নিউইয়র্ক ০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কে দু’দিনের একুশের গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত : বাংলা ভাষা আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে : অর্থমন্ত্রী

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০১:৪০:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • / ৭০২ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে অমর একুশে পালনের গৌরবের ২৫ বছর উপলক্ষ্যে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালীর চেতনা মঞ্চ আয়োজিত দু’দিনের একুশে গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হলো ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারী শনি ও রোববার। জ্যাকসন হাইটস্থ পিএস-৬৯ স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গ্রন্থমেলার অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো বিষয় ভিত্তিক আলোচনা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নতুন বই নিয়ে আলোচনা, কাব্য জলসা, গ্রন্থসহ রকমারী স্টল প্রভৃতি।
শনিবার সন্ধ্যায় একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা করেছেন বিগত ৪৫ বছরে অন্য কোনো সরকার তা করতে পারেনি। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্বজিত সাহার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশর স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র সফররত সোসাল ইসলামিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ডা. রেজাউল হক ও কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, পৃথিবীর নানা দেশে ভাষার জন্য আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু আমরা যেভাবে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি অন্য কোন দেশের মানুষ সেভাবে জীবন দেয়নি। যদিও আসামের মানুষ তাদের ভাষার জন্য আন্দোলন করেছিল। সেখানে ১৩ জন মানুষ জীবন দিয়েছে। কিন্তু তা আমাদের সাথে তুলনা চলে না।
তিনি বলেন, বাংলা ভাষা হচ্ছে মজার ভাষা। এই ভাষার অধিকার আমরা আদায় করেছি ১৯৫২ সালে। ভাষা আন্দোলন থেকেই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু। সেই আন্দোলনের পথ ধরেই ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণা করেন। যা আমাদের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করে।
অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, পাকিস্তানীরা কোন মতেই আমাদের দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলো না। যে কারণে আমরা যুদ্ধ করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি। ভারত আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ কোন কোন দেশ অনেক পরে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, মধ্যযুগে অনেক দেশ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। কিন্তু ৭০-এর দশকে শুধু আমরাই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশ স্বাধীনের পর বিশ্ব ব্যাংক আমাদের সহযোগিতা করেছিলো, জাতিসংঘ তিন বছর আমাদের সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, বলতে গেলে আমরা প্রায় ২৩ বছর যুদ্ধ করেছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যে সব সামরিক বাহিনী দেশ শাসন করেছে, তারা পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের চেয়েও অপদার্থ ছিলো। ১৯৭৫ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত কোন গণতন্ত্র ছিলো না। ১৯৯১ সালে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী মুহিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ঘটলেও মাধ্যমিক শিক্ষায় আশানুরূপ সফলতা অর্জন হয়নি। বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে একটি পচা মাল’ এমন মন্তব্য এবং বাংলাদেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আরো বলেন, ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে তা আরও অবনতি ঘটেছে।’
পরে অর্থমন্ত্রী তার লেখা বই ‘সোনালী দিনগুলি’র মোড়ক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ও রিয়েল স্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেজর (অব:) রেজাউল হক।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে নাট্যাভিনেত্রী রওশন আরা হোসেন, লেখক ফেরদৌস সাজেদীন, বাঙালী চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা, কলামিস্ট পার্থ ব্যানার্জি, সোনালী এক্সচেঞ্জের সিইও আতাউর রহমান, লেখক ফাহিম রেজা নূর, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সুব্রত বিশ্বাস, জীবন বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।
গ্রন্থ মেলায় রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত ‘মুক্তবুদ্ধি চর্চার উপর আঘাত : অভিজিৎ হত্যাকান্ডের এক বছর এবং তারপর’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, বিশিষ্ট লেখক আহমেদ মুসা, ফেরদৌস সাজেদীন, ফকির ইলিয়াস ও আদনান সৈয়দ। সঞ্চালনায় ছিলেন লেখক-সাংবাদিক ফাহিম রেজা নূর।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সকল দেশেই লেখার আর কথা বলার স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। কোথাও কম কোথাও বেশী। আলোচকবৃন্দ বলেন, লেখকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। তবে তার লেখায় যেনো কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে সেজন্য স্ব-নিয়ন্ত্রিম সেন্সরশীপ থাকা উচিৎ। তারা বলেন, আমরা অনেকেই না জেনে, না বুঝে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কথা বলছি, অভিযুক্ত করছি। যা ঠিক নয়। তারা বলেন, ব্লগাররা যার যার নিজের মতামত ব্যক্ত করে লিখছেন। এতে দোষের কিছু নেই। সব ব্লগারই যে ইসলাম বিরোধী বা সব ব্লাগারই যে নাস্তিক তা নয়। ধর্ম হচ্ছে যার যার বিশ্বাস আর শিল্প-সংস্কৃতি সবার। বাংলাদেশের মানুষ একটি জায়গায় এক আর অভিন্ন সেটা হচ্ছে বাঙালী শিল্প-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য লালন-পালনে। যার ধারাবাহিকতায় দেশ ও প্রবাসের গ্রন্থমেলা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উদীচী স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস এবং উদীচী যুক্তরাষ্ট্র, সঙ্গীত পরিষদ নিউইয়র্ক, শিল্পকলা একাডেমী ইউএসএ-এর শিল্পীরা ছাড়াও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা/পরিচালনায় ছিলেন সেমন্তী ওয়াহেদ, ড. নজরুল ইসলাম, ফাহিম রেজা নূর, বিশ্বজিত সাহা, মঞ্জুর কাদের ও সাবিনা হাই উর্বী।
নিউইয়র্কের একুশের গ্রন্থমেলা আয়োজনে ত্রুটি না থাকলেও মেলায় দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি ছিলো হতাশাজনক। গ্রন্থমেলায় বইয়ের স্টলের চেয়ে শাড়ি-গহনা-খাবারের স্টলের সংখ্যা ছিলো বেশী। এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা যায় মেলা প্রঙ্গণে।
রোববার রাতে গ্রন্থমেলার শেষ পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাঙালীর চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহীম বাদশা। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দু’দিনের একুশে গ্রন্থমেলার সমাপ্তি ঘটে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কে দু’দিনের একুশের গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত : বাংলা ভাষা আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০১:৪০:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে অমর একুশে পালনের গৌরবের ২৫ বছর উপলক্ষ্যে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালীর চেতনা মঞ্চ আয়োজিত দু’দিনের একুশে গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হলো ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারী শনি ও রোববার। জ্যাকসন হাইটস্থ পিএস-৬৯ স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গ্রন্থমেলার অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো বিষয় ভিত্তিক আলোচনা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নতুন বই নিয়ে আলোচনা, কাব্য জলসা, গ্রন্থসহ রকমারী স্টল প্রভৃতি।
শনিবার সন্ধ্যায় একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা করেছেন বিগত ৪৫ বছরে অন্য কোনো সরকার তা করতে পারেনি। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্বজিত সাহার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশর স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র সফররত সোসাল ইসলামিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ডা. রেজাউল হক ও কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, পৃথিবীর নানা দেশে ভাষার জন্য আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু আমরা যেভাবে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি অন্য কোন দেশের মানুষ সেভাবে জীবন দেয়নি। যদিও আসামের মানুষ তাদের ভাষার জন্য আন্দোলন করেছিল। সেখানে ১৩ জন মানুষ জীবন দিয়েছে। কিন্তু তা আমাদের সাথে তুলনা চলে না।
তিনি বলেন, বাংলা ভাষা হচ্ছে মজার ভাষা। এই ভাষার অধিকার আমরা আদায় করেছি ১৯৫২ সালে। ভাষা আন্দোলন থেকেই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু। সেই আন্দোলনের পথ ধরেই ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণা করেন। যা আমাদের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করে।
অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, পাকিস্তানীরা কোন মতেই আমাদের দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলো না। যে কারণে আমরা যুদ্ধ করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি। ভারত আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ কোন কোন দেশ অনেক পরে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, মধ্যযুগে অনেক দেশ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। কিন্তু ৭০-এর দশকে শুধু আমরাই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশ স্বাধীনের পর বিশ্ব ব্যাংক আমাদের সহযোগিতা করেছিলো, জাতিসংঘ তিন বছর আমাদের সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, বলতে গেলে আমরা প্রায় ২৩ বছর যুদ্ধ করেছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যে সব সামরিক বাহিনী দেশ শাসন করেছে, তারা পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের চেয়েও অপদার্থ ছিলো। ১৯৭৫ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত কোন গণতন্ত্র ছিলো না। ১৯৯১ সালে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী মুহিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ঘটলেও মাধ্যমিক শিক্ষায় আশানুরূপ সফলতা অর্জন হয়নি। বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে একটি পচা মাল’ এমন মন্তব্য এবং বাংলাদেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আরো বলেন, ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে তা আরও অবনতি ঘটেছে।’
পরে অর্থমন্ত্রী তার লেখা বই ‘সোনালী দিনগুলি’র মোড়ক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ও রিয়েল স্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেজর (অব:) রেজাউল হক।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে নাট্যাভিনেত্রী রওশন আরা হোসেন, লেখক ফেরদৌস সাজেদীন, বাঙালী চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা, কলামিস্ট পার্থ ব্যানার্জি, সোনালী এক্সচেঞ্জের সিইও আতাউর রহমান, লেখক ফাহিম রেজা নূর, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সুব্রত বিশ্বাস, জীবন বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।
গ্রন্থ মেলায় রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত ‘মুক্তবুদ্ধি চর্চার উপর আঘাত : অভিজিৎ হত্যাকান্ডের এক বছর এবং তারপর’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, বিশিষ্ট লেখক আহমেদ মুসা, ফেরদৌস সাজেদীন, ফকির ইলিয়াস ও আদনান সৈয়দ। সঞ্চালনায় ছিলেন লেখক-সাংবাদিক ফাহিম রেজা নূর।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সকল দেশেই লেখার আর কথা বলার স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। কোথাও কম কোথাও বেশী। আলোচকবৃন্দ বলেন, লেখকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। তবে তার লেখায় যেনো কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে সেজন্য স্ব-নিয়ন্ত্রিম সেন্সরশীপ থাকা উচিৎ। তারা বলেন, আমরা অনেকেই না জেনে, না বুঝে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কথা বলছি, অভিযুক্ত করছি। যা ঠিক নয়। তারা বলেন, ব্লগাররা যার যার নিজের মতামত ব্যক্ত করে লিখছেন। এতে দোষের কিছু নেই। সব ব্লগারই যে ইসলাম বিরোধী বা সব ব্লাগারই যে নাস্তিক তা নয়। ধর্ম হচ্ছে যার যার বিশ্বাস আর শিল্প-সংস্কৃতি সবার। বাংলাদেশের মানুষ একটি জায়গায় এক আর অভিন্ন সেটা হচ্ছে বাঙালী শিল্প-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য লালন-পালনে। যার ধারাবাহিকতায় দেশ ও প্রবাসের গ্রন্থমেলা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উদীচী স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস এবং উদীচী যুক্তরাষ্ট্র, সঙ্গীত পরিষদ নিউইয়র্ক, শিল্পকলা একাডেমী ইউএসএ-এর শিল্পীরা ছাড়াও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা/পরিচালনায় ছিলেন সেমন্তী ওয়াহেদ, ড. নজরুল ইসলাম, ফাহিম রেজা নূর, বিশ্বজিত সাহা, মঞ্জুর কাদের ও সাবিনা হাই উর্বী।
নিউইয়র্কের একুশের গ্রন্থমেলা আয়োজনে ত্রুটি না থাকলেও মেলায় দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি ছিলো হতাশাজনক। গ্রন্থমেলায় বইয়ের স্টলের চেয়ে শাড়ি-গহনা-খাবারের স্টলের সংখ্যা ছিলো বেশী। এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা যায় মেলা প্রঙ্গণে।
রোববার রাতে গ্রন্থমেলার শেষ পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাঙালীর চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহীম বাদশা। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দু’দিনের একুশে গ্রন্থমেলার সমাপ্তি ঘটে।