নিউইয়র্ক ০৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কে বোমা হামলা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই নারী গ্রেফতার

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০১৫
  • / ৫৮৭ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বোমা তৈরির পরিকল্পনা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকা থেকে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন ২৮ বছর বয়স্ক নোয়েল ভেলেনজাস ও ৩১ বছর বয়স্ক আসিয়া সিদ্দিকী। এরা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে এদের মূল দেশের নাম এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত জানা যায়নি। এদেরকে বৃহস্প্রতিবার বিকালেই ব্রুকলীন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। আদালতে তারা নিজেদের পক্ষে কোন আর্জি পেশ করেননি। তাদের পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য করা হয়েছে ৪ মে।
নোয়েল ভেলেনজাস ও আসিয়া সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে ইউএস এটর্নি অফিস থেকে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে মানব বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করে প্রাণহানি ও সম্পত্তি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। জয়েন্ট টেরোরিজম টাস্ক ফোর্স ও নিউইয়র্ক পুলিশের যৌথ তদন্তের পর তাদেরকে বৃহষ্পতিবার কুইন্সের জ্যামাইকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে এফবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, এই দুই নারী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ‘ইতিহাস সৃষ্টি’ করতে চেয়েছিলেন। ফেডারেল তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০১৪ সালের আগস্ট মাস থেকে তারা বোমা তৈরির বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং ১৯৯৩ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে যে ধরনের গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়েছিল সে ধরনের বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করতে থাকেন। তারা প্রপেন গ্যাসের চারটি ট্যাংকও জোগাড় করেন এবং এগুলো দিয়ে কিভাবে বোমা তৈরি করা যায় সে ব্যাপারে একটি জিহাদি অনলাইন প্রকাশনা থেকে নির্দেশ নেন। তাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত থাকা একজন আন্ডার কভার এজেন্ট এসব তথ্য সংগ্রহ করেন। এই আন্ডার কভার এজেন্ট দুই নারীর একান্ত আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন এবং তাদের সব পরিকল্পনা ও কার্যকলাপের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। বোমা তৈরির বিষয়ে জ্ঞ্যান অর্জনের সাথে সাথে আসিয়া সিদ্দিকী আল কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং নোয়েল ভেলেনজাস আইএসআইএস নামে পরিচিত ইসলামিক স্টেটের ভয়ঙ্কর সব ভিডিও দেখতেন। নোয়েল একবার এই আন্ডার কভার এজেন্টকে বলেন, প্রতিবাদে কাজ হবে না। প্রয়োজন যুদ্ধ। বোমা হামলার জন্য কোন টার্গেট ঠিক না করলেও তারা সামরিক ও সরকারি লক্ষ্যবস্ত’র বিষয় নিয়ে কথা বলতেন।
ভেলেনজাসের স্বামী আবু বকর তার স্ত্রীর গ্রেফতারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, স্ত্রীর এমন কোন কার্যকলাপ তার চোখে পড়েনি। এই দম্পতির ৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। ১১ বছর বয়সী সন্তানটি তাদের পালিত। আসিয়া সিদ্দিকী সম্পর্কে কোনো তথ্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে মিডিয়ায় তার একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ভেলেনজাসের কোনো ছবি পাওয়া যায়নি। এই দুই নারী জ্যামাইকার যে মসজিদে নামাজ পড়তেন সেই মসজিদের ইমাম চার্লস আজিজ বিলাল বলেছেন, তাদের এ ধরনের কোন আচরণ কখনও লক্ষ্য করেননি। তিনি বলেন, এই মসজিদে সর্বদাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকে। আমরা সব সময় বলি, সন্ত্রাস আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ নয়। আমাদের ধর্মে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই। অপরাধ প্রমাণিত হলে এই দুই নারী সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।
এদিকে, ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে চাওয়ার অভিযোগে নিউইয়র্ক থেকে কয়েকদিন আগে আরো তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিবিসির অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার হওয়া বিদেশি নাগরিকরা হলেন উজবেকিস্তানের নাগরিক আবদুরাসুল জুরাভয়েব (২৪) ও আবরোর হাবিবভ (৩০) এবং কাজাখস্তানের নাগরিক আখরোর সাইদাখমেটভ (১৯)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুইজন এই বলে হুমকি দিয়েছে যে, সিরিয়ায় যেতে না পারলে তারা পুলিশ ও এফবিআই এজেন্টদের খুন করবে।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে উজবেক ভাষার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার কারণে তারা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। বুধবার (১ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিশনার উইলিয়াম ব্রাটন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।(সাপ্তাহিক আজকাল)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কে বোমা হামলা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই নারী গ্রেফতার

প্রকাশের সময় : ০৯:০০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০১৫

নিউইয়র্ক: বোমা তৈরির পরিকল্পনা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকা থেকে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন ২৮ বছর বয়স্ক নোয়েল ভেলেনজাস ও ৩১ বছর বয়স্ক আসিয়া সিদ্দিকী। এরা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে এদের মূল দেশের নাম এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত জানা যায়নি। এদেরকে বৃহস্প্রতিবার বিকালেই ব্রুকলীন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। আদালতে তারা নিজেদের পক্ষে কোন আর্জি পেশ করেননি। তাদের পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য করা হয়েছে ৪ মে।
নোয়েল ভেলেনজাস ও আসিয়া সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে ইউএস এটর্নি অফিস থেকে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে মানব বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করে প্রাণহানি ও সম্পত্তি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। জয়েন্ট টেরোরিজম টাস্ক ফোর্স ও নিউইয়র্ক পুলিশের যৌথ তদন্তের পর তাদেরকে বৃহষ্পতিবার কুইন্সের জ্যামাইকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে এফবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, এই দুই নারী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ‘ইতিহাস সৃষ্টি’ করতে চেয়েছিলেন। ফেডারেল তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০১৪ সালের আগস্ট মাস থেকে তারা বোমা তৈরির বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং ১৯৯৩ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে যে ধরনের গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়েছিল সে ধরনের বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করতে থাকেন। তারা প্রপেন গ্যাসের চারটি ট্যাংকও জোগাড় করেন এবং এগুলো দিয়ে কিভাবে বোমা তৈরি করা যায় সে ব্যাপারে একটি জিহাদি অনলাইন প্রকাশনা থেকে নির্দেশ নেন। তাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত থাকা একজন আন্ডার কভার এজেন্ট এসব তথ্য সংগ্রহ করেন। এই আন্ডার কভার এজেন্ট দুই নারীর একান্ত আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন এবং তাদের সব পরিকল্পনা ও কার্যকলাপের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। বোমা তৈরির বিষয়ে জ্ঞ্যান অর্জনের সাথে সাথে আসিয়া সিদ্দিকী আল কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং নোয়েল ভেলেনজাস আইএসআইএস নামে পরিচিত ইসলামিক স্টেটের ভয়ঙ্কর সব ভিডিও দেখতেন। নোয়েল একবার এই আন্ডার কভার এজেন্টকে বলেন, প্রতিবাদে কাজ হবে না। প্রয়োজন যুদ্ধ। বোমা হামলার জন্য কোন টার্গেট ঠিক না করলেও তারা সামরিক ও সরকারি লক্ষ্যবস্ত’র বিষয় নিয়ে কথা বলতেন।
ভেলেনজাসের স্বামী আবু বকর তার স্ত্রীর গ্রেফতারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, স্ত্রীর এমন কোন কার্যকলাপ তার চোখে পড়েনি। এই দম্পতির ৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। ১১ বছর বয়সী সন্তানটি তাদের পালিত। আসিয়া সিদ্দিকী সম্পর্কে কোনো তথ্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে মিডিয়ায় তার একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ভেলেনজাসের কোনো ছবি পাওয়া যায়নি। এই দুই নারী জ্যামাইকার যে মসজিদে নামাজ পড়তেন সেই মসজিদের ইমাম চার্লস আজিজ বিলাল বলেছেন, তাদের এ ধরনের কোন আচরণ কখনও লক্ষ্য করেননি। তিনি বলেন, এই মসজিদে সর্বদাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকে। আমরা সব সময় বলি, সন্ত্রাস আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ নয়। আমাদের ধর্মে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই। অপরাধ প্রমাণিত হলে এই দুই নারী সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।
এদিকে, ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে চাওয়ার অভিযোগে নিউইয়র্ক থেকে কয়েকদিন আগে আরো তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিবিসির অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার হওয়া বিদেশি নাগরিকরা হলেন উজবেকিস্তানের নাগরিক আবদুরাসুল জুরাভয়েব (২৪) ও আবরোর হাবিবভ (৩০) এবং কাজাখস্তানের নাগরিক আখরোর সাইদাখমেটভ (১৯)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুইজন এই বলে হুমকি দিয়েছে যে, সিরিয়ায় যেতে না পারলে তারা পুলিশ ও এফবিআই এজেন্টদের খুন করবে।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে উজবেক ভাষার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার কারণে তারা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। বুধবার (১ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিশনার উইলিয়াম ব্রাটন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।(সাপ্তাহিক আজকাল)