নিউইয়র্ক ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

র‌্যালী, সম্মাননা প্রদান, আলোচনায় আলোকিত ব্রঙ্কস গড়ার অঙ্গীকার

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:১৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০১৫
  • / ৭৪৫ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বর্ণাঢ্য আয়োজনে র‌্যালী, সম্মাননা প্রদান, আলোচনা আর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আলোকিত ব্রঙ্কস গড়ার অঙ্গীকারে এবছরও বঙ্কসে অনুষ্ঠিত হলো ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমোক্রেটিক সোসাইটি (ব্যান্ডস) ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস সম্মিলিতভাবে আয়োজন করে। উল্লেখ্য, স্প্যানিশ শব্দ ‘আব্রাজো’ অর্থ হচ্ছে আলীঙ্গন, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব। বাংলাদেশীদের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন বা বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটাতেই নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেটর রুবিন ডিয়াজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন হলো। খবর ইউএনএ’র।
নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগী সংগঠন ছিলো বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটি, ব্রঙ্কস বাংলাদেশী ওম্যান এসোসিয়েশন, সুনামগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন, বাংলাদেশী কমিউনিটি অব নর্থ ব্রঙ্কস, নবীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশন, সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশন, ব্রঙ্কস পূজা কমিটি, সনাতনী সেবা সংঘ ব্রঙ্কস ও ব্রঙ্কস ইউনাইটেড সকার ক্লাব। আরো উল্লেখ্য, স্টেট সিনেটর রুবিন ডিয়াজ গত বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ব্রঙ্কসে প্রায় ৬ শতাধিক বাংলাদেশীকে সংবর্ধনা দেন ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’ নামের এ অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠান আয়োজনে তাকে সহযোগীতা করেন ষ্টেট সিনেটর জেফ ক্লেন, অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সিপুলভেদা ও অ্যাসেম্বলিম্যান মার্কোস ক্রিসপো।
Abrazo BD_Bromx-1এবারের ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্ত করা হয় বর্ণাঢ্য বাংলাদেশ ডে প্যারেড, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, আলোচনা অনুষ্ঠানসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ঐদিন বিকাল ৬.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থল গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলের সামনে থেকে প্যারেড শুরু হয়। বাংলাদেশীদের কাছে ‘লুইস ভাই’ হিসাবে পরিচিত ৮৭ এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত এসেম্বলিম্যান লুইস সিপুলভেদা প্যারেডে নেতৃত্ব দেন। প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন এটর্নী মঈন চৌধুরী। মার্শাল হিসেবে প্যারেডকে আলোকিত করেন ওয়েল কেয়ারের সিনিয়র ম্যানেজার সালেহ আহমদ, ডা. রুমানা সবুর, ডা. ইভান খান, কমিউনিটি নেতা সোলায়মান আলী ও এডভোকেট নাসির উদ্দীন। প্যারেডটি ইউনিয়ন পোর্ট রোড ধরে পার্কচেষ্টার ওভার মোড় ঘুরে ষ্টার্লিং এভিনিউ হয়ে ওডেল স্ট্রিট ধরে গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। প্যারেডের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে রাজপথের উচ্চারিত হয় বাংলাদেশের গান। পত পত করে উড়ে সবুজে ঘেরা লাল বাংলাদেশের পতাকা। স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় দেশের গান।
প্যারেডের সামনে পিছনে কর্ডন করে ছিল নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের গাড়ী। প্যারেডটি যখন ষ্টার্লিং এভিনিউ বিপনীকেন্দ্র পার হচ্ছিলো তখন রাস্তার দু’পাশে দাড়িয়ে অনেকে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান অংশগ্রহণকারীদের।
Abrazo BD_Bromx-2প্যারেড শেষে বাদ মাগরিব গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলে আয়োজন করা হয় স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশী আমেরিকান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক সোসাইটির সভাপতি আব্দুস শহীদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৩২ থেকে নির্বাচিত সিনেটর রুবিন ডিয়াজ, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৮৫ থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলিম্যান মার্কোস এ ক্রিসপো, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস আর সিপুলভেদা, নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এবং অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৭৯ থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলিম্যান মাইকেল ব্ল্যাকের অফিসের চীফ অব স্টাফ এরেন ক্লার্ক, এডভোকেট এন মজুমদার, সালেহ আহমদ, ডা. রুমানা সবুর, ডা. ইভান খান ও এডভোকেট নাসির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে মুল মঞ্চের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন শামসুল কে বাকের, শাহ আলম চৌধুরী, আবু কাওছার চিশতী, শেখ খলিলুর রহমান, মোহাম্মদ সুনাম উদ্দিন, আবুল মনসুর, আব্দুল বাসিত চৌধুরী, তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ মুজিবুর রহমান, ফজলুর রহমান চৌধুরী, হাজী শহীদুল ইসলাম ও নুরে এলাহী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মুক্তিযোদ্ধা আবু কায়সার চিশতী। গীতা পাঠ করেন রতন কুমার চক্রবর্তী। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম মিয়া।
Abrazo BD_Bromx-6অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ ছাড়াও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটিকে কোনভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নিউইয়র্ক সিটির উঠতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশীরা হচ্ছে অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে বাংলাদেশীদের অবদানকে কোনভাবেই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশীরা দিনে দিনে ক্রমেই উজ্জল হয়ে উঠছেন তাদের কৃতিত্বে যা যুক্তরাষ্ট্রের সৌন্দর্য্যকে আরো বিকশিত ও মহিমান্বিত করছে। সিনেটর সহ উপস্থিত অ্যাসেম্বলিম্যানদের সবাই ব্রঙ্কসের উন্নয়নে তাদের সর্বাত্মক সহযোগীতার অঙ্গীকার করেন।
পরে সিনেটর রুবিন ডিয়াজ উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা, প্যারেডে অংশ গ্রহণকারী গ্র্যান্ড মার্শাল, মার্শাল এবং আব্রাজো বাংলাদেশ আয়োজক সংগঠনদের সিনেটের পক্ষ থেকে সনদ তুলে দেন। এছাড়াও কমিউনিটির উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য নিউইয়র্কের টাইম টেলিভিশন এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমানকে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের পক্ষ থেকে সনদ দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। প্রতিযোগীতায় বিজয়ীরা হলেন: প্রথম- গালিব কবির, দ্বিতীয়- তিশা সরকার, তৃতীয়- নুর আহম্মেদ, চতুর্থ- মেহদী আহমদ ও পঞ্চম- নুজহাত নাফিসা। পুরষ্কার স্পন্সর করে বাংলা টাউন সুপারমার্কেট ও বাংলা গার্ডেন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতাটি অনুষ্ঠানের পূর্বে বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ শেখ আল মামুনের তত্ত্বাবধানে মামুন’স টিউটোরিয়ালে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জিল্লুর রহমান, ন্যান্সী খান ও ডা. আলম। সবশেষে ছিলো নৈশভোজ।
আব্রাজো বাংলাদেশ উপলক্ষ্যে ‘স্বাধীনতা তুমি’ নামে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করা হয়। টাইম টেলিভিশন অনুষ্ঠানটির অংশ বিশেষ সরাসরি সম্প্রচার করে।
এদিকে গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা না থাকায় এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতা আব্দুর রহিম বাদশা ও মির্জা মামুন। অনুষ্ঠানস্থলেই তারা ইউএনএ প্রতিনিধির কাছে তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমাদের জাতীয় পতাকা না থাকা দু:খজনক বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া কেউ কেউ ব্যানারে ব্যবহৃত ‘কম্বাইন্ড’ শব্দ ব্যবহারেরও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

র‌্যালী, সম্মাননা প্রদান, আলোচনায় আলোকিত ব্রঙ্কস গড়ার অঙ্গীকার

প্রকাশের সময় : ০৩:১৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০১৫

নিউইয়র্ক: বর্ণাঢ্য আয়োজনে র‌্যালী, সম্মাননা প্রদান, আলোচনা আর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আলোকিত ব্রঙ্কস গড়ার অঙ্গীকারে এবছরও বঙ্কসে অনুষ্ঠিত হলো ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমোক্রেটিক সোসাইটি (ব্যান্ডস) ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস সম্মিলিতভাবে আয়োজন করে। উল্লেখ্য, স্প্যানিশ শব্দ ‘আব্রাজো’ অর্থ হচ্ছে আলীঙ্গন, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব। বাংলাদেশীদের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন বা বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটাতেই নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেটর রুবিন ডিয়াজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন হলো। খবর ইউএনএ’র।
নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগী সংগঠন ছিলো বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটি, ব্রঙ্কস বাংলাদেশী ওম্যান এসোসিয়েশন, সুনামগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন, বাংলাদেশী কমিউনিটি অব নর্থ ব্রঙ্কস, নবীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশন, সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশন, ব্রঙ্কস পূজা কমিটি, সনাতনী সেবা সংঘ ব্রঙ্কস ও ব্রঙ্কস ইউনাইটেড সকার ক্লাব। আরো উল্লেখ্য, স্টেট সিনেটর রুবিন ডিয়াজ গত বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ব্রঙ্কসে প্রায় ৬ শতাধিক বাংলাদেশীকে সংবর্ধনা দেন ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’ নামের এ অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠান আয়োজনে তাকে সহযোগীতা করেন ষ্টেট সিনেটর জেফ ক্লেন, অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সিপুলভেদা ও অ্যাসেম্বলিম্যান মার্কোস ক্রিসপো।
Abrazo BD_Bromx-1এবারের ‘আব্রাজো বাংলাদেশ’কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্ত করা হয় বর্ণাঢ্য বাংলাদেশ ডে প্যারেড, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, আলোচনা অনুষ্ঠানসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ঐদিন বিকাল ৬.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থল গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলের সামনে থেকে প্যারেড শুরু হয়। বাংলাদেশীদের কাছে ‘লুইস ভাই’ হিসাবে পরিচিত ৮৭ এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত এসেম্বলিম্যান লুইস সিপুলভেদা প্যারেডে নেতৃত্ব দেন। প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন এটর্নী মঈন চৌধুরী। মার্শাল হিসেবে প্যারেডকে আলোকিত করেন ওয়েল কেয়ারের সিনিয়র ম্যানেজার সালেহ আহমদ, ডা. রুমানা সবুর, ডা. ইভান খান, কমিউনিটি নেতা সোলায়মান আলী ও এডভোকেট নাসির উদ্দীন। প্যারেডটি ইউনিয়ন পোর্ট রোড ধরে পার্কচেষ্টার ওভার মোড় ঘুরে ষ্টার্লিং এভিনিউ হয়ে ওডেল স্ট্রিট ধরে গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। প্যারেডের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে রাজপথের উচ্চারিত হয় বাংলাদেশের গান। পত পত করে উড়ে সবুজে ঘেরা লাল বাংলাদেশের পতাকা। স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় দেশের গান।
প্যারেডের সামনে পিছনে কর্ডন করে ছিল নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের গাড়ী। প্যারেডটি যখন ষ্টার্লিং এভিনিউ বিপনীকেন্দ্র পার হচ্ছিলো তখন রাস্তার দু’পাশে দাড়িয়ে অনেকে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান অংশগ্রহণকারীদের।
Abrazo BD_Bromx-2প্যারেড শেষে বাদ মাগরিব গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলে আয়োজন করা হয় স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশী আমেরিকান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক সোসাইটির সভাপতি আব্দুস শহীদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৩২ থেকে নির্বাচিত সিনেটর রুবিন ডিয়াজ, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৮৫ থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলিম্যান মার্কোস এ ক্রিসপো, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস আর সিপুলভেদা, নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এবং অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৭৯ থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলিম্যান মাইকেল ব্ল্যাকের অফিসের চীফ অব স্টাফ এরেন ক্লার্ক, এডভোকেট এন মজুমদার, সালেহ আহমদ, ডা. রুমানা সবুর, ডা. ইভান খান ও এডভোকেট নাসির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে মুল মঞ্চের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন শামসুল কে বাকের, শাহ আলম চৌধুরী, আবু কাওছার চিশতী, শেখ খলিলুর রহমান, মোহাম্মদ সুনাম উদ্দিন, আবুল মনসুর, আব্দুল বাসিত চৌধুরী, তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ মুজিবুর রহমান, ফজলুর রহমান চৌধুরী, হাজী শহীদুল ইসলাম ও নুরে এলাহী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মুক্তিযোদ্ধা আবু কায়সার চিশতী। গীতা পাঠ করেন রতন কুমার চক্রবর্তী। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম মিয়া।
Abrazo BD_Bromx-6অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ ছাড়াও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটিকে কোনভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নিউইয়র্ক সিটির উঠতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশীরা হচ্ছে অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে বাংলাদেশীদের অবদানকে কোনভাবেই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশীরা দিনে দিনে ক্রমেই উজ্জল হয়ে উঠছেন তাদের কৃতিত্বে যা যুক্তরাষ্ট্রের সৌন্দর্য্যকে আরো বিকশিত ও মহিমান্বিত করছে। সিনেটর সহ উপস্থিত অ্যাসেম্বলিম্যানদের সবাই ব্রঙ্কসের উন্নয়নে তাদের সর্বাত্মক সহযোগীতার অঙ্গীকার করেন।
পরে সিনেটর রুবিন ডিয়াজ উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা, প্যারেডে অংশ গ্রহণকারী গ্র্যান্ড মার্শাল, মার্শাল এবং আব্রাজো বাংলাদেশ আয়োজক সংগঠনদের সিনেটের পক্ষ থেকে সনদ তুলে দেন। এছাড়াও কমিউনিটির উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য নিউইয়র্কের টাইম টেলিভিশন এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমানকে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের পক্ষ থেকে সনদ দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। প্রতিযোগীতায় বিজয়ীরা হলেন: প্রথম- গালিব কবির, দ্বিতীয়- তিশা সরকার, তৃতীয়- নুর আহম্মেদ, চতুর্থ- মেহদী আহমদ ও পঞ্চম- নুজহাত নাফিসা। পুরষ্কার স্পন্সর করে বাংলা টাউন সুপারমার্কেট ও বাংলা গার্ডেন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতাটি অনুষ্ঠানের পূর্বে বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ শেখ আল মামুনের তত্ত্বাবধানে মামুন’স টিউটোরিয়ালে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জিল্লুর রহমান, ন্যান্সী খান ও ডা. আলম। সবশেষে ছিলো নৈশভোজ।
আব্রাজো বাংলাদেশ উপলক্ষ্যে ‘স্বাধীনতা তুমি’ নামে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করা হয়। টাইম টেলিভিশন অনুষ্ঠানটির অংশ বিশেষ সরাসরি সম্প্রচার করে।
এদিকে গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা না থাকায় এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতা আব্দুর রহিম বাদশা ও মির্জা মামুন। অনুষ্ঠানস্থলেই তারা ইউএনএ প্রতিনিধির কাছে তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমাদের জাতীয় পতাকা না থাকা দু:খজনক বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া কেউ কেউ ব্যানারে ব্যবহৃত ‘কম্বাইন্ড’ শব্দ ব্যবহারেরও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।