নিউইয়র্ক ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • / ১৭৩৪ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ দিনের সরকারি সফরে লন্ডন হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্টট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সমাবেশ করে এবং নানা শ্লোগান দেয়। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি‘র নেতা-কর্মীরা একই সময়ে বিমানবন্দরে পাল্টা সমাবেশ করে শেখ হাসিনাকে ‘অবৈধ সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যায়িত করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তারা সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান দেয়।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বুধবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। লন্ডনে হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করার পর তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কে আসেন। জেএফকে বিমানবন্দরের বিশেষ পথে প্রধানমন্ত্রী বেড়িয়ে আসেন এবং বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক মোটরশোভাযাত্রা সহকারে হোটেল ওয়াল্ডর্ফ এস্টোরিয়া নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। নিউইয়র্ক সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সহ ৮০জনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন। এছাড়াও এফবিসিসিআই’র সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদের নেতৃত্বে ১১৯ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী রয়েছেন।
PM Hasina JFK-2প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাসূচী: বাংলাদেশ মিশন ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে জাতিসংঘের পরিবেশ সম্পর্কিত সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নে আইসিটি পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিবের কাছ থেকে ‘আইটিইউ পুরস্কার’ গ্রহণ করবেন। আর ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনারের কাছ থেকে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ অব দি আর্থ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ২৮ সেপ্টেম্বর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দেবেন। একই দিনে তিনি অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আয়োজিত সংবর্ধনা ও ভোজসভায় যোগ দেবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তার ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, সুশাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ভাষায় ভাষণ দেবেন। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে মাতৃভাষায় ভাষণ দেবেন।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন। পরের দিন প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং’র আমন্ত্রণে ‘গ্লোবাল লিডারস মিটিং অন জেন্ডার ইক্যুয়েলিটি এন্ড ওমেনস এমপাওয়ারমেন্ট : এ কমিটমেন্ট টু অ্যাকশন’-এ যোগ দেবেন। একইদিন তিনি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংলাপে কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরে ২০১৫ পরবর্তী বিশ্বের উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে অধিবেশনের প্লেনারী সেশনে ভাষণ দেবেন। এতে তিনি টেকসই উন্নয়ন ও এ লক্ষ্যে সরকারের কর্মকান্ডে জাতীয় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একই দিন নিউইয়র্কের বিলাশ বহুল ‘হিলটন মিডটাউন’ হোটেলে তাঁর সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সর্বজনীন নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তিরক্ষা সম্পর্কিত এক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, রুয়ান্ডা, উররুগুয়ে ও ইউএনএসজি। ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামা আয়োজিত আইএসআইএল ও সহিংস জঙ্গীবাদ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দেবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ‘এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ : বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। এতে জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এদিন তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেবেন।
সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গার্লস লিড দ্য ওয়ে’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরামে ভাষণ দেবেন। একইদিন তিনি হোটেল ওয়ার্ল্ডফ এস্টোভিয়ায় বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্টাল্ডিং অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এছাড়া তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
১ অক্টোবর দেশে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে একদিন যাত্রাবিরতি করবেন এবং সেখানে ২ অক্টোবর তাঁকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। তিনি ৩ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ দিনের সরকারি সফরে লন্ডন হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্টট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সমাবেশ করে এবং নানা শ্লোগান দেয়। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি‘র নেতা-কর্মীরা একই সময়ে বিমানবন্দরে পাল্টা সমাবেশ করে শেখ হাসিনাকে ‘অবৈধ সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যায়িত করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তারা সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান দেয়।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বুধবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। লন্ডনে হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করার পর তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কে আসেন। জেএফকে বিমানবন্দরের বিশেষ পথে প্রধানমন্ত্রী বেড়িয়ে আসেন এবং বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক মোটরশোভাযাত্রা সহকারে হোটেল ওয়াল্ডর্ফ এস্টোরিয়া নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। নিউইয়র্ক সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সহ ৮০জনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন। এছাড়াও এফবিসিসিআই’র সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদের নেতৃত্বে ১১৯ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী রয়েছেন।
PM Hasina JFK-2প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাসূচী: বাংলাদেশ মিশন ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে জাতিসংঘের পরিবেশ সম্পর্কিত সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নে আইসিটি পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিবের কাছ থেকে ‘আইটিইউ পুরস্কার’ গ্রহণ করবেন। আর ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনারের কাছ থেকে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ অব দি আর্থ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ২৮ সেপ্টেম্বর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দেবেন। একই দিনে তিনি অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আয়োজিত সংবর্ধনা ও ভোজসভায় যোগ দেবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তার ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, সুশাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ভাষায় ভাষণ দেবেন। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে মাতৃভাষায় ভাষণ দেবেন।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন। পরের দিন প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং’র আমন্ত্রণে ‘গ্লোবাল লিডারস মিটিং অন জেন্ডার ইক্যুয়েলিটি এন্ড ওমেনস এমপাওয়ারমেন্ট : এ কমিটমেন্ট টু অ্যাকশন’-এ যোগ দেবেন। একইদিন তিনি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংলাপে কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরে ২০১৫ পরবর্তী বিশ্বের উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে অধিবেশনের প্লেনারী সেশনে ভাষণ দেবেন। এতে তিনি টেকসই উন্নয়ন ও এ লক্ষ্যে সরকারের কর্মকান্ডে জাতীয় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একই দিন নিউইয়র্কের বিলাশ বহুল ‘হিলটন মিডটাউন’ হোটেলে তাঁর সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সর্বজনীন নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তিরক্ষা সম্পর্কিত এক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, রুয়ান্ডা, উররুগুয়ে ও ইউএনএসজি। ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামা আয়োজিত আইএসআইএল ও সহিংস জঙ্গীবাদ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দেবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ‘এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ : বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। এতে জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এদিন তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেবেন।
সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গার্লস লিড দ্য ওয়ে’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরামে ভাষণ দেবেন। একইদিন তিনি হোটেল ওয়ার্ল্ডফ এস্টোভিয়ায় বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্টাল্ডিং অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এছাড়া তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
১ অক্টোবর দেশে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে একদিন যাত্রাবিরতি করবেন এবং সেখানে ২ অক্টোবর তাঁকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। তিনি ৩ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।