নিউইয়র্ক ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় যেকোন মূল্যে সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০১৬
  • / ৮৫১ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ পরিবেশন নেটওয়ার্ক নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের অস্তিত্ব। দেশের পরিবেশ রক্ষায় যেকোন মূল্যে এই সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। বাতিল করতে হবে ভারতীয় অর্থে নির্মিতব্য রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ নয়, ভারতীয় স্বার্থে রামপাল প্রকল্প বাস্তায়িত করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ভারত-বাংলাদেশের মৈত্রী প্রকল্প হলেও এখানে দু’দেশের মৈত্রীর কোন লক্ষণ নেই। বক্তারা আরো বলেন, ভারত-বাংলাদেশ আর নেপালের স্বার্থ বিবেচনা করেই সম্মিলিত উদ্যোগে এই অঞ্চলের পানি সমস্যার সমাধান করা উচিৎ। আর এসব স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ করাও জরুরী। খবর ইউএনএ’র।
সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ বাংলাদেশ প্লাজার সেমিনার কক্ষে সম্প্রতি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পরিবেশ-সাম্প্রতিক সমস্যাবলী ও আন্দোলন’ আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। বেন নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল ও ভারতের নয়াদিল্লীস্থ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব পিপলস মুভমেন্টস-এর অন্যতম কর্মকর্তা মধুরেশ কুমার। পরে অতিথিবৃন্দ উপস্থিত সুধীবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সভা পরিচালনা করেন সৈয়দ ফজলুর রহমান।
BEN-2আলোচনা পর্বের আগে ড. নজরুল ইসলাম বেন এর কর্মকান্ড তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে স্ব স্ব অস্থান থেকে প্রবাসীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এরপর বাপা ও বেন কর্তৃক প্রকাশিত ‘পরিবেশ নীতি ও আইনসমূহের বাস্তবায়ন সমস্যা’ শীর্র্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ বিষয়ক স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি-সংবাদিক সালেম সুলেরী।
আলোচনা সভায় শরীফ জামাল রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল আর সুন্দরবন রক্ষা তথ। বাংলাদেশের পরিবশে রক্ষার আন্দোলনে বাপা-বেন’র ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি অ্যালয়েন্সের সাথে বাপা ও বেন কাজ করে চলেছে। সেই সাথে বরাল নদী রক্ষার আন্দোলন, আর্সেনিক সমস্যা প্রভৃতি বিষয়েও বাপা-বেন কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা যা করার তাই করবো। তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ আন্দোলন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি দেশের মন্ত্রনালয়গুলোর আইনের সাথে আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থা। পরিবেশর রক্ষায় দেশীয় রিসোর্স প্রটেক্ট করার ক্ষমতা সরকারের নেই।
শরীফ জামিল বলেন, আমরা সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার জন্য নয়, বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য সুন্দরবনের দরকার বলেই আন্দোলন করছি। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার সরকার সুন্দরবন ধ্বংস করতে চায়। তিনি এই প্রকল্প বাতিলের জোর দাবী জানিয়ে বলেন, দেশ-প্রবাসের সকল বাংলাদেশী নাগরিককে স্ব স্ব অবস্থান থেকেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।
মধুরেশ কুমার বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে ভারত কথা বলছে না। ভারতের নদী শাসনের জন্য শুধু বাংলাদেশ নয়, নেপালও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ভারত-বাংলাদেশ-এর মৈত্রী প্রকল্প হলেও এখানে কোন ফ্রেন্ডশীপ নেই। এই প্রকল্পের জন্য অর্থ দিচ্ছে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক। তিনি বলেন, আমরা ভারত-বাংলাদেশসহ অত্র অঞ্চলের সকল মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশ চাই। তিনি বলেন, আন্দোলনের ফলে বিগত ৬ বছরেও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প এগুতে পারছে না। এই সাফল্যও কম না। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সুন্দরবন রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যানের পুরষ্কারপ্রাপ্ত মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন অসিম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, লেখক-সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় যেকোন মূল্যে সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে

প্রকাশের সময় : ০২:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০১৬

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ পরিবেশন নেটওয়ার্ক নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের অস্তিত্ব। দেশের পরিবেশ রক্ষায় যেকোন মূল্যে এই সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। বাতিল করতে হবে ভারতীয় অর্থে নির্মিতব্য রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ নয়, ভারতীয় স্বার্থে রামপাল প্রকল্প বাস্তায়িত করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ভারত-বাংলাদেশের মৈত্রী প্রকল্প হলেও এখানে দু’দেশের মৈত্রীর কোন লক্ষণ নেই। বক্তারা আরো বলেন, ভারত-বাংলাদেশ আর নেপালের স্বার্থ বিবেচনা করেই সম্মিলিত উদ্যোগে এই অঞ্চলের পানি সমস্যার সমাধান করা উচিৎ। আর এসব স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ করাও জরুরী। খবর ইউএনএ’র।
সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ বাংলাদেশ প্লাজার সেমিনার কক্ষে সম্প্রতি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পরিবেশ-সাম্প্রতিক সমস্যাবলী ও আন্দোলন’ আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। বেন নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল ও ভারতের নয়াদিল্লীস্থ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব পিপলস মুভমেন্টস-এর অন্যতম কর্মকর্তা মধুরেশ কুমার। পরে অতিথিবৃন্দ উপস্থিত সুধীবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সভা পরিচালনা করেন সৈয়দ ফজলুর রহমান।
BEN-2আলোচনা পর্বের আগে ড. নজরুল ইসলাম বেন এর কর্মকান্ড তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে স্ব স্ব অস্থান থেকে প্রবাসীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এরপর বাপা ও বেন কর্তৃক প্রকাশিত ‘পরিবেশ নীতি ও আইনসমূহের বাস্তবায়ন সমস্যা’ শীর্র্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ বিষয়ক স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি-সংবাদিক সালেম সুলেরী।
আলোচনা সভায় শরীফ জামাল রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল আর সুন্দরবন রক্ষা তথ। বাংলাদেশের পরিবশে রক্ষার আন্দোলনে বাপা-বেন’র ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি অ্যালয়েন্সের সাথে বাপা ও বেন কাজ করে চলেছে। সেই সাথে বরাল নদী রক্ষার আন্দোলন, আর্সেনিক সমস্যা প্রভৃতি বিষয়েও বাপা-বেন কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা যা করার তাই করবো। তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ আন্দোলন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি দেশের মন্ত্রনালয়গুলোর আইনের সাথে আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থা। পরিবেশর রক্ষায় দেশীয় রিসোর্স প্রটেক্ট করার ক্ষমতা সরকারের নেই।
শরীফ জামিল বলেন, আমরা সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার জন্য নয়, বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য সুন্দরবনের দরকার বলেই আন্দোলন করছি। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার সরকার সুন্দরবন ধ্বংস করতে চায়। তিনি এই প্রকল্প বাতিলের জোর দাবী জানিয়ে বলেন, দেশ-প্রবাসের সকল বাংলাদেশী নাগরিককে স্ব স্ব অবস্থান থেকেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।
মধুরেশ কুমার বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে ভারত কথা বলছে না। ভারতের নদী শাসনের জন্য শুধু বাংলাদেশ নয়, নেপালও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ভারত-বাংলাদেশ-এর মৈত্রী প্রকল্প হলেও এখানে কোন ফ্রেন্ডশীপ নেই। এই প্রকল্পের জন্য অর্থ দিচ্ছে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক। তিনি বলেন, আমরা ভারত-বাংলাদেশসহ অত্র অঞ্চলের সকল মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশ চাই। তিনি বলেন, আন্দোলনের ফলে বিগত ৬ বছরেও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প এগুতে পারছে না। এই সাফল্যও কম না। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সুন্দরবন রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যানের পুরষ্কারপ্রাপ্ত মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন অসিম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, লেখক-সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।