নিউইয়র্ক ০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

শতবর্ষে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ : পাদদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠান

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০১:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০১৫
  • / ১৪১০ বার পঠিত

ঈশ্বরদী (পাবনা): ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ উদ্বোধনের সময় এর প্রধান প্রকৌশলী স্যার রবার্ট উইলিয়াম গেইলস আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন- ‘যে সেতু নির্মাণ করে দিয়ে গেলাম, উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ সেতু চির যৌবনা হয়ে থাকবে।’ বিশাল আকৃতির এ ব্রিজের নিচে দাঁড়ালে এখনও মনে হয় তার এ কথাটি সত্য। ৪ মার্চ শত বছরে পা রাখল ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। তিনটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ উপলক্ষে ব্রিজের পাদদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকালে আয়োজিত কেক কাটা, সাংস্কৃতিক ও আলোচনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আজিজুর রহমান শরিফ। শতবর্ষ আগে ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ উদ্বোধন করেছিলেন হিজ এক্সিলেন্সি দি ভাইসরয় অব ইন্ডিয়া ‘ব্যারন হার্ডিঞ্জ পেনসুরস্ট’। শতবর্ষের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। প্রবীণ রাজনীতিক জসিম উদ্দিন মন্ডল, অধ্যাপক মোহাম্মদ হবীবুল্লাহ, উদয়নাথ লাহেড়ী, আখতার হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহজেবিন শিরিন পিয়া, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ রশীদুল্লাহসহ সুধীবৃন্দ ব্রিজকে ঘিরে আলোচনায় অংশ নেন।
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থাপনার মধ্যে পদ্মা নদীর পাকশী-ভেড়ামারা এলাকায় নির্মিত রেলওয়ে সেতু- ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ’ অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বনভোজন করতে আসা মানুষের কাছে প্রধান আকর্ষণই এ ব্রিজ। এ ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ’ ঘিরে গড়ে ওঠা ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন ও শহর। পাকশীতেও গড়ে ওঠে রেলওয়ের উপশহর।
সেই ব্রিটিশ আমলে পদ্মা নদীর ওপর পাকশী-ভেড়ামারা এলাকায় নির্মিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ১০০ বছরে পা রাখল ৪ মার্চ। দীর্ঘ ৫ বছর সময় লেগেছিল এটি নির্মাণ করতে। ১৯১০ সাল থেকে শুরু করে ১৯১৫ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ করে উদ্বোধন করা হয়।
অবিভক্ত ভারতের কলকাতার সঙ্গে আসাম এবং ইস্টার্ন বেঙ্গলের যোগাযোগ সহজীকরণের লক্ষ্যে ১৮৮৯ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃক পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পেশ করা হয়। দীর্ঘ ২০ বছর আলোচনার পর ১৯০৮ সালে প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে সিঙ্গেল লাইনবিশিষ্ট সেতু নির্মাণের কথা থাকলেও চূড়ান্ত নকশায় দ্বৈত লাইনের সংস্থান রাখা হয় এবং সে অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়।
সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৮১ কি.মি.। মূল পায়ারের সংখ্যা ১৬, মূল স্প্যানের সংখ্যা ১৫টি, ল্যান্ড স্প্যানের সংখ্যা ৬টি। প্রতিটি ল্যান্ড গার্ডারের দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট। প্রতিটি মূল গার্ডারের দৈর্ঘ্য, উচ্চতা ও ওজন ৩৪৫ ফুট দেড় ইঞ্চি, ৫২ ফুট এবং ১২৫০ টন। এ সেতু নির্মাণে মোট ২৪ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সেই সময় এটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপি। নদীর উভয় পাড়ে সেতুর রক্ষা বাঁধের দৈর্ঘ্য ৬ মাইলের বেশি। সেতু রক্ষা বাঁধে ব্যবহৃত বোল্ডার পাথরের পরিমাণ ৯ কোটি ঘনফুটের বেশি। পায়ারসমূহে ব্যবহৃত কংক্রিট ব্লকের পরিমাণ ২ লাখ ৯৯ হাজার টন। ১৫টি মূল গার্ডার এবং ৬টি ল্যান্ড গার্ডারে ব্যবহৃত ইস্পাতের পরিমাণ ৩০ হাজার টন। মাটির কাজের পরিমাণ সেতু অ্যাপ্রোচে ১৬ কোটি ঘনফুট, গাইড বাঁধে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ঘন ফুট।
কক্সবাজার সমুদ্র পৃষ্ঠের গড় উচ্চতা থেকে এ সেতুর ডেটাম ২০০ ফুট নিচে। রেল লেভেল ২৯৬ ফুট, পায়ার টপ লেভেল ২৫০ ফুট, সেতু রক্ষা বাঁধের টপ লেভেল ২৬০ ফুট। সেতুর নিম্নগামী লাইনে পরীক্ষামূলক প্রথম ট্রেন চালানো হয় ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারী। সেতুর ঊর্ধ্বগামী লাইনে পরীক্ষামূলক প্রথম ট্রেন চালানো হয় ২৫ ফেব্রুয়ারী। হার্ডিঞ্জ সেতু উদ্বোধন করা ৪ মার্চ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বোমার আঘাতে সেতুর ১২নং মূল গার্ডারটি ভেঙে গিয়েছিল। এটি ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট প্রতিস্থাপনের পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। সেতুর নিচে নৌচলাচলের জন্য হেডওয়ে রয়েছে ৪০ ফুট। এ সেতুটি দেখতে প্রতিবছর শীতের সময় শত শত মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাকশীতে আসেন। এটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা। (দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

শতবর্ষে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ : পাদদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠান

প্রকাশের সময় : ০১:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০১৫

ঈশ্বরদী (পাবনা): ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ উদ্বোধনের সময় এর প্রধান প্রকৌশলী স্যার রবার্ট উইলিয়াম গেইলস আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন- ‘যে সেতু নির্মাণ করে দিয়ে গেলাম, উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ সেতু চির যৌবনা হয়ে থাকবে।’ বিশাল আকৃতির এ ব্রিজের নিচে দাঁড়ালে এখনও মনে হয় তার এ কথাটি সত্য। ৪ মার্চ শত বছরে পা রাখল ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। তিনটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ উপলক্ষে ব্রিজের পাদদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকালে আয়োজিত কেক কাটা, সাংস্কৃতিক ও আলোচনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আজিজুর রহমান শরিফ। শতবর্ষ আগে ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ উদ্বোধন করেছিলেন হিজ এক্সিলেন্সি দি ভাইসরয় অব ইন্ডিয়া ‘ব্যারন হার্ডিঞ্জ পেনসুরস্ট’। শতবর্ষের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। প্রবীণ রাজনীতিক জসিম উদ্দিন মন্ডল, অধ্যাপক মোহাম্মদ হবীবুল্লাহ, উদয়নাথ লাহেড়ী, আখতার হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহজেবিন শিরিন পিয়া, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ রশীদুল্লাহসহ সুধীবৃন্দ ব্রিজকে ঘিরে আলোচনায় অংশ নেন।
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থাপনার মধ্যে পদ্মা নদীর পাকশী-ভেড়ামারা এলাকায় নির্মিত রেলওয়ে সেতু- ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ’ অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বনভোজন করতে আসা মানুষের কাছে প্রধান আকর্ষণই এ ব্রিজ। এ ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ’ ঘিরে গড়ে ওঠা ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন ও শহর। পাকশীতেও গড়ে ওঠে রেলওয়ের উপশহর।
সেই ব্রিটিশ আমলে পদ্মা নদীর ওপর পাকশী-ভেড়ামারা এলাকায় নির্মিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ১০০ বছরে পা রাখল ৪ মার্চ। দীর্ঘ ৫ বছর সময় লেগেছিল এটি নির্মাণ করতে। ১৯১০ সাল থেকে শুরু করে ১৯১৫ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ করে উদ্বোধন করা হয়।
অবিভক্ত ভারতের কলকাতার সঙ্গে আসাম এবং ইস্টার্ন বেঙ্গলের যোগাযোগ সহজীকরণের লক্ষ্যে ১৮৮৯ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃক পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পেশ করা হয়। দীর্ঘ ২০ বছর আলোচনার পর ১৯০৮ সালে প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে সিঙ্গেল লাইনবিশিষ্ট সেতু নির্মাণের কথা থাকলেও চূড়ান্ত নকশায় দ্বৈত লাইনের সংস্থান রাখা হয় এবং সে অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়।
সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৮১ কি.মি.। মূল পায়ারের সংখ্যা ১৬, মূল স্প্যানের সংখ্যা ১৫টি, ল্যান্ড স্প্যানের সংখ্যা ৬টি। প্রতিটি ল্যান্ড গার্ডারের দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট। প্রতিটি মূল গার্ডারের দৈর্ঘ্য, উচ্চতা ও ওজন ৩৪৫ ফুট দেড় ইঞ্চি, ৫২ ফুট এবং ১২৫০ টন। এ সেতু নির্মাণে মোট ২৪ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সেই সময় এটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপি। নদীর উভয় পাড়ে সেতুর রক্ষা বাঁধের দৈর্ঘ্য ৬ মাইলের বেশি। সেতু রক্ষা বাঁধে ব্যবহৃত বোল্ডার পাথরের পরিমাণ ৯ কোটি ঘনফুটের বেশি। পায়ারসমূহে ব্যবহৃত কংক্রিট ব্লকের পরিমাণ ২ লাখ ৯৯ হাজার টন। ১৫টি মূল গার্ডার এবং ৬টি ল্যান্ড গার্ডারে ব্যবহৃত ইস্পাতের পরিমাণ ৩০ হাজার টন। মাটির কাজের পরিমাণ সেতু অ্যাপ্রোচে ১৬ কোটি ঘনফুট, গাইড বাঁধে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ঘন ফুট।
কক্সবাজার সমুদ্র পৃষ্ঠের গড় উচ্চতা থেকে এ সেতুর ডেটাম ২০০ ফুট নিচে। রেল লেভেল ২৯৬ ফুট, পায়ার টপ লেভেল ২৫০ ফুট, সেতু রক্ষা বাঁধের টপ লেভেল ২৬০ ফুট। সেতুর নিম্নগামী লাইনে পরীক্ষামূলক প্রথম ট্রেন চালানো হয় ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারী। সেতুর ঊর্ধ্বগামী লাইনে পরীক্ষামূলক প্রথম ট্রেন চালানো হয় ২৫ ফেব্রুয়ারী। হার্ডিঞ্জ সেতু উদ্বোধন করা ৪ মার্চ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বোমার আঘাতে সেতুর ১২নং মূল গার্ডারটি ভেঙে গিয়েছিল। এটি ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট প্রতিস্থাপনের পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। সেতুর নিচে নৌচলাচলের জন্য হেডওয়ে রয়েছে ৪০ ফুট। এ সেতুটি দেখতে প্রতিবছর শীতের সময় শত শত মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাকশীতে আসেন। এটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা। (দৈনিক যুগান্তর)