নিউইয়র্ক ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কে বাংলা উৎসব ও বইমেলা সমাপ্ত : চ্যানেল আই-মুক্তধারা সাহিত্য পুরষ্কার পেলেন নির্মলেন্দু গুণ : নানা অসঙ্গতি ॥ বই কেনার চেয়ে ঝালমুড়ি কেনা আর সেলফি-তে নজর বেশী

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মে ২০১৬
  • / ১৫৯৮ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বিগত চব্বিশ বছরের ধারাবাহিকতায় এবছরও নিউইয়র্কে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী (২০-২২ মে) আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা। জ্যাকসন হাইটসস্থ পিএস-৬৯ স্কুলে ২০ মে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলে ২২ মে রোববার রাত পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। এদিন বিকেলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন। এর আগে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজা থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এছাড়া বইমেলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে মূল মঞ্চে (রফিক আজাদ মঞ্চ) প্রধান অতিথি সহ অতিথিবৃন্দ ২৫টি মোমবাতি প্রজ্জলন করেন। নিউইয়র্কে বইমেলা পচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এবার থেকে শুরু হওয়ায় ‘চ্যানেল আই/মুক্তধারা বইমেলা ২০১৬’ সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। মেলার শেষ দিনে মূল মঞ্চ থেকে পুরষ্কারপ্রাপ্ত গুণীজনের নাম ঘোষণা করা হয়। এই পুরষ্কারের মূল্যমান দুই লাখ বাংলাদেশী ঢাকার সাথে ক্রেস্ট। খবর ইউএনএ’র।
NY Boimela Opening Rallyউদ্বোধনী অনুষ্ঠান: রং বে রং এর পোষাক, পড়ে, ব্যানার-ফেস্টুন আর পতাকা হাতে, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, নেচে-গেয়ে আর জাতীয় পতাকার ফিতা মাথায় বেঁধে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত অতিথি, সংস্কৃতিপ্রেমী ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা শোভাযাত্রাকে বর্ণাঢ্য করে তোলেন। স্থানীয় ৭৩ স্ট্রিট ও ৩৭ এভিনিউ হয়ে শোভাযাত্রা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। এসময় দৈনিক ইত্তেফাক-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও অনন্যা সম্পাদক এবং প্রকাশক তাসমিমা হোসেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবী, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, লেখক গুলতেকিন খান, ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, সাংবাদিক-লেখক নাজমুন নেসা পিয়ারি, আমীরুল ইসলাম, সৈয়দ আল ফারুক, ত্রিদিব চ্যাটার্জি, প্রকাশক ফরিদ আহমেদ, হুমায়ুন কবীর, অধ্যাপক আব্দুল সেলিম, মেলার আহ্বায়ক হাসান ফেরদৌস, মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বইমেলার আহ্বায়ক হাসান ফেরদৌস। এরপর অমন্ত্রিত অতিভিবৃন্দ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তারা তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের বাইরে এমন ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বইমেলা আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, বাংলা ভাষা, বাঙালী পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন সেখানেই বাংলা বইয়ের পাঠক থাকবেই। বক্তারা বলেন, দেশে দেশে বইমেলা আয়োজনের ফলে বাংলা ভাষা আর বাঙালীরা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিজস্ব স্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।
উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোদ্ধা হিসাবে ড. ডেভিড নেইলিনকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। তাকে মঞ্চে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মেলার অমন্ত্রিত অতিথি তাসমিমা হোসেন ও রামেন্দু মজুমদার। এই পর্বে স্লাইড শো প্রদর্শন করেন ওবায়দুল্লাহ মামুন। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিধন্য এই মার্কিন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সে বছর জুলাই মাসে মেরিল্যান্ডের বালটিমোরে পাকিস্তানী অস্ত্রবাহী জাহাজ পদ্মা বন্দরে প্রবেশ করার বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভে অংশ নেন তাদের মধ্যে ড. নেইলিন ছিলেন অন্যতম। আরো উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে ঢাকার কলেরা হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায়, তরুণ চিকিৎসক নেইলিন কলেরার প্রতিষেধক হিসাবে অরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি আবিষ্কার করেন।
বইমেলার উদ্বোধনী দিনে উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান ‘নতুনের কেতন’। এতে অংশ নেন নতুন প্রজন্মের নুহা কাওসার, লিওনা মুহিত, রোহানা মিশ্র, প্রিয়া সাহা ও দেবলীনা চন্দ্র। এই পর্বে নবীন শিল্পীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন গুলতেকিন খান।
এছাড়া ‘মুক্তধারার পচিশ বছর : ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ড. নূরন নবী ও আনিসুল হক। উপস্থাপনায় ছিলেন নামিসুন্নাহার নিনি এবং স্লাইড শো প্রদর্শন করেন ওবায়াদুল্লাহ মামুন। রাত সোয়া ১০টায় শুরু হয় ফেরদৌস আরার সঙ্গীতানুষ্ঠান। তাকে মঞ্চে পরিচয় দেন মেলার অন্যতম স্পন্সর ও বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
NY Boimela (2nd Day)-2মেলার দ্বিতীয় দিন: আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি-বাদলা উপক্ষো করে দলমত নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঢল নামলেও বই কেনাকাটা তেমন জমে উঠেনি। তবে বই কেনার চেয়ে ঝালমুড়ি, পিঠা-পুলি কেনা আর অতিথি লেখক-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের সাথে মোবাইলে সেলফি তোলা-তে নজর বেশী লক্ষ্য করা গেছে দর্শনার্থীদের। উল্লেখ্য, সিটির জ্যাকসন হাইটসস্থ পিএস-৬৯ স্কুলে ২০ মে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা ২২ মে রোববার পর্যন্ত চলবে। মেলার প্রথম দিন ২০ মে শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন।
NY Boimela (2nd Day)-3আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার দ্বিতীয় দিন মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বেলা ১১টা থেকে মধ্যরাত অবদি মেলার কর্মকান্ড পরিচালিত হলেও মেলায় লোক সমাগম ঘটে অপরাহ্ন থেকে। মেলা প্রাঙ্গণ জমে উঠে সন্ধ্যায়। এসময় দিনে বৃষ্টি-বাদলা উপক্ষো করে দলমত নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশীকে মেলা প্রাঙ্গণে ভীড় জমাতে দেখা যায়। বইসহ বিভিন্ন স্টলে দর্শকদের ভীড় পরিলক্ষিত হলেও বই কেনাকাটা হয়েছে কম। পোশাক-পরিচ্ছদের স্টলগুলোতেও ভীড় দেখা গেলেও এসব স্টলেও তেমন ব্যবসা হয়নি। তবে খাবার স্টলগুলোর ব্যবসা ছিলো ভালো। মেলার স্টলগুলো সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি শহীদ কাদরীর উপস্থিতি অনেকেরই নজর কাড়ে। কবির ভক্তরা তার সাধে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। কেউ কেউ তার সাথে আড্ডায়ও মেতে উঠেন। এছাড়া মুক্তধারার স্টলের পাশে বসে ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় আর অটোগ্রাফ দেন মেলার প্রধান অতিথি সেলিনা হোসেন। এছাড়াও অপর আমন্ত্রিত অতিথি আনিসুল হক-কে ঘিরেও ছিলো তার বক্তদের আড্ডা, অটোগ্রাফ সংগ্রহ আর সেলফি তোলা।
এদিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচী মোতাবেক মেলার মূল মঞ্চে (রফিক আজাদ মঞ্চ) ছিলো নানা আয়োজন। এসব অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতা, লেখক, পাঠক ও প্রকাশক মুখোমুখি, এ বছরের নতুন বই নিয়ে আলোচনা, স্বরচিত কবিতা পাঠ, যারা লেখক হতে চান : সম্পাদক ও প্রকাশকদের পরামর্শ, আলপচারিতা : আমেরিকায় বাংলার মুখ, বাংলার লোক ঐতিহ্য : আলাপচারিতা ও গান, নতুন প্রজন্মের বই নিয়ে আলোচনা, কেন লিখি বিষয়ক আলোচনা, নিউইয়র্ক বইমেলা ২০১৬ বক্তৃতা : লেখকের আমাজিক দায়িত্ব, নারী যখন লেখক : অসমান খেলার মাঠ বিষয়ক আলোচনা, কবিতাই আরাধ্য শীর্ষক আলোচনা, সঙ্গীতানুষ্ঠান প্রভৃতি। এদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আকর্ষণ ছিলেন কলকাতা থেকে আগত কমলিনী মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানগুলোতে অতিথিবৃন্দ ছাড়াও প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
‘বাংলার লোক ঐতিহ্য : আলাপচারিতা ও গান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী তাজুশ ইমাম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন লেখক-সাংবাদিক আনিসুল হক। অনুষ্ঠানের আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলার লোক সঙ্গীত অন্য গানের মতো নয়। রবীন্দ্র আর নজরুল সঙ্গীতের যেমন নিজস্ব ভঙ্গি রয়েছে তেমনী লোক সঙ্গীতেরও ভিন্ন ও ব্যতিক্রমী ভঙ্গিমা রয়েছে। অথচ নতুন প্রজন্ম আর আজকালকার শিল্পীরা এসব গানের ধারা ভেঙ্গে নতুন ধারায় গান গাইছেন। সকল গানেরই নিজস্বতা বজায় রেখেই গান গাওয়া উচিৎ বলে বক্তরা অভিমত ব্যক্ত করেন।
এছাড়া দীপন কক্ষে ছিলো ছড়ার যাদু : পাঠ ও আলোচনা, বইমেলা : ঢাকায়, কলকাতায়, নিউইয়র্কে ও বার্লিনে, আমাদের রবীন্দ্রনাথ এবং জেনোসাইড ১৯৭১-আলোচনা। বিপুল সংখ্যক দর্শক শ্রোতা অনুষ্ঠানগুলো উপভোগ করেন।
NY Boimela (2nd Day)-4তৃতীয় ও শেষ দিন: মেলার শেষ দিন রোববার ছিল উপছে পড়া ভিড়। সপ্তাহের ছুটি থাকায় নিউইয়র্ক প্রবাসীরা সকাল থেকেই ভীড় করেন জ্যাকসন হাইটসে। বই মেলা এবং বাংলা উৎসব এলাকায় দেশজ পোষাক পরে প্রবাসীরা উপস্থিত হন। অনেকেই এদেশে জন্ম নেয়া সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসেন। ঢাকা এবং কলকাতা থেকে আসা লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে ব্যাপক ভাবে প্রবাসীরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রবাসে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষার লেখকরাও বরাবরের মত যোগ দিয়েছেন এবারের বই মেলায়। গানে, কবিতায় আলোচনায় উৎসবের সমাপনী দিন ছিল জমজমাট।
বইমেলার তৃতীয় ও শেষ দিনে মূল মঞ্চের (রফিক আজাদ মঞ্চ) কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতা, পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিশুদের অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণ, স্বরচিত কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি, ‘টেলিভিশন কি বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে প্রতিবন্ধক’ শীর্ষক আলোচনা, নতুন বই নিয়ে আলোচনা, ‘চ্যানেল আই/মুক্তধারা বইমেলা ২০১৬ সাহিত্য পুরষ্কার’ ঘোষণা, কবি জীবনান্দ দাসের কবিতা পাঠ, হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথের গানে রাগের ব্যবহার শীর্ষক আলোচনা, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা, অতিথিদের নিয়ে মুখোমুখি আলোচনা, নজরুলের গান, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি। এদিনও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী মেলায় যোগ দেন এবং অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করেন।
NY Boimela_Odianceএছাড়াও এদিন সকালে মেলা প্রাঙ্গণে প্রাতরাশ সহ লেখকদের আড্ডা সহ দীপন কক্ষের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো নজরুলের গানের ওয়ার্কশপ, গ্রন্থ পরিচিতি, ‘লিটন ম্যাগাজিন : একটি মূল্যায়ন’ শীর্ষক আলোচনা ও মরহুম লেখক খসরুজ্জামান চৌধুরী স্মরণে আলোচনা।
অনুষ্ঠানে ‘চ্যানেল আই/মুক্তধারা বইমেলা ২০১৬ সাহিত্য পুরষ্কার’ ঘোষণা করেন আমিরুল ইসলাম ও হাসান ফেরদৌস। কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে উত্তরীয় পড়িয়ে দেন প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ। এই পর্বে আরো অংশ নেন রামেন্দু মজুমদার ও ফরিদ আহমেদ।
জঙ্গীদের হাতে নিহত প্রকাশক দীপনের নামে করা আলোচনা মঞ্চে শিশু ও রম্য লেখক খসরুজ্জমান চৌধুরীকে নিয়ে ছিল আলোচনানুষ্ঠান। সাংবাদিক আবু তাহেরের সঞ্চালনায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা লেখক খসরুজ্জমান চৌধুরীর লেখা নিয়ে আলোচনা করেন দেশ বরেণ্য সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, তাহমিনা জামান, ড. নুরুন্নবী, আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু, এবিএম সালেউদ্দিন প্রমুখ। শক্তিশালী লেখক খসরুজ্জামান চৌধুরী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান রেখে গেছেন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। তাঁর নামে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হবে বলেও দীপন মঞ্চের আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন।
NY Boimela_Culcharal Showবইমেলার শেষ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিষদ ছাড়াও পারমিতা মুমু ও শ্রুতিকণা দাস রবীন্দ্র, সুজিত মোস্তফা নজরুল সঙ্গীত এবং সামিনা চৌধুরী সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
তিনদিনের বইমেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও বিভিন্ন পর্বে আরো অংশ নেন চন্দ্রা ব্যানার্জী, নুহা কাওসার ও লিওনা মুহিত, রোহান মিশ্র, প্রিয়া সাহা, দেবলীনা চন্দ, ওবায়দুল্লাহ মামুন, তমিজউদ্দিন লোদী, শামস আর মোমিন, কাজী জহিরুল ইসলাম, আশরাফ আহমেদ, মনিজা রহমান, রওশন হাসান, আলম সিদ্দিকী, শফিউল আলম, খালেদ সরফুদ্দীন, জুলি রহমান, ডা. কৌশিক সেন, আহমেদ মুসা, মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, রিমি রুম্মান, আহমেদ ছহুল, এবিএম সালেউদ্দিন, আনোয়ার সেলিম, বিথী চট্টোপাধ্যায়, চারু হক, ফারহানা পলি, কবিতা হোসেন, লাকি সেরনিয়াবত, লালন নূর, সালমা বাণী, মামুন জামিল, নাসিরুল্লাহ মোহাম্মদ, নূপুর কান্তি দাস, নূরুল ইসলাম পাশা, ওমর সামস, রওশন হাসান, রিপা নূর, সাজেদ কামাল, সাজ্জাদ বিপ্লব, শাহ আলম দুলাল, শামস চৌধুরী, শরিফুর আলম, স্বপ্ন কুমার, সোনিয়া কাদের, সৈয়দ আহমেদ জুয়েল, ভায়লা সেলিনা লিজা, ইউসুফ সাদ, নাজমুন্নেসা পিয়ারী, নারমিন চৌধুরী, তাহসিন আহমেদ, অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, সৈয়দ আল ফাুরক, পিনাক পানি গোস্বামী, ক্রিস্টিনা রোজারিও, ক্লারা রোজারিও, মিজানুর রহমান বিপ্লব, আবীর আলমগীর, এজাজ আলম, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর, জাবেদ ইকবাল, শাহ মাহবুব, ফারহানা শান্তা, রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়, ড. প্রদীপ কর, মুমু আনসারী, গোপন সাহা, শেখর গোমেজ, আনোয়ার হোসেন লাভলু, ড. পার্থ বন্দোপাধ্যায়, সিনহা অঅবুল মনসুর, মুস্ফফা চৌধুরী, দর্পণ কবীর, মিলি সুলতানা, খান শওকত, তাকসিম খান, জিয়াউল হক, ড. নজরুল ইসলাম, জুঁই সাহা, মোহাম্মদ দেলোয়ার, শিখা আহমেদ, নাহিদ নাজিয়া, ডানা ইসলাম, ফরিদ আহমেদ, সাবিনা হাই উর্বি, ইকবাল হাসান, মাহফুজুল বারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানগুলো সঞ্চালনা/পরিচালনায় ছিলেন- ফাহিম রেজা নূর, আদনান সৈয়দ, মনজুর কাদের, তানভির রব্বানি, সউদ চৌধুরী, আনিসুল হক, কৌশিক আহমেদ, ফেরদৌস সাজেদিন, রানু ফেরদৌস, শহীদ কাদরী/নীরা কাদরী, লুৎফর রহমান রিটন, ফরিদ আহমেদ, সত্যম রায় চৌধুরী, জিএইচ আরজু, ইভান চৌধুরী, জামাল উদ্দিন হোসেন, জসিম মল্লিক, নিনি ওয়াহেদ, জীবন বিশ্বাস, ইকবাল হাসান, সুজিত মোস্তফা, ফকির ইলিয়াস, সেমন্তী ওয়াহেদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের সহযোগিতায় ছিলো প্রাণ গ্রুপ, চ্যানেল আই, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক (এসএফআইবি), ইত্যাদি গ্রুপ, খাবার বাড়ি, সাগর চাইনিজ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘিরে নানা অসঙ্গতিও লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে এতোবড় একটি মেলায় তথ্য কেন্দ্র না থাকায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বেগ পেতে হয়েছে। মেলা উদ্যোক্তাদের দাত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে অনুষ্ঠান আর অতিথি নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। অবশ্য মেলার আয়োজন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতও লক্ষ্য করা যায়। মেলার মূল আয়োজক বিশ্বজিত সাহা বলেন, আমরা সবাইকে নিয়েই নিউইয়র্ক বইমেলা স্বার্থক ও সফল করতে চাই। কিন্তু কেউ এগিয়ে না এসে বাইরে থেকে বড় বড় কথা বললে তো হবে না। আমি চাই নিউইয়র্ক বইমেলা হোক সকলের মেলা।
বইমেলার অন্যতম সংগঠক বিশিষ্ট সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ বলেন, আমরা সবাই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে মেলার জন্য কাজ করছি। এটা লাখ ডলারের মেলা নয়। এখানে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বইমেলা সফল করতে সবার এগিয়ে আসা উচিৎ। অপরদিকে মেলার আয়-ব্যয় নিয়ে স্বচ্ছতার দাবী উঠেছে প্রবাসের সচেতন মহলে। তাদের দাবী কোন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কত অনুদানে মেলা হলো তা প্রবাসীরা জানতে চায়।
অপরদিকে বইমেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে দেখা গেছে দর্শকদের প্রধান আকর্ষণ সেলিনা হোসেন, আনিসুল হক ও গুলতেকিন খান। তাদের ঘিরে চলছে নানা কথা, শুভেচ্ছা বিনিময়, সেলফি তোলা ইত্যাদি। পাশাপাশি রামেন্দু মজুমদার, রোকেয়া হায়দার, লুৎফর রহমান রিটন প্রমুখকে ঘিরেও দেখা যায় ভক্ত-শ্রোতা-দর্শকদের শুভেচ্ছা বিনিময় আর আড্ডা।
বইমেলার মূল উদ্যোক্তা বিশ্বজিৎ সাহা ইউএনএ প্রতিনিধিকে জানান, এবারের বইমেলায় ঢাকার ১৩টি, কলকাতার ২টি আর নিউইয়র্কের ৪টি প্রতিষ্ঠান বইয়ের স্টল ছাড়াও দর্শকদের সুবিধার্থে খাবার সহ পোশাক-পরিচ্ছেদের স্টল ছিলো। তবে উদ্বোধনী দিনে ১০/১২টি স্টল ছাড়া অন্য স্টলগুলো পরিপূর্ণ সাজানো দেখা যায়নি।
বইমেলার আয়োজকদের দাবী এবারের মেলায় বাংলাদেশ, কলকাতা, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের আরো একাধিক দেশের দুই শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, প্রকাশক অংশ নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ মিলন মেলায় পরিণত করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে মেলায় আশানরূপ বই বিক্রি না হলেও লোক সমাগম হয়েছে ব্যাপক, আড্ডা হয়েছে জমজমাট, অনুষ্ঠানগুলোর মানও ছিলো ভালো। সব মিলিয়ে ‘শেষ হয়েও হইলো না শেষ’- মেলার শেষদিন এমন মন্তব্য করলেন বই প্রেমী একাধিক দর্শক-শ্রোতা।
বইমেলায় ঢাকা থেকে আসা প্রকাশকরা জানালেন, জনপ্রিয় লেখকদের মধ্যে সেলিনা হোসেন এবং আনিসুল হক মেলায় যোগ দিয়েছেন। তাদের বই বিক্রি হয়েছে বেশী। প্রবাসী পাঠক সংগ্রাহকরা বই কেনার পাশাপাশি অটোগ্রাফ নিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণাধর্মী বই নিয়ে কানাডা প্রবাসী তাজুল মুহাম্মদ যোগ দেন বইমেলায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা বইয়ের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ তাঁকে প্রতিনিয়ত আপ্লুত করে। দেশ থেকে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য নিউইয়র্কে এসেছেন নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম। বইমেলায় ঘুরতে ঘুরতে জানালেন, প্রবাসের সাহিত্য সংস্কৃতি ঘনিষ্ট লোকজনকে একসাথে পাওয়া যাবে বলে বই মেলায় ছুটে এসেছেন।
মেলার শেষ দিনে প্রবাসী শিল্পী কাবেরী দাস জানালেন, বই মেলা এবং বাংলা উৎসব উপলক্ষে অনেকের সাথেই দেখা হচ্ছে। নিউইয়র্কে এ বইমেলা বাঙালীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রবাসী পরিবারে জন্ম এবং এখানে বড় হওয়া সাকিব চৌধুরী জানালেন, তিনি ঘরে বাংলা গান শুনেন, মায়ের সাথে বাংলা নাটক দেখেন। এভাবে পরিচিত লেখক-সাহিত্যিকদের দেখে তাঁর খুব ভালো লাগছে। যদিও আলোচনা মঞ্চ থেকে দেয়া বক্তৃতা ঠিক ধরতে পারছেন না বলে জানালেন সদ্য কলেজ পেরুনো সাকিব চৌধুরী।
বইমেলার আয়োজক মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের বিশ্বজিত সাহা বলেন, উৎসব-আনন্দের মধ্য দিয়ে প্রবাসীরা বই মেলায় এসেছেন। বাংলা উৎসবকে সফল করেছেন। দেশ থেকে, প্রবাসের বিভিন্ন শহর থেকে লেখক, অংশগ্রহণকারীরা এসেছেন। দুই বাংলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা যোগ দিয়ে মেলা ও উৎসবকে সফল করেছেন। প্রবাসে বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির বিকাশে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে বিশ্বজিত সাহা জানান।
নিউইয়র্কে বইমেলার ২৫ বছর উপলক্ষ্যে আকর্ষণীয় স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন আদনান সৈয়দ। প্রকাশ করেছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, নিউইয়র্ক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কে বাংলা উৎসব ও বইমেলা সমাপ্ত : চ্যানেল আই-মুক্তধারা সাহিত্য পুরষ্কার পেলেন নির্মলেন্দু গুণ : নানা অসঙ্গতি ॥ বই কেনার চেয়ে ঝালমুড়ি কেনা আর সেলফি-তে নজর বেশী

প্রকাশের সময় : ০৮:২৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মে ২০১৬

নিউইয়র্ক: বিগত চব্বিশ বছরের ধারাবাহিকতায় এবছরও নিউইয়র্কে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী (২০-২২ মে) আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা। জ্যাকসন হাইটসস্থ পিএস-৬৯ স্কুলে ২০ মে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলে ২২ মে রোববার রাত পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। এদিন বিকেলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন। এর আগে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজা থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এছাড়া বইমেলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে মূল মঞ্চে (রফিক আজাদ মঞ্চ) প্রধান অতিথি সহ অতিথিবৃন্দ ২৫টি মোমবাতি প্রজ্জলন করেন। নিউইয়র্কে বইমেলা পচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এবার থেকে শুরু হওয়ায় ‘চ্যানেল আই/মুক্তধারা বইমেলা ২০১৬’ সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। মেলার শেষ দিনে মূল মঞ্চ থেকে পুরষ্কারপ্রাপ্ত গুণীজনের নাম ঘোষণা করা হয়। এই পুরষ্কারের মূল্যমান দুই লাখ বাংলাদেশী ঢাকার সাথে ক্রেস্ট। খবর ইউএনএ’র।
NY Boimela Opening Rallyউদ্বোধনী অনুষ্ঠান: রং বে রং এর পোষাক, পড়ে, ব্যানার-ফেস্টুন আর পতাকা হাতে, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, নেচে-গেয়ে আর জাতীয় পতাকার ফিতা মাথায় বেঁধে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত অতিথি, সংস্কৃতিপ্রেমী ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা শোভাযাত্রাকে বর্ণাঢ্য করে তোলেন। স্থানীয় ৭৩ স্ট্রিট ও ৩৭ এভিনিউ হয়ে শোভাযাত্রা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। এসময় দৈনিক ইত্তেফাক-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও অনন্যা সম্পাদক এবং প্রকাশক তাসমিমা হোসেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবী, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, লেখক গুলতেকিন খান, ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, সাংবাদিক-লেখক নাজমুন নেসা পিয়ারি, আমীরুল ইসলাম, সৈয়দ আল ফারুক, ত্রিদিব চ্যাটার্জি, প্রকাশক ফরিদ আহমেদ, হুমায়ুন কবীর, অধ্যাপক আব্দুল সেলিম, মেলার আহ্বায়ক হাসান ফেরদৌস, মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বইমেলার আহ্বায়ক হাসান ফেরদৌস। এরপর অমন্ত্রিত অতিভিবৃন্দ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তারা তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের বাইরে এমন ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বইমেলা আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, বাংলা ভাষা, বাঙালী পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন সেখানেই বাংলা বইয়ের পাঠক থাকবেই। বক্তারা বলেন, দেশে দেশে বইমেলা আয়োজনের ফলে বাংলা ভাষা আর বাঙালীরা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিজস্ব স্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।
উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোদ্ধা হিসাবে ড. ডেভিড নেইলিনকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। তাকে মঞ্চে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মেলার অমন্ত্রিত অতিথি তাসমিমা হোসেন ও রামেন্দু মজুমদার। এই পর্বে স্লাইড শো প্রদর্শন করেন ওবায়দুল্লাহ মামুন। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিধন্য এই মার্কিন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সে বছর জুলাই মাসে মেরিল্যান্ডের বালটিমোরে পাকিস্তানী অস্ত্রবাহী জাহাজ পদ্মা বন্দরে প্রবেশ করার বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভে অংশ নেন তাদের মধ্যে ড. নেইলিন ছিলেন অন্যতম। আরো উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে ঢাকার কলেরা হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায়, তরুণ চিকিৎসক নেইলিন কলেরার প্রতিষেধক হিসাবে অরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি আবিষ্কার করেন।
বইমেলার উদ্বোধনী দিনে উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান ‘নতুনের কেতন’। এতে অংশ নেন নতুন প্রজন্মের নুহা কাওসার, লিওনা মুহিত, রোহানা মিশ্র, প্রিয়া সাহা ও দেবলীনা চন্দ্র। এই পর্বে নবীন শিল্পীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন গুলতেকিন খান।
এছাড়া ‘মুক্তধারার পচিশ বছর : ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ড. নূরন নবী ও আনিসুল হক। উপস্থাপনায় ছিলেন নামিসুন্নাহার নিনি এবং স্লাইড শো প্রদর্শন করেন ওবায়াদুল্লাহ মামুন। রাত সোয়া ১০টায় শুরু হয় ফেরদৌস আরার সঙ্গীতানুষ্ঠান। তাকে মঞ্চে পরিচয় দেন মেলার অন্যতম স্পন্সর ও বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
NY Boimela (2nd Day)-2মেলার দ্বিতীয় দিন: আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি-বাদলা উপক্ষো করে দলমত নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঢল নামলেও বই কেনাকাটা তেমন জমে উঠেনি। তবে বই কেনার চেয়ে ঝালমুড়ি, পিঠা-পুলি কেনা আর অতিথি লেখক-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের সাথে মোবাইলে সেলফি তোলা-তে নজর বেশী লক্ষ্য করা গেছে দর্শনার্থীদের। উল্লেখ্য, সিটির জ্যাকসন হাইটসস্থ পিএস-৬৯ স্কুলে ২০ মে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা ২২ মে রোববার পর্যন্ত চলবে। মেলার প্রথম দিন ২০ মে শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন।
NY Boimela (2nd Day)-3আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার দ্বিতীয় দিন মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বেলা ১১টা থেকে মধ্যরাত অবদি মেলার কর্মকান্ড পরিচালিত হলেও মেলায় লোক সমাগম ঘটে অপরাহ্ন থেকে। মেলা প্রাঙ্গণ জমে উঠে সন্ধ্যায়। এসময় দিনে বৃষ্টি-বাদলা উপক্ষো করে দলমত নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশীকে মেলা প্রাঙ্গণে ভীড় জমাতে দেখা যায়। বইসহ বিভিন্ন স্টলে দর্শকদের ভীড় পরিলক্ষিত হলেও বই কেনাকাটা হয়েছে কম। পোশাক-পরিচ্ছদের স্টলগুলোতেও ভীড় দেখা গেলেও এসব স্টলেও তেমন ব্যবসা হয়নি। তবে খাবার স্টলগুলোর ব্যবসা ছিলো ভালো। মেলার স্টলগুলো সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি শহীদ কাদরীর উপস্থিতি অনেকেরই নজর কাড়ে। কবির ভক্তরা তার সাধে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। কেউ কেউ তার সাথে আড্ডায়ও মেতে উঠেন। এছাড়া মুক্তধারার স্টলের পাশে বসে ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় আর অটোগ্রাফ দেন মেলার প্রধান অতিথি সেলিনা হোসেন। এছাড়াও অপর আমন্ত্রিত অতিথি আনিসুল হক-কে ঘিরেও ছিলো তার বক্তদের আড্ডা, অটোগ্রাফ সংগ্রহ আর সেলফি তোলা।
এদিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচী মোতাবেক মেলার মূল মঞ্চে (রফিক আজাদ মঞ্চ) ছিলো নানা আয়োজন। এসব অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতা, লেখক, পাঠক ও প্রকাশক মুখোমুখি, এ বছরের নতুন বই নিয়ে আলোচনা, স্বরচিত কবিতা পাঠ, যারা লেখক হতে চান : সম্পাদক ও প্রকাশকদের পরামর্শ, আলপচারিতা : আমেরিকায় বাংলার মুখ, বাংলার লোক ঐতিহ্য : আলাপচারিতা ও গান, নতুন প্রজন্মের বই নিয়ে আলোচনা, কেন লিখি বিষয়ক আলোচনা, নিউইয়র্ক বইমেলা ২০১৬ বক্তৃতা : লেখকের আমাজিক দায়িত্ব, নারী যখন লেখক : অসমান খেলার মাঠ বিষয়ক আলোচনা, কবিতাই আরাধ্য শীর্ষক আলোচনা, সঙ্গীতানুষ্ঠান প্রভৃতি। এদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আকর্ষণ ছিলেন কলকাতা থেকে আগত কমলিনী মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানগুলোতে অতিথিবৃন্দ ছাড়াও প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
‘বাংলার লোক ঐতিহ্য : আলাপচারিতা ও গান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী তাজুশ ইমাম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন লেখক-সাংবাদিক আনিসুল হক। অনুষ্ঠানের আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলার লোক সঙ্গীত অন্য গানের মতো নয়। রবীন্দ্র আর নজরুল সঙ্গীতের যেমন নিজস্ব ভঙ্গি রয়েছে তেমনী লোক সঙ্গীতেরও ভিন্ন ও ব্যতিক্রমী ভঙ্গিমা রয়েছে। অথচ নতুন প্রজন্ম আর আজকালকার শিল্পীরা এসব গানের ধারা ভেঙ্গে নতুন ধারায় গান গাইছেন। সকল গানেরই নিজস্বতা বজায় রেখেই গান গাওয়া উচিৎ বলে বক্তরা অভিমত ব্যক্ত করেন।
এছাড়া দীপন কক্ষে ছিলো ছড়ার যাদু : পাঠ ও আলোচনা, বইমেলা : ঢাকায়, কলকাতায়, নিউইয়র্কে ও বার্লিনে, আমাদের রবীন্দ্রনাথ এবং জেনোসাইড ১৯৭১-আলোচনা। বিপুল সংখ্যক দর্শক শ্রোতা অনুষ্ঠানগুলো উপভোগ করেন।
NY Boimela (2nd Day)-4তৃতীয় ও শেষ দিন: মেলার শেষ দিন রোববার ছিল উপছে পড়া ভিড়। সপ্তাহের ছুটি থাকায় নিউইয়র্ক প্রবাসীরা সকাল থেকেই ভীড় করেন জ্যাকসন হাইটসে। বই মেলা এবং বাংলা উৎসব এলাকায় দেশজ পোষাক পরে প্রবাসীরা উপস্থিত হন। অনেকেই এদেশে জন্ম নেয়া সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসেন। ঢাকা এবং কলকাতা থেকে আসা লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে ব্যাপক ভাবে প্রবাসীরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রবাসে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষার লেখকরাও বরাবরের মত যোগ দিয়েছেন এবারের বই মেলায়। গানে, কবিতায় আলোচনায় উৎসবের সমাপনী দিন ছিল জমজমাট।
বইমেলার তৃতীয় ও শেষ দিনে মূল মঞ্চের (রফিক আজাদ মঞ্চ) কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতা, পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিশুদের অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণ, স্বরচিত কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি, ‘টেলিভিশন কি বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে প্রতিবন্ধক’ শীর্ষক আলোচনা, নতুন বই নিয়ে আলোচনা, ‘চ্যানেল আই/মুক্তধারা বইমেলা ২০১৬ সাহিত্য পুরষ্কার’ ঘোষণা, কবি জীবনান্দ দাসের কবিতা পাঠ, হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথের গানে রাগের ব্যবহার শীর্ষক আলোচনা, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা, অতিথিদের নিয়ে মুখোমুখি আলোচনা, নজরুলের গান, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি। এদিনও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী মেলায় যোগ দেন এবং অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করেন।
NY Boimela_Odianceএছাড়াও এদিন সকালে মেলা প্রাঙ্গণে প্রাতরাশ সহ লেখকদের আড্ডা সহ দীপন কক্ষের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো নজরুলের গানের ওয়ার্কশপ, গ্রন্থ পরিচিতি, ‘লিটন ম্যাগাজিন : একটি মূল্যায়ন’ শীর্ষক আলোচনা ও মরহুম লেখক খসরুজ্জামান চৌধুরী স্মরণে আলোচনা।
অনুষ্ঠানে ‘চ্যানেল আই/মুক্তধারা বইমেলা ২০১৬ সাহিত্য পুরষ্কার’ ঘোষণা করেন আমিরুল ইসলাম ও হাসান ফেরদৌস। কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে উত্তরীয় পড়িয়ে দেন প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ। এই পর্বে আরো অংশ নেন রামেন্দু মজুমদার ও ফরিদ আহমেদ।
জঙ্গীদের হাতে নিহত প্রকাশক দীপনের নামে করা আলোচনা মঞ্চে শিশু ও রম্য লেখক খসরুজ্জমান চৌধুরীকে নিয়ে ছিল আলোচনানুষ্ঠান। সাংবাদিক আবু তাহেরের সঞ্চালনায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা লেখক খসরুজ্জমান চৌধুরীর লেখা নিয়ে আলোচনা করেন দেশ বরেণ্য সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, তাহমিনা জামান, ড. নুরুন্নবী, আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু, এবিএম সালেউদ্দিন প্রমুখ। শক্তিশালী লেখক খসরুজ্জামান চৌধুরী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান রেখে গেছেন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। তাঁর নামে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হবে বলেও দীপন মঞ্চের আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন।
NY Boimela_Culcharal Showবইমেলার শেষ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিষদ ছাড়াও পারমিতা মুমু ও শ্রুতিকণা দাস রবীন্দ্র, সুজিত মোস্তফা নজরুল সঙ্গীত এবং সামিনা চৌধুরী সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
তিনদিনের বইমেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও বিভিন্ন পর্বে আরো অংশ নেন চন্দ্রা ব্যানার্জী, নুহা কাওসার ও লিওনা মুহিত, রোহান মিশ্র, প্রিয়া সাহা, দেবলীনা চন্দ, ওবায়দুল্লাহ মামুন, তমিজউদ্দিন লোদী, শামস আর মোমিন, কাজী জহিরুল ইসলাম, আশরাফ আহমেদ, মনিজা রহমান, রওশন হাসান, আলম সিদ্দিকী, শফিউল আলম, খালেদ সরফুদ্দীন, জুলি রহমান, ডা. কৌশিক সেন, আহমেদ মুসা, মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, রিমি রুম্মান, আহমেদ ছহুল, এবিএম সালেউদ্দিন, আনোয়ার সেলিম, বিথী চট্টোপাধ্যায়, চারু হক, ফারহানা পলি, কবিতা হোসেন, লাকি সেরনিয়াবত, লালন নূর, সালমা বাণী, মামুন জামিল, নাসিরুল্লাহ মোহাম্মদ, নূপুর কান্তি দাস, নূরুল ইসলাম পাশা, ওমর সামস, রওশন হাসান, রিপা নূর, সাজেদ কামাল, সাজ্জাদ বিপ্লব, শাহ আলম দুলাল, শামস চৌধুরী, শরিফুর আলম, স্বপ্ন কুমার, সোনিয়া কাদের, সৈয়দ আহমেদ জুয়েল, ভায়লা সেলিনা লিজা, ইউসুফ সাদ, নাজমুন্নেসা পিয়ারী, নারমিন চৌধুরী, তাহসিন আহমেদ, অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, সৈয়দ আল ফাুরক, পিনাক পানি গোস্বামী, ক্রিস্টিনা রোজারিও, ক্লারা রোজারিও, মিজানুর রহমান বিপ্লব, আবীর আলমগীর, এজাজ আলম, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর, জাবেদ ইকবাল, শাহ মাহবুব, ফারহানা শান্তা, রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়, ড. প্রদীপ কর, মুমু আনসারী, গোপন সাহা, শেখর গোমেজ, আনোয়ার হোসেন লাভলু, ড. পার্থ বন্দোপাধ্যায়, সিনহা অঅবুল মনসুর, মুস্ফফা চৌধুরী, দর্পণ কবীর, মিলি সুলতানা, খান শওকত, তাকসিম খান, জিয়াউল হক, ড. নজরুল ইসলাম, জুঁই সাহা, মোহাম্মদ দেলোয়ার, শিখা আহমেদ, নাহিদ নাজিয়া, ডানা ইসলাম, ফরিদ আহমেদ, সাবিনা হাই উর্বি, ইকবাল হাসান, মাহফুজুল বারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানগুলো সঞ্চালনা/পরিচালনায় ছিলেন- ফাহিম রেজা নূর, আদনান সৈয়দ, মনজুর কাদের, তানভির রব্বানি, সউদ চৌধুরী, আনিসুল হক, কৌশিক আহমেদ, ফেরদৌস সাজেদিন, রানু ফেরদৌস, শহীদ কাদরী/নীরা কাদরী, লুৎফর রহমান রিটন, ফরিদ আহমেদ, সত্যম রায় চৌধুরী, জিএইচ আরজু, ইভান চৌধুরী, জামাল উদ্দিন হোসেন, জসিম মল্লিক, নিনি ওয়াহেদ, জীবন বিশ্বাস, ইকবাল হাসান, সুজিত মোস্তফা, ফকির ইলিয়াস, সেমন্তী ওয়াহেদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের সহযোগিতায় ছিলো প্রাণ গ্রুপ, চ্যানেল আই, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক (এসএফআইবি), ইত্যাদি গ্রুপ, খাবার বাড়ি, সাগর চাইনিজ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘিরে নানা অসঙ্গতিও লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে এতোবড় একটি মেলায় তথ্য কেন্দ্র না থাকায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বেগ পেতে হয়েছে। মেলা উদ্যোক্তাদের দাত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে অনুষ্ঠান আর অতিথি নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। অবশ্য মেলার আয়োজন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতও লক্ষ্য করা যায়। মেলার মূল আয়োজক বিশ্বজিত সাহা বলেন, আমরা সবাইকে নিয়েই নিউইয়র্ক বইমেলা স্বার্থক ও সফল করতে চাই। কিন্তু কেউ এগিয়ে না এসে বাইরে থেকে বড় বড় কথা বললে তো হবে না। আমি চাই নিউইয়র্ক বইমেলা হোক সকলের মেলা।
বইমেলার অন্যতম সংগঠক বিশিষ্ট সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ বলেন, আমরা সবাই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে মেলার জন্য কাজ করছি। এটা লাখ ডলারের মেলা নয়। এখানে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বইমেলা সফল করতে সবার এগিয়ে আসা উচিৎ। অপরদিকে মেলার আয়-ব্যয় নিয়ে স্বচ্ছতার দাবী উঠেছে প্রবাসের সচেতন মহলে। তাদের দাবী কোন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কত অনুদানে মেলা হলো তা প্রবাসীরা জানতে চায়।
অপরদিকে বইমেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে দেখা গেছে দর্শকদের প্রধান আকর্ষণ সেলিনা হোসেন, আনিসুল হক ও গুলতেকিন খান। তাদের ঘিরে চলছে নানা কথা, শুভেচ্ছা বিনিময়, সেলফি তোলা ইত্যাদি। পাশাপাশি রামেন্দু মজুমদার, রোকেয়া হায়দার, লুৎফর রহমান রিটন প্রমুখকে ঘিরেও দেখা যায় ভক্ত-শ্রোতা-দর্শকদের শুভেচ্ছা বিনিময় আর আড্ডা।
বইমেলার মূল উদ্যোক্তা বিশ্বজিৎ সাহা ইউএনএ প্রতিনিধিকে জানান, এবারের বইমেলায় ঢাকার ১৩টি, কলকাতার ২টি আর নিউইয়র্কের ৪টি প্রতিষ্ঠান বইয়ের স্টল ছাড়াও দর্শকদের সুবিধার্থে খাবার সহ পোশাক-পরিচ্ছেদের স্টল ছিলো। তবে উদ্বোধনী দিনে ১০/১২টি স্টল ছাড়া অন্য স্টলগুলো পরিপূর্ণ সাজানো দেখা যায়নি।
বইমেলার আয়োজকদের দাবী এবারের মেলায় বাংলাদেশ, কলকাতা, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের আরো একাধিক দেশের দুই শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, প্রকাশক অংশ নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ মিলন মেলায় পরিণত করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে মেলায় আশানরূপ বই বিক্রি না হলেও লোক সমাগম হয়েছে ব্যাপক, আড্ডা হয়েছে জমজমাট, অনুষ্ঠানগুলোর মানও ছিলো ভালো। সব মিলিয়ে ‘শেষ হয়েও হইলো না শেষ’- মেলার শেষদিন এমন মন্তব্য করলেন বই প্রেমী একাধিক দর্শক-শ্রোতা।
বইমেলায় ঢাকা থেকে আসা প্রকাশকরা জানালেন, জনপ্রিয় লেখকদের মধ্যে সেলিনা হোসেন এবং আনিসুল হক মেলায় যোগ দিয়েছেন। তাদের বই বিক্রি হয়েছে বেশী। প্রবাসী পাঠক সংগ্রাহকরা বই কেনার পাশাপাশি অটোগ্রাফ নিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণাধর্মী বই নিয়ে কানাডা প্রবাসী তাজুল মুহাম্মদ যোগ দেন বইমেলায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা বইয়ের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ তাঁকে প্রতিনিয়ত আপ্লুত করে। দেশ থেকে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য নিউইয়র্কে এসেছেন নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম। বইমেলায় ঘুরতে ঘুরতে জানালেন, প্রবাসের সাহিত্য সংস্কৃতি ঘনিষ্ট লোকজনকে একসাথে পাওয়া যাবে বলে বই মেলায় ছুটে এসেছেন।
মেলার শেষ দিনে প্রবাসী শিল্পী কাবেরী দাস জানালেন, বই মেলা এবং বাংলা উৎসব উপলক্ষে অনেকের সাথেই দেখা হচ্ছে। নিউইয়র্কে এ বইমেলা বাঙালীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রবাসী পরিবারে জন্ম এবং এখানে বড় হওয়া সাকিব চৌধুরী জানালেন, তিনি ঘরে বাংলা গান শুনেন, মায়ের সাথে বাংলা নাটক দেখেন। এভাবে পরিচিত লেখক-সাহিত্যিকদের দেখে তাঁর খুব ভালো লাগছে। যদিও আলোচনা মঞ্চ থেকে দেয়া বক্তৃতা ঠিক ধরতে পারছেন না বলে জানালেন সদ্য কলেজ পেরুনো সাকিব চৌধুরী।
বইমেলার আয়োজক মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের বিশ্বজিত সাহা বলেন, উৎসব-আনন্দের মধ্য দিয়ে প্রবাসীরা বই মেলায় এসেছেন। বাংলা উৎসবকে সফল করেছেন। দেশ থেকে, প্রবাসের বিভিন্ন শহর থেকে লেখক, অংশগ্রহণকারীরা এসেছেন। দুই বাংলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা যোগ দিয়ে মেলা ও উৎসবকে সফল করেছেন। প্রবাসে বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির বিকাশে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে বিশ্বজিত সাহা জানান।
নিউইয়র্কে বইমেলার ২৫ বছর উপলক্ষ্যে আকর্ষণীয় স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন আদনান সৈয়দ। প্রকাশ করেছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, নিউইয়র্ক।