নিউইয়র্ক ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ফারাক্কা দিবসের সভায় তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০১৫
  • / ১০২৫ বার পঠিত

নিউইয়ক: ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি, নিউইয়র্ক আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ফারাক্কা মিছিলে নেতৃত্বদানকারী মওলানা ভাসানীর চিন্তা-চেতনা আর সংগ্রাম থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে। দেশ, দেশের নদ-নদী, মানুষ আর গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। বক্তারা সার্কের চেতনায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানান। সভায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর বলেন, আজ যদি মওলানা ভাসানী অর্ধেকও বেঁচে থাকতেন তাহলে দেশের অবস্থা এমন হতো না। তিনি বলেন, ফারাক্কা মিছিল ছিলো মওলানা ভাসানীর সফল সংগ্রাম। এই সংগ্রামের সাথে রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পৃক্ত ছিলো বলেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আর জিয়া শহীদ হওয়ার পর বিএনপির মাজায় (কোমড়ে) জোর না থাকায় ভারতের সাথে বাংলাদেশের পানি সমস্যার সমাধান হয়নি। যে সমস্যার কারণে বাংলাদেশ আজ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।
সিটির জ্যাকসন হাইটসে গত ১৬ মে শনিবার বিকেলে আয়োজিত ফারাক্কা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। খবর ইউএনএ’র।
উল্লেখ্য, ১৬ মে ছিলো ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস। ৩৬ বছর আগে ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ‘মরণ ফাঁদ ফারাক্কা বাঁধ’ অভিমুখে হাজার হাজার মানুষের লংমার্চ হয়। ভারতের পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই দিন বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের বজ্রকন্ঠ ভারতের তৎকালীন কংগ্রেসী শাসকমহলেও কাঁপন ধরিয়ে দেয়। যার রেশ উপমহাদেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পৌঁছে যায়। ১৯৭৬ সালের লং মার্চের মূল লক্ষ্য ছিল ফারাক্কা বাঁধ। কিন্তু পদ্মাসহ দেশের সকল অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে সমস্যা আজো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তিস্তা নিয়ে চুক্তির নামে দীর্ঘমেয়াদী লুকোচুরি খেলা চলছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারত তার একতরফা নীতির আওতায় গঙ্গা তথা পদ্মায় যে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে সেই বাঁধ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জন্য আজ মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দেশ ও প্রবাসের জনগণের প্রত্যাশা ভারত সরকার সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি পানি সমস্যার সমাধানেও এগিয়ে আসবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক নিউইয়র্ক-এর সাবেক সভাপতি এম. এ আজিজ, সাপ্তাহিক বাংলা টাইমস সম্পাদক মাহমুদ খান তাসের, মুলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ স¤পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক ফারক্কা কমিটির সহ-সভাপতি আবু তালেব চৌধুরী চান্দু প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ফারাক্কা কমিটির সাংগঠনিক স¤পাদক আতাউর রহমান আতা। সভায় সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, প্রচার স¤পাদক মফিজুল ইসলাম রুমি, সমাজকল্যাণ স¤পাদক কাজী তোফায়েল ইসলাম চৌধুরী, মুন্সীগজ্ঞ-বিক্রমপুর এসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আমীন সিদ্দিকী, নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশন অব ইউএসএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, লাগোর্ডিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ তুহিন আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আলমগীর কবীর বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের শুধু পানি সমস্যাই বড় সমস্যা নয়। এর পাশাপাশি সীমান্ত ও অস্ত্র সমস্যাও বড় সমস্যা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী বা শেখ হাসিনার চাওয়া-পাওয়ায় নয়, প্রেসিডেন্ট ওবামার আগ্রহেই ভারত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগী হয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায় পেতে সহজ হবে। তিনি বলেন, কাউকে তুষ্ট করে ক্ষমতায় থাকা বা যাওয়ার রাজনীতি শুভ নয়। রাজনীতির জন্য প্রয়োজন লক্ষ্য, নীতি আর আদর্শ। যে আদর্শের রাজনীতি করতেন মওলানা ভাসানী।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে শেরে বাংলা একেএম ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, জিয়াউর রহমান নির্বাসিত হয়েছেন। তাদের আদর্শের কথা কেউ বলেন না, লালনও করেন না। তিনি বলেন, আমরা ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানীর মুখে ‘আসসালামু আইকুম’-এর মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশ স্বাধীন করার ঘোষণা শুনি। পরবর্তীতে ১৯৭০ সাথে একইভাবে মওলানা ভাসানীর মুখে ‘ওরা কেউ আসেনি’ বলার মধ্যদিয়ে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হওয়ার কথা শুনি। এরপর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার কথা শুনি। আবার একই বছর ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের মুখে ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ বলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একক কারো কৃতিত্ব নয়। আর দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে দেশে গণতন্ত্র থাকবে না। ধর্মের কথা বললেই রাজাকার, মৌলবাদী বলা হয়। তিনি বলেন, দেশে এক ব্যক্তির শাসন চলছে, এক ব্যক্তির ইতিহাস বলা হচ্ছে।
আলমগীর কবীর বলেন, ফারাক্কা মিছিলের সংগ্রাম আজো শেষ হয়নি। সামনে আরো নতুন নতুন সমস্যা আসছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য চাই ভাসানীর মতো সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব। তিনি বলেন, চীন, পাকিস্তান, বার্মা, শ্রীলংকার মতো দেশ শক্তিশালী হলে বাংলাদেশরই লাভ হবে।
Farakka-A Rahman Saluসভায় বক্তারা বলেন, ফারাক্কা লংমার্চ আয়োজন করে সমগ্র জাতিকে পানি এবং পরিবেশের অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিন্ন নদীগুলোর অব্যাহত প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য উক্ত সভা থেকে সবাইকে সচেষ্ট হবার আহবান জানানো হয়। অন্যথায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো শুকিয়ে এদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমানা বিষয়ক চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ভারতীয় পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করায় অভিনন্দন জানিয়ে বলা হয়: ৪১ বছর পরে হলেও সীমান্ত চুক্তি সফল পরিণতি লাভ করল। বাংলাদেশ এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তা অনুমোদন করে। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানানো হয়। এছাড়া ছিটমহল সমস্যার সমাধানে দলমত নির্বিশেষে দু’দেশের বিবেকবান যারাই নি:স্বার্থভাবে কাজ করেছেন তাদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। সভায় গঙ্গা নদীর উজানে ভারত কর্তৃক নতুন ১৬টি ব্যারেজ নির্মানের কাজ হাতে নেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধ করার জন্য এবং ভুমিক¤পপ্রবণ এলাকায় টিপাঁইমুখ বাধঁপ্রকল্প বন্ধেরও জোর দাবি জানানো হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ফারাক্কা দিবসের সভায় তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০১৫

নিউইয়ক: ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি, নিউইয়র্ক আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ফারাক্কা মিছিলে নেতৃত্বদানকারী মওলানা ভাসানীর চিন্তা-চেতনা আর সংগ্রাম থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে। দেশ, দেশের নদ-নদী, মানুষ আর গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। বক্তারা সার্কের চেতনায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানান। সভায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর বলেন, আজ যদি মওলানা ভাসানী অর্ধেকও বেঁচে থাকতেন তাহলে দেশের অবস্থা এমন হতো না। তিনি বলেন, ফারাক্কা মিছিল ছিলো মওলানা ভাসানীর সফল সংগ্রাম। এই সংগ্রামের সাথে রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পৃক্ত ছিলো বলেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আর জিয়া শহীদ হওয়ার পর বিএনপির মাজায় (কোমড়ে) জোর না থাকায় ভারতের সাথে বাংলাদেশের পানি সমস্যার সমাধান হয়নি। যে সমস্যার কারণে বাংলাদেশ আজ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।
সিটির জ্যাকসন হাইটসে গত ১৬ মে শনিবার বিকেলে আয়োজিত ফারাক্কা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। খবর ইউএনএ’র।
উল্লেখ্য, ১৬ মে ছিলো ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস। ৩৬ বছর আগে ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ‘মরণ ফাঁদ ফারাক্কা বাঁধ’ অভিমুখে হাজার হাজার মানুষের লংমার্চ হয়। ভারতের পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই দিন বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের বজ্রকন্ঠ ভারতের তৎকালীন কংগ্রেসী শাসকমহলেও কাঁপন ধরিয়ে দেয়। যার রেশ উপমহাদেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পৌঁছে যায়। ১৯৭৬ সালের লং মার্চের মূল লক্ষ্য ছিল ফারাক্কা বাঁধ। কিন্তু পদ্মাসহ দেশের সকল অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে সমস্যা আজো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তিস্তা নিয়ে চুক্তির নামে দীর্ঘমেয়াদী লুকোচুরি খেলা চলছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারত তার একতরফা নীতির আওতায় গঙ্গা তথা পদ্মায় যে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে সেই বাঁধ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জন্য আজ মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দেশ ও প্রবাসের জনগণের প্রত্যাশা ভারত সরকার সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি পানি সমস্যার সমাধানেও এগিয়ে আসবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক নিউইয়র্ক-এর সাবেক সভাপতি এম. এ আজিজ, সাপ্তাহিক বাংলা টাইমস সম্পাদক মাহমুদ খান তাসের, মুলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ স¤পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক ফারক্কা কমিটির সহ-সভাপতি আবু তালেব চৌধুরী চান্দু প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ফারাক্কা কমিটির সাংগঠনিক স¤পাদক আতাউর রহমান আতা। সভায় সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, প্রচার স¤পাদক মফিজুল ইসলাম রুমি, সমাজকল্যাণ স¤পাদক কাজী তোফায়েল ইসলাম চৌধুরী, মুন্সীগজ্ঞ-বিক্রমপুর এসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আমীন সিদ্দিকী, নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশন অব ইউএসএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, লাগোর্ডিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ তুহিন আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আলমগীর কবীর বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের শুধু পানি সমস্যাই বড় সমস্যা নয়। এর পাশাপাশি সীমান্ত ও অস্ত্র সমস্যাও বড় সমস্যা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী বা শেখ হাসিনার চাওয়া-পাওয়ায় নয়, প্রেসিডেন্ট ওবামার আগ্রহেই ভারত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগী হয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায় পেতে সহজ হবে। তিনি বলেন, কাউকে তুষ্ট করে ক্ষমতায় থাকা বা যাওয়ার রাজনীতি শুভ নয়। রাজনীতির জন্য প্রয়োজন লক্ষ্য, নীতি আর আদর্শ। যে আদর্শের রাজনীতি করতেন মওলানা ভাসানী।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে শেরে বাংলা একেএম ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, জিয়াউর রহমান নির্বাসিত হয়েছেন। তাদের আদর্শের কথা কেউ বলেন না, লালনও করেন না। তিনি বলেন, আমরা ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানীর মুখে ‘আসসালামু আইকুম’-এর মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশ স্বাধীন করার ঘোষণা শুনি। পরবর্তীতে ১৯৭০ সাথে একইভাবে মওলানা ভাসানীর মুখে ‘ওরা কেউ আসেনি’ বলার মধ্যদিয়ে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হওয়ার কথা শুনি। এরপর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার কথা শুনি। আবার একই বছর ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের মুখে ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ বলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একক কারো কৃতিত্ব নয়। আর দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে দেশে গণতন্ত্র থাকবে না। ধর্মের কথা বললেই রাজাকার, মৌলবাদী বলা হয়। তিনি বলেন, দেশে এক ব্যক্তির শাসন চলছে, এক ব্যক্তির ইতিহাস বলা হচ্ছে।
আলমগীর কবীর বলেন, ফারাক্কা মিছিলের সংগ্রাম আজো শেষ হয়নি। সামনে আরো নতুন নতুন সমস্যা আসছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য চাই ভাসানীর মতো সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব। তিনি বলেন, চীন, পাকিস্তান, বার্মা, শ্রীলংকার মতো দেশ শক্তিশালী হলে বাংলাদেশরই লাভ হবে।
Farakka-A Rahman Saluসভায় বক্তারা বলেন, ফারাক্কা লংমার্চ আয়োজন করে সমগ্র জাতিকে পানি এবং পরিবেশের অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিন্ন নদীগুলোর অব্যাহত প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য উক্ত সভা থেকে সবাইকে সচেষ্ট হবার আহবান জানানো হয়। অন্যথায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো শুকিয়ে এদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমানা বিষয়ক চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ভারতীয় পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করায় অভিনন্দন জানিয়ে বলা হয়: ৪১ বছর পরে হলেও সীমান্ত চুক্তি সফল পরিণতি লাভ করল। বাংলাদেশ এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তা অনুমোদন করে। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানানো হয়। এছাড়া ছিটমহল সমস্যার সমাধানে দলমত নির্বিশেষে দু’দেশের বিবেকবান যারাই নি:স্বার্থভাবে কাজ করেছেন তাদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। সভায় গঙ্গা নদীর উজানে ভারত কর্তৃক নতুন ১৬টি ব্যারেজ নির্মানের কাজ হাতে নেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধ করার জন্য এবং ভুমিক¤পপ্রবণ এলাকায় টিপাঁইমুখ বাধঁপ্রকল্প বন্ধেরও জোর দাবি জানানো হয়।