নিউইয়র্ক ০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখন ব্যবসায় পরিণত

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৪
  • / ৬৯৭ বার পঠিত

নিউইর্য়ক: আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের চার দশকের অধিক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ভৌগলিকভাবে একটা দেশ পেয়েছি ঠিকই কিন্তু স্বাধীনতার প্রকৃত সুখ আমরা আজও পাইনি। বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষ যে উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছে সে মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার চেতনা এখন একটি রাজনৈতিক দলের ব্যবসায়ে পরিনত হয়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর শনিবার সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হ্ইাটসের পালকি রেষ্টুরেন্ট ‘বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থাররত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যতম সংগঠন ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অফ ইউএসএ ইনক’।
CUAA--2মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য ও স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা সেদিন অংশগ্রহণ করেছিল তাদের প্রত্যেকের তীব্র আকাংখা ছিল, আমরা স্বাধীন সার্বভৌম একটি বাংলাদেশ পাবো। যেখানে কারো তাঁবেদারী থাকবে না। গড়ে উঠবে বৈষম্যহীন সুদৃঢ় ঐক্যের বাংলাদেশ। থাকবে না রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, থাকবে অর্থনৈতিক সুদৃঢ় ভিত্তি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। লাল-সবুজের পতাকা আর একটি ভূখন্ড পেয়েছি। কিন্তু দরিদ্রতার কবল থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। না খেয়ে দরিদ্রতার কশাঘাতে পিষ্ট হয় মানুষ মরার খবর এখনো খবরে প্রকাশিত হয়। শাসকদের ভাগ্যের চাকা ঘোরে কিন্তু কোন পরিবর্তন হয় না অভাগা জনগোষ্ঠীর। দেশের কোন সরকারই কর্মমুখী শিক্ষা ও দরিদ্রতা বিমোচনে বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করতে না পারায় ৪৩ বছরেও কোন চমক লাগানো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনা করছে। আমাদের দেশটি গণপ্রজাতান্ত্রিক সরকার নামে পরিচিত। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে গণতন্ত্রের পথে দেশ হাঁটা শুরু করলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রয়োজনে গণতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্র এক সাথে সব গুলিয়ে ফেলে।এখনও আমাদের বলতে হয় দেশে অবৈধ ও অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা পরিচালনা করছে। সরকারের মদদপুষ্ট প্রশাসনযন্ত্র সরকারের নির্দেশে নির্বিচারে দেশের নাগরিকের ওপর গুলি চালাচ্ছে। একটি দেশের বয়স যত বাড়তে থাকে তার ঐক্য, সংহতি, গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রপরিচালনা সুদৃঢ় হতে থাকে দেশের প্রজাতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। এটাই কি আমাদের নিয়তি?
তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কৃতিত্ব একা কোন ব্যক্তি বা দলের নয়। বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষ যে উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছে সে মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার চেতনা এখন একটি রাজনৈতিক দলের ব্যবসায়ে পরিনত হয়েছে। একটি স্বার্থমহল স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে বলে পুরো জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতার পক্ষে দাবীদার একটি দলের অনেক নেতা ভারতে বসে মদ খেয়ে ফুর্তি করেছে। যুদ্ধ কি জিনিস তারা জানেও না।
বক্তারা আরো বলেন, দেশের এমন করুণ পরিস্থিতি দেশের ভালো মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও মন ভারাক্রান্ত হয়। স্বদেশের প্রতিটি অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ আমাদের রঙিন স্বপ্নগুলো দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দেয়। ৪৩ বছরে অসংখ্য দুর্যোগের ঘনঘটা আর নানা অপ্রাপ্তিতে আমরা বেদনাহত হই, মুষড়ে পড়ি। এরপরও অজানা এক শক্তিতে বুক বেঁধে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস আমাদের তাড়িত করে। এখন বড়ই প্রয়োজন ১৬ কোটি মানুষকে জাগানো। এ জন্য দরকার জাতীয় ঐক্য, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর সাহসিকতা। আসুন, আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিকামী মানুষের পাশে দাড়াঁই। আর তখনই বিজয়ের আলোচনা স্বার্থক হবে।
CUAA-3সভায় সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এমলাক হোসেন ফয়সলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু, ড.আবুল কাসেম, উপদেষ্টা এনামুল হায়দার, এর্টণী আব্দুল আজিজ, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলায়মান, এম.এ কালাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট ড. এসআই শেলী, হেলাল উদ্দিন, জুয়ানা’র সহ সভাপতি অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, ডা. আতাউল গনী ওসমানী ও এডভোকেট খায়রুল বাশার। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, মো. ইমতিয়াজ, বদরুল হক আজাদ, নূরুল মোস্তফা, অধ্যাপিকা আমেনা শাহীন প্রমুখ। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া মুনাজাত করেন মাওলানা সুলতান মাহমুদ। বক্তব্যে ফাঁকে দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন ডা. আতাউল গনী ওসমানী, কবিতা আবৃতি করেন নূরুল আনোয়ার, নূরুল মোস্তফা।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখন ব্যবসায় পরিণত

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৪

নিউইর্য়ক: আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের চার দশকের অধিক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ভৌগলিকভাবে একটা দেশ পেয়েছি ঠিকই কিন্তু স্বাধীনতার প্রকৃত সুখ আমরা আজও পাইনি। বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষ যে উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছে সে মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার চেতনা এখন একটি রাজনৈতিক দলের ব্যবসায়ে পরিনত হয়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর শনিবার সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হ্ইাটসের পালকি রেষ্টুরেন্ট ‘বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থাররত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যতম সংগঠন ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অফ ইউএসএ ইনক’।
CUAA--2মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য ও স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা সেদিন অংশগ্রহণ করেছিল তাদের প্রত্যেকের তীব্র আকাংখা ছিল, আমরা স্বাধীন সার্বভৌম একটি বাংলাদেশ পাবো। যেখানে কারো তাঁবেদারী থাকবে না। গড়ে উঠবে বৈষম্যহীন সুদৃঢ় ঐক্যের বাংলাদেশ। থাকবে না রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, থাকবে অর্থনৈতিক সুদৃঢ় ভিত্তি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। লাল-সবুজের পতাকা আর একটি ভূখন্ড পেয়েছি। কিন্তু দরিদ্রতার কবল থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। না খেয়ে দরিদ্রতার কশাঘাতে পিষ্ট হয় মানুষ মরার খবর এখনো খবরে প্রকাশিত হয়। শাসকদের ভাগ্যের চাকা ঘোরে কিন্তু কোন পরিবর্তন হয় না অভাগা জনগোষ্ঠীর। দেশের কোন সরকারই কর্মমুখী শিক্ষা ও দরিদ্রতা বিমোচনে বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করতে না পারায় ৪৩ বছরেও কোন চমক লাগানো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনা করছে। আমাদের দেশটি গণপ্রজাতান্ত্রিক সরকার নামে পরিচিত। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে গণতন্ত্রের পথে দেশ হাঁটা শুরু করলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রয়োজনে গণতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্র এক সাথে সব গুলিয়ে ফেলে।এখনও আমাদের বলতে হয় দেশে অবৈধ ও অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা পরিচালনা করছে। সরকারের মদদপুষ্ট প্রশাসনযন্ত্র সরকারের নির্দেশে নির্বিচারে দেশের নাগরিকের ওপর গুলি চালাচ্ছে। একটি দেশের বয়স যত বাড়তে থাকে তার ঐক্য, সংহতি, গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রপরিচালনা সুদৃঢ় হতে থাকে দেশের প্রজাতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। এটাই কি আমাদের নিয়তি?
তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কৃতিত্ব একা কোন ব্যক্তি বা দলের নয়। বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষ যে উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছে সে মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার চেতনা এখন একটি রাজনৈতিক দলের ব্যবসায়ে পরিনত হয়েছে। একটি স্বার্থমহল স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে বলে পুরো জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতার পক্ষে দাবীদার একটি দলের অনেক নেতা ভারতে বসে মদ খেয়ে ফুর্তি করেছে। যুদ্ধ কি জিনিস তারা জানেও না।
বক্তারা আরো বলেন, দেশের এমন করুণ পরিস্থিতি দেশের ভালো মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও মন ভারাক্রান্ত হয়। স্বদেশের প্রতিটি অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ আমাদের রঙিন স্বপ্নগুলো দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দেয়। ৪৩ বছরে অসংখ্য দুর্যোগের ঘনঘটা আর নানা অপ্রাপ্তিতে আমরা বেদনাহত হই, মুষড়ে পড়ি। এরপরও অজানা এক শক্তিতে বুক বেঁধে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস আমাদের তাড়িত করে। এখন বড়ই প্রয়োজন ১৬ কোটি মানুষকে জাগানো। এ জন্য দরকার জাতীয় ঐক্য, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর সাহসিকতা। আসুন, আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিকামী মানুষের পাশে দাড়াঁই। আর তখনই বিজয়ের আলোচনা স্বার্থক হবে।
CUAA-3সভায় সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এমলাক হোসেন ফয়সলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু, ড.আবুল কাসেম, উপদেষ্টা এনামুল হায়দার, এর্টণী আব্দুল আজিজ, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলায়মান, এম.এ কালাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট ড. এসআই শেলী, হেলাল উদ্দিন, জুয়ানা’র সহ সভাপতি অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, ডা. আতাউল গনী ওসমানী ও এডভোকেট খায়রুল বাশার। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, মো. ইমতিয়াজ, বদরুল হক আজাদ, নূরুল মোস্তফা, অধ্যাপিকা আমেনা শাহীন প্রমুখ। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া মুনাজাত করেন মাওলানা সুলতান মাহমুদ। বক্তব্যে ফাঁকে দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন ডা. আতাউল গনী ওসমানী, কবিতা আবৃতি করেন নূরুল আনোয়ার, নূরুল মোস্তফা।