নিউইয়র্ক ১০:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

মেধার বিকাশ ঘটাতে কারিগরী শিক্ষার বিকল্প নেই : ড. বদিউল আলম

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০১৪
  • / ৮৯২ বার পঠিত

‘নো মোর অড জব’ শ্লোগান সামনে নিয়ে আইটি প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ ভিনদেশীদের স্কীল ডেভলেপমেন্টে অবদান রাখার অনন্য প্রতিষ্ঠান পিপল এন টেক-এর আয়োজেনে আবারো অনুষ্ঠিত হলো আইটি জব এন্ড স্কলারশীপ সেমিনার। সিটির এস্টিারিয়ার স্টাইনওয়েস্থ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে গত ১ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক মানব জমিন-এর উপ সম্পাদক মনির হায়দার। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ।
অনুষ্ঠানে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদার বলেন, সুষ্ঠু মেধার বিকাশ ঘটালে দেশে-বিদেশে তরুণ প্রজন্ম সম্পদে রূপান্তরিত হবে। অন্যথায় তারা দেশের মতো প্রবাসেও কর্মহীন, বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশী কমিউনিটির স্কিল্ড ডেভেলপমেন্টে পিপল এন টেক-এর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, আইটি সেক্টরে পিপল এন টেকের গ্রহণযোগ্যতা সত্যিই প্রসংশনীয়। কেউ যদি তার মেধার বিকাশ ঘটাতে চান তাহলে কারিগরী কিংবা তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। তিনি প্রশিক্ষনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সদিচ্ছা আর আতœবিশ্বাস থাকলে ভালো জায়গায় পৌঁছা অসম্ভব কিছু নয়।
স্বাগত বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ পিপল এন টেকের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং সাফল্য তুলে ধরেন এবং সবশেষে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আবু হানিপ বলেন, এখন টেকনোলজী আর ইনফর্মেশনের যুগ। এই যুগে যে ব্যক্তি, কমিউনিটি, জাতি আর দেশ যত বেশী প্রযুক্তি বিদ্যায় অগ্রগামী সে জাতি তত বেশী সমৃদ্ধ। আমরা শুধু পথ দেখাতে পারি। আমর কোন কাজকেই ছোট করে দেখতে চাই না। তারপরও আমরা অড জবকে বিদায় জানাতে চাই, ‘নো মোর অড জব’। আর তাই স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় কর্মসংস্থানের জন্য ‘দ্য স্কীল’ আর বাংলাদেশী-আমেরিকানদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
আবু হানিপ বলেন, ইউএস কংগ্রেসে একটি বিল উঠেছে। বিলটি পাশ হলে বিদেশ থেকে দক্ষতা সম্পন্ন কর্মচারী আমদানীর (এইচ ওয়ান বি ভিসা) কোঠা বার্ষিক ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ৮০ হাজার হবে। আমি আশাবাদী বিলটি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে পাশ হবে। বাংলাদেশের শিক্ষিত যুব সমাজ যদি এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান তাহলে তারা আমাদের ঢাকাস্থ পিপল এন্ড টেক অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারেন। প্রস্গংত তিনি বলেন, এইচ ওয়ান বি ভিসায় বহু ভারতীয় আমেরিকায় এসেছে।
অনুষ্ঠানে পিপল এন টেক থেকে শিক্ষা নিয়ে চাকুরী জীবনে সফলতার কথা তুলে ধরেন অনেকেই বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, আমরা আমাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলাম। যখন পিপল এন টেকের সেমিনারে অংশ নিই তখনও কাজটি খুব কঠিন মনে হয়েছিল। কিন্তু মি. হানিপ আমাদের সব কঠিন বাস্তবতাকে সহজে রূপ দিয়েছেন। তার সহযোগিতা ও পরামর্শে আমরা মুলধারার ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুযোগ পেয়েছি এবং অর্থনৈতিক ভাবেও সাবলম্বী হচ্ছি। তারা বলেন, আইটি শিক্ষার প্রসারে পিপল এন টেক হচ্ছে নির্ভরতার প্রতীক। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছে।
উল্লেখ্য, পিপল এন টেকের প্রতিটি জব সেমিনার অংশগ্রহনকারী একজন সৌভাগ্যবান বিনামুল্যে এখানে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে থাকেন। বরাবরের মতো ঐদিনও লটারির মাধ্যমে একজন বিজয়ীকে স্কলারশীপ দেয়া হয়। লটারি পরিচালনা করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার ও সাংবাদিক মনির হায়দার। এবার লটারীতে বিজয়ী সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হয়েছেন প্রবাসী লোকমান হোসেন। লটারী জিতে তিনি বিনামূল্যে পিপল এন টেক থেকে আইটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। আরো উল্লেখ্য, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রতিজনকে ৩ হাজার ৭০০ ডলার ফি দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবু হানিপ বলেন, পিপল এন টেক-এর কোর্সগুলোর ফি খবুই নগন্য এবং নূন্যতম। এই ফি ও কোর্সের কোন সময় সীমা নেই। একজন শিক্ষার্থী যতদিন ইচ্ছে আমাদের এখান থেকে পর্যায়ক্রমে তার কোর্সে অংশ নিতে এবং সম্পন্ন করতে পারবেন। এছাড়াও চাকুরি পাওয়ার পরও যে কোন সমস্যায় পিপল এন টেক তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নামি-দামী কোম্পানী ম্যানেজারিয়াল পদে কাজ করছেন প্রায় ৩০০ লোক। এছাড়া আমাদের কাছে ৩ হাজারেরও বেশি অফার লেটার রয়েছে । তিনি বলেন, নিউইয়র্কে গড়ে উঠা বাংলাদেশী সংগঠনগুলো থেকে ১জন করে বছরে প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে (স্কলারশীপ) বিনামূল্যে আইটি প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করে দিচ্ছে পিপল এন টেক।
সেমিনারে প্রতিষ্ঠানের কাউন্সিলর সালাহউদ্দিন চৌধুরী নোমান’সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

মেধার বিকাশ ঘটাতে কারিগরী শিক্ষার বিকল্প নেই : ড. বদিউল আলম

প্রকাশের সময় : ০৮:৪০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০১৪

‘নো মোর অড জব’ শ্লোগান সামনে নিয়ে আইটি প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ ভিনদেশীদের স্কীল ডেভলেপমেন্টে অবদান রাখার অনন্য প্রতিষ্ঠান পিপল এন টেক-এর আয়োজেনে আবারো অনুষ্ঠিত হলো আইটি জব এন্ড স্কলারশীপ সেমিনার। সিটির এস্টিারিয়ার স্টাইনওয়েস্থ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে গত ১ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক মানব জমিন-এর উপ সম্পাদক মনির হায়দার। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ।
অনুষ্ঠানে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদার বলেন, সুষ্ঠু মেধার বিকাশ ঘটালে দেশে-বিদেশে তরুণ প্রজন্ম সম্পদে রূপান্তরিত হবে। অন্যথায় তারা দেশের মতো প্রবাসেও কর্মহীন, বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশী কমিউনিটির স্কিল্ড ডেভেলপমেন্টে পিপল এন টেক-এর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, আইটি সেক্টরে পিপল এন টেকের গ্রহণযোগ্যতা সত্যিই প্রসংশনীয়। কেউ যদি তার মেধার বিকাশ ঘটাতে চান তাহলে কারিগরী কিংবা তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। তিনি প্রশিক্ষনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সদিচ্ছা আর আতœবিশ্বাস থাকলে ভালো জায়গায় পৌঁছা অসম্ভব কিছু নয়।
স্বাগত বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ পিপল এন টেকের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং সাফল্য তুলে ধরেন এবং সবশেষে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আবু হানিপ বলেন, এখন টেকনোলজী আর ইনফর্মেশনের যুগ। এই যুগে যে ব্যক্তি, কমিউনিটি, জাতি আর দেশ যত বেশী প্রযুক্তি বিদ্যায় অগ্রগামী সে জাতি তত বেশী সমৃদ্ধ। আমরা শুধু পথ দেখাতে পারি। আমর কোন কাজকেই ছোট করে দেখতে চাই না। তারপরও আমরা অড জবকে বিদায় জানাতে চাই, ‘নো মোর অড জব’। আর তাই স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় কর্মসংস্থানের জন্য ‘দ্য স্কীল’ আর বাংলাদেশী-আমেরিকানদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
আবু হানিপ বলেন, ইউএস কংগ্রেসে একটি বিল উঠেছে। বিলটি পাশ হলে বিদেশ থেকে দক্ষতা সম্পন্ন কর্মচারী আমদানীর (এইচ ওয়ান বি ভিসা) কোঠা বার্ষিক ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ৮০ হাজার হবে। আমি আশাবাদী বিলটি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে পাশ হবে। বাংলাদেশের শিক্ষিত যুব সমাজ যদি এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান তাহলে তারা আমাদের ঢাকাস্থ পিপল এন্ড টেক অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারেন। প্রস্গংত তিনি বলেন, এইচ ওয়ান বি ভিসায় বহু ভারতীয় আমেরিকায় এসেছে।
অনুষ্ঠানে পিপল এন টেক থেকে শিক্ষা নিয়ে চাকুরী জীবনে সফলতার কথা তুলে ধরেন অনেকেই বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, আমরা আমাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলাম। যখন পিপল এন টেকের সেমিনারে অংশ নিই তখনও কাজটি খুব কঠিন মনে হয়েছিল। কিন্তু মি. হানিপ আমাদের সব কঠিন বাস্তবতাকে সহজে রূপ দিয়েছেন। তার সহযোগিতা ও পরামর্শে আমরা মুলধারার ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুযোগ পেয়েছি এবং অর্থনৈতিক ভাবেও সাবলম্বী হচ্ছি। তারা বলেন, আইটি শিক্ষার প্রসারে পিপল এন টেক হচ্ছে নির্ভরতার প্রতীক। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছে।
উল্লেখ্য, পিপল এন টেকের প্রতিটি জব সেমিনার অংশগ্রহনকারী একজন সৌভাগ্যবান বিনামুল্যে এখানে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে থাকেন। বরাবরের মতো ঐদিনও লটারির মাধ্যমে একজন বিজয়ীকে স্কলারশীপ দেয়া হয়। লটারি পরিচালনা করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার ও সাংবাদিক মনির হায়দার। এবার লটারীতে বিজয়ী সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হয়েছেন প্রবাসী লোকমান হোসেন। লটারী জিতে তিনি বিনামূল্যে পিপল এন টেক থেকে আইটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। আরো উল্লেখ্য, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রতিজনকে ৩ হাজার ৭০০ ডলার ফি দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবু হানিপ বলেন, পিপল এন টেক-এর কোর্সগুলোর ফি খবুই নগন্য এবং নূন্যতম। এই ফি ও কোর্সের কোন সময় সীমা নেই। একজন শিক্ষার্থী যতদিন ইচ্ছে আমাদের এখান থেকে পর্যায়ক্রমে তার কোর্সে অংশ নিতে এবং সম্পন্ন করতে পারবেন। এছাড়াও চাকুরি পাওয়ার পরও যে কোন সমস্যায় পিপল এন টেক তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নামি-দামী কোম্পানী ম্যানেজারিয়াল পদে কাজ করছেন প্রায় ৩০০ লোক। এছাড়া আমাদের কাছে ৩ হাজারেরও বেশি অফার লেটার রয়েছে । তিনি বলেন, নিউইয়র্কে গড়ে উঠা বাংলাদেশী সংগঠনগুলো থেকে ১জন করে বছরে প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে (স্কলারশীপ) বিনামূল্যে আইটি প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করে দিচ্ছে পিপল এন টেক।
সেমিনারে প্রতিষ্ঠানের কাউন্সিলর সালাহউদ্দিন চৌধুরী নোমান’সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।