নিউইয়র্ক ১১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

মুনা‘র কনভেনশন যুক্তরাষ্ট্র মুসলমানদের সর্ববৃহৎ মিলনমেলা : ‘ইসলামোফোবিয়া’র বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবেলা করতে হবে

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৫
  • / ৭২৪ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) এর দুদিনের বার্ষিক কনভেনশন গত ৯ আগস্ট রোববার শেষ হয়েছে। সমাপনী দিনে বক্তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মাঝে ইসলামের সৌন্দর্য্যকে তুলে ধরার আহবান জানিয়ে বলেছেন, নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তবায়ন এবং ইতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমেই কেবলমাত্র এর সম্পর্কে সবধরনের ধারনা মোকাবেলা সম্ভব। বিশ্বব্যাপী অব্যাহত নেতিবাচক প্রচারনার মোকাবেলায় ইসলামের মানবিক ও কল্যাণকর বিষয়গুলোর প্রসারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। কনভেনশনে যুক্তারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রায় ছয় হাজার নারী-পুরুষ সপরিবারে এতে অংশ নেয়।
কনভেনশনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইসলাম বিরোধী প্রচারণায় যতগুলো মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে, ইতিবাচক দিকগুলো প্রসারে সে তুলনায় প্রচেষ্টা খুবই সামান্য। অপরদিকে মানবিক ও সমাজের কল্যাণকর বিষয়গুলোতে মুসলমানরা অনেক পিছিয়ে আছে। ফলে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামেদর নেতিবাচক বিষয়গুলোই মুখ্য হিসেবে কাজ করছে। বক্তারা বলেন, ‘ইসলামোফোবিয়া’র বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর মোকাবেলা করতে হবে।
কনভেনশনের শেষ দিনে তিনটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ‘বর্তমান সময়ে আদর্শ মুসলিম পরিবার গঠনের উপায়;’ ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই জীবনে সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু;’ ‘মুসলিম পরিবারে সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ;’ ‘প্রক্যেকেই দায়িত্বশীল এবং নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে পরকালে জিজ্ঞাসিত হবে;’ ‘মহানবী (স) দাওয়াতী কাজের ধরণ;’ ‘হযরত মোহাম্মদ (স) এর সমাজ সংস্কার পদ্ধতি;’ ‘হযরত মোহাম্মদ (স) জীবন্ত কুরআন;’ ‘সুখী সংসার সুখী সমাজ গঠন কর;’ ‘মুসলিম পরিচয়ে সততার পরিচয়;’ এবং ‘ইসলামে প্রকৃত সফলতা’। উল্লেখিত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল বারী, মাওলানা তারেক মনোয়ার, নওমুসলিম ও ইসলামী বিশেষজ্ঞ ইমাম ড্যানিয়েল হার্নাডেন্ড, ড. রুহুল আমীন, ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ, আবুল ফয়জুল্লাহ, আব্দুস সামাদ আজাদী, আসাদুজ্জামান খান প্রমূখ।
কনভেনশনে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী মুসলিম তরুণ-তরুণীদের জন্য পৃথক অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা হয়। এতে ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন আবু সামীহাহ সিরাজুল ইসলাম, হাফিজ জাকির, মোহাম্মদ হাসান, মাজেদ মাহমুদ, সিস্টার সুজী ইসমাঈল, ইমাম শরীফ ফয়জুল্লাহসহ আরো বেশ কয়েকজন তরুণ বক্তা। শিশুদের জন্যও পৃথকভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলাধূলার আয়োজন করা হয়।
Muna-Convention-2মূল কনভেনশন সেন্টারের সামনে বসে বিভিন্ন সামগ্রীর প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের স্টল। এর মধ্যে রয়েছে নারী পুরষের পোশাক, হস্তশিল্প, অলংকার, গিফ্ট, বই ও খাবারের দোকান। উভয় দিনেই ‘উম্মাহ শিল্পগোষ্ঠী’ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাতিয়ে রাখে কনভেনশনে আগতদের। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পগোষ্ঠীর সদস্যরা কনভেনশনের থিম সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় ইসলামি সঙ্গীত, অভিনয়, প্যারোডিসহ হরেক রকমের পরিবেশনা।
এরআগে ৮ আগস্ট শনিবার হফষ্ট্রা ইউনিভার্সিটি মূল অডিটোরিয়ামে মুনা’র দুই দিনব্যাপী এই কনভেনশন শুরু হয়। ‘ডিভাইন মেসেজ : রোড টু সাকসেস’ প্রতিপাদ্য বিষয়ে এই কনভেনশনে আমেরিকা ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামিক স্কলাররা অংশগ্রহণ করেন। মুনা’র ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুনার ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কনভেনশন কমিটির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ নূরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুনা’র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডা: সাঈদুর রহমান চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কনভেনশনের মাধ্যমে আমেরিকায় বাংলাদেশী মুসলমানদের পরিবার পরিজনকে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। একইসাথে এ কনভেনশনের মাধ্যমে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মায়ের পেটে বাচ্চাকে গুলিবিদ্ধ করা হচ্ছে, কম্প্রেসার দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু হত্যা করা হচ্ছে। এসব কিছুই বার্তা বহন করে আমরা কতটুকু ইসলামকে ধারণ করতে পেরেছি। মূলতঃ পরিবার-সমাজে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অনাচার ঘটতো না।
এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর অব মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (ম্যাস) মাজেন মোক্তার বিশ্বব্যাপী ইসলামের নেতিবাচক প্রচারণা বিরুদ্ধে সোচ্চার হ্ওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা নতুন কিছু নয়, এটা আগেও ছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে এ ধরণের নেতিবাচক প্রচারণা আমাদের র্দুবল না বরং আরো শক্তিশালী করে।
ওসামা জামাল, মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, এটা কোন বড় সমস্যা না। সকল মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইসলামের মৌলিক বিষয়ে একমত হতে হবে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরিতে মুনা এ কাজটি করে যাচ্ছে।
ইমাম আব্দুল মালেক বলেন, আল্লাহর সকল সৃষ্টি মানুষের কল্যাণের জন্য। আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদতের জন্য।আমরা সবাই তার মহিমা সম্পর্কে অবহিত। বিলিনিয়র অথবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া আমাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্য নয়্। উদ্বোধনী দিনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা তারেক মনোয়ার, ইমাম সিরাজ ওয়াহহাজ, ইমাম আব্দুল মালেক, শেখ কামাল আল-মালিকী, শেখ আবদুল কাইয়ুম, ড. আবদুল বারী, উস্তাদ মোহাম্মদ বাজুর, চরমোনাইর পীর মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী প্রমূখ।
Muna-Convention-3প্রথম দিনের চার সেশনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘প্রথম অগ্রাধিকার: আল্লাহ কী চান;’ ‘ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত সফলতা;’ ‘আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমাদের সৃষ্টি;’ ‘আল্লাহর কাছে সমর্পণের মাধ্যমের মানবজাতির সম্মান;’ ‘কেন পালনকর্তার কাছে নিজেকে সমর্পণ কঠিন;’ ‘আমরা কী বিশ্বাস করি ও কেন করি তার সঠিক পদ্ধতি;’ ‘আল্লাহর ওপর বিশ্বাসই জীবন;’ ‘ঐক্যবদ্ধ থাকার মাধ্যমে সফলতা অর্জন;’ ‘বিশ্বাসের সমন্বিত প্রতিধ্বনি: শিশুদেরে মাসিক গঠনে পিতা-মাতার ভূমিকা;’ ‘নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবেলা;’ ‘ইউএসএ ঐশী বাণী প্রচার;’ ‘আমাদের আদর্শিক দায়িত্ব;’ ‘আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমেই প্রকৃত সাফল্য;’ এবং ‘আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পনই ইবাদতের মূল;’।
দুইদিন ব্যাপী কনভেনশনে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহন করেন, বিশ্বনন্দিত কালচারাল প্রতিষ্ঠান ‘সাইমুম’র সাবেক পরিচালক- ইকবাল হোসাইন জীবন, শিল্পী মাওলানা তারেক মনোয়ার, উম্মাহ শিল্পী গোষ্ঠীর পরিচালক ডাক্তার আতাউল গনী ওসমানী শিল্পী সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রাসেল, সোলায়মান, নুরুল আনোয়ার, সাফায়েত হোসাইন (সাফা), হাসিবুর রহমান, রিপন, বাবুল, জুনায়েদ,আবু নাসের, ইব্রাহিম, নুরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী মাওলনা জুনায়েদ। বাংলা অনুবাদ করেন নূরুল আনোয়ার।
উল্লেখ্য, মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা-মুনা একটি অলাভজনক দাওয়াহ ভিত্তিক সমাজ সেবামূলক সংগঠন হিসেবে ১৯৯০ সালে নিউইয়র্কের হফষ্ট্রা ইউনিভার্সি থেকে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে সংগঠনটির বয়স ২৫ বছর। তখন ছিল হাতেগণা কয়েকজন সদস্য। পচিঁশ বছর পরিপূর্ণ এ সংগঠনটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি স্টেটে কার্যক্রম বিস্তৃতি লাভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী কমিউনিটির বাহিরেও ‘মুনা’ একটি পরিচিত নাম। পথহারা যুবকদের আস্থার স্থল এবং ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রেরণার উৎস। ২ দিন ব্যাপী কনভেনশন ছিল একটি ইসলামিক পরিবেশ। বহুজাতিক কালচারের এ দেশে ইসলামি সংস্কৃতির বিশাল এক নমুনা। বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬ হাজার ডেলিগেটের অংশগ্রহন করেন। কোথাও ছিল না কোলাহল। দায়িত্বশীল ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধুর্যপূর্ণ ব্যবহার এবং কর্মসূচী আলোকে বিশাল এ জনগোষ্ঠির পথচলা দুইদিন ইসলামী রাষ্ট্রের সোনালী দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। উদ্বোধনীর পরই পরই মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট একটা সাধারণ গেঞ্জী পড়ে বিভিন্ন বিভাগে খোজঁখবর নিতে দেখা যায়। এতবড় মাপের একজন নেতা নিজেকে একজন খাদেমের মনে করে কর্মীদের কাতারে শামিল হলেন। এটাই সত্যিকার নেতার বৈশিষ্ট্য।
কনভেনশনে উপস্থিতির সিংহভাগই ছিল এ প্রজন্মের শিশু, কিশোর-কিশোরী। শিশু কিশোর আর নারীদের জন্য ছিলো পৃথক আয়োজন। মুল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিলো প্যারালাল প্রোগ্রাম। বাইরে ছিলো শিশুদের জন্য হরেক রকমের খেলার রাইড। কনভেনশনে কেনাকাটার জন্য বসে ইসলামিক বাজার। এতে অন্যান্য দোকানের পাশাপাশি চমৎকারভাবে সাজানো হয় ইসলামি বইয়ের ষ্টল। খাওয়া-দাওয়া ও নামাজ আদায়ের জন্য জন্য ছিল আলাদা প্যান্ডেল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি হফষ্ট্রা ইউনিভার্সিটির বিশাল ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিশাল এই আয়োজনে ছিলো উপভোগ করার মত। বিরতির ফাঁকে কনভেনশনে অংশগ্রহনকারীদের কেউ প্রকৃতিকে অবলোকন করছেন। আবার কেউ কেউ পুরাতন-নতুন বন্ধু একে অন্যের সাথে পরিচিত হন। বিভিন্ন ষ্ট্রেট থেকে আসার মুনার ক্ষুদে শিল্পীদের সুন্দর কুরআন তেলাওয়াত আর ইসলামী সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ছিল প্রানকারা। এতে বিভিন্ন গ্রুপে প্রায় দুই শতাধিক নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা অংশগ্রহন করেন। প্রবাসে বেড়ে উঠা এ প্রজন্মের ক্ষুদে শিল্পীদের বাংলা এবং ইংরেজীতে ইসলামিক সঙ্গীত, হামদ-নাত, কবিতা আবৃতি, অভিনয় ব্যাপক প্রসংসা কুড়িয়েছেন।
কনভেনশনে প্রত্যেকের জন্য রেজিষ্টেশন ছিল বাধ্যতামূলক। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর ডেলিগেটদের জন্য ছিল ফ্রি বাস সার্ভিস। ব্রুকলীন, কুইন্স, ব্রঙ্কস থেকে সকাল সাড়ে সাতটা বাস ছেড়ে আসে। ক্যাম্পাসে পৌঁছ সকাল ৯ টায়। প্রায় শতাধিক বাস এক যুগে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার অনুভূতিই ছিল আলাদা। নিউইয়র্কের বাইরের ষ্ট্রেট থেকে সপরিবারের যোগ দেন কয়েকশত ডেলিগেট। এদের অনেক পরিবার রাত কাটিয়েছেন ইউনিভার্সির ডর্মিটরীতে। তারা রাতে চাঁদের আলোতে প্রকৃতিকে উপভোগ করেন আর সৃষ্টিকর্তা প্রশংসা করেন।
দুইদিন এক সাথে কাটানোর পর অনেকের মধ্যে ভ্রাতৃত্বে বন্ধন আরো দৃঢ় হয়। শেষ বিদায়ে পথে একে অন্যকে জড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়। এটাই ইসলামী পরিবেশ। আর এটাই হলো সত্যিকার ইসলামী আন্দোলনের নমুনা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

মুনা‘র কনভেনশন যুক্তরাষ্ট্র মুসলমানদের সর্ববৃহৎ মিলনমেলা : ‘ইসলামোফোবিয়া’র বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবেলা করতে হবে

প্রকাশের সময় : ১২:৪২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৫

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) এর দুদিনের বার্ষিক কনভেনশন গত ৯ আগস্ট রোববার শেষ হয়েছে। সমাপনী দিনে বক্তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মাঝে ইসলামের সৌন্দর্য্যকে তুলে ধরার আহবান জানিয়ে বলেছেন, নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তবায়ন এবং ইতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমেই কেবলমাত্র এর সম্পর্কে সবধরনের ধারনা মোকাবেলা সম্ভব। বিশ্বব্যাপী অব্যাহত নেতিবাচক প্রচারনার মোকাবেলায় ইসলামের মানবিক ও কল্যাণকর বিষয়গুলোর প্রসারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। কনভেনশনে যুক্তারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রায় ছয় হাজার নারী-পুরুষ সপরিবারে এতে অংশ নেয়।
কনভেনশনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইসলাম বিরোধী প্রচারণায় যতগুলো মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে, ইতিবাচক দিকগুলো প্রসারে সে তুলনায় প্রচেষ্টা খুবই সামান্য। অপরদিকে মানবিক ও সমাজের কল্যাণকর বিষয়গুলোতে মুসলমানরা অনেক পিছিয়ে আছে। ফলে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামেদর নেতিবাচক বিষয়গুলোই মুখ্য হিসেবে কাজ করছে। বক্তারা বলেন, ‘ইসলামোফোবিয়া’র বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর মোকাবেলা করতে হবে।
কনভেনশনের শেষ দিনে তিনটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ‘বর্তমান সময়ে আদর্শ মুসলিম পরিবার গঠনের উপায়;’ ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই জীবনে সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু;’ ‘মুসলিম পরিবারে সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ;’ ‘প্রক্যেকেই দায়িত্বশীল এবং নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে পরকালে জিজ্ঞাসিত হবে;’ ‘মহানবী (স) দাওয়াতী কাজের ধরণ;’ ‘হযরত মোহাম্মদ (স) এর সমাজ সংস্কার পদ্ধতি;’ ‘হযরত মোহাম্মদ (স) জীবন্ত কুরআন;’ ‘সুখী সংসার সুখী সমাজ গঠন কর;’ ‘মুসলিম পরিচয়ে সততার পরিচয়;’ এবং ‘ইসলামে প্রকৃত সফলতা’। উল্লেখিত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল বারী, মাওলানা তারেক মনোয়ার, নওমুসলিম ও ইসলামী বিশেষজ্ঞ ইমাম ড্যানিয়েল হার্নাডেন্ড, ড. রুহুল আমীন, ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ, আবুল ফয়জুল্লাহ, আব্দুস সামাদ আজাদী, আসাদুজ্জামান খান প্রমূখ।
কনভেনশনে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী মুসলিম তরুণ-তরুণীদের জন্য পৃথক অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা হয়। এতে ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন আবু সামীহাহ সিরাজুল ইসলাম, হাফিজ জাকির, মোহাম্মদ হাসান, মাজেদ মাহমুদ, সিস্টার সুজী ইসমাঈল, ইমাম শরীফ ফয়জুল্লাহসহ আরো বেশ কয়েকজন তরুণ বক্তা। শিশুদের জন্যও পৃথকভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলাধূলার আয়োজন করা হয়।
Muna-Convention-2মূল কনভেনশন সেন্টারের সামনে বসে বিভিন্ন সামগ্রীর প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের স্টল। এর মধ্যে রয়েছে নারী পুরষের পোশাক, হস্তশিল্প, অলংকার, গিফ্ট, বই ও খাবারের দোকান। উভয় দিনেই ‘উম্মাহ শিল্পগোষ্ঠী’ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাতিয়ে রাখে কনভেনশনে আগতদের। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পগোষ্ঠীর সদস্যরা কনভেনশনের থিম সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় ইসলামি সঙ্গীত, অভিনয়, প্যারোডিসহ হরেক রকমের পরিবেশনা।
এরআগে ৮ আগস্ট শনিবার হফষ্ট্রা ইউনিভার্সিটি মূল অডিটোরিয়ামে মুনা’র দুই দিনব্যাপী এই কনভেনশন শুরু হয়। ‘ডিভাইন মেসেজ : রোড টু সাকসেস’ প্রতিপাদ্য বিষয়ে এই কনভেনশনে আমেরিকা ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামিক স্কলাররা অংশগ্রহণ করেন। মুনা’র ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুনার ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কনভেনশন কমিটির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ নূরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুনা’র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডা: সাঈদুর রহমান চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কনভেনশনের মাধ্যমে আমেরিকায় বাংলাদেশী মুসলমানদের পরিবার পরিজনকে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। একইসাথে এ কনভেনশনের মাধ্যমে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মায়ের পেটে বাচ্চাকে গুলিবিদ্ধ করা হচ্ছে, কম্প্রেসার দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু হত্যা করা হচ্ছে। এসব কিছুই বার্তা বহন করে আমরা কতটুকু ইসলামকে ধারণ করতে পেরেছি। মূলতঃ পরিবার-সমাজে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অনাচার ঘটতো না।
এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর অব মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (ম্যাস) মাজেন মোক্তার বিশ্বব্যাপী ইসলামের নেতিবাচক প্রচারণা বিরুদ্ধে সোচ্চার হ্ওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা নতুন কিছু নয়, এটা আগেও ছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে এ ধরণের নেতিবাচক প্রচারণা আমাদের র্দুবল না বরং আরো শক্তিশালী করে।
ওসামা জামাল, মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, এটা কোন বড় সমস্যা না। সকল মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইসলামের মৌলিক বিষয়ে একমত হতে হবে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরিতে মুনা এ কাজটি করে যাচ্ছে।
ইমাম আব্দুল মালেক বলেন, আল্লাহর সকল সৃষ্টি মানুষের কল্যাণের জন্য। আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদতের জন্য।আমরা সবাই তার মহিমা সম্পর্কে অবহিত। বিলিনিয়র অথবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া আমাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্য নয়্। উদ্বোধনী দিনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা তারেক মনোয়ার, ইমাম সিরাজ ওয়াহহাজ, ইমাম আব্দুল মালেক, শেখ কামাল আল-মালিকী, শেখ আবদুল কাইয়ুম, ড. আবদুল বারী, উস্তাদ মোহাম্মদ বাজুর, চরমোনাইর পীর মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী প্রমূখ।
Muna-Convention-3প্রথম দিনের চার সেশনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘প্রথম অগ্রাধিকার: আল্লাহ কী চান;’ ‘ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত সফলতা;’ ‘আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমাদের সৃষ্টি;’ ‘আল্লাহর কাছে সমর্পণের মাধ্যমের মানবজাতির সম্মান;’ ‘কেন পালনকর্তার কাছে নিজেকে সমর্পণ কঠিন;’ ‘আমরা কী বিশ্বাস করি ও কেন করি তার সঠিক পদ্ধতি;’ ‘আল্লাহর ওপর বিশ্বাসই জীবন;’ ‘ঐক্যবদ্ধ থাকার মাধ্যমে সফলতা অর্জন;’ ‘বিশ্বাসের সমন্বিত প্রতিধ্বনি: শিশুদেরে মাসিক গঠনে পিতা-মাতার ভূমিকা;’ ‘নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবেলা;’ ‘ইউএসএ ঐশী বাণী প্রচার;’ ‘আমাদের আদর্শিক দায়িত্ব;’ ‘আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমেই প্রকৃত সাফল্য;’ এবং ‘আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পনই ইবাদতের মূল;’।
দুইদিন ব্যাপী কনভেনশনে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহন করেন, বিশ্বনন্দিত কালচারাল প্রতিষ্ঠান ‘সাইমুম’র সাবেক পরিচালক- ইকবাল হোসাইন জীবন, শিল্পী মাওলানা তারেক মনোয়ার, উম্মাহ শিল্পী গোষ্ঠীর পরিচালক ডাক্তার আতাউল গনী ওসমানী শিল্পী সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রাসেল, সোলায়মান, নুরুল আনোয়ার, সাফায়েত হোসাইন (সাফা), হাসিবুর রহমান, রিপন, বাবুল, জুনায়েদ,আবু নাসের, ইব্রাহিম, নুরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী মাওলনা জুনায়েদ। বাংলা অনুবাদ করেন নূরুল আনোয়ার।
উল্লেখ্য, মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা-মুনা একটি অলাভজনক দাওয়াহ ভিত্তিক সমাজ সেবামূলক সংগঠন হিসেবে ১৯৯০ সালে নিউইয়র্কের হফষ্ট্রা ইউনিভার্সি থেকে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে সংগঠনটির বয়স ২৫ বছর। তখন ছিল হাতেগণা কয়েকজন সদস্য। পচিঁশ বছর পরিপূর্ণ এ সংগঠনটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি স্টেটে কার্যক্রম বিস্তৃতি লাভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী কমিউনিটির বাহিরেও ‘মুনা’ একটি পরিচিত নাম। পথহারা যুবকদের আস্থার স্থল এবং ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রেরণার উৎস। ২ দিন ব্যাপী কনভেনশন ছিল একটি ইসলামিক পরিবেশ। বহুজাতিক কালচারের এ দেশে ইসলামি সংস্কৃতির বিশাল এক নমুনা। বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬ হাজার ডেলিগেটের অংশগ্রহন করেন। কোথাও ছিল না কোলাহল। দায়িত্বশীল ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধুর্যপূর্ণ ব্যবহার এবং কর্মসূচী আলোকে বিশাল এ জনগোষ্ঠির পথচলা দুইদিন ইসলামী রাষ্ট্রের সোনালী দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। উদ্বোধনীর পরই পরই মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট একটা সাধারণ গেঞ্জী পড়ে বিভিন্ন বিভাগে খোজঁখবর নিতে দেখা যায়। এতবড় মাপের একজন নেতা নিজেকে একজন খাদেমের মনে করে কর্মীদের কাতারে শামিল হলেন। এটাই সত্যিকার নেতার বৈশিষ্ট্য।
কনভেনশনে উপস্থিতির সিংহভাগই ছিল এ প্রজন্মের শিশু, কিশোর-কিশোরী। শিশু কিশোর আর নারীদের জন্য ছিলো পৃথক আয়োজন। মুল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিলো প্যারালাল প্রোগ্রাম। বাইরে ছিলো শিশুদের জন্য হরেক রকমের খেলার রাইড। কনভেনশনে কেনাকাটার জন্য বসে ইসলামিক বাজার। এতে অন্যান্য দোকানের পাশাপাশি চমৎকারভাবে সাজানো হয় ইসলামি বইয়ের ষ্টল। খাওয়া-দাওয়া ও নামাজ আদায়ের জন্য জন্য ছিল আলাদা প্যান্ডেল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি হফষ্ট্রা ইউনিভার্সিটির বিশাল ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিশাল এই আয়োজনে ছিলো উপভোগ করার মত। বিরতির ফাঁকে কনভেনশনে অংশগ্রহনকারীদের কেউ প্রকৃতিকে অবলোকন করছেন। আবার কেউ কেউ পুরাতন-নতুন বন্ধু একে অন্যের সাথে পরিচিত হন। বিভিন্ন ষ্ট্রেট থেকে আসার মুনার ক্ষুদে শিল্পীদের সুন্দর কুরআন তেলাওয়াত আর ইসলামী সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ছিল প্রানকারা। এতে বিভিন্ন গ্রুপে প্রায় দুই শতাধিক নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা অংশগ্রহন করেন। প্রবাসে বেড়ে উঠা এ প্রজন্মের ক্ষুদে শিল্পীদের বাংলা এবং ইংরেজীতে ইসলামিক সঙ্গীত, হামদ-নাত, কবিতা আবৃতি, অভিনয় ব্যাপক প্রসংসা কুড়িয়েছেন।
কনভেনশনে প্রত্যেকের জন্য রেজিষ্টেশন ছিল বাধ্যতামূলক। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর ডেলিগেটদের জন্য ছিল ফ্রি বাস সার্ভিস। ব্রুকলীন, কুইন্স, ব্রঙ্কস থেকে সকাল সাড়ে সাতটা বাস ছেড়ে আসে। ক্যাম্পাসে পৌঁছ সকাল ৯ টায়। প্রায় শতাধিক বাস এক যুগে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার অনুভূতিই ছিল আলাদা। নিউইয়র্কের বাইরের ষ্ট্রেট থেকে সপরিবারের যোগ দেন কয়েকশত ডেলিগেট। এদের অনেক পরিবার রাত কাটিয়েছেন ইউনিভার্সির ডর্মিটরীতে। তারা রাতে চাঁদের আলোতে প্রকৃতিকে উপভোগ করেন আর সৃষ্টিকর্তা প্রশংসা করেন।
দুইদিন এক সাথে কাটানোর পর অনেকের মধ্যে ভ্রাতৃত্বে বন্ধন আরো দৃঢ় হয়। শেষ বিদায়ে পথে একে অন্যকে জড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়। এটাই ইসলামী পরিবেশ। আর এটাই হলো সত্যিকার ইসলামী আন্দোলনের নমুনা।