদের সাথে যুদ্ধ করেছি। জনগণ আমাদের পাশে থাকায় আমরা জয় পেয়েছি। আর ওরা হেরে গেছে, জনগণ পাশে নেই বলে। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর পাঁচটি মাস নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে গিয়ে বেসিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। বর্তমানে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পুলিশ শক্ত হাতে প্রতিহত করেছে। বাংলাদেশ পাকিস্তান আর আফগানিস্তান হতে দেয়া হবে না। আমি সফরে থাকা অবস্থায় আইএস সন্দেহে কয়েকজন আটক হয়েছে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা।’
জনগণের সাথে পুলিশের সম্পর্ক উন্নয়নে পাবলিক-পুলিশ মাইন্ড সেটাপে দূরত্ব কমানোর কথাও জানান তিনি। বলেন, আমরা সেই ঐতিহাসিক ও কলোনিয়াল লিগেসির ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে চলছি। পুলিশ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। তাই পুলিশ-পাবলিক দূরত্ব গুচিয়ে একটা বন্ডিং ব্রীজ তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছি। দুবাইতেও আমি প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে এসেছি। বিমানবন্দরে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না আর আপনাদের। জনগণের সাথে পুলিশের মিউচ্যুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও একে অন্যের প্রতি রেসপেক্ট থাকলে বেসিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
বাংলাদেশ সরকারের প্রজাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের শীর্ষস্থানীয় পদে থেকে আইজিপির টানা প্রায় ৩৫ মিনিটের রাজনৈতিক বক্তব্যে আওয়ামী লীগ তথা সরকার দলীয় সমর্থকরা সাধুবাদ জানালেও সাধারণ প্রবাসীরা বিষয়টিকে ভালো চোখে নেয়নি। এছাড়াও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের সুযোগ না থাকায় অনেকে সমালোচনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী’ সংগঠনের নামের এই অনুষ্ঠান আয়োজকদের বেশীরভাগই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা। তবে এ অনুষ্ঠান বয়কট করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষের নেতা-কর্মীরা। তারা অভিযোগ করেন বাংলাদেশের পুলিশ মহাপরিদর্শককে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব আওয়ামী লীগ থেকে বহিঃস্কৃত এবং একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। এ জন্য আমরা অনুষ্ঠান অংশ নেইনি। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে : নিউইয়র্কে মতবিনিময় সভায় আইজিপি শহীদুল হক

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০১৫

নিউইয়র্ক: সৌদি আরব ও দুবাই সফর শেষে স্ব-স্ত্রীক নিউইয়র্ক সফর করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক-(আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ৩১ মে রোববার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার তাজমহল পার্টি হলে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। আওয়ামী ঘরানার যুব কমান্ডের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন সাঈদ রহমান মান্নান, বেদারুল ইসলাম বাবলা, আইরিন পারভীন, কমান্ডার নুরন্নবী’সহ স্বাধীনতা পক্ষের শক্তির দাবিদার প্রবাসী ব্যবসায়ী, কমিউিনটি নেতা’সহ বিশিষ্টজনেরা।
মতবিনিময় সভা হলেও অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শককে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোন সুযোগ ছিলনা। আইজিপির বক্তব্যের আগেই আয়োজকদের মধ্যে থেকে প্রশ্ন করতে বারণ করা হয়। সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের পরিচয় পর্বে শেষে রাত ৯.১০ মি. বক্তব্য শুরু করেন আইজিপি। আর শেষ করেন ১০.৪৫ মি. এ। এসময়ে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা শ্লোগানে শ্লোগানে আইজপিকে স্বাধুবাদ জানান। বক্তব্যের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান তুলে ধরেন আইজিপি। এছাড়াও প্রবাসীদের কল্যাণে একটি বিশেষ সেল গঠনের আশ্বাসও দেন। যাতে করে দেশ ভ্রমণে বিমানবন্দর তথা কোথাও কোন সমস্যায় পড়তে না হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে দাবি করে আইজিপি বলেন, ‘অনেকে বলেন দেশে হিউম্যান রাইটস নাই, মানবাধিকার নাই। এসব প্রপাগান্ডা। বরং বাংলাদেশে বতর্মানে অনেক ভালো মানবাধিকার ভোগ করছে জনগণ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থকেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে যাচ্ছে। আর তা বাস্তবায়ন করছে পুলিশ। যারা বলছে দেশে আইনের শাসন নাই তারা মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই যে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হয়েছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের বিচারও আইনী প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ চাইলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের ‘টার্গেট কিলিং’ করে মেরে ফেলতে পারতো। কি বলেন পারতো না? এসব টার্গেট কিলিং কিন্তু কোন ব্যাপার ছিলনা। কিন্তু তা না করে আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করে তাদের রায় কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।’
দেশের বিরুদ্ধে বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, ‘এরা লবিস্ট বসিয়ে অর্থ দিয়ে, স্টেটমেন্ট দিয়ে দেশে লোক পাঠাচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে আপনাদের। কারণ আপনারা প্রবাসীরাই হচ্ছেন প্রত্যেকে দেশের একজন কূটনীতিক/রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশ আপনাদের কাছে নাড়ীর টানের মত। তাই দেশকে ভালবাসুন। দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হউন। আপনার অনৈক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের হয়ে কাজ করবেন’।
দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান তুলে ধরে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘২০০৯ সালের পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সর্বক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি’র লক্ষ্যমাত্র) অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যা আপনাদের মত প্রবাসীদের অবদান। বিদ্যুৎ ও খ্যাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ দেশ। একসময়ে উত্তর বঙ্গে মঙ্গার কথা শোনা যেতো। এখন আর কী এসব শোনা যায়? না যায় না। কারণ এখন বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানিও করছে। আপনার অতীতের পরিসংখ্যান দেখলেই সব বুঝতে পারবেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ‘আজকে আপনারা দেখেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিপ্লোমেসী এফিসিয়েন্সি (কূটনৈতিক দক্ষতা) দীর্ঘ বছরের অমীমাংসিত ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সমুদ্র বিজয়, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ’সহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। এছাড়াও রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ সর্বক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি।’
বাংলাদেশ উন্নয়নের দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী একটি মডেল রাষ্ট্র। এই যে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের বৈরীতা থাকলেও তারাও স্বীকার করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্বয়ং সম্পূর্ণ ও সন্ত্রাসী মোকাবেলায় অনেক এগিয়েছে। আমাদের দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূততো সবখানে এসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন।
প্রতিটি কথার পরপরই করতালি দিয়ে আইজিপিকে সাধুবাদ জানান উপস্থিত প্রবাসীরা। দায়িত্ব পালনে পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে শহীদুল হক জানান, ‘পুলিশ সবার কাছে তো দুরের কথা পরিবারের কাছেও প্রিয় ব্যক্তি নন। এই যে আমার স্ত্রী আপনাদের সামনে বসা। তিনিও আমাকে নানা অভিযোগ করেন সময় দিতে পারি না বলে। আপনারাই বলুন ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদিও ১৫-১৮ ঘন্টা ডিউটি করতে হয় তাহলে পরিবারকে সময় দিবো কী করে? নিয়মের বাইরেও নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় পুলিশকে। পারিবারিক কলহ, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ইত্যাদি ফ্যামেলি কোর্ট কিংবা আদালতের বিষয়। অথচ মানুষ ছুটে আসেন পুলিশের কাছে। স্বামী বউকে মারেন ইত্যাদি। তখন বেসিক পুলিশিং ব্যহত হয় আমাদের। তবুও আমরা কৌশলেই সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করি’।
বিরোধী দল বিএনপির টানা অবরোধ ইস্যুকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এই যে ৯০-৯২ দিন দেশের যে ভাবে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ঐরকম একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা রাজনীতির নামে ঘটানো হয়েছে। যা ছিল সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বলতে পারেন সে সময়ে আমরা সন্ত্রাসীদের সাথে যুদ্ধ করেছি। জনগণ আমাদের পাশে থাকায় আমরা জয় পেয়েছি। আর ওরা হেরে গেছে, জনগণ পাশে নেই বলে। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর পাঁচটি মাস নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে গিয়ে বেসিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। বর্তমানে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পুলিশ শক্ত হাতে প্রতিহত করেছে। বাংলাদেশ পাকিস্তান আর আফগানিস্তান হতে দেয়া হবে না। আমি সফরে থাকা অবস্থায় আইএস সন্দেহে কয়েকজন আটক হয়েছে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা।’
জনগণের সাথে পুলিশের সম্পর্ক উন্নয়নে পাবলিক-পুলিশ মাইন্ড সেটাপে দূরত্ব কমানোর কথাও জানান তিনি। বলেন, আমরা সেই ঐতিহাসিক ও কলোনিয়াল লিগেসির ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে চলছি। পুলিশ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। তাই পুলিশ-পাবলিক দূরত্ব গুচিয়ে একটা বন্ডিং ব্রীজ তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছি। দুবাইতেও আমি প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে এসেছি। বিমানবন্দরে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না আর আপনাদের। জনগণের সাথে পুলিশের মিউচ্যুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও একে অন্যের প্রতি রেসপেক্ট থাকলে বেসিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
বাংলাদেশ সরকারের প্রজাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের শীর্ষস্থানীয় পদে থেকে আইজিপির টানা প্রায় ৩৫ মিনিটের রাজনৈতিক বক্তব্যে আওয়ামী লীগ তথা সরকার দলীয় সমর্থকরা সাধুবাদ জানালেও সাধারণ প্রবাসীরা বিষয়টিকে ভালো চোখে নেয়নি। এছাড়াও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের সুযোগ না থাকায় অনেকে সমালোচনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী’ সংগঠনের নামের এই অনুষ্ঠান আয়োজকদের বেশীরভাগই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা। তবে এ অনুষ্ঠান বয়কট করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষের নেতা-কর্মীরা। তারা অভিযোগ করেন বাংলাদেশের পুলিশ মহাপরিদর্শককে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব আওয়ামী লীগ থেকে বহিঃস্কৃত এবং একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। এ জন্য আমরা অনুষ্ঠান অংশ নেইনি। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)