নিউইয়র্ক ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

প্রবাসেও ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনী ঢেউ : ফোনে চলছে গণ সংযোগ আর ভোট প্রার্থনা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৫
  • / ৮৩৬ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: আগামী ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে। তিন সিটিতেই নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে। এই নির্বাচনের ঢেউ লেগেছে প্রবাসেরও। বিশেষ করে নিউইয়র্কে বসবাসকারী ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসীদের অনেকেই পরোক্ষভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সুদূর প্রবাস থেকেও তারা পছন্দের বা দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ফোনালাপের মাধ্যমে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচনের খবরাখবর রাখতে প্রবাসীরা নিয়মিত চোখ রাখছেন দেশের টিভি মিডিয়াগুলোতে। চোখ বুলাচ্ছেন স্থানীয় বাংলা মিডিয়াগুলোতেও।
তিন সিটিতেই মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতীক নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। আগামী ২৮ এপ্রিল এই প্রতীকেই ভোট গ্রহণ করা হবে।
বিধান অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ‘নির্দলীয়’ হওয়ার কথা। কিন্তু তারপরও দলীয় আবরণেই এই নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল ‘বিভিন্ন নামে’ প্রকাশ্যেই তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন, প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে লড়ছেন মোট ৩৮১ জন প্রার্থী। মেয়র পদে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক, বিএনপি সমর্থিত তাবিথ আউয়াল, জাতীয় পার্টি সমর্থিত বাহাউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল, বিকল্পধারার মাহী বি. চৌধুরীসহ ১৬ জন প্রার্থী। ঢাকা উত্তরের সাধারণ ৩৬ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে চুড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৭ জন। এ সিটির সংরক্ষিত ১২ ওয়ার্ডে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ৮৮ জন।
সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রার্থী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। এ সিটিতে মেয়র পদে ২০ জনসহ মোট ৫০১ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই সিটিতে মেয়র পদে চূড়ান্ত লড়াইয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাঈদ খোকন, বিএনপি সমর্থিত মির্জা আব্বাস, জাতীয় পার্টি সমর্থিত হাজী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলনসহ ২০ জন। এ ছাড়া বিএনপির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম আসাদুজ্জামান রিপন ও আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই সিটিতে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ৫৭টি ওয়ার্ডে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন কাউন্সিলর পদে ৩৮৬ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৯৫ জন প্রার্থী।
অপরদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে চূড়ান্ত লড়াইয়ে মেয়র প্রার্থী আছেন ১২জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৬১ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১২ জন প্রার্থী। এই সিটির মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির, বিএনপি সমর্থিত মোহাম্মদ মনজুর আলম ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত মোহাম্মদ সোলায়মান আলম শেঠ প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) বাসিন্দা, নিউইয়র্ক প্রবাসী শেখ এস ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা বিভিন্নভাবেই আগামী নির্বাচনের সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। রাজনৈতিক কারণেই প্রবাসীরা ঢাকার সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং ফোনালাপের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন। এলাকার আতœীয়-স্বজনদের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চলছে। অনেকে অর্থনৈতিকভাবেও কাউন্সিলারদের সাহায্য-সহযোগিতা করছেন। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রার্থীরা সুন্দর ঢাকা শহর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কিভাবে তারা ঢাকাকে যানজট, মশামুক্ত করবেন তার কোন দিক নির্দেশনা তুলে ধরছেন না।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ সভাপতি সামসুদ্দীন আজাদ চট্টগ্রামের নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, আমার গ্রামের বাড়ী সন্দ্বীপ হলেও সিটির আগ্রাবাদে আমাদের বাসা-বাড়ী রয়েছে। আমি নিজেও সিটির ভোটার। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীরা সিটির নির্বাচনের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছি, ফোনালাপের মাধ্যমে গণসংযোগ চলছে। তিনি বলেন, আমরা দলের বাইরেও ব্রুকলীনে বসবাসকারী সিটির ভোটার ও প্রবাসের শুভাকাঙ্খীদের নিয়ে অচিরেই নির্বাচন বিষয়ে সভা করবো। ঐ সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আ জ ম নাছিরের জন্য ফান্ড রেইজ করার চিন্তা-ভাবনা করছি।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি লুৎফুল কবীর বলেন, আমি সিটির সিডিআই এলাকার বাসিন্দা এবং ভোটার। আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা ইতিমধ্যেই ব্রুকলীনে সভায় মিলিত হয়েছিলাম। আমরা ফোন কার্ড ক্রয় করে ফোনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ের জন্য কাজ করছি, চলছে ভোট প্রার্থনা। তিনি বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তান, কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপের প্রবাসীদের বাংলাদেশীদের অধিকাংশের বাসা-বাড়ী চট্টগ্রাম সিটি এলাকার হালি শহরে। তাই স্বাভাবিক কারণেই আমরা প্রবাসীরাও আসন্ন্ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে কনসার্ন। অনেক প্রার্থীর আতœীয়-স্বজন নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকা প্রবাসী। এই প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেরই প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে এলাকায়। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইতিমধ্যেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পছন্দের বা দল সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে গণ সংযোগ শুরু করেছেন। বিশেষ করে যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তারা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে আর যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তারা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থনে টেলিফোনে গণ সংযোগ করছেন, পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বা প্রার্থী হয়েছেন তাদের আর্থিক কোন সমস্যা নেই বলে, প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার কোন প্রয়োজন পড়ছে না। তবে তারা ভোট প্রার্থনা করেছেন। ফলে অনেক প্রবাসী তাদের জন্য ফোনালাপের মাধ্যমে আতœীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগ করে নির্বাচনে ভূমিকা রাখছেন।
চিটাগাং এসোসিয়েশন অব ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি কাজী আজম বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে প্রবাসীরা কম-বেশী জড়িয়ে পড়েছেন। অনেকেই পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ফোনে গণ সংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। যে যার অবস্থান থেকে প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন বা প্রার্থীর পক্ষে আতœীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে কাজ করতে বলছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

প্রবাসেও ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনী ঢেউ : ফোনে চলছে গণ সংযোগ আর ভোট প্রার্থনা

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৫

নিউইয়র্ক: আগামী ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে। তিন সিটিতেই নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে। এই নির্বাচনের ঢেউ লেগেছে প্রবাসেরও। বিশেষ করে নিউইয়র্কে বসবাসকারী ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসীদের অনেকেই পরোক্ষভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সুদূর প্রবাস থেকেও তারা পছন্দের বা দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ফোনালাপের মাধ্যমে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচনের খবরাখবর রাখতে প্রবাসীরা নিয়মিত চোখ রাখছেন দেশের টিভি মিডিয়াগুলোতে। চোখ বুলাচ্ছেন স্থানীয় বাংলা মিডিয়াগুলোতেও।
তিন সিটিতেই মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতীক নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। আগামী ২৮ এপ্রিল এই প্রতীকেই ভোট গ্রহণ করা হবে।
বিধান অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ‘নির্দলীয়’ হওয়ার কথা। কিন্তু তারপরও দলীয় আবরণেই এই নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল ‘বিভিন্ন নামে’ প্রকাশ্যেই তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন, প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে লড়ছেন মোট ৩৮১ জন প্রার্থী। মেয়র পদে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক, বিএনপি সমর্থিত তাবিথ আউয়াল, জাতীয় পার্টি সমর্থিত বাহাউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল, বিকল্পধারার মাহী বি. চৌধুরীসহ ১৬ জন প্রার্থী। ঢাকা উত্তরের সাধারণ ৩৬ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে চুড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৭ জন। এ সিটির সংরক্ষিত ১২ ওয়ার্ডে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ৮৮ জন।
সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রার্থী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। এ সিটিতে মেয়র পদে ২০ জনসহ মোট ৫০১ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই সিটিতে মেয়র পদে চূড়ান্ত লড়াইয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাঈদ খোকন, বিএনপি সমর্থিত মির্জা আব্বাস, জাতীয় পার্টি সমর্থিত হাজী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলনসহ ২০ জন। এ ছাড়া বিএনপির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম আসাদুজ্জামান রিপন ও আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই সিটিতে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ৫৭টি ওয়ার্ডে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন কাউন্সিলর পদে ৩৮৬ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৯৫ জন প্রার্থী।
অপরদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে চূড়ান্ত লড়াইয়ে মেয়র প্রার্থী আছেন ১২জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৬১ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১২ জন প্রার্থী। এই সিটির মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির, বিএনপি সমর্থিত মোহাম্মদ মনজুর আলম ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত মোহাম্মদ সোলায়মান আলম শেঠ প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) বাসিন্দা, নিউইয়র্ক প্রবাসী শেখ এস ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা বিভিন্নভাবেই আগামী নির্বাচনের সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। রাজনৈতিক কারণেই প্রবাসীরা ঢাকার সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং ফোনালাপের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন। এলাকার আতœীয়-স্বজনদের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চলছে। অনেকে অর্থনৈতিকভাবেও কাউন্সিলারদের সাহায্য-সহযোগিতা করছেন। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রার্থীরা সুন্দর ঢাকা শহর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কিভাবে তারা ঢাকাকে যানজট, মশামুক্ত করবেন তার কোন দিক নির্দেশনা তুলে ধরছেন না।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ সভাপতি সামসুদ্দীন আজাদ চট্টগ্রামের নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, আমার গ্রামের বাড়ী সন্দ্বীপ হলেও সিটির আগ্রাবাদে আমাদের বাসা-বাড়ী রয়েছে। আমি নিজেও সিটির ভোটার। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীরা সিটির নির্বাচনের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছি, ফোনালাপের মাধ্যমে গণসংযোগ চলছে। তিনি বলেন, আমরা দলের বাইরেও ব্রুকলীনে বসবাসকারী সিটির ভোটার ও প্রবাসের শুভাকাঙ্খীদের নিয়ে অচিরেই নির্বাচন বিষয়ে সভা করবো। ঐ সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আ জ ম নাছিরের জন্য ফান্ড রেইজ করার চিন্তা-ভাবনা করছি।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি লুৎফুল কবীর বলেন, আমি সিটির সিডিআই এলাকার বাসিন্দা এবং ভোটার। আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা ইতিমধ্যেই ব্রুকলীনে সভায় মিলিত হয়েছিলাম। আমরা ফোন কার্ড ক্রয় করে ফোনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ের জন্য কাজ করছি, চলছে ভোট প্রার্থনা। তিনি বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তান, কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপের প্রবাসীদের বাংলাদেশীদের অধিকাংশের বাসা-বাড়ী চট্টগ্রাম সিটি এলাকার হালি শহরে। তাই স্বাভাবিক কারণেই আমরা প্রবাসীরাও আসন্ন্ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে কনসার্ন। অনেক প্রার্থীর আতœীয়-স্বজন নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকা প্রবাসী। এই প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেরই প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে এলাকায়। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইতিমধ্যেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পছন্দের বা দল সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে গণ সংযোগ শুরু করেছেন। বিশেষ করে যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তারা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে আর যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তারা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থনে টেলিফোনে গণ সংযোগ করছেন, পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বা প্রার্থী হয়েছেন তাদের আর্থিক কোন সমস্যা নেই বলে, প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার কোন প্রয়োজন পড়ছে না। তবে তারা ভোট প্রার্থনা করেছেন। ফলে অনেক প্রবাসী তাদের জন্য ফোনালাপের মাধ্যমে আতœীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগ করে নির্বাচনে ভূমিকা রাখছেন।
চিটাগাং এসোসিয়েশন অব ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি কাজী আজম বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে প্রবাসীরা কম-বেশী জড়িয়ে পড়েছেন। অনেকেই পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ফোনে গণ সংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। যে যার অবস্থান থেকে প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন বা প্রার্থীর পক্ষে আতœীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে কাজ করতে বলছেন।