নিউইয়র্ক ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কের মুক্তিযোদ্ধা সমাচার-২ : কেন্দ্রের উদাসীনতায় বিভক্ত ইউএস কমান্ড

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৫
  • / ৫৮৯ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন হিসেবে এই সংসদ সর্বজনবিদীত। সংসদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রধানমন্ত্রী এই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক। বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত দেশের সর্ববৃহৎ মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন। মূলত: দেশে-বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চির-উজ্জীবিত রাখার কার্যক্রমে নিয়োজিত ছাড়াও দেশে-বিদেশে বর্তমানে তালিকাভুক্ত জীবিত, মৃত ও শহীদ পরিবারের দৈনন্দিন ও তাৎক্ষনিক কল্যাণ কর্মকান্ডে নিয়োজিত। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পালাবদলে নানা প্রশ্ন উঠেছে এই সংসদের বিরুদ্ধে। বারবার প্রশ্ন উঠেছে এই সংসদের নেতৃত্বের স্বচ্ছতা, যোগ্যতা নিয়ে। দেশব্যাপী রয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শাখা। প্রবাসেরও রয়েছে এর শাখা। এদিকে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উদাসীনতায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ড।
সর্বশেষ গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ডের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) হেলাল মোর্শেদ খান (বীর বিক্রম) স্বাক্ষরিত পত্রে (স্মারক নং মুক্তি/সাং/১৫১৫/১৪ তারিখ: ২১/৯/২০১৪ইং) ডা. আব্দুল বাতেনকে আহ্বায়ক, খোরশেদ আনোয়ার বাবলুকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মশিউল আলম (আহছান হাবীব)-কে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ফারুক হুসাইন, সন্তোষ কুমার চৌধুরী, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, হুমায়ুন কবীর, কামরুল হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, মনির হোসেন ও আলাউদ্দিন সরদার।
এই কমিটির আগের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন কমান্ডার নবী আর সদস্য সচিব ছিলেন আবুল মনসুর খান। সেই কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ সভা-সমাবেশ বা কাউন্সিল ও মতামত ছাড়াই কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক কমিটি গঠনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ডের পাল্টা কমিটি গঠন করেছেন কতিপয় মুক্তিযোদ্ধা। ১১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মুকিত চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ আহমেদ এবং সদস্য সচিব রেজাউল বারী।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ডের বিভক্তি প্রসঙ্গে কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আনোয়ার বাবলু ইউএনএ প্রতিনিধিকে বলেন, কেউ নেতৃত্ব মানতে না চাইলে বিভক্তি তো হবেই। সংগঠন করতে হলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মানতে হবে, সংগঠনে চেইন অব কমান্ড মানতে হয়। তিনি পাল্টা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মুকিত চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি কামান্ডার হতে চান, তার ভিতরটা ফাঁপা। তিনি সংসদকে ভেঙ্গে খেতে চান।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী মে মাসে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) হেলাল মোর্শেদ খান (বীর বিক্রম)-এর নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে। তিনি এলেই ইউএস ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে বলে জানান খোরশেদ আনোয়ার বাবলু।
এব্যাপারে পাল্টা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মুকিত চৌধুরী ইউএনএ প্রতিনিধিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধাদের মতামত ছাড়াই কেন্দ্র কমিটি দিতে পারেন না। এটি সাংগঠনিক নিয়ম বহির্ভূত। কেন্দ্র অনুমোদিত কমিটির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল বাতেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১২ সালে ডা. বাতেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রথম তালিকাভূক্ত হন। তিনি এই সংসদে নতুন, আমরা পুরাতন। তিনি বলেন, আমি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলাম। সংসদের ইউএস ইউনিট করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র বসবাসরত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েই করা উচিৎ।
এক প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল মুকিত চৌধুরী বলেন, সরকারসহ সকল মহলে সদিচ্ছার অভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘ ৪৪ বছরেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরী হয়নি। এটি অত্যন্ত দু:খজনক। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মূলত: চারটি উদ্যোগ থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরী হয়েছে। প্রথমত: ভারতীয় তালিকা (১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা তথা ভারতে অবস্থানকারী/প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত)। দ্বিতীয়ত: মুক্তিবার্তা’র তালিকা (১০ ডিজিটধারী নম্বর সম্মলিত মুক্তিযোদ্ধা)। তৃতীয়ত: ভারতীয় তালিকা ও মুক্তিবার্তা’র আলোকে এরশাদ সরকারের সময় প্রণীত মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় তালিকা এবং চতুর্থত: বাংলাদেশ সরকারের গেজেট। এই চার উদ্যোগে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কমিউনিটিতে অনেককেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো হচ্ছে, প্ল্যাক প্রদান করা হচ্ছে। এটি একটি ট্রেডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত হচ্ছেন না বলে দাবী করেন মুকিত চৌধুরী।
প্রসঙ্গত মুকিত চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক নিউইয়র্ক এবারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রবাসের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরী ও সম্মানিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলো। যা প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি বলেন, সোসাইটির অনুরোধে প্রাথমিকভাবে ৩১জন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা দেই। এই তালিকার বাইরেও আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। তিনি বলেন, সোসাইটি আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখলাম তাদের তালিকায় ৭৯জন মুক্তিযোদ্ধা। আর দর্শক-শ্রোতার প্রথম সারিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাত্র ৮টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আবার সেই ৮ আসনের মধ্যে একটিতে একজনকে আসন নিতে দেখে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তার মুক্তিবার্তা নম্বর ও সেক্টর কমান্ডারের নাম বলতে পারলেন না। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানিত করার প্রতিবাদে সোসাইটির অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি এবং তার সাথে আরো ২২জন মুক্তিযোদ্ধাও চলে আসেন বলে দাবী করেন আব্দুল মুকিত চৌধুরী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কের মুক্তিযোদ্ধা সমাচার-২ : কেন্দ্রের উদাসীনতায় বিভক্ত ইউএস কমান্ড

প্রকাশের সময় : ০৪:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৫

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন হিসেবে এই সংসদ সর্বজনবিদীত। সংসদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রধানমন্ত্রী এই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক। বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত দেশের সর্ববৃহৎ মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন। মূলত: দেশে-বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চির-উজ্জীবিত রাখার কার্যক্রমে নিয়োজিত ছাড়াও দেশে-বিদেশে বর্তমানে তালিকাভুক্ত জীবিত, মৃত ও শহীদ পরিবারের দৈনন্দিন ও তাৎক্ষনিক কল্যাণ কর্মকান্ডে নিয়োজিত। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পালাবদলে নানা প্রশ্ন উঠেছে এই সংসদের বিরুদ্ধে। বারবার প্রশ্ন উঠেছে এই সংসদের নেতৃত্বের স্বচ্ছতা, যোগ্যতা নিয়ে। দেশব্যাপী রয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শাখা। প্রবাসেরও রয়েছে এর শাখা। এদিকে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উদাসীনতায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ড।
সর্বশেষ গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ডের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) হেলাল মোর্শেদ খান (বীর বিক্রম) স্বাক্ষরিত পত্রে (স্মারক নং মুক্তি/সাং/১৫১৫/১৪ তারিখ: ২১/৯/২০১৪ইং) ডা. আব্দুল বাতেনকে আহ্বায়ক, খোরশেদ আনোয়ার বাবলুকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মশিউল আলম (আহছান হাবীব)-কে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ফারুক হুসাইন, সন্তোষ কুমার চৌধুরী, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, হুমায়ুন কবীর, কামরুল হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, মনির হোসেন ও আলাউদ্দিন সরদার।
এই কমিটির আগের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন কমান্ডার নবী আর সদস্য সচিব ছিলেন আবুল মনসুর খান। সেই কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ সভা-সমাবেশ বা কাউন্সিল ও মতামত ছাড়াই কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক কমিটি গঠনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ডের পাল্টা কমিটি গঠন করেছেন কতিপয় মুক্তিযোদ্ধা। ১১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মুকিত চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ আহমেদ এবং সদস্য সচিব রেজাউল বারী।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ডের বিভক্তি প্রসঙ্গে কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আনোয়ার বাবলু ইউএনএ প্রতিনিধিকে বলেন, কেউ নেতৃত্ব মানতে না চাইলে বিভক্তি তো হবেই। সংগঠন করতে হলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মানতে হবে, সংগঠনে চেইন অব কমান্ড মানতে হয়। তিনি পাল্টা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মুকিত চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি কামান্ডার হতে চান, তার ভিতরটা ফাঁপা। তিনি সংসদকে ভেঙ্গে খেতে চান।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র ইউনিট কমান্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী মে মাসে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) হেলাল মোর্শেদ খান (বীর বিক্রম)-এর নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে। তিনি এলেই ইউএস ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে বলে জানান খোরশেদ আনোয়ার বাবলু।
এব্যাপারে পাল্টা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মুকিত চৌধুরী ইউএনএ প্রতিনিধিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধাদের মতামত ছাড়াই কেন্দ্র কমিটি দিতে পারেন না। এটি সাংগঠনিক নিয়ম বহির্ভূত। কেন্দ্র অনুমোদিত কমিটির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল বাতেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১২ সালে ডা. বাতেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রথম তালিকাভূক্ত হন। তিনি এই সংসদে নতুন, আমরা পুরাতন। তিনি বলেন, আমি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলাম। সংসদের ইউএস ইউনিট করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র বসবাসরত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েই করা উচিৎ।
এক প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল মুকিত চৌধুরী বলেন, সরকারসহ সকল মহলে সদিচ্ছার অভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘ ৪৪ বছরেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরী হয়নি। এটি অত্যন্ত দু:খজনক। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মূলত: চারটি উদ্যোগ থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরী হয়েছে। প্রথমত: ভারতীয় তালিকা (১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা তথা ভারতে অবস্থানকারী/প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত)। দ্বিতীয়ত: মুক্তিবার্তা’র তালিকা (১০ ডিজিটধারী নম্বর সম্মলিত মুক্তিযোদ্ধা)। তৃতীয়ত: ভারতীয় তালিকা ও মুক্তিবার্তা’র আলোকে এরশাদ সরকারের সময় প্রণীত মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় তালিকা এবং চতুর্থত: বাংলাদেশ সরকারের গেজেট। এই চার উদ্যোগে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কমিউনিটিতে অনেককেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো হচ্ছে, প্ল্যাক প্রদান করা হচ্ছে। এটি একটি ট্রেডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত হচ্ছেন না বলে দাবী করেন মুকিত চৌধুরী।
প্রসঙ্গত মুকিত চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক নিউইয়র্ক এবারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রবাসের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরী ও সম্মানিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলো। যা প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি বলেন, সোসাইটির অনুরোধে প্রাথমিকভাবে ৩১জন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা দেই। এই তালিকার বাইরেও আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। তিনি বলেন, সোসাইটি আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখলাম তাদের তালিকায় ৭৯জন মুক্তিযোদ্ধা। আর দর্শক-শ্রোতার প্রথম সারিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাত্র ৮টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আবার সেই ৮ আসনের মধ্যে একটিতে একজনকে আসন নিতে দেখে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তার মুক্তিবার্তা নম্বর ও সেক্টর কমান্ডারের নাম বলতে পারলেন না। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানিত করার প্রতিবাদে সোসাইটির অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি এবং তার সাথে আরো ২২জন মুক্তিযোদ্ধাও চলে আসেন বলে দাবী করেন আব্দুল মুকিত চৌধুরী।