নিউইয়র্ক ০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

মির্জা ফখরুলেও প্রাণ নেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০১৫
  • / ৯৩১ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: চিকিৎসা বা ব্যক্তিগত ভ্রমণে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যুক্তরাষ্ট্র আসার কারণে স্থানীয় রাজনীতি চাঙ্গা হওয়ার বিষয়টি দৃশ্যমান হলেও ব্যতিক্রম ঘটছে বিএনপিতে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর নিউইয়র্কে অবস্থান করলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই আছে। ফখরুলের নিউ ইয়র্ক আমগনকে ঘিরে বিএনপি প্রাণ ফিরে পাওয়ার করা কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এ জন্য অবশ্যই দলের নেতাকর্মীরা ফকরুলকেই দায়ী করছেন। কারণ চিকিৎসার কথা বলে তিনি নিজেই নীরব আছেন এবং সে সুযোগে দলের কয়েকজন নেতা সক্রিয় হয়ে ওঠেছেন।
দলীয় সূত্রগুলো দাবী করছে, চিকিৎসার জন্য ফখরুল আসলেও এমনটা হওয়ার কথা ছিল না, কারণ আগেই যেসব নেতারা এসেছেন তাদেরকে ঘিরে নেতা-কর্মীরা সরব ছিল।
জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। গত ১৪ আগষ্ট শুক্রবার সিটির কর্নেল হাসপাতালে প্রথম তার শারীরিক চেকআপ করা হয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মির্জা ফখরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন বলে জানা গেছে।
গত ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাংলাদেশী-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. জালাল আহমেদ মির্জা ফখরুলের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। এসময় সিঙ্গাপুরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে ডা. জালাল মির্জা ফখরুলের সাথে আলোচনা করেন।
এদিকে নিউইয়র্ক পৌছার পরই মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বস্ত্রীক স্থানীয় লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে উঠেছেন। দু’একদিনের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক নেতার বাসায় উঠতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অপরদিকে শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম দলীয় নেতা-কর্মীদের কোন সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় নেতা সাদেক হোসেন খোকা সহ হাতে গোনা কয়েকজন নেতাই তার সাথে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা দলের মহাসচিব একটু সুস্থ্য হলেই নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ দেবেন এবং দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নেবেন। এছাড়া নিউইয়র্কে তাকে স্বাগত জানানো নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ফলে সব মিলিয়ে দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উপস্থিতিতেও প্রাণ ফিরেনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে। মির্জা ফখরুলের নিরবতাই, দলীয় নেতা-কর্মীদের নিরবতর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি নেই। আর কমিটি না থাকায় দলের মধ্যে স্থবিরতা বাড়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল, উপকোন্দল, দ্বিধা-বিভক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন/চার ভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। বার বার উপেক্ষিত হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়। ফলে তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা চরম হতাশায় ভুগছেন। আর এ মুহুর্ত্বে মির্জা ফখুরুলেও যদি বিএনপিতে প্রাণ না ফেরে তাতে দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কায় আছেন অনেকে।
নেপথ্যের কথা: বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিউইয়র্ক সফল চিকিৎসার জন্য হলেও এবারই প্রথম দেশের বড় কোন রাজনৈতিক দলের মহাসচিব নিরব থাকছেন। ইতিপূর্বে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম খন্দকার দেলোয়ার হোসেন চিকিৎসার জন্য একাধিকবার নিউইয়র্ক সফর কররেও এমনটি হয়নি। খন্দকার দেলোয়ার নিউইয়র্ক সফলকালীন সময়ে চিকিৎসা নেয়ার পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় বা দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন। তার সময়ে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে নেতা-কর্মীদের যাওয়ায় কোন বাড়ন ছিলো না।
মির্জা ফখরুল ইসলামের বেলায় এমনটি কেনো হলো? এমন এক প্রশ্নে অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একাধিক মামলায় আটকের পর দীর্ঘ ছয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থেকে অসুস্থ্য অবস্থায় তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিঙ্গাপুর এবং এখন নিউইয়র্ক সফর করছেন। সূত্র মতে, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নেবেন না এমন শর্ত রয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলে বিএনপি’র রাজনীতি কোনঠাসা হওয়ায় বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে এবারই প্রথম ১৫ আগষ্ট শনিবার দলীয় চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর প্রথম প্রহরে কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।
নিউইয়র্ক আগমন: গত ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে সাথে নিয়ে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। হুইল চেয়ারে চড়ে সহধর্মিনীকে সাথে নিয়ে মির্জা ফখরুল বিমানবন্দরের অভ্যর্থনা লাউঞ্জে আসার পর কেন্দ্রীয় বিএনপি’র দুই নেতাসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কতিপয় নেতা মির্জা ফখরুল ইসলামকে স্বাগত এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এদিকে বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের বিএনপি’র সিদ্ধান্ত ছিলো যেহেতু মির্জা ফখরুল ইসলাম দলীয় নয়, একান্তই শারীরিক চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন, তাই বিমানবন্দরে দলীয় কোন নেতা-কর্মী না যাওয়ার পরামর্শ ছিলো। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ কেউ বিমানবন্দরে গিয়ে দলীয় মহাসচিবকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সূত্র মতে, দলীয় সিদ্ধান্তের কথা বিচেনায় রেখে বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুল ইসলামকে স্বাগত জানাতে যাননি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর।
বিমানবন্দরে দলীয় মহাসচিবকে স্বাগত জানানো প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, দলের নেতা আসবেন আর আমরা স্বাগত জানাতে পারবো না, তার সাথে দেখা হবে না তা হতে পারে না। তিনি বলেন, আমার মহাসচিবের কাছে দাবী জানিয়েছি দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মিলিত হতে। তিনি সম্মত হনননি, বলেছেন, আমি চিকিৎসার জন্য এসেছি, রাজনৈতিক সফরে নয়।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু বলেন, দলীয় মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন আর নেতা-কর্মীরা তাকে সম্বর্ধিত করবেন না, বা বিমানবন্দরে যাবেন না তা হতে পারে না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জেনেই আমি তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যাইনি। আর যারা গিয়েছেন তারা মানবিক দৃষ্টিকোনের বিবেচনায় বিমানবন্দরে গিয়েছেন, কোন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য যাননি। তবে সবাই মিলে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চললে সবার জন্যই ভালো হতো। এনিয়ে দলের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করা ঠিক হবে না। কেননা, মহাসচিবের এবারের নিউইয়র্ক সফর দলীয় বা রাজনৈতিক নয়, শারীরিক চিকিৎসার জন্য এই সফর।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে এক স্টেটাসে বলেন, মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম নিউইয়র্ক এসেছেন চিকিৎসার জন্য। সবাইকে আগাম অনুরোধ করেছিলেন এয়ারপোর্ট না যেতে। সবাই অনুরোধ রাখলেও কিছু সুযোগসন্ধানীরা রাখেনি। তারা আবার ফটো সেশনটা সামাজিক যোগাযোগ আর পত্রিকায় দিয়ে বিশাল কিছু অর্জনের তৃপ্তি করছে। আল্লাহ এদেরকে হেদায়েত করুক আর তাকে সুস্থ করুক। ফেইস বুকে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিউইয়র্ক ষ্টেট যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো: রেজাউল আজাদ ভূঁইয়া।
কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিক চৌধুরী এবং সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান ছাড়াও জেএফকে বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুল ইসলামকে স্বাগত জানাতে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ সোলায়মান ভুঁইয়া, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, বিএনপি নেতা আব্বাস উদ্দিন দুলাল, হাজী কামাল উদ্দিন, নূরে আলম প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুলের পারিবারিক বন্ধু রফিকুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম ডলার।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্র আসার আগে গত ২৭ জুলাই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এবং ইকোনো হসপিটালের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তিনি ক্যারোটিভ আর্টারি ব্লকেজ ও হার্টসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। উল্লেখ্য, টানা ছয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকাবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। নাসকতা মামলায় তাকে গত ৬ জানুয়ারী তাকে ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের অগে তিনি কিছুদিন আতœগোপনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই তিনি জামিনে মুক্তি পান।(সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

মির্জা ফখরুলেও প্রাণ নেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির

প্রকাশের সময় : ১২:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০১৫

নিউইয়র্ক: চিকিৎসা বা ব্যক্তিগত ভ্রমণে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যুক্তরাষ্ট্র আসার কারণে স্থানীয় রাজনীতি চাঙ্গা হওয়ার বিষয়টি দৃশ্যমান হলেও ব্যতিক্রম ঘটছে বিএনপিতে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর নিউইয়র্কে অবস্থান করলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই আছে। ফখরুলের নিউ ইয়র্ক আমগনকে ঘিরে বিএনপি প্রাণ ফিরে পাওয়ার করা কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এ জন্য অবশ্যই দলের নেতাকর্মীরা ফকরুলকেই দায়ী করছেন। কারণ চিকিৎসার কথা বলে তিনি নিজেই নীরব আছেন এবং সে সুযোগে দলের কয়েকজন নেতা সক্রিয় হয়ে ওঠেছেন।
দলীয় সূত্রগুলো দাবী করছে, চিকিৎসার জন্য ফখরুল আসলেও এমনটা হওয়ার কথা ছিল না, কারণ আগেই যেসব নেতারা এসেছেন তাদেরকে ঘিরে নেতা-কর্মীরা সরব ছিল।
জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। গত ১৪ আগষ্ট শুক্রবার সিটির কর্নেল হাসপাতালে প্রথম তার শারীরিক চেকআপ করা হয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মির্জা ফখরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন বলে জানা গেছে।
গত ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাংলাদেশী-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. জালাল আহমেদ মির্জা ফখরুলের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। এসময় সিঙ্গাপুরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে ডা. জালাল মির্জা ফখরুলের সাথে আলোচনা করেন।
এদিকে নিউইয়র্ক পৌছার পরই মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বস্ত্রীক স্থানীয় লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে উঠেছেন। দু’একদিনের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক নেতার বাসায় উঠতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অপরদিকে শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম দলীয় নেতা-কর্মীদের কোন সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় নেতা সাদেক হোসেন খোকা সহ হাতে গোনা কয়েকজন নেতাই তার সাথে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা দলের মহাসচিব একটু সুস্থ্য হলেই নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ দেবেন এবং দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নেবেন। এছাড়া নিউইয়র্কে তাকে স্বাগত জানানো নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ফলে সব মিলিয়ে দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উপস্থিতিতেও প্রাণ ফিরেনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে। মির্জা ফখরুলের নিরবতাই, দলীয় নেতা-কর্মীদের নিরবতর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি নেই। আর কমিটি না থাকায় দলের মধ্যে স্থবিরতা বাড়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল, উপকোন্দল, দ্বিধা-বিভক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন/চার ভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। বার বার উপেক্ষিত হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়। ফলে তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা চরম হতাশায় ভুগছেন। আর এ মুহুর্ত্বে মির্জা ফখুরুলেও যদি বিএনপিতে প্রাণ না ফেরে তাতে দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কায় আছেন অনেকে।
নেপথ্যের কথা: বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিউইয়র্ক সফল চিকিৎসার জন্য হলেও এবারই প্রথম দেশের বড় কোন রাজনৈতিক দলের মহাসচিব নিরব থাকছেন। ইতিপূর্বে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম খন্দকার দেলোয়ার হোসেন চিকিৎসার জন্য একাধিকবার নিউইয়র্ক সফর কররেও এমনটি হয়নি। খন্দকার দেলোয়ার নিউইয়র্ক সফলকালীন সময়ে চিকিৎসা নেয়ার পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় বা দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন। তার সময়ে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে নেতা-কর্মীদের যাওয়ায় কোন বাড়ন ছিলো না।
মির্জা ফখরুল ইসলামের বেলায় এমনটি কেনো হলো? এমন এক প্রশ্নে অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একাধিক মামলায় আটকের পর দীর্ঘ ছয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থেকে অসুস্থ্য অবস্থায় তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিঙ্গাপুর এবং এখন নিউইয়র্ক সফর করছেন। সূত্র মতে, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নেবেন না এমন শর্ত রয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলে বিএনপি’র রাজনীতি কোনঠাসা হওয়ায় বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে এবারই প্রথম ১৫ আগষ্ট শনিবার দলীয় চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর প্রথম প্রহরে কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।
নিউইয়র্ক আগমন: গত ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে সাথে নিয়ে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। হুইল চেয়ারে চড়ে সহধর্মিনীকে সাথে নিয়ে মির্জা ফখরুল বিমানবন্দরের অভ্যর্থনা লাউঞ্জে আসার পর কেন্দ্রীয় বিএনপি’র দুই নেতাসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কতিপয় নেতা মির্জা ফখরুল ইসলামকে স্বাগত এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এদিকে বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের বিএনপি’র সিদ্ধান্ত ছিলো যেহেতু মির্জা ফখরুল ইসলাম দলীয় নয়, একান্তই শারীরিক চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন, তাই বিমানবন্দরে দলীয় কোন নেতা-কর্মী না যাওয়ার পরামর্শ ছিলো। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ কেউ বিমানবন্দরে গিয়ে দলীয় মহাসচিবকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সূত্র মতে, দলীয় সিদ্ধান্তের কথা বিচেনায় রেখে বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুল ইসলামকে স্বাগত জানাতে যাননি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর।
বিমানবন্দরে দলীয় মহাসচিবকে স্বাগত জানানো প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, দলের নেতা আসবেন আর আমরা স্বাগত জানাতে পারবো না, তার সাথে দেখা হবে না তা হতে পারে না। তিনি বলেন, আমার মহাসচিবের কাছে দাবী জানিয়েছি দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মিলিত হতে। তিনি সম্মত হনননি, বলেছেন, আমি চিকিৎসার জন্য এসেছি, রাজনৈতিক সফরে নয়।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু বলেন, দলীয় মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন আর নেতা-কর্মীরা তাকে সম্বর্ধিত করবেন না, বা বিমানবন্দরে যাবেন না তা হতে পারে না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জেনেই আমি তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যাইনি। আর যারা গিয়েছেন তারা মানবিক দৃষ্টিকোনের বিবেচনায় বিমানবন্দরে গিয়েছেন, কোন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য যাননি। তবে সবাই মিলে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চললে সবার জন্যই ভালো হতো। এনিয়ে দলের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করা ঠিক হবে না। কেননা, মহাসচিবের এবারের নিউইয়র্ক সফর দলীয় বা রাজনৈতিক নয়, শারীরিক চিকিৎসার জন্য এই সফর।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে এক স্টেটাসে বলেন, মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম নিউইয়র্ক এসেছেন চিকিৎসার জন্য। সবাইকে আগাম অনুরোধ করেছিলেন এয়ারপোর্ট না যেতে। সবাই অনুরোধ রাখলেও কিছু সুযোগসন্ধানীরা রাখেনি। তারা আবার ফটো সেশনটা সামাজিক যোগাযোগ আর পত্রিকায় দিয়ে বিশাল কিছু অর্জনের তৃপ্তি করছে। আল্লাহ এদেরকে হেদায়েত করুক আর তাকে সুস্থ করুক। ফেইস বুকে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিউইয়র্ক ষ্টেট যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো: রেজাউল আজাদ ভূঁইয়া।
কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিক চৌধুরী এবং সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান ছাড়াও জেএফকে বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুল ইসলামকে স্বাগত জানাতে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ সোলায়মান ভুঁইয়া, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, বিএনপি নেতা আব্বাস উদ্দিন দুলাল, হাজী কামাল উদ্দিন, নূরে আলম প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুলের পারিবারিক বন্ধু রফিকুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম ডলার।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্র আসার আগে গত ২৭ জুলাই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এবং ইকোনো হসপিটালের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তিনি ক্যারোটিভ আর্টারি ব্লকেজ ও হার্টসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। উল্লেখ্য, টানা ছয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকাবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। নাসকতা মামলায় তাকে গত ৬ জানুয়ারী তাকে ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের অগে তিনি কিছুদিন আতœগোপনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই তিনি জামিনে মুক্তি পান।(সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)