নিউইয়র্ক ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিয়ে নানা প্রশ্ন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০১৫
  • / ৭১০ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের গৌরব, আমাদের অংহকার। আর এই স্বাধীনতা, গৌরব, অহংকারের নেপথ্যে রয়েছেন দেশের সর্বস্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনেকেই দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে শহীদ আর জীবিতরা বীরের মর্যাদা পেয়েছেন। জাতির দূর্ভাগ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও আমরা আজো আমাদের শহীদ বা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরী করতে পারিন। যেকারণে দেশে-প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, তাঁদের সম্মান প্রভৃতি বিষয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক। আর এই তর্ক-বিতর্কের ফলশ্রুতিতে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা নানা মত-পথ আর রাজনীতির ধারায় বিভক্ত। একাত্তুরের মুক্তিযোদ্ধারা আজ নানা পরিচয়ে পরিচিত। অনেক মুক্তিযোদ্ধা আজ বিতর্কের শিকার, অনেককে ‘রাজাকার’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটা লজ্জার, নিন্দনীয়। এমনি প্রেক্ষাপটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মান-মর্যাদা নিয়ে নানা প্রশ্ন, নানা বিতর্ক। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আজ কেউ রাজনীতিক, মন্ত্রী, এমপি, আমলা, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, কৃষক-শ্রমিক এমনকি রিক্সা চালক। তারপরও সবার প্রথম পরিচয় ‘মুক্তিযোদ্ধা’।
স্বাধীন বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই আজ প্রবাসী। নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় জাতির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই বসবাস করছেন। এই প্রবাসেও মুক্তিযোদ্ধাদের একাধিক নামে সংগঠন। প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারাও রাজনীতিসহ নানা মতে, নান পথে বিভক্ত। অধিকার আর মর্যাদার ব্যাপারেও ক্ষুব্ধ অনেক মুক্তিযোদ্ধা। এনিয়ে প্রবাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও আপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। গেলো সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের আসন ও মর্যাদা নিয়েও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এদিন ঐ অনুষ্ঠান মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আসন রাখা হয়নি এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বিধা বিভক্ত একাংশের আহ্বায়ক আব্দুল মুকিত চৌধুরী। তার বক্তব্য শুনে মঞ্চে বসা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলে উঠেন ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে বলেই আপনারা মুক্তিযোদ্ধা‘। জনাব সাজ্জাদের এই বক্তব্যের পর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী ক্ষোভের সাথে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, প্রবাসের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নানা বিভক্তির জন্য কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাই দায়ী। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেও প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধারা বিভক্ত এদাবীও অনেকের। কমিউনিটির এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে হাজির করানোকে কেন্দ্র করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে জানিয়েছেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব:) তাজুল ইমলামের কাছে ধর্ণা দিয়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধের একটি সার্টিফিকেট যোগার করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোন্দলে এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা নেপথ্যের কারিগর হিসেবে পরিচিত। তার সমর্থকারী কয়েকজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে কোন্দলের কারেণই তাকে সমর্থন করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি জ্যামাইকায় এক অনুষ্ঠানে সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতি অনেকের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করে।
এদিকে কমিউনিটির একটি মহল অনেককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ‘স্বীকৃতি‘ দিতে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের একজন আরেকজনকে, আবার আরেকজনকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। প্রয়োজনে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে প্ল্যাক, ক্রেস্ট দিতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। ইতিপূর্বে ‘ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা’র অভিযোগে একটি সামাজিক সংগঠনের সভাপতি পদ থেকে একজনকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আবার অনেক মুক্তিযোদ্ধা ‘যথাযথ সম্মান’ না পাওয়ায় কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানেই যান না। আবার অনেকে মান-সম্মানের ভয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেই লজ্জাবোধ করেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। (সাপ্তাহিক পরিচয়)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিয়ে নানা প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০১৫

নিউইয়র্ক: মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের গৌরব, আমাদের অংহকার। আর এই স্বাধীনতা, গৌরব, অহংকারের নেপথ্যে রয়েছেন দেশের সর্বস্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনেকেই দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে শহীদ আর জীবিতরা বীরের মর্যাদা পেয়েছেন। জাতির দূর্ভাগ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও আমরা আজো আমাদের শহীদ বা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরী করতে পারিন। যেকারণে দেশে-প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, তাঁদের সম্মান প্রভৃতি বিষয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক। আর এই তর্ক-বিতর্কের ফলশ্রুতিতে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা নানা মত-পথ আর রাজনীতির ধারায় বিভক্ত। একাত্তুরের মুক্তিযোদ্ধারা আজ নানা পরিচয়ে পরিচিত। অনেক মুক্তিযোদ্ধা আজ বিতর্কের শিকার, অনেককে ‘রাজাকার’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটা লজ্জার, নিন্দনীয়। এমনি প্রেক্ষাপটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মান-মর্যাদা নিয়ে নানা প্রশ্ন, নানা বিতর্ক। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আজ কেউ রাজনীতিক, মন্ত্রী, এমপি, আমলা, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, কৃষক-শ্রমিক এমনকি রিক্সা চালক। তারপরও সবার প্রথম পরিচয় ‘মুক্তিযোদ্ধা’।
স্বাধীন বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই আজ প্রবাসী। নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় জাতির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই বসবাস করছেন। এই প্রবাসেও মুক্তিযোদ্ধাদের একাধিক নামে সংগঠন। প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারাও রাজনীতিসহ নানা মতে, নান পথে বিভক্ত। অধিকার আর মর্যাদার ব্যাপারেও ক্ষুব্ধ অনেক মুক্তিযোদ্ধা। এনিয়ে প্রবাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও আপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। গেলো সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের আসন ও মর্যাদা নিয়েও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এদিন ঐ অনুষ্ঠান মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আসন রাখা হয়নি এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বিধা বিভক্ত একাংশের আহ্বায়ক আব্দুল মুকিত চৌধুরী। তার বক্তব্য শুনে মঞ্চে বসা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলে উঠেন ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে বলেই আপনারা মুক্তিযোদ্ধা‘। জনাব সাজ্জাদের এই বক্তব্যের পর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী ক্ষোভের সাথে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, প্রবাসের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নানা বিভক্তির জন্য কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাই দায়ী। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেও প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধারা বিভক্ত এদাবীও অনেকের। কমিউনিটির এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে হাজির করানোকে কেন্দ্র করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে জানিয়েছেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব:) তাজুল ইমলামের কাছে ধর্ণা দিয়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধের একটি সার্টিফিকেট যোগার করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোন্দলে এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা নেপথ্যের কারিগর হিসেবে পরিচিত। তার সমর্থকারী কয়েকজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে কোন্দলের কারেণই তাকে সমর্থন করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি জ্যামাইকায় এক অনুষ্ঠানে সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতি অনেকের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করে।
এদিকে কমিউনিটির একটি মহল অনেককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ‘স্বীকৃতি‘ দিতে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের একজন আরেকজনকে, আবার আরেকজনকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। প্রয়োজনে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে প্ল্যাক, ক্রেস্ট দিতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। ইতিপূর্বে ‘ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা’র অভিযোগে একটি সামাজিক সংগঠনের সভাপতি পদ থেকে একজনকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আবার অনেক মুক্তিযোদ্ধা ‘যথাযথ সম্মান’ না পাওয়ায় কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানেই যান না। আবার অনেকে মান-সম্মানের ভয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেই লজ্জাবোধ করেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। (সাপ্তাহিক পরিচয়)